বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#সেই—অনেক—আগে
#পর্ব ৩
লেখক: আবির আহম্মেদ
সুমাইয়াঃ নাম কি মেয়ের?
আমিঃ নাম রিয়া।।অনেক কিউট।আগে আমাদের স্কুলে দেখি নাই।নতুন আসছে মনে হয়।
সুমাইয়াঃ ওকে কালকে রিয়াকে দেখাই দিস।
আমিঃ ওকে।।
(এরপর সুমাইয়া আর রাহুল চলে যায়।আমিও বাসায় চলে যাই।বাসায় শুয়ে শুয়ে রিয়ার কথা ভাবতেছি।তখনি লিমন আমাকে ফোন দিলো)
আমিঃ কিরে হঠাত কি মনে করে।।
লিমনঃ দোস্ত বাঁচা আমাকে।
(কেদে কেদে বললো)
আমিঃ কি হয়েছে কাদিস কেন।।
লিমনঃ দোস্ত রিহার বিয়ে।।
আমিঃ কিহ কবে??
লিমনঃ ২ দিন পর।
আমিঃ তাহলে আমাকে সকালে বললি না কেন?
লিমনঃ আমাকে কিছুখন আগে ফোন দিয়ে বলছে।।
আমিঃ ওকে কাদিস না আমি দেখি কিছু করতে পারি নাকি।
লিমনঃ দোস্ত রিহা আমাকে না পেলে নাকি বিষ খাবে।।আমিও বাঁচতে পারবো না।।
আমিঃ ফালতু কথা বলিস না।।আমি থাকতে রিহার বিয়ে তোর সাথেই হবে।
লিমনঃ হুম দোস্ত প্লিয।
আমিঃ এখন ফোন কাট।।কালকে সব হবে।
(এরপর আমি ফোন কেটে সাথে সাথে আমার সব ফ্রেন্ডকে ফোন দিলাম।আর বললাম কালকে সকালে সবাই আমার সাথে দেখা করতে।ঠিক কথা মতো পরের দিন সকালে একটা নিদিষ্ট জায়গায় দেখা করলাম।সবাই মিলে প্লান করলাম।কিভাবে রিহাকে বিয়ের সময় বাসা থেকে নিয়ে আসা যায়।প্লান করার পরে বাসায় যাচ্ছিলাম তখনি রিয়ার সাথে দেখা।আমি রিয়ার সামনে গিয়ে বললাম)
আমিঃ কি গো জানেমান কথায় যাচ্ছো?
রিয়াঃ কি বললেন।
আমিঃ কথায় যাচ্ছো।
রিয়াঃ না তার আগে কি বললেন?
আমিঃ কই কিছু বলি নাই তো
রিয়াঃ দেখেন আমি শুনেছি আপনি আমাকে জানেমান বলছেন।।
আমিঃ আসলে আপনার নাম জানি না তো তাই।
রিয়াঃ আমার নাম রিয়া বুঝেন।।
আমিঃ হুম ভালোভাবে বুঝছি জানেমান।
রিয়াঃ আবার।
আমিঃ আচ্ছাহ বাদ দাও কথায় যাচ্ছো বলো।
রিয়াঃ শপিং করতে যাচ্ছি।
আমিঃ ওকে শুনো আমার জন্য ভালো দেখে পাঞ্জাবি কিনে নিয়ে আসবে।
রিয়াঃ আপনার জন্য কিনবো কেন?
আমিঃ না আসলে তুমি না বললে শপিং করবে তাই।
রিয়াঃ আমার জন্য করতে যাচ্ছি।
(এই বলে রিয়া হাত তে থাকে।আমিও কিছু না বলে চলে আসলাম অনেক কাজ আছে তাই।বাসায় গিয়ে খাওয়া শেষ করে আরামে একটা ঘুম দিলাম।তখনি লিমনের ফোন)
আমিঃ আবার কি হইছে।
লিমনঃ আজকে রিহার গাঁয়ে হলুদ।
আমিঃ ওহ চল তাহলে আমরাও যাই গাঁয়ে হলুদ করমু।
লিমনঃ মজা নিস না।।রিহা ফোন দিছিলো।
আমিঃ কি বলছে??
