বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
( সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য। গল্পটিতে কিছু ১৮+ কন্টেন্ট আছে, তাই অপ্রাপ্তবয়স্ক পাঠকরা দয়া করে গল্পটি পড়বেন না)
"শ্যাডো অব দ্য ওয়্যারউলফ"
লেখক : গাই. এন. ক্রিস্টি
অনুবাদ : অনীশ দাস অপু
--------------------------
২ য় পর্ব
জো থম্পসনের হাতে ধর্ষিতা হবার সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনো দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে ফেরে ক্যারেনকে।
সেপ্টেম্বরের লস এঞ্জেলেস। বেশ গরম পড়েছে। বাইরে গরম হাওয়া।
রিজেন্ট পার্কের বাড়িগুলোর সব দরজা জানলা বন্ধ। গরম হাওয়ার চেয়ে এখানে ধূলোর ভয়ই বেশী। মাঝে মাঝে দু একটা এক্সহস্ট ফ্যানের শব্দ পাওয়া যাচ্ছে।
এই মহল্লারই একটা বি টাইপ এপার্টমেন্টে থাকে ক্রিস হ্যালোরান আর তার সুন্দরী স্ত্রী ক্যারেন হ্যালোরান। সঙ্গে তাদের এলসেশিয়ান কুকুর টাইগার।
সেদিন ছিল ওদের বিবাহবার্ষিকী। সমস্ত বাড়ি ওরা ঝকঝকে তকতকে করে তুলেছে। ক্যারেনের পেছনে ঘুরঘুর করছে ক্রিস।
" তোমার মতলবটা কি বলো তো?"
" কেন বোঝো না?"
পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল ক্রিস ক্যারেনকে। মুখটা উঁচু করে তুলে ধরল ক্যারেন। প্রগাঢ় চুম্বনে ক্রিস যেন শুষে নিতে চাইল ক্যারেনকে।
আজ প্রিয় বন্ধু রিকার্ডোকে আমন্ত্রণ করবে ক্রিস। এমন আনন্দের দিনে সবাই মিলে পান করবে।
একটা প্রকাশনা সংস্থায় চাকরী করে ক্রিস। সম্পাদনা আর প্রকাশনার দায়িত্বে রয়েছে ক্রিস। সে নিজে অবশ্য লেখকও। তবে বাজারে বইয়ের সংখ্যা বেশী নয়। সম্পাদক হিসেবেই নাম কামিয়েছে সে। একটা নামী হোটেলে ম্যানেজমেন্ট বিভাগে কাজ করে ক্যারেন। এখানেই ক্রিস হ্যালোরানের সাথে তার প্রথম দেখা হয়। প্রথম দর্শনেই প্রেম, তারপর পরিণয়।
ক্রিস অফিসে গেল। ওখান থেকে ফোন করে দিল রিকার্ডোকে। ক্যারেনের খুশী দেখে কে! ক্যারেন নিশ্চিত সে মা হতে চলেছে। আজই স্বামীকে সে খবরটা জানাবে।
কিন্তু দুপুরে বাড়িতে ক্যারেনকে ফোন করে ক্রিস জানাল, তাকে এখন লস এঞ্জেলেস রওনা হতে হবে। একজন লেখকের পান্ডুলিপি নিয়ে জরুরী কথা বলার আছে। দুপুরে বাড়ি এসে ক্রিস খেয়েদেয়ে ব্যাগ গুছিয়ে নিয়ে নিল লস এঞ্জেলেস রওনা হবে বলে।
হাউসিং এস্টেটের লাগোয়া কৃষি ফার্মে ট্রাক্টর চালাত জো থম্পসন। চেহারা দেখে বয়স বোঝার উপায় নেই। মাথায় কাঁচাপাকা চুল। গালে খোঁচা খোঁচা দাড়ি। গালে একটা কাটা দাগ। কোথাও মারামারি করতে গিয়ে সামনের দুটো দাঁত ভেঙেছে। পরনের কাপড় নোংরা , তালিমারা। যুবক যুবতীদের উচ্ছলতা ও চাঞ্চল্য তার দু চক্ষের বিষ।
