বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

selfish love

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Anuvob(guest) (০ পয়েন্ট)

X বাড়ীর ভেতরে ঢ়ুকেই তন্দ্রা অবাক হয়ে গেল। এটা বাড়ী নাকি রাজ প্রাসাদ, এতো সুন্দর কারো বাড়ী হয় নাকি!! তন্দ্রা তার স্বামী জয়ের সাথে আজকে এই পার্টিতে এসেছে। জয়ের অফিসের বসের বাড়ী এটা। কোনো এক বিশেষ কারনে এখানে পার্টির আয়োজন করা হয়েছে এবং অফিসের সবাইকে এখানে ইনভাইট করা হয়েছে। তন্দ্রাকে অনেক সুন্দর লাগতেছে। পার্টির মূল আলোটাই যেনো তন্দ্রার দিকে। সবাই একবার হলেও তার দিকে তাকিয়েছে। আর তাকাবেই না কেনো ও যে দেখতেই অপরুপ সুন্দরী। মনে হচ্ছে পরীর দেশ থেকে তাকে রপ্তানি করে এখানে আনা হয়েছে। পার্টির সবাই এইভাবে তার দিকে তাকানোয় তার গৌরব বেড়েই চলছে। ঠিক সেই সময় কয়েকটি জুসের গ্লাস নিয়ে তার সামনে হাজির হয় একটি ছেলে। কিছু লাগবে ম্যাডাম। পোষাক দেখেই বুঝা যাচ্ছে যে তিনি ওয়েটার। কিন্তু তাকে দেখেই তন্দ্রা অনেক অবাক দৃষ্টিতে তার দিকে তাকালো। এতো নীল। এতো করণীয় অবস্থা শেষমেষ ওয়েটার। আর হবেই না কেনো যার যোগ্যতা যেমন সে ঠিক তেমনি কাজ পাবে। - কেমন আছ তন্দ্রা (নীল) - দেখতেই তো পাচ্ছ তোমার চেয়ে অনেক ভালো আছি ( তন্দ্রা) - হুম তা ঠিকি। তো এখানে কেনো?(নীল) - এখানে কেনো মানে, এই অফিসে আমার স্বামী জব করে। আর দেখছো আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়ে কোনো ভুল করিনি। আজ যদি আমি তোমাকে ছেড়ে না দিতাম তাহলে হয়তো আজকে আমাকেও ওয়েটার গিরি করতে হতো। যাই হোক তুমি এখান থেকে চলে যাও, জয় আশে-পাশেই আছে তোমাকে আমাকে এক সংগে দেখলে প্রবলেম হতে পারে।(তন্দ্রা) - ঠিক সেই সময় জয় ওখানে গিয়ে আরে স্যার আপনি এখানে আর এই পোষাকে কেনো??? তন্দ্রা জয়ের কথা শুনে অবাক চোখে তার দিকে তাকায় আর নীলের মুখে একটু একটু করে হাসি ফূটতে থাকে। - আরে তুমি এনাকে চিনো না, এনি হলেন আমার অফিসের বস মি. শাহরিয়ার নাসিম নীল। এই পার্টির আয়োজন তো তিনিই করেছেন। কিন্তু স্যার আপনি এই পোষাকে কেনো, আমি তো কিছুই বুঝতে পারতিছি না। (জয়) - আরে এমনি পড়লাম আর এই পোষাকটা আমার অনেক পরিচিত তো তাই একটু পরিচিতদের জন্যই এটা পড়া। তন্দ্রা জয়ের কথা শুনে নীলের দিকে অবাক হয়ে তাকাচ্ছে। নীলের মুখে তখন শুধুই রহস্যের হাসি। . ৮ বছর আগে, নীল ভার্সিটির একজন মেধাবী ছাত্র। পড়াশুনার মধ্যেই তার সারাদিন কাটতো। বন্ধুমহলের সংখ্যা তার একটু বেশীই ছিলো,কারণ সবাই তার কাছ থেকে পড়াশুনার ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য পেত। তবে তার বন্ধুত্ব শুধু পড়াশুনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। অনেক মেয়েই তার সাথে প্রেম করতে চাইতো কিন্তু নীল সব সময় তার ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করতো, তাইতো নীল আগেই অইসবে জড়াইতে চাইতো না। কিন্তু ভার্সিটির সকল মেয়ে তার এই চিন্তাকে অহংকার/ ভাব মনে করতো। তাইতো তারা নীলকে শিক্ষা দেয়ার চিন্তা-ভাবনা করলো। এজন্য তাদের উপযুক্ত মনে হলো ভার্সিটির সবচেয়ে সুন্দরী মেয়ে তন্দ্রাকে। তন্দ্রাও এতে সহজেই রাজি হলো কারন ভার্সিটির সব ছেলেই তন্দ্রার জন্য পাগল শুধু নীল ছাড়া আর এটা তন্দ্রা কখনোই মেনে নিতে পারেনি। নীল যেহেতু পড়াশুনার বিষয় ছাড়া কারো সাথে তেমন কথা বলে না, বিশেষ করে মেয়েদের সাথে তো নয়ই। তাই তন্দ্রা প্রতিদিন তার কাছে পড়া বুঝে নেয়ার ছলে যেতো। নীল প্রথমে অস্বস্তিবোধ করলেও আস্তে আস্তে তার অস্বস্তিতা কেটে যায়। এইভাবে চলতে চলতে নীল তন্দ্রার উপর দুর্বল হয়ে পড়ল, তন্দ্রারো নীলকে ভালো লাগতে লাগলো। টানা তিন বছর প্রেম করার পর তন্দ্রা নীলকে জানিয়ে দিল যে তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। ছেলে