লিমনঃ রিহা কান্না করতেছে।আর ওর অনেক ভয় করছে।
আমিঃ তুই রিহাকে বল চিন্তা করতে না।তোর সাথেই বিয়ে হবে রিহার।রিহাকে শুধু বল প্লান মতো থাকতে।
লিমনঃ ওকে।
(এরপর আমি কিছু না বলে ফোন কেটে দিলাম।ঘুমানোর চেষ্টা করতেছি কিন্তু ঘুম আসে না।চোখের সামনে রিয়ার মুখ ভেসে আসে।খুব কুউট একটি মাত্র মেয়ে।।ভাবতে ভাবতে আমি ঘুমিয়ে পরি।।পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই সব ফ্রেন্ডকে এক সাথে আসতে বলি।সবাই এসেও পড়ল।।কয়েক জনকে কাজী অফিসে পাঠালাম।।এরপর আমি লিমন রাহুল আর কিছু ফ্রেন্ডরা মিলে রিহার বাসার সামনে যাই।।রিহার বাসার সামনে সন্ধ্যা পযন্ত দাড়িয়ে থাকি।প্লানে মতো রিহা বারান্দায় আসে।।লিমন মৌই নিয়ে বারান্দার সামনে রাখে।।রিহা ধিরে ধিরে নিচে নামে।এরপর রিহাকে নিয়ে যাওয়ার সময় দূর থেকে রিয়াকে দেখলাম।সাথে সাথে আমি দাড়িয়ে যাই)
লিমনঃ দোস্ত চল। তাড়াতাড়ি।কেউ আসলে সমস্যা হবে।
রাহুলঃ চল।।
(আমি রিয়াকে দেখেই দাড়িয়েই থাকি)
রিহাঃ ভাইয়া চলেন প্লিয।
(এরপর আমি রিহার দিকে তাকিয়ে দেখি রিহার চোখে জল।আমি আর দাঁড়িয়ে না থেকে গাড়িতে উঠে পরি।।সবাই মিলে কাজী অফিসে গেলাম এবং লিমন আর রিহার বিয়ে সম্পুর্ন হলো।এরপর কিছু টাকা লিমনকে দিয়ে ওদের থাকার জন্য রুম খুজে দিলাম।তারপর আমি বাসায় চলে যাই আর ভাবতেছি রিয়া আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে ছিলো কেন??কালকে পড়তে যাওয়া লাগবে তাই আর কিছু না ভেবে ঘুমিয়া পরি।সকালে উঠে রাহুলকে ফোন দিলাম)
আমিঃ দোস্ত সুমাইয়াকে নিয়ে ক্যান্টিনের সামনে আয়।
রাহুলঃ ওকে।
(ফোন কেটে ফ্রেশ হয়ে। ক্যান্টিনের সামনে যাই। সামনে গিয়ে দেখি সুমাইয়া আর রাহুল বসে বসে প্রেম করছে)
আমিঃ হইছে অনেক প্রেম করা এখন আমার টা একটু দেখ।
সুমাইয়াঃ তুই তো রিয়াকে দেখাইলি না তো কিভাবে তোকে সাহায্য করবো।
আমিঃ আয় আমার সাথে।
(এরপর ওরা আমার পিছনে পিছনে আসে)
আমিঃ অই দেখ লাল জামা পরে মেয়েটা।
সুমাইয়াঃ ওহ ওইটা??
আমিঃ হুম।
সুমাইয়াঃ ও আমাদের ক্লাসে নতুন আসছে।
আমিঃ তোদের ক্লাসে?
সুমাইয়াঃ হুম আমাদের ক্লাসের।
আমিঃ তাহলে তো ভালোই তুই রিয়াকে সব সময় চোখে চোখে রাখবি। আর রিয়ার কোনো বয়ফ্রেন্ড আছে?
সুমাইয়াঃ না নাই মনে হয়।
আমিঃভালো আমি এখন থেকে ওর বয়ফ্রেন্ড বুঝলি??
সুমাইয়াঃ আরে বাদ দেন তোর কপালে রিয়া নাই।
আমিঃ কেন??