জো থম্পসন দেখল, বি টাইপের এপার্টমেন্টের চালিয়াৎ ছোঁড়াটা ব্যাগ নিয়ে অফিস থেকে ফিরল বাড়িতে। তারপর আবার কিছুক্ষণ পর এসে ব্যাগটা গাড়িতে রেখে ওর বউকে হেব্বি একটা চুমু খেল। জো থম্পসন কাছেই দাঁড়িয়ে ছিল। ওরা পাত্তাই দিল না ওকে।
ক্যারেনের দিকে তাকিয়ে জিভ চাটল জো। শালীর ফিগার কি! যেন বিজ্ঞাপনের মডেল। আহ! একে যদি একবার বিছানায় পেত জো। নাহ, আজই একটা চান্স নেবে জো। যা থাকে কপালে। ভাবতে ভাবতে ক্যারেনদের বাড়ির দিকে পা বাড়াল জো।
রান্নাঘরে একমনে কাজ করছিল ক্যারেন। ডোরবেলের শব্দ হল। নিশ্চয় রিকার্ডো এসে গেছে। মনে মনে খুশী হয়ে গেল ক্যারেন। কিচেন থেকে বেরিয়ে এসে দরজা খুলে দিল। না, রিকার্ডো নয়। একটা অপরিচিত লোক। বিরক্ত হল ক্যারেন। বলল, " কি চাই?"
লোকটা দরজার ভেতর এক পা ঢুকিয়ে রেখেছে। চাইলেও দরজা বন্ধ করতে পারবে না ক্যারেন। ক্যারেনের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে লোকটা ওর বুকের দিকে তাকিয়ে আছে দেখে ক্যারেনের অস্বস্তি হতে লাগল।
" কি চাই জিজ্ঞেস করলাম না?"
" আপনাদের গ্যাসের পাইপটা চেক করব।"
" আমাদের গ্যাসের পাইপ ঠিকই আছে। আপনাকে চেক করতে হবে না।" রুক্ষ্ম গলায় বলল ক্যারেন।
" আপনাদের নয়, পাশের বাসার পাইপটা আপনাদের বাথরুম দিয়ে গেছে। সেটা ঠিক করতে হবে", বলতে বলতে জো ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল। মুখে একটা কুৎসিত হাসি। ক্যারেনের বুকটা ধ্বক করে উঠল। ওর গায়ে এখন একটা স্লিভলেস শার্ট আর শর্ট প্যান্টি। ওকে যেন গিলছে লোকটা। ভগবান! রিকার্ডো কেন আসছে না এখনো! নিজেকে সামলে নিয়ে ক্যারেন বলল, " আমার স্বামী যখন বাড়ি থাকে তখন এসো। "
লোকটা ঘুরে দাঁড়িয়ে বলল, " তোমার স্বামীকে তো আমার দরকার নেই।"
ক্যারেন অসহায়ভাবে টাইগারের দিকে তাকাল। টাইগার যদি আক্রমণ করে লোকটাকে। অসহায়ভাবে জো-কে বলল, " কি চাও তুমি? আমার কাছে এখন টাকাকড়ি কিছু নেই। জুয়েলারি কিছু আছে। ওগুলো নিয়ে যাও।"
লোকটা বলল, " জুয়েলারি তো আমার লাগবে না। তোমার দাম ওগুলোর থেকেও বেশী। আমার দরকার তোমায়।"
লাফিয়ে এগিয়ে এল জো। খামচে ধরল ক্যারেনের একটি বুক। ভয়ে থরথর করে কেঁপে উঠল ক্যারেন। কাকুতিমিনতি করতে লাগল। কিন্তু জো কিছুই শুনল না। টান মেরে খুলে দিল ওর প্যান্টি। শুঁকল। কুৎসিতভাবে হেসে বলল, " এটাকে নিয়ে একটা রুমাল বানাব।"
চিৎকার করার জন্য হাঁ করতে গেল ক্যারেন, সঙ্গে সঙ্গে দু হাত দিয়ে ওর মুখ চেপে ধরে জো বলল, " চিৎকার করেছ কি খুন করে ফেলব তোমায়।"
