বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-১২

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ" লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি অনুবাদ : অনীশ দাস অপু ------------------------- পর্ব ১২ ঘুম খুব গাঢ় হয়েছে ক্যারেনের। শরীরে অবসাদ। বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না। মনে পড়ল, রাতে ক্রিস হ্যালোরান বাড়ি ফেরেনি। সকালে কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরবে। তাই জলদি নাস্তা তৈরি করার তাড়া নেই। তবু আর কতক্ষণ শুয়ে থাকা যায়? উঠে পড়ল ক্যারেন। বেশ বেলা হয়ে গেছে। রোদে ঝলমল করছে চারদিক। কি সুন্দর লাগছে এসপেন জায়গাটিকে। অথচ রাতে এই এসপেন কি ভয়ঙ্কর আর নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। গা ছমছম করে উঠল ক্যারেনের। মনে পড়ল লিন্ডার দোকানের পেছনের শর্টকাট রাস্তাটার কথা। ওকে কি যেন অনুসরণ করছিল। তারপর টাইগারের খন্ডিত শরীর! ওহ! গায়ে রোদ লাগানোর জন্য ছাদে গেল ক্যারেন। কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে বসল একটা বই নিয়ে। দারুণ জমজমাট থ্রিলার। পড়তে পড়তে কত বেলা হয়েছে খেয়াল ছিল না ক্যারেনের। মাঝখানে শুধু এক কাপ কফি বানিয়ে খেয়েছে। এমন সময় ডোরবেল বেজে উঠল। ক্যারেন বইয়ের পাতায় এমন ডুবে গিয়েছিল যে চমকে উঠল বেল বাজার শব্দে। বইটা হাত থেকে পড়ে গেল। সেটা কুড়িয়ে তুলতে তুলতে আবার বেজে উঠল বেল। ঘড়ি দেখল ক্যারেন। লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে। ক্রিস ফিরল কি? উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিল ও। দরজার ওপাশে দাঁড়িয়ে রিকার্ডো বিটি। ক্রিসের বন্ধু, ক্যারেনদের ফ্যামিলিফ্রেন্ড। দারুণ এক পুলওভারে ওকে বেশ হিরো হিরো লাগছে। ওকে দেখে খুশী হল ক্যারেন। " আরে রিকার্ডো, এসো, এসো, কি খবর তোমার?" " দেখতে এলাম, কেমন আছ তোমরা?", রিকার্ডো ঢুকতে ঢুকতে বলল, " কেমন লাগছে নতুন পরিবেশ? " তারপরই ঘরের ভেতরটায় চোখ বুলিয়ে নিয়ে বলল, " তা তুমি একা? ক্রিস কোথায়?" " ক্রিস শহরে গেছে। জরুরী ডাক পড়েছে। বিকেলে ফিরবে বোধহয়। বোস, ড্রিংক খাবে তো?" " দাও। মন্দ হয় না। হাল্কা কোনও ড্রিংক দাও।" ক্যারেনের দৃষ্টি ক্যালেন্ডারের পাতায়। কেমন অন্যমনস্ক লাগছে ওকে। অথচ আগে রিকার্ডোকে দেখলে কত খুশী হত ও। অথচ এখন কেমন ম্লান দেখাচ্ছে ওকে। রিকার্ডো বেশ জোরের সঙ্গেই ডাকল, " ক্যারেন!" চমকে উঠে বলল ক্যারেন, " কি! কি হয়েছে তোমার?" " আমার কিছু হয়নি", রিকার্ডো বলল, " জিজ্ঞেস করছি, তোমার কি হয়েছে?" ক্যারেন দ্বিধাজড়িত ভাবে বলল, " আমার? কই...কিছু না তো।" "উঁহু", ডাইনে বাঁয়ে মাথা নাড়াল রিকার্ডো, " তোমার নিশ্চয় কিছু হয়েছে!" " কিছু না রিকার্ডো। জানো, আমার টাইগার আর নেই।" " নেই মানে? কেউ ধরে নিয়ে গেছে? না, কোথাও গিয়ে আর ফিরে আসেনি?" " না, কোথাও চলে যায়নি। রাতে বাগানে বেড়িয়েছিল। কোনও জন্তু ওকে মেরে ফেলেছে। ক্রিস বলে ' প্যাঁচা'", বলতে বলতে রিকার্ডোর সামনে এসে ক্যারেন শূন্য দৃষ্টি মেলে হো হো করে হেসে উঠল। তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে ক্যারেনকে দেখতে লাগল রিকার্ডো। এ যেন অন্য এক ক্যারেন। সম্পূর্ণ অপরিচিত। কি হয়েছে ক্যারেনের! " কি হয়েছে তোমার, ক্যারেন?", রিকার্ডো উদ্বিগ্ন হয়ে জিজ্ঞেস করল, " অসুখ করেছে?" " হয়েছিল। কিন্তু এখন ভাল আছি। ডাঃ গোয়েজ ওষুধ দিয়েছিলেন আমায়। ভালো ডাক্তার উনি।" উদ্বিগ্ন রিকার্ডো ক্যারেনের আর একটু কাছে সরে এসে বলল, " দেখো ক্যারি, তুমি আমার অনেক দিনের বন্ধু। আমি বলছি, ঈশ্বরের দোহাই, তুমি শহরে গিয়ে একজন ভাল ডাক্তার দেখাও। " ক্যারেন কিছুই বলল না। চুপচাপ দুজনেই। রিকার্ডো বলল, " চলো তোমায় লস এঞ্জেলেস থেকে ডাক্তার দেখিয়ে আনি। সন্ধ্যের আগেই ফিরে আসতে পারব আমরা।" ক্যারেনের