সুমাইয়াঃ তুই যে শয়তান।
আমিঃ চুপ পারলে কিছু কর আমার জন্য।
সুমাইয়াঃ ওকে আমি তোর কথা বলতেছি।
আমিঃ শুধু আমার কথা বললে হবে না।।আমার নামে সব ভালো কথা বলবি।।যেমন আমি অনেক ভালো। পড়া শুনায় বেশ ভালো।। সবার সাথে ভালো ব্যবহার করে।।এই আর কি।
সুমাইয়াঃ এই ভালো দিক গুলার মধ্যে যদি একটা গুন থাক তো তাহলে সব মেয়েরাই তোর প্রেমে পড়তো।
আমিঃ জানি এখন যা।
(এর সুমাইয়া রিয়ার কাছে গেলো। কিছু একটা বলছে সুমাইয়া। মনে হয় আমার নামে ভালো কথা গুলো বলতেছে।তাই আমিও ভাব দেখাইতে রিয়ার সামনে গিয়ে দাড়াই।আর বললাম)
আমিঃ কেমন আছো।
রিয়াঃ আপনার কি সমস্যা বার বার আমার সামনে আসেন কেন।
আমিঃ আমাকে যা ভাবছো আমি তা না।আসলে আমি খুব ভালো।।।আমি জানি সুমাইয়া তোমাকে সব বলছে আমার কথা।।
রিয়াঃ সুমাইয়া কি বলবে আপনার নামে।
আমিঃ মানে সুমাইয়া কিছু বলে নাই।
সুমাইয়াঃ না।
আমিঃ তাহলে এতোখন ধরে কি কথা বলছিলি।
সুমাইয়াঃ এমনি কথা বলছি।।
আমিঃ সরি। তুই আয় আমি এতোখন রাহুলকে দেখতেছি।
(এরপর আমি ক্যান্টিনের সামনে গিয়ে বসে থাকি।সুমাইয়াও আসলো।সুমাইয়া এসে অনেক হাসতেছে)
আমিঃ চুপ। হাসবি না।
সুমাইয়াঃ আরে বাবা আমি না বলার আগে তুই গেলি কেন।
আমিঃ আমি কি জানতাম তুই আমার কথা বলে। অন্য কথা বলছিস।
সুমাইয়াঃ আচ্ছাহ সরি।।শোন বলছি রিয়াকে।
আমিঃ কি বলসিস।
সুমাইয়াঃ তুই যা বলতে বলছিলি।
আমিঃ সত্যি??
সুমাইয়াঃ হুম।
আমিঃ কি বলছে রিয়া।
সুমাইয়াঃ রিয়া বলছে এখনও রিলেশন করার সময় হয় নাই।।আর তুই নাকি অনেক বেয়াদপ।
আমিঃ ধন্যবাদ যা এখন রাহুল ক্লাস রুমে তোকে খুজতে গেছে।
(এরপর সুমাইয়াও চলে যায়।আমি একা একা ভাবতেছি কিভাবে রিয়াকে আমার কাছে আনা যায়।তখনি মনে পড়লো রিয়ার আইডির কথা।সাথে সাথে আমি দৌড়ে সুমাইয়ার কাছে গিয়ে বললাম)
আমিঃ দোস্ত রিয়ার আইডি নাম কি?
রাহুলঃ বলবে না সুমাইয়া।
আমিঃ কেন বলবে না।সুমাইয়া বল আপু প্লিয।
সুমাইয়াঃ না আমার জামাই মানা করছে তাই বলবো না।
আমিঃ রাহুল ভাই আমার প্লিয বলতে বল।
রাহুলঃ না এতো কিছু বললে আমাদের লাভ কই।
আমিঃ তুই বন্ধু নাকি শত্রু।
রাহুলঃ সব।
আমিঃ আচ্ছাহ বল কি লাগবে।
রাহুলঃ বেশি না কালকে পহেলা বৈশাখ।
আমিঃ তো
রাহুলঃ আমি আর সুমাইয়া ঘুরতে যাবো।
আমিঃ তো যাবি।
রাহুলঃ তার জন্য দু হাজার টাকা লাগবে।
আমিঃ তো ভালো। কিহ দু হাজার।
রাহুলঃ হুম।
আমিঃ দেখ ভাই আমার এমন করিস না।
রাহুলঃ তাহলে তোর আইডির নামও জানা লাগবে না।
আমিঃ ওকে নিস এখন নাই।
রাহুলঃ কালকে যদি টাকা না দিস তাহলে।
আমিঃ হোপ তোর আর আমার কি টাকার সম্পর্ক। তুই তো আমার ভাই।
রাহুলঃ হইছে ভাই টাকা দিবেন নাকি গেলাম।
আমিঃ দিবো মানা তো করি নাই।
(এরপর মানি ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকা বের করলাম।কষ্ট হচ্ছে আমার বন্ধু আমার সাথে এমন করলো)
আমিঃ এই নে এক হাজার।বাকিটা কালকে নিস।
রাহুলঃ ওকে। সুমাইয়া বাবু আমার এখন নাম টা বলে দাও।
সুমাইয়াঃ বাবু তুমি অনেক চালাক।
আমিঃ হইছে টাইম সবার আসবে।এখন নাম বল।
(এরপর সুমাইয়া নাম বল।আমি বাসায় গিয়ে। রিয়ার আইডি খুজতেছি।কিন্তু পাই না রিয়া নামের অনেক আইডি।কি যে করি।তখনি সুমাইয়াকে মেসেজ দিলাম)
#চলবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now