ক্যারেনের মুখে মুখ ঘষতে ঘষতে জো ওকে বেডরুমের দিকে নিয়ে যেতে লাগল। ওর গায়ে বিশ্রী বোটকা গন্ধ।
বেডরুমে ঢুকে ক্যারেনের গায়ের শার্টটা টান মেরে খুলে ফেলল জো। লাফ মেরে বেরিয়ে এল তার দুটো ভরাট বুক। সেদিকে তাকিয়ে ঠোঁট চাটল জো।
ক্যারেনকে ধাক্কা দিয়ে বিছানায় ফেলে দিল জো। ক্যারেন দুই হাতে নিজের স্তন আড়াল করে জোকে এক লাথি মারল। কিন্তু তার আগেই জো খপ করে তার পা টা ধরে ঘুরিয়ে মুচড়ে দিল। তারপর ঝাঁপিয়ে পড়ল ক্যারেনের ওপর।
ক্যারেন কাঁদোকাঁদো ভাবে বলতে লাগল, " আমায় ছেড়ে দাও। আমি প্রেগন্যান্ট। "
" মিথ্যে কথা বলার জায়গা পাও না।"
" না, সত্যি বলছি, আমি প্রেগন্যান্ট। তিন মাস চলছে আমার।"
" চুপ কর, বাজে ফ্যাচাল করবি না।"
" না, সত্যি বলছি, আমি তিন মাসের প্রেগন্যান্ট, আমায় ছেড়ে দাও।"
" ওহ, হো, তাহলে তো কিছুই না।"
জো হিংস্র দাঁতগুলো বের করে কুকুরের মতো কামড় বসাল ক্যারেনের উরুতে। ফর্সা চামড়া কেটে রক্ত বেরিয়ে এল। ক্যারেন এবার লাথি কষাল জোকে। জো-ও পালটা হামলা চালাল। ক্যারেনের দুই উরুর সংযোগস্থলে ঘুষি মারল সে। দুনিয়া অন্ধকার হয়ে এল ক্যারেনের। জ্ঞান হারাল সে।
কতক্ষণ পর জ্ঞান ফিরেছে জানে না ক্যারেন, যখন জ্ঞান ফিরল দেখল লোকটা ওর শরীরের ওপর থেকে উঠে যাচ্ছে।
সারা দেহে, পেটে অসহ্য যন্ত্রণা। মনে হল বমি করে ফেলবে সে। আস্তে আস্তে কোনক্রমে দেওয়াল ধরে উঠে বাথরুমে গেল সে। বমি করল। সেই সঙ্গে নষ্ট হয়ে গেল তার তিন মাসের গর্ভস্থ সন্তান।
বাথরুমের মেঝেতেই অনেকক্ষণ বসে রইল ক্যারেন। কতক্ষণ জানে না। একসময় মনে হল, ঘরে কেউ ঢুকেছে। টাইগারের কেঁউকেঁউ শব্দ শোনা গেল। লোকটা আবার ফিরে এল না তো?
না লোকটা নয়, রিকার্ডো। এপার্টমেন্টের খোলা দরজা আর টাইগারের কেঁউকেঁউ শুনে অজানা বিপদের আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠল রিকার্ডোর।
ঝড় বয়ে যাওয়া বেডরুম আর রক্তাক্ত বেডশিট দেখে যা বোঝার বুঝে ফেলল রিকার্ডো। সঙ্গে সঙ্গে একজন অভিজ্ঞ নার্সকে ফোন করল। নার্স এসে স্টিচ করে, ব্যান্ডেজ বেঁধে, তারপর ক্যারেনকে ব্রান্ডি খাইয়ে ছুটল ডাক্তারকে খবর দিতে।
নার্স চলে গেলে রিকার্ডো ক্রিস হ্যালোরানের অফিসে ফোন করল। লস এঞ্জেলেসে খবর পাঠাল। পুলিশকেও ফোন করল।
জো থম্পসন দাগী আসামী। ধর্ষনের দায়ে আগেও কয়েকবার জেল খেটেছে সে। চেহারার বর্ননা শুনেই পুলিশ আইডেন্টিফাই করে নিল। গ্রেফতার হল জো।
( চলবে)
------------------
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now