অনেক টাকাওয়ালা। - তোমার মতামত কি? (নীল) - আমার কিছুই করার নাই আর যেহেতু ছেলে প্রতিষ্ঠিত সো তাকে ছাড়ার কোনো প্রশ্নই উঠে না। (তন্দ্রা) - তাহলে আমার সাথে এতোদিন ভালবাসার এমন নাটক করলা কেনো? (নীল) - দেখো তোমার তখন অনেক ভাব ছিলো, তাই তোমার এই ভাব দূর করার জন্যই তোমার সাথে ভালবাসার নাটক করেছিলাম,পরে ভেবে দেখলাম তুমি যেহেতু মেধাবী হয়তো ভবিষ্যতে ভালো কিছু করবা, তাই তোমাকে এতোদিন সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু তোমার এই অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এর জন্য তো আমি এই নিশ্চিত ভবিষ্যৎকে ছাড়তে পারি না। আর আমার ফ্যামিলি কখনোই তোমার মত এমন নিম্ন ফ্যামিলির ছেলেকে মেনে নিবে না।(তন্দ্রা) - টাকাই কি সবকিছু? আমার ভালবাসার কি কোনো মূল্যই নেই তোমার কাছে?(নীল) - তোমার এইসব ফালতু ইমোশন দেখার সময় ও ইচ্ছা কোনোটাই আমার এখন নেই। আর টাকা সবকিছু কিনা তা তুমি তোমার জীবনের দিকে তাকালেই বুঝতে পারবা।(তন্দ্রা) . লেডিস & জেন্টলম্যান এটেনশন প্লিজ। নীলের কথায় বাস্তবে ফিরে তন্দ্রা। আজকে যার জন্য আমার এই পার্টি রাখা অর্থাৎ আজকের পার্টির প্রিন্সেস প্রিমা চৌধুরী আপনাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছেন। তন্দ্রা প্রিমাকে দেখে আর একবার টাস্কি খেলো, কারন প্রিমা তার থেকে বেশী লেভেলের সুন্দরী। এটা আদৌ কিভাবে সম্ভব আর কি হচ্ছে তার সাথে। আমরা মা-বাবা হতে যাচ্ছি। মূলত এই কারনেই এই পার্টি রাখা। সবাই আমাদের সন্তানের জন্য দোয়া করবেন। . - হাই,তুমি তন্দ্রা না, কেমন আছ?(প্রিমা) - জি,ভালোই আছি,,তুমি আমাকে চিনলে কিভাবে?(তন্দ্রা) - নীলের একটা বইয়ের ভিতরে তোমার ছবি পেয়েছিলাম। তুমি হয়তো ভাবতিছো নীল হঠাৎ করে কিভাবে এত বড় হলো তাই না? (প্রিমা) - জি জি না তো (তন্দ্রা) - তুমি চলে যাওয়ার পর নীল অনেক ভেংগে পড়েছিল। আসলে ওটা ওর প্রথম প্রেম ছিলো তো, তাই সবচেয়ে প্রিয়জনের কাছ থেকে এই ধরনের ধোকা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি। তারপর সে তার এক বন্ধুর সহায়তায় আমাকে প্রাইভেট পড়ানোর দায়িত্ব পেল। আস্তে আস্তে আমি তার প্রেমে পড়ে গেছিলাম, তাকে আমি আমার মনের কথা জানিয়েছিলাম কিন্তু সে রাজি হয়নি এবং তোমার আর ওর রিলেশনের সব কিছু আমায় খুলে বলেছিলো,,, সেদিনের পর থেকে আমাকে আর পড়াতে আসতো না। তারপর আমি বাবাকে ওর কথা বলেছিলাম, যেহেতু বাবার একমাত্র আদরের মেয়ে ছিলাম তাই বাবা আর কিছু বলেনি। বিয়ের পর বাবা নীলকে তার কোম্পানি দেখা-শুনার দায়িত্ব দিলেও সে তা গ্রহণ করেনি কারন সে জীবনে কারো সাহায্য নিয়ে বড় হতে চাইনি। সে একদম কাছ থেকে অনুভব করতে চেয়েছিল আসলে এই টাকার মধ্যে আছে টা কি যার কাছে ভালবাসার কোনো মূল্যই নেই। নীল বেশী কিছু চাইনি তো, চেয়েছিল শুধু একটু খানি ভালবাসার সাপোর্ট। যা আমি তাকে দিয়েছিলাম তাইতো আজ সে সফল। তুমি আসল হীরা চিন্তে ভুল করেছো। আর প্রকৃত টাকায় না, প্রকৃত সুখ হলো ভালবাসায়।(প্রিমা) . - আরে বাবু তুমি এখানে কি করতিছো।(নীল) - এইতো বাবু তন্দ্রা আপুর সাথে একটু কথা বলতেছি (প্রিমা) চলো ভিতরে চলো, তোমার এখন রেস্ট দরকার আর তুমি এইসব থার্ডক্লাস মেয়েদের সাথে কথা বলতিছো কেনো, যানো না এরা কতোটা ভয়ানক রোগ বহন করে, আর তাদের এই লোভ নামক রোগটা ছড়াতে বেশী সময় লাগে না,,আমি চাইনা আমাদের সন্তান এই রোগে আক্রান্ত হোক, চলো ভিতরে চলো এই বলেই নীল প্রিমাকে নিয়ে ভিতরে চলে গেল। তার চোখে মুখে এক প্রশান্তির হাসি কারন সে আজকে বুঝতে এবং বোঝাতে দুটোতেই সক্ষম হলো যে টাকা কি জিনিস। Writer A Anuvob


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ selfish love

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now