বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
।
( সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটিতে কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে, তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঠকরা দয়া করে গল্পটি পড়বেন না)
"শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ"
লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু
------------------------
পর্ব ৪
তবে দরজায় নতুন রঙের ওপর বুনো জন্তুর আঁচড়ের দাগ, রাতে জন্তুর ডাক, কেমন যেন বিভ্রান্ত করে তুলল ক্যারেনকে। সে সাবধানে স্বামীর বুকের ওপর নিশ্বাস ফেলল। ঠিক করল এসব চিন্তা সে মাথা থেকে সরিয়ে দেবে। বই পড়বে, ক্যাসেটে গান শুনবে, ছবি আঁকবে, ক্রিসের লেখা টাইপ করবে...এভাবেই কেটে যাবে সময়।
হঠাৎ ক্রিস লাফিয়ে উঠে বলল, " গেট আপ ডার্লিং। "
ক্যারেন উঠে বসল। শীত শীত করছে তার। বলল, " শার্টটা দাও তো ক্রিস।"
ক্যারেনকে শার্ট এনে দিয়ে ক্রিস কুকুরটাকে নিয়ে বাইরে চলে গেল। ব্যায়াম করবে।
ডিম, টোস্ট, সসেজ আর কফি দিয়ে সকালের নাস্তা সারল ওরা। টাইগারকেও পেট পুরে খাইয়ে দিল ওরা।
ক্রিস বলল, " চল ডার্লিং, গাড়িতে করে তোমায় গোটা গ্রামটা একটু ঘুরিয়ে নিয়ে আসি। এখান থেকে দু মাইল দূরে যে শহর আছে, সেখান থেকেও ঘুরে আসা যায়। "
" গাড়ির কি দরকার! ছুটির দিন। চলো হেঁটেই যাই। কি সুন্দর নিসর্গ।"
" না, গাড়ি ছাড়া দেরী হয়ে যাবে।"
" তাতে কি? তোমার তো চিঠি পোস্ট করতে যেতেও গাড়ি লাগে।"
" ড্রাইভিংটা শিখে নাও। তোমার কাজে আসবে দেখো। আমাকেও তো একটু বেরোতে হবে। ঠিক আছে চলো।"
টাইগারকে নিয়ে ওরা বেড়িয়ে পড়ল।
ওদের ক্যাজুরিনা বাড়িটা গ্রামের একেবারে শেষপ্রান্তে। এরপর আর বাড়ি নেই। বাড়ির পাশ দিয়ে চলে গেছে কাঁচা রাস্তা। রাস্তার দুপাশে ছোটবড় নানারকম গাছ। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে সকালের কোমল রোদ এসে পড়েছে রাস্তায়। কানে ভেসে আসছে নানারকম পাখির কিচিরমিচির। এত বিচিত্র রঙের পাখি কোনওদিন দেখেনি ক্যারেন। পরিষ্কার আকাশ। এত বড় মুক্ত পরিবেশ পেয়ে টাইগারও আনন্দে আত্মহারা। লাফিয়ে লাফিয়ে ছুটছে।
পথের দুপাশে দু একটা বাড়ি নজরে পড়ল, অনেকটা ধ্বংসস্তূপের মতো পড়ে রয়েছে। বোঝাই যাচ্ছে বহুকাল এ সব জায়গায় মানুষের পা পড়েনি। বাড়িগুলোর বাগানে তো বটেই, দেওয়াল আর ছাদেও জন্মেছে আগাছা। কয়েকটা বাড়ির দরজা জানলাও ভাঙা। ভেতরে হয়ত এতদিনে সাপ, শেয়াল আর বনবেড়ালের আখরা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দু একটা ছোটখাটো ভয়ঙ্কর জন্তু জানোয়ারেরও এখানে লুকিয়ে থাকা বিচিত্র নয়। গা টা শিরশির করে উঠল ক্যারেনের। ক্রিসের গা ঘেঁষে হাঁটতে লাগল। কেন যে লোকগুলো এখানে বাড়ি তৈরি করল, কেনই বা ছেড়ে গেল, প্রশ্ন জাগল মনে। এমন সুন্দর গ্রাম!
