বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

~ সেই মেয়ে ~

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X ~ সেই মেয়ে ~ . "' কয় বাচ্চার বাপ তুমি??"" --- কঠিন দৃস্টি নিয়ে মেয়েটা আকাশকে প্রশ্ন করলো। আকাশ কথাটা শুনে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে। কোনোরকমে বলল... -- একটাও না!.. -- তাহলে এরা কি আকাশ থেকে পড়েছে??.. (আকাশের কোলে বাচ্চা দুইটাকে দেখিয়ে ).. আকাশ বাবু আকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন... -- তাইতো মনে হচ্ছে.. -- ইয়ার্কি করো আমার সাথে?? আকাশ জিহ্বায় কামড় দিয়ে জোরে জোরে মাথা নাড়ছে। কিন্তু মেয়েটাতো ক্ষেপে গেছে! ওকে আর আটকায় কে?.. টেবিলে জোরে একটা থাবা দিয়ে উঠে দাড়াল। তারপর আকাশের কলার ধরে পুরো তিন মিনিট লেকচার দেওয়ার পর একটা কথা দিয়ে ছাড়লো .. "" ব্রেক আপ""...! . পিছনের টেবিলে বসে বসে কুসুম পুরো ব্যাপারটা দেখছে। মেয়েটা চলে যাচ্ছে। আকাশ দৌড়ে ওকে আটকাতে চাইছে। কিন্তু বাচ্চা দুইটার জন্যে পারছেনা। ওরা কোল থেকেও নামছেনা। বাচ্চাগুলোর কর্মকান্ড দেখে কুসুমতো পুরোই অবাক!..যেমন যেমন বলে দিয়েছিলো তার থেকেও অনেক ভালভাবে কাজটা করেছে। . ভার্সিটির প্রথম দিন থেকেই কুসুম আকাশকে পছন্দ করে। কিন্ত যখন থেকে আকাশ জানতে পেরেছে কুসুম ওকে ভালবাসে, সেই থেকে ওর তুলা আশি টাকা হয়ে গেছে। কুসুমের মুখের উপর বলে দিয়েছে..." তোমাকে ভালবাসা জাস্ট ইম্পসিবল! ""-- পরে জানতে পারল ও অন্য মেয়েকে ভালবাসে। কিন্তু কুসুমও জিদ নিয়ে বসে আছে। আর ঐ মেয়েটাকে সে চেনে। বেশ ভালকরেই চেনে। মেয়েটার আরো দুই তিনটা ছেলের সাথে রিলেশন আছে। কুসুম জানে এই কথাটা আকাশকে বললে সে মোটেও বিশ্বাস করবেনা। তাই বাধ্য হয়ে এই আজাইরা নাটকটা করতে হলো। বাচ্চা দুইটা আকাশের কোলে উঠে দুইবার বাবা ডাকাতেই কাজ হয়ে গেছে। মেয়েটা কত সহজে ওকে অবিশ্বাস করে চলে গেল! ইতিমধ্যে আকাশ চৌধুরির নজর কুসুমের উপর পড়ে গেছে। বোঝে গেছে পুরো ঘটনাটা ও ঘটিয়েছে। এই মূহুর্তে কুসুমের দৌড় দেওয়া উচিত। ও দৌড় দেওয়ার আগেই আকাশ ওর সামনে এসে দাড়ালো। এখন শুরু হবে উনার জ্বালাময়ী ভাষন। অনেক কঠিন কঠিন কথা বলল। বিভিন্ন উপাধিও দিলো ওকে.. "ফাজিল মেয়ে".." বদমাশ মেয়ে"..." বেহায়া মেয়ে!!"... শেষের কথাটায় একটু খারাপ লাগলো। সত্যিইতো দিন দিন ও অনেক বেহায়া হয়ে যাচ্ছে!.... এই সামান্য ব্যাপারটা নিয়ে এত বড় কান্ড না করলেও চলত। অন্যভাবে হ্যান্ডেল করা যেত। . "" কিরে কুসুম?..তোর আকাশ আজকে একটু বেশিই ঝাড়ি দিয়ে ফেলেছে তাইনা??""--- . কথাটা শুনে কুসুম পিছনে তাকালো। দেখে পরশ দাঁড়িয়ে আছে। কুসুমদের বাসায় নিচতলায় থাকে। ছোটবেলা থেকে একসাথেই বড় হয়েছে। কুসুমের থেকে তিন বছরের সিনিয়র। পড়াশোনা শেষ করে চাকরি বাকরির চেষ্টায় আছে। আকাশের ব্যাপারটায় কুসুমকে অনেক হেল্প করছে। কিন্তু কাজের কাজ কিচ্ছু হচ্ছেনা!.. . কুসুম মাথা নিচু করেই বলল... -- হুম -- কেন যে ঐ গাধাটার পিছনে পড়ে আছিস আমি বুঝিনা!.. -- আমার কথা বাদ দাও। তোমার ""সেই মেয়ের"" খবর কী। আজকেও তাকে বলতে পারোনি নিশ্চই? -- নাহ আজকে মেয়েটার মন খারাপ। তাই বলিনি। . কুসুম মুচকি একটা হাসি দিলো। কোন একটা মেয়েকে পরশ ভালবাসে। রোজ ওকে বলে যায় আজকে মেয়েটাকে বলে দিবো আমার ভালবাসার কথা। দিনশেষে যখন কুসুম জিজ্ঞেস করে " বলেছ?""