বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সেই মেয়েটি
.
লিখা→ Sajol Ahamed (সানভি)
.
অনেক দিন হলো দেশের বাড়ি যাওয়া হয় না।
গ্রামের কলেজ এ উচ্চ মাধ্যমিক পড়া শেষে,
বাবা পড়ালেখার খরচ যোগার করতে হিমশিম
খাচ্ছিলেন। বাবার কষ্ট সহ্য করতে না পেরে
চলে আসি ঢাকাতে। একটা চাকরির আশায়।
ঢাকাতে চাকরি তো সোনার হরিণ। চাচা মামা
না থাকলে তার কপালে চাকরি পাওয়া
ভাগ্যের বেপার। তবুও আমি চাকরি পেয়ে যাই।
আমার বাবার বন্ধুর সুপারিশে।
-
ছয় মাস আগে দেশের বাড়ি গিয়েছিলাম ।
প্রতিদিন বাবার সাথে ফোনে কথা হয়।
চাকরি পেয়েছি তিন বছর হলো। এখন
আমাদের সংসার অনেক সচ্ছল। আমাদের
সংসার বলতে বাবা ও আমি। বন্ধুরা আমার
পরিচয়টাই তো বলা হয়নি। আমি সানভি।
আমার মা মারা গেছে আজ চার বছর হলো।
আমার দেশের বাড়ি পাবনা জেলায়। আমার
কথা চিন্তা করে বাবা দ্বিতীয় বিবাহ করেনি।
মা আমাকে অনেক বেশি ভালোবাসতো। সেই
জন্যই হয়তো আম্মু ওপারে চলে গেছে।
বেশ
কিছু দিন হলো বাবা সংসারে নতুন অতিথির
কথা বলছে। বাবা কি বলতে চায় আমি বুঝি।
বাবাকে আমাকে বিয়ে দিয়ে লাল টুকটুকি
একটা বউমা আনতে চায় আমাদের বাবা ছেলের
ছোট্র সংসারে। আমার বিয়ের কথা শুনলে কেমন
যেনো লাগে। ভয় হয় মেয়েটা কেমন হবে।
বাবাকে ভালোবাসবে তো, তবুও বাবাকে
বলি বাবা আমি এখন বিয়ে করবো না।
-
রেল স্টিসনে বসে এসব কথাই ভাবছিলাম অতঃপর
কমলাপুর রেল স্টিসন থেকে টেনে উঠলাম।
সময়টা ছিলো বিকাল চারটা। অনেক দিন পর
দেশের বাড়ি যাচ্ছি। বাবার জন্য অনেক কিছু
নিয়েছি। বাবার সাথে কথা বলেই ট্রেনে উঠলাম,
নিজের সিট খুজতে লাগলাম। সিট পেয়েও গেলাম।
ওমা এ কি, একটা মেয়ে বসে আছে আমার সিটে।
-
এই যে শুনছেন। আপনি যদি সিটটা ছাড়তেন।
কারন সিটটা আমার। এই যে টিকিট দেখুন।
-
আমার কথার সাথে সাথেই মেয়েটি সিট ছেরে
জায়গা করে দিলো। আমার বসার জন্য। মেয়েটি
দেখতে শ্যামলা বরন ছিলো। ঠোটের নিচে
একটা
তিল ও আছে মেয়েটির। মুখটা অসম্ভব মায়াবী।
মেয়েটির সিট আমার পাশেই ছিলো। জানালা দিয়ে
পিছে চলে যাওয়া গাছ পালা গুলো দেখছিলাম।
-
আমাদের জীবনটাও এমনি। দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে
সবাই। পিছু ফিরে তাকা বার সময় নেই কারো।
ব্যস্ততার সাথে যেনো সবাই সন্ধি করেছে।
হঠ্যাৎ
আবিষ্কার করলাম কে যেনো কাঁদছে।
একি পাশে থাকা মেয়েটি কাঁদছে।
-
আপনি কান্না করছেন কেনো। প্লিজ কান্না
করবেন
না।
-
কোনো সারা নেই মেয়েটির দিক থেকে।
-
আপনার সম্যসা কি প্লিজ আমাকে বলুন।
হয়তো আপনার উপকারে আসতে পারি।
কান্না করবেন না এভাবে। আমি আপনাকে
জায়গা ছারতে বলেছি। সেজন্য কান্না করছেন।
আপনি আমার জায়গায় বসুন।
-
আলতো আলতো চাপা কন্ঠে বলছে।
আমি আপনার কথায় কষ্ট পাইনি। আমার
যদি উপকার করতে চান তবে, আমাকে
একটু বিষ এনেদিন। আমি বাঁচতে চাই না।
-
আপনার কি হয়েছে আর কেনই বা মরতে চান।
প্লিজ যদি আমার সাথে শেয়ার করতেন।
-
কিছু সময় কথা হবার পরে কান্না থামিয়ে
মেয়েটির জীবনের ঘটনা বলতে শুরু করলো।
-
আমি সামিহা। ইন্টার ২য় বর্ষের ছাত্রী। আমার বাসা
দিনাজপুর জেলায়। মা মারা গেয়ে আমার পাচঁ
বছর কালে। সৎ মায়ের অনাদর অবহেলায়
বড় হয়েছি। বাবার ভালোবাসাও
ঠিক মতো পাইনা। সেই থেকে অনাদর
অবহেলায় জর্জরিত আমার জীবন।
-
আমি ফেসবুক ইউজ করি আজ নয় মাস হলো।
হঠ্যাৎ ফেসবুকে রাহাত নামের একটা ছেলের
সাথে আমার পরিচয় হয় আজ থেকে সাত মাস
আগে। প্রতিদিনই আমাদের মধ্যে চ্যাটিং হতো।