মনের ভেতর তোলপাড়। কি যেন বলতে চাইছে, অথচ পারছে না। চোখের কোণে পানি জমে গেল তার। শঙ্কিত হয়ে উঠল রিকার্ডো। ক্রিসের সঙ্গে কি ঝগড়া হয়েছে ক্যারেনের? রাগ করে কোথাও চলে গিয়েছে ক্রিস? " কিছু বলো ক্যারেন, এভাবে চুপ করে থেকো না"! রিকার্ডো সহানুভূতি জানানোর জন্য ক্যারেনের পেছনে দাঁড়িয়ে তার দু কাঁধে হাত রাখল। ক্যারেনকে নিরুত্তর দেখে সে তাকে নিজের দিকে ঘোরাবার চেষ্টা করতে লাগল। চমকে উঠল ক্যারেন। জো থম্পসনের সেই ভয়ঙ্কর স্মৃতি তার মস্তিষ্কের সমস্ত কোষে যেন আড়ষ্টতা এনে দিল। ঘুরে দাঁড়াল ও। তার মনে হল, রিকার্ডোর হাত জো থম্পসনেরই হাত, রিকার্ডোর চোখ যেন জো থম্পসনেরই চোখ। কি বিশ্রী চাউনি রিকার্ডোর। রিকার্ডো বুঝি তার শরীরে দাঁত বসিয়ে দিতে চায়। ক্যারেন গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে বলল, " বেরিয়ে যাও, বেরিয়ে যাও, নোংরা বদমাশ। বেরিয়ে যাও, শয়তান কোথাকার!" বিস্ময় বিহ্বল রিকার্ডো ক্যারেনের কাঁধ থেকে হাত নামিয়ে বলল, " কি বলছ ক্যারেন এসব? কাকে কি বলছ তুমি? আমায় তুমি চিনতে পারছ না? ঈশ্বরের দোহাই, শান্ত হও। তোমার মাথার ঠিক নেই এখন।" " আমার মাথা ঠিকই আছে। আই সে গেট আউট। গেট আউট। ক্রিস থাকলে বুঝতে মজা। গেট আউট " বলতে বলতে ক্যারেন রিকার্ডোর গালে প্রচণ্ড জোরে এক চড় কষিয়ে দিল। রিকার্ডোর ঠোঁট ফেটে রক্ত বেরিয়ে পড়ল। " ঠিক আছে ক্যারেন, তোমার ভালোই চেয়েছিলাম", বলতে বলতে রিকার্ডো ঠোঁটে রুমাল চেপে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল। রিকার্ডোর গাড়ির শব্দ যতক্ষণ শোনা গেল ততক্ষণ ক্যারেন পাথরের মূর্তির মতো ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর দরজা বন্ধ করে নগ্ন হয়ে বাথরুমে গিয়ে দাঁড়াল শাওয়ারের নীচে। অনেকক্ষণ ধরে স্নান করার পর কিছুটা প্রকৃতিস্থ হল ক্যারেন। রিকার্ডোর সঙ্গে এ কি ব্যবহার করল ও! মনে মনে খুব কান্না পেল ক্যারেনের। মন ভরে গেল অনুশোচনায়। না, রিকার্ডোর সাথে এই ব্যবহার করা মোটেও ঠিক হয়নি। অনেকক্ষণ চুপ করে বসে রইল ক্যারেন। একসময় উঠে পোশাক বদলে, চুল আঁচড়ে, মুখে হাল্কা মেক আপ দিয়ে বেরিয়ে পড়ল। এখানে তার যাবার একটাই জায়গা, মার্সিয়া অলিভারের দোকান। গেট দিয়ে বেরোবার সময় একটা সিগারেট ধরিয়ে মনটা হাল্কা করার চেষ্টা করল ক্যারেন। মার্সিয়া তখন বেরোচ্ছিল। ক্যারেন তখন ঢুকছিল। ক্যারেনকে দেখে বলল, " কি ক্যারেন? এত শুকনো দেখাচ্ছে কেন তোমায়? কি হয়েছে?" ক্যারেন হেসে বলল, " কিছু হয়নি। তুমি বেরোচ্ছ কোথাও? একটা ফোন করার আছে।" " করো। আমি একটু আসছি।" গাইড বুক ঘেঁটে শেরিল থমাসকে ফোন করল ক্যারেন। ফোন করেই ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে লাগল, যেন শেরিলকে পাই। শেরিলই ফোন রিসিভ করল। ক্যারেন বলল, " হাই শেরিল, আমি ক্যারেন। ভালো আছ? সেদিন তোমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছিলাম। মাইন্ড করেছ? মাফ করে দিও ভাই।" " আরে ছাড়ো তো, আমি এসবে কিছু মাইন্ড করি না", ওপাশ থেকে বলল শেরিল। " তাহলে শোননা, আমার বাড়িতে আজ একবার আসতে পারবে? আমার মন খুব খারাপ।" " আজ?", শেরিল একটু চিন্তা করে নিয়ে বলল, " আজ আমার স্কুলে একটা মিটিং আছে। তবে কাল আসতে পারি।" " ঠিক আছে। সঙ্গে অন্য বইগুলোও নিয়ে এসো। আমি অপেক্ষা করে থাকব।" " ঠিক আছে। আসব।" রিসিভার নামিয়ে রেখে ক্যারেন টের পেল, তার ডান কাঁধের কাছে কে যেন দাঁড়িয়ে আছে। ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল, তার খুব কাছে দাঁড়িয়ে কেমন ঠান্ডা অপলক চোখে তাকে লক্ষ্য করছে উইলিয়াম অলিভার। ঠান্ডা, সাপের মতো শীতল দৃষ্টি। (চলবে) ------------------


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-১২
→ শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ-১২

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now