প্রশ্নটা ক্যারেনকে খোঁচাতে লাগল। এত সুন্দর গ্রামে বাড়ি তৈরি করে কেন লোকগুলো চলে গেল! কেন ছেড়ে গেল এই গ্রাম!
আমেরিকার অনেক জায়গায় অবশ্য এরকম ছোট ছোট পরিত্যক্ত শহর আছে।
খনি আবিষ্কার হওয়ায় যেসব শহর গড়ে উঠেছে, খনি আবিষ্কারের পর সেগুলো পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এইসব অস্থায়ী শহরগুলোর বাড়িগুলো কাঠের তৈরি। এগুলোকে বুম টাউন বলে। এরকম দু একটা শহর ক্যারেন দেখেওছে ছাত্রাবস্থায়। তবে এসপেনকে তার বড্ড আজব শহর মনে হচ্ছে। এখানকার বাড়িগুলো পাকা, মজবুত। তবুও এখানে কোনও মানুষ বাস করে না! কারণটা কি? ঔপনিবেশিক আমলের পুরনো বাড়িও রয়েছে এখানে। পুরো ব্যাপারটাই রহস্যময় মনে হচ্ছে ক্যারেনের কাছে।
কাঁচা রাস্তা ছেড়ে ওরা পাকা রাস্তায় উঠে এল।
রাস্তার ওপর উঠেই কেমন চঞ্চল হয়ে উঠল টাইগার। ঘন ঘন মাটি শুঁকতে লাগল সে। কেমন ভীত দেখাচ্ছে তাকে। ক্রিস আর ক্যারেনের মাঝখানে কেঁউ কেঁউ করে হাঁটতে লাগল। মাঝে মাঝে এদিক ওদিক চাইতে লাগল। কিছু যেন খুঁজছে টাইগার।
ক্যারেনের মনে হল ওরা আমেরিকার বাইরে কোথাও চলে এসেছে। নির্জন, পরিত্যক্ত কোনও দেশে। যেখানে আছে শুধু ও নিজে, ক্রিস আর টাইগার।
কিছুদূর এগিয়ে চোখে পড়ল মূল এসপেন। ওরা একটু দূর থেকে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল গ্রামটা। কি চমৎকার পাতায় ছাওয়া শান্ত স্নিগ্ধ একটা গ্রাম।
" গ্রামটা তো খুব ছোট মনে হচ্ছে, ক্রিস! লোকজন নেই নাকি?" খুব আস্তে আস্তে প্রশ্ন করল ক্যারেন।
ক্রিসও নীচু গলায় জবাব দিল, " লোকজন নিশ্চয়ই আছে। তবে খুব বেশী হবে না। এই শ'দেড়েক হবে। কিন্তু রাস্তায় তো এখনো একটা লোকও দেখলাম না।"
" হয়তো এখনো সবাই ঘুমুচ্ছে। এখানে হয়ত সকাল হয় দেরীতে।"
এরপরেই যেন কিছু একটা আবিষ্কার করে ফেলেছে এমন উৎসাহে ক্যারেন বলে উঠল, " ওই তো দেখো, একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে। মনে হচ্ছে ওটা দোকান। "
ঘন ছায়ায় লোকটার মুখ পরিষ্কার নয়। ওরা পা বাড়াল সেদিকে। অচেনা লোক দেখে টাইগার ঘেউ ঘেউ করে উঠল। ক্যারেন ওকে থামাল।
কাছে আসতে ক্যারেন লোকটাকে চিনতে পারল। এসপেনের সেই স্বঘোষিত শেরিফ, যার সাথে ওর প্রথম দেখা হয়েছিল রাস্তায়। টেবর ইভান্স। ক্যারেন বলে উঠল, " গুড মর্নিং, মিঃ ইভান্স, আজ কি সব বন্ধ"?
