বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
( সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটিতে কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে, তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঠকরা দয়া করে গল্পটি পড়বেন না)
"শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ"
লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু
------------------------
পর্ব ৩
শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠিতে ক্যারেনের দুই মাস সময় লাগল। কিন্তু মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়ল সে। কিছুতেই সেই ভয়াবহ স্মৃতি মন থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারল না সে। কখনো রাতে দুঃস্বপ্নে দেখে সেই ভয়াবহ স্মৃতি, কখনো দেখে, ছোট্ট একটি ফুটফুটে শিশু তার হাত ধরে বলছে, " আমায় বাঁচাতে পারলে না, মা?"
ঘুম ভেঙে উঠে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে ক্যারেন।
ডাক্তারের পরামর্শে ক্যারেন আবার চাকরীতে জয়েন করল, কিন্তু কিছুতেই মন বসাতে পারল না কাজে।
ক্যারেনকে নিয়ে ক্রিস মমনোবিজ্ঞানীর কাছে গেল। তিনি তাদের পরামর্শ দিলেন, কোথাও নিরিবিলিতে বেশ কিছুদিন কাটিয়ে আসতে। এই পরিচিত পরিবেশ থেকে দূরে কোথাও, নিরিবিলিতে। গ্রামে হলেই ভাল হয়। ক্যারেনের হোটেল মালিক ক্যারেনকে ছুটি দিল। কিন্তু ক্রিস ছুটি পেল না। অগত্যা তারা ঠিক করল, এমন জায়গায় গিয়ে থাকবে, যাতে তা নিরিবিলি হয়, আবার ক্রিসের অফিস যাতায়াত করতেও সুবিধে হয়।
অগত্যা ক্রিস রিয়েল এস্টেটের এক ফার্মে ফোন করল। ওরাই এসপেন নামক জায়গাটির হদিশ দিল।
লস এঞ্জেলেস থেকে গাড়িতে প্রায় দু ঘন্টার পথ। আবার প্রয়োজনীয় সব কিছুই হাতের কাছে পাওয়া যায়।
তারপর একদিন ক্রিস হ্যালোরান, ক্যারেন আর রিকার্ডো গিয়ে ক্যাজুরিনা নামের বাড়িটা দেখে এল। ক্যাজুরিনা দেখে তো ক্রিস আর রিকার্ডো মহাখুশী। তবে ক্যারেন প্রথমে একটু খুঁতখুঁত করলেও পরে রাজি হয়ে যায়।
জায়গাটা ক্যারেনের কাছে সবচেয়ে বেশী নির্জন মনে হল।
চারদিকে প্রচুর গাছ। সবচেয়ে কাছের বাড়িটিও কত দূরে! পাশের গ্রামে যেতে হলে একটা বন পেরিয়ে যেতে হয়। এমন জায়গা কবি শিল্পীদের হয়ত ভাল লাগবে। চিরকাল শহরে লালিত হয়েছে ক্যারেন। ওকে সারাদিন এই বাড়িটায় একা কাটাতে হবে ভেবেই ওর কেমন লাগছিল। তবে ক্রিস আর রিকার্ডোর পছন্দ হয়ে যাওয়ায় ক্যারেনও আর কোনও আপত্তি করল না।
পুরো বাড়িটাকে ঝেড়ে মুছে ঝকঝকে করে তুলতে সাত দিন সময় নিল রিয়েল এস্টেটের কর্মীরা। রঙ, কার্পেট, অয়েল পেইন্টিং, প্লাস্টার দিয়ে পুরো বাড়িটা সাজিয়ে গুছিয়ে একেবারে বাড়ির চেহারাটাই বদলে দিল ওরা। ছমাস থাকবে এখানে ক্যারেনরা।
যাবার দিন স্থির হল। ঠিক একদিন আগে ক্রিস হ্যালোরান চলে গেল ক্যাজুরিনায়। তার পরের দিন রিকার্ডো এসে পৌঁছে দিল ক্যারেনকে।
অন্ধকার থাকতেই ক্যারেনের ঘুম ভেঙে গেছে। পুবের জানলার ওপর এক ফালি কাঁচ বসান আর সেই কাঁচ ভেদ করে এক টুকরো আলো এসে ঢুকেছে ঘরের ভেতর।
চোখ খুলল ক্রিস। ক্যারেন স্বামীর গালে সামান্য চুমু খেয়ে বলল, " গুড মর্নিং, গত রাতে ভাল ঘুম হয়েছে, ডার্লিং? "
" খু--উ--উ--ব। গাড়ির হর্ন নেই, কোলাহল নেই। তার ওপর তুমি আছ আমার পাশে। তোমার ভাল ঘুম হয়নি?"
" হ্যাঁ। তবে.....বলতে গিয়ে ইতস্তত বোধ করল ক্যারেন। বুঝতে পারছে না কথাটা বলবে কিনা।
" তবে কি?" ক্রিস ওকে জড়িয়ে ধরে জিজ্ঞেস করল।
" তুমি বেশ ঘুমিয়েছ বললে....তুমি শুনতে পেয়েছিলে কিছু?"
" কি?" কনুইয়ে ভর দিয়ে জিজ্ঞেস করল ক্রিস।
" কোনও জন্তুর ডাক?"
" জন্তুর ডাক! কোন জন্তু?"
" জানি না। তবে ডাকটা খুব তীক্ষ্ণ। কলজে কাঁপানো। " ক্যারেন বলল।
" ধুর এখানে জন্তু আসবে কোত্থেকে? ওদিকটায় জানলার কাঁচ খানিকটা ভাঙা। সেই ভাঙা জায়গাটা দিয়ে বাতাসের হিসসসস শব্দ শুনেছ নিশ্চয়ই।"
" কিন্তু আওয়াজটা সেরকম ছিল না, ক্রিস।"
" তাহলে চিমনিতে বাতাস লেগেও আওয়াজ সৃষ্টি হতে পারে।"
" কিন্তু গত রাতে কোনও দমকা হাওয়া বয় নি ক্রিস।"
" তাহলে নির্ঘাত স্বপ্ন দেখেছ। বাদ দাও তো যতসব ফালতু চিন্তা।"
ক্যারেন আর কিছু বলল না। অনেক যত্ন করে এই বাড়ি সাজিয়েছে ক্রিস। সেখানে প্রথম রাতেই এরকম কিছু শুনলে ও বিরক্ত হতেই পারে। কে জানে, ক্যারেনই হয়ত ভুল শুনেছে।
( ক্রমশ)
-----------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now