বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ"
লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু
--------------------------
পর্ব ১০
এদিকে বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাড়ির কম্পাউন্ডে কিছুক্ষণ দৌড়ল ক্রিস হ্যালোরান। তারপর এসপেনের রাস্তা ধরল। এসপেন যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে ওকে। ক্যারেনকে আজকাল অনেক দূরের মানুষ মনে হয়। আজকাল ক্রিসের চেয়েও ওয়্যারউলফের ব্যাপারেই ওর আগ্রহ সবচেয়ে বেশী। তারওপর শেরিল এসেছে ঐ একই ব্যাপার নিয়ে। মেজাজটাই খারাপ হয়ে গেছে ক্রিসের। বাড়ি বসে সন্ধ্যাটা মাটি করতে চায়নি বলেই ও জগিং করতে বেরিয়ে পড়েছে।
এসপেন ডাকছে ক্রিস হ্যালোরানকে। এসপেন ডাকছে? না ডাকছে সেই সবুজ চোখের যুবতী? যার ঐ সবুজ চোখে আত্মহত্যার আমন্ত্রণ! যার স্তনের দৃঢ়তা পাগল করে দেয় ক্রিসকে! সেই লিন্ডা কক্স। নামটা মনে মনে দুবার উচ্চারণ করল ক্রিস। ছুটতে লাগল লিন্ডার দোকানের দিকে।
ঝিরঝিরে বাতাসে গাছের পাতারা দোল খাচ্ছে। বাতাসে দারুচিনির ঘ্রাণ। শহরে বড় হয়ে ওঠা ক্রিসকে এই শান্ত পল্লীর অবারিত স্নিগ্ধ রূপও কম মুগ্ধ করছে না। প্রকৃতির এত শান্ত, সুন্দর রূপ সে আগে কখনো দেখে নি।
গ্রামে ঢুকে পায়ে পায়ে নিজের অজান্তে সে এগিয়ে গেল লিন্ডা কক্সের দোকানের দিকে। এর আগে মাত্র সে একবারই এসেছিল এই দোকানে। সেদিন তার সাথে ক্যারেন ছিল। প্রাণ খুলে সেদিন কথা বলতে পারেনি যুবতীর সাথে। যদিও ক্রিস লক্ষ্য করেছিল, তাকে যেন চাউনি দিয়ে গিলে খাচ্ছিল সবুজ চোখের সেই সুন্দরী।
দরজার কাছে থমকে দাঁড়াল ক্রিস। ভাবল, ভেতরে যাবে কি যাবে না।
দোটানায় ভুগতে ভুগতে ক্রিস দোকানের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকল। ভেতরে কোথাও টুং টাং শব্দে ঘণ্টাধ্বনি হয়ে উঠল। ভেতরে ঢুকে কি অন্যায় করল ক্রিস? না, কিসের অন্যায়? সে তো ক্যারেনের জন্য কিছু উপহার কিনতে আসতে পারে। যদিও উপহার কেনা তার উদ্দেশ্য নয়। প্রকৃত কারণটা যে কি, তা বোধহয় ক্রিসেরও অজানা।
লিন্ডার মাথার ঘন কালো চুল আর মদির দৃষ্টি যেন পাগল করে দেয় ক্রিসকে। বুকের ভেতর কামনার আগুন জ্বালিয়ে দেয়। ধীর পায়ে সবুজ পর্দা সরিয়ে দোকানের ভেতর ঢুকল লিন্ডা। পরণে সংক্ষিপ্ত পোশাক। সুইমিং কস্টিউমও বলা যায়। দেহের প্রতিটি ভাঁজ স্পষ্ট।
হাসল লিন্ডা। ঝকঝকে মুক্তোর মতো দাঁত আর হাসি। ভুলিয়ে দিতে চায় সবকিছু। ক্ষতি কি? ভুলতেই তো এসেছে ক্রিস।
লিন্ডা দ্রুত পা ফেলে সামনে এগিয়ে এল।।" আরে ক্রিস হ্যালোরান, এসো। কতদিন ধরে আমি তোমার অপেক্ষা করে আছি। আসবার নাম নেই তোমার।"
ক্রিস লিন্ডার শরীরটা দেখল কয়েক সেকেন্ড ধরে। তারপর তাকাল ওর চোখে, যে চোখে ওর দৃষ্টি গেল আটকে। বলল, " আমি আসব, তুমি জানতে?"