আমার সব কষ্ট তার সাথে শেয়ার করতাম।
এভাবে কথা বলতে বলতে রাহাত আমাকে
প্রোপজ করলো একটি দিন। আমি ফিরিয়ে
দিয়েছি অনেক বার। কিন্তু রাহাত নানা রকম
কথা বলায় এক সময় আমি তার প্রতি দুর্বল হয়ে
পরি। এভাবে আমাদের সম্পর্ক ভালোবাসায় রুপ
নেয়।
-
রাহাতের সাথে ফোনে বেশি কথা বলতাম না।
কারন আমার বাসায় কথা বলা সম্যসা ছিলো।
ফেসবুকে প্রতি রাতেই চ্যাট হতো রাহাতের
সাথে।
কিছু দিন হলো আমার সৎ মায়ের অত্যাচার
অনেক বেড়ে গেছে। রাহাত কে সব বলার
পরে
সে বলে আমার কাছে চলে এসো। আমি
তোমাকে
বিয়ে করে ঘরে তুলবো।
-
রাহাতকে বিশ্বাস করে আমি ঢাকাতে আসি।
রাড়ি থেকে আসার সময় আমার মায়ের বানানো
গলার হার সহ আরো কিছু গহনা এবং নগদ
বিশ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আজ
দুপুরে ঢাকাতে আসি। রাহাত আমার গহনা এবং
টাকা নিয়ে আমাকে কাজী অফিসে রেখে
পালিয়ে যায়। রাহাত আমার সাথে এভাবে
প্রতারনা করবে আমি কখনো ভাবতে পারিনি।
আমি এখন কোথায় যাবো। কি করবো কিছুই
জানি না। পৃথিবীতে এখন আমি একা। সুন্দর
এই পৃথিবীর স্বার্থপর মানুষের সাথে আমি একা
একটা মেয়ে যুদ্ধ করে জীবন ধারন করা সম্ভব
নয়।
তাই মৃত্যুুই আমার এক মাত্র রাস্তা।
-
এত সময় চুপ করে সামিহার কথা শুনছিলাম।
নিষ্পাপ মায়াবী মুখেতে এখতো কান্নার জল
লেগে আছে। সামিহার কথা শুনে বুঝার আর
বাকী নেই যে, সে আর বাঁচবে না। আর
বাঁচবেই বা
কিভাবে। কোথায় যাবে কোথায় থাকবে।
একা মেয়েকে শেয়াল শকুনের মতো চিরে
খাবে
সমাজের কিছু জানোয়ার।
-
না আর ভাবতে পারছি না। কি করবো কি করবো।
আচ্ছা সামিহা একটা কথা বলি। তুমি যদি
কথাটা মানো তবে আমি বলবো।
-
হুম বলেন, কি বলতে চান।
-
আমি যদি তোমাকে বিয়ে করি। তুমি
কি আমাকে স্বামী হিসেব এ মানতে পারবে।
আমি বলতে চাচ্ছি, আমি তোমাকে বিয়ে
করতে চাই। যদিও আমাদের পরিচয়টা সাময়িক।
তারপর ও তোমাকে বিয়ে কবো। তুমি যদি রাজি
থাকো।
-
আমাকে দয়া দেখাচ্ছেন। তার প্রয়োজন নেই।
আমি আর কারো জীবনের সম্যসার কারন হতে
চাই না। আমার কারনে আপনার পরিবারে সম্যসা
হোক সেটা আমি চাই না।
-
সামিহা প্লিজ আমার কথাটা বুঝার চেষ্টা করো।
আমার পরিবার বলতে, আমার বাবা ও আমি।
বাবা অনেক দিন হলো আমার বিয়ের কথা
বলছেন। কিন্তু আমি রাজি হই না বিয়ে করতে।
আমার বউ বাবাকে ভালোবাসবে কি না
সেই জন্য বিয়ে করতে ভয় হয় আমার। বাবাকে
কষ্ট দিলে আমি সহ্য করতে পারবো না।
-
তোমাকে বিয়ে করলে মনে হয় আমার বাবাকে
কষ্ট দিবে না। কারন কষ্টের জ্বালা যে কত কঠিন
তা তুমি ছোট থেকেই জানো। তাই এবার আর
না করোনা আমার প্রস্তাবকে।
-
সামিহা এবার আমার কথায় সম্মতি জানায়।
বাড়ির গেটে কাছে আমি আর সামিহা।
ওই তে বাবা দরজা খুলে গেটের দিকে এগিয়ে
আসছেন।
-
মেয়েটা কেরে সানভি। বাড়ির মধ্যে আমাদের
নেবার পর জানতে চাইলেন। বাবা ও সামিহা।
অতঃপর বাবাকে সামিহার জীবনবৃত্তান্ত খুলে
বললাম এবং বললাম বাবা আমি সামিহাকে
বিয়ে করবো। বাবা অনেক খুশি আমি বিয়ে
করবো যেনে। বাবা বললেন সামনের ১৫
ডিসেম্বর
আমার ও সামিহার বিয়ে দেবেন। এই কয়েক দিন
আমাদের বিয়ের সকল আয়োজন করবেন। দুমদাম
করে বিয়ে দিবেন আমাদের।
-
বন্ধুরা চলে আসবেন সবাই আমার বিয়েতে। আমার
বিয়ে ১৫ ডিসেম্বর। আমার দেশের বাড়ি পাবনা
জেলার ফরিদপুর থানায়। দোয়া করবেন আমার
ও সামিহার জন্য। যেনো আমরা সারা জীবন
সুখে দুঃখে একে উপরের পাশে থাকতে পারি।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now