ক্যারেনকে দেখে টেবর ইভান্স হ্যাটের কোণার প্রান্তভাগ স্পর্শ করে অভিবাদন করে বলল, " দোকান? দোকান তো সব খোলাই। এই গ্রামটা খুব শান্ত, লোকজন এখনো বেরোয় নি।"
ক্রিস বলল, " হৈ হট্টগোল আমাদের ভাল লাগে না মিঃ ইভান্স। শহরের হৈ হট্টগোল এড়াতেই আমরা এখানে এসেছি। দোকান খোলা আছে বললেন? "
" হ্যাঁ, হ্যাঁ, খোলা। ঐ তো সামনে অলিভার্স স্টোরস। ওখানে সব পাবেন। গ্রসারি, প্রভিসন আর খুচরো জিনিসপত্র সব ওখান থেকেই পাবেন।" লোকটা বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে পেছনের দোকানটাকে দেখিয়ে কথাগুলো বলে গেল। তারপর হ্যাটের প্রান্তভাগ স্পর্শ করে নিয়মমাফিক অভিবাদন জানিয়ে আর একটিও কথা না বলে চলে গেল।
" লোকটা কেমন অদ্ভুত! " ক্যারেন মন্তব্য করল, "একটিও কথা না বলে চলে গেল। এরকম লোক শেরিফ হয় কি করে"!
" আরে তুমিও যেমন, এ গ্রামে আবার শেরিফ কি! হয়ত কোনও সরকারি লোক ওকে বলে দিয়েছে, 'একটু দেখো ', অথবা ও নিজেই গাঁয়ের মোড়ল সেজে বসেছে।"
ক্যারেন বলল, " চলো দেখি দোকানটায়, খুচরো কি পাওয়া যায়! আমাদের ক'টা মোমবাতি কেনা দরকার।"
দোকানটার কোনও নাম নেই। এমনকি বাইরে থেকে দেখলে মনেও হয়না, ভেতরে কোনও দোকান আছে। দরজার পাশেই শো উইন্ডো। সেটাও ভারী নীল পর্দায় ঢাকা। পুরু কাঁচের দরজা। ভেতরে আলো নেই। কিছু দেখাই যাচ্ছে না।
হ্যান্ডেল ঘুরিয়ে দরজা খুলল ক্রিস হ্যালোরান। ভেতরে কোথাও টুং টাং শব্দে কলিং বেল বেজে উঠল। ক্যারেন বলল, " তুমি এগোও, টাইগার বাইরে থাক।"
দোকানের ভেতর কোনও আলো নেই। লোকও নেই। দরজা খোলার পর বাইরে থেকে কিছুটা আলো এসে ঢুকছে দোকানে। নাকে লাগল চন্দনের মিষ্টি গন্ধ।
ছোটখাটো সাজান দোকান। দেওয়াল জুড়ে শো কেস। ঘর গেরস্থালীর নানা জিনিস সাজানো। প্রত্যেকটা জিনিসের গায়ে দাম লেখা।
" আশ্চর্য! দোকানের মালিক কোথায়?" ক্রিস ফিসফিস করে বলে উঠল। বলার সঙ্গে সঙ্গেই ওপাশের সবুজ পর্দা ঠেলে দোকানের ভেতর ঢুকল এক যুবতী। যুবতীর মাথায় ঘন কালো চুল, পাতলা ঠোঁট, সরু ভ্রু, টিকালো নাক, মুখে স্মিত রহস্যময় হাসি। চোখের তারা সবুজ, রহস্যময় ও তীক্ষ্ণ। সরু কোমর, খাড়া সুডৌল বুক, ওলটানো তানপুরার মতো নিতম্ব। গলা থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত আর হাতের কবজি পর্যন্ত হালকা বাদামি রঙের গাউন। ভেতর দিয়ে সাদা ব্রা আর প্যান্টি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
ক্রিস মেয়েটির আপাদমস্তক দেখতেই লাগল। ক্যারেন ওর পেছনে এসে দাঁড়াল। ক্যারেনের মোটেও ব্যাপারটা ভাল লাগছিল না। ছুঁড়ি যেন নিজের রূপ দেখাতেই ব্যস্ত। রহস্যময়ী যুবতীটি এবার নিতান্ত অসভ্যের মতো ক্যারেনকে উপেক্ষা করে ক্রিসের দিকে তাকিয়ে তাদের উদ্দেশ্যে বেশ আগ্রহের সঙ্গেই বলল, " আপনারা এলেন তাহলে! আপনাদের অপেক্ষাতেই ছিলাম।"
( চলবে)
---------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now