" বাঃ, জানব না? সেদিন তোমার বউ সঙ্গে থাকলেও আমার জন্য টান অনুভব করোনি তুমি? ", হাসল লিন্ডা, বলল, " মিথ্যে বলব না, তোমার জন্য আমিও অপেক্ষা করে ছিলাম এতদিন।"
" তা বলতে পারো", ক্রিস বলল, " তবে আমি এখন আমার স্ত্রী র জন্য গিফট কিনতে এসেছি। "
" নিশ্চয়, নিশ্চয়, কিনবে", লিন্ডা হেসে বলল, " তবে এত সহজে তোমায় এখন ছাড়ছি না। চল, বাইরে থেকে একটু বেরিয়ে আসি। আমার দোকানের পেছন দিয়ে রাস্তা চলে গেছে। ক্যাজুরিনা পর্যন্তও যাওয়া যায়। চল, ঐ পথ ধরে একটু বেরিয়ে আসি।" তাড়া লাগাল লিন্ডা।
এগিয়ে এসে লিন্ডা ক্রিসের একটা হাত ধরল। র' স্কচের মতো সেই স্পর্শের আগুন ক্রিসের সারা শরীরে যেন আগুন জ্বালিয়ে দিল।
ওরা বেরিয়ে পড়ল।
লিন্ডার ঘরটা ছোট হলেও পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। বেডরুম লাগোয়া এটাচড কিচেন আর বাথ। সারা ঘরে ধূপ-চন্দনের গন্ধ।
লিন্ডার ঘর পেরিয়ে ছবির মতো পথ এঁকেবেঁকে গেছে জঙ্গলের ভেতর দিয়ে। ক্রিসের হাত ধরে এগোতে এগোতে লিন্ডা বকবক করেই চলেছে। ক্রিসের মতো পুরুষ নাকি জীবনে দেখে নি সে। ওর মতো এরকম একজন পুরুষের জন্যই সে অপেক্ষা করে বসে ছিল। এসপেনে তার মতো পুরুষ এই প্রথম। " কি তোমার পেশী বহুল বাহু, কি তোমার চেতানো বুক। ওহ, ক্রিস, তুমি আমায় অন্ধ করে দিয়েছ।"
ক্রিসের চোখেও নেশার ঘোর। লিন্ডা তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে, স্বর্গে না নরকে, সে জানে না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা আর নেই ওর। ক্রিসের একটা হাত লিন্ডার কোমরে। চঞ্চল আঙুলগুলো। লিন্ডার একটা হাত ক্রিসের কাঁধে। সূর্য অস্ত যেতে বেশী দেরী নেই। বনপথে ছায়া প্রায় ঘন হয়ে এসেছে। সন্ধ্যে নামার আগেই এই পথে আগে অন্ধকার নামবে।
চলতে চলতে একটা ফাঁকা জায়গায় এসে পড়ল ওরা। ক্রিস বলল, " এসো, এখানে একটু বসি।"
লিন্ডা ঘুরে দাঁড়িয়ে ক্রিসের কোমর জড়িয়ে ধরল দু হাতে। কি অদ্ভুত উত্তেজক একটা সুগন্ধ আসছে লিন্ডার গা থেকে। তার উদ্ধত স্তন ছুঁয়ে গেল ক্রিসের বুক। বসল দুইজনে।
লিন্ডাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে গেল ক্রিস। মুখ সরিয়ে নিল লিন্ডা। অপ্রস্তুত হল ক্রিস। লিন্ডা বলল, " ডার্লিং, তুমিও যা চাও, আমিও তাই চাই। কিন্তু এখনো এর সময় আসেনি।"
হঠাৎ চারদিকটা কেমন ম্লান আর বিবর্ণ মনে হল ক্রিসের কাছে। অভিমান হল তার। বলল, " কেন নয় লিন্ডা?"
" এখন নয়, পরে জানতে পারবে। এখন চলো "। বলে লিন্ডা খাড়া হল।
এমন দৃঢ় আর হুকুমের ভঙ্গিতে কথাগুলো বলল লিন্ডা যে ক্রিস আর কিছু বলতে পারল না। লিন্ডার পিছু পিছু চলতে লাগল সে।
নিজের ঘরে ফিরে এসে আবার মেজাজ বদলে গেল লিন্ডার। হাসিখুশী, চঞ্চলা চোখে নিবিড় দৃষ্টি। বেকুব বনে গেল ক্রিস। সত্যিই নারীর মন বোঝা ভার। এতদিন ঘর করে ক্যারেনের মনটাই বুঝতে পারল না, তো লিন্ডার সঙ্গে তো সবে পরিচয় হল।
" রাস্তাটা কি সুন্দর, তাই না ডার্লিং?, ওই রাস্তায় আমরা আবার একদিন ঘুরতে যাব।" হাসি হাসি মুখ করে বলল লিন্ডা।
লিন্ডার চোখের দিকে তাকাল ক্রিস। সবুজ চোখ, সম্মোহনী দৃষ্টি তাতে। মানুষের চোখ যে সবুজ হয়, তা কোনওদিন দেখেনি ক্রিস।
" আজ আসি তাহলে?" হতাশ গলায় বলল ক্রিস।
" তোমার বউএর জন্য কি যেন নেবে বলছিলে?" লিন্ডা জিজ্ঞেস করল।
" না, আজ থাক।"
বাড়ির পথে ফিরতে ফিরতে নিজেকে বড্ড অপরাধী মনে হচ্ছিল ক্রিসের। অন্তর্দ্বন্দে ভুগতে লাগল সে। ক্যারেনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করল সে আজ। অথচ লিন্ডা শুধু ওর হাতটাই ধরেছিল। তাতেই যেন ক্রিসের শরীরের রক্তে বান ডেকেছিল।
ক্যাজুরিনার দরজায় দাঁড়িয়ে ব্যাপারটাকে ও সাময়িক চিত্তচাঞ্চল্য বলে উড়িয়ে দিতে চাইল।
রাতে ও খুব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়ল।
(চলবে)
------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now