... তখন মাথাটা চুলকে একটা হাসি দিয়ে বলবে... "" নারে। আজকে "অমুক " প্রবলেম ছিলো। তাই বলা হয়নি"" কুসুমের অনেক জোরাজুরিতে একবার ওকে নিয়ে গিয়েছিল মেয়েটার সাথে দেখা করানোর জন্যে। দুই ঘন্টা বসিয়ে রাখার পর কাচুমাচু মুখ নিয়ে পরশ জানাল মেয়েটা আজকে আসতে পারছেনা। ও শুধু পরশের কাচুমাচু মুখের দিকে তাকিয়ে ছোট্ট একটা নি:শ্বাস ফেলে বলেছিলো.. . "" মন খারাপ করোনা। একদিন না একদিন ঠিকই সময়মতো চলে আসবে"" . আকাশকে পটানোর সব বুদ্ধি পরশ ই দিচ্ছে। কিন্তু ঐ পাথরটা গলার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছেনা। পরশ কুসুমের পাশে বসে বকবক করে যাচ্ছে। কিন্তু কুসুমের সেদিকে খেয়াল নেই। সে ভাবছে আকাশের কথা। আজকের পর হয়তো আর ওর সাথে কথাই বলবেনা। যদি সত্যি কথা না বলে তাহলে ও কি করবে?.. উফফ!! আর ভাবতে পারছেনা। প্রচণ্ড মাথা ধরেছে। পরশ ওর হাত ধরে বলল... -- বাসায় গিয়ে এককাপ চা খেলে মাথা ব্যাথা কমে যাবে। চল্। কুসুম একটুও অবাক হলনা। এই ছেলেটা কি করে যেন ওর ব্যাপারে সবকিছু বুঝে ফেলে! কুসুমের ধারনা পরশের কোনো আধ্যাত্মিক ক্ষমতা আছে। . পরশের কথামতো কুসুম সাহস করে আজ আকাশের সাথে কথা বলতে এসেছে। সেদিনের ওই ঘটনাটা কেনো করেছে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করলো। কিন্তু আকাশ ওর কোনো কথাই কানেই নিলোনা। উল্টো ওর সামনে থেকে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিল। . আজকে কুসুমের জন্মদিন ছিলো। মনে করেছিলো আজকে অন্তত আকাশ ওকে বার্থডে উইশটা করবে। ভার্সিটির দারোয়ান আংকেল পর্যন্ত ওকে উইশ করেছে। কিন্তু আকাশ করেনি। প্রচন্ড রাগ নিয়ে কুসুম বাসায় ফিরলো। একটা কাগজে বড় বড় করে আকাশের নাম লিখলো। তারপর কাগজটা কুচিকুচি করে কেটে একগ্লাস পানিতে ফেলে দিয়ে একটা চামচ দিয়ে নাড়তে থাকলো। এমন সময় পরশের আগমন.. হাসতে হাসতে বলল.... -- কাকে পানিতে চুবানো হচ্ছে??? কুসুম মুখ তুলে ওর দিকে তাকাল। কিছু বলল না । পরশ আবার বলল... -- আকাশের সাথে আজ দেখা হয়নি?? কুসুম কপাল কুচকে বলল... -- আকাশ কে??... পরশ চোখ বড় বড় করে বলল... -- তুই আকাশকে ভুলে গেলি কি করে??.. এই আমাকে মনে আছে তো??.. আমি পরশ। নিচতলায় থাকি!..." কুসুম বিরক্তিকর ভঙ্গিতে বলল... -- আমার এখন কিচ্ছু ভালো লাগছেনা পরশ ভাই। তুমি এখন যাও। -- আকাশের সাথে কিছু হয়েছে?... -- আমি কোনো আকাশকে চিনিনা। . পরশ কিছুক্ষণ ওর দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর ওর পাশে গিয়ে বসল। -- শোন্ তোকে লাস্ট একটা বুদ্ধি দিই। কিছুদিনের জন্যে আকাশের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দে। ওকে ইগনোর করবি। ওকে আর জ্বালাতন করবিনা। মোট কথা দূরত্ব তৈরী কর। কখনো কখনো কাউকে কাছে পেতে গেলে তার থেকে দূরে যেতে হয়। কিছু ঢুকলো মাথায়?? কুসুম ঠোট কামড়ে কিছুক্ষণ কি যেন ভাবলো। হঠাৎ ও উজ্জ্বল একটা হাসি দিয়ে বলল... -- তুমিও এক কাজ করো। -- কি কাজ?? -- তোমার " সেই মেয়ের" সাথে কিছুদিনের জন্যে যোগাযোগ বন্ধ করে দাও। মেয়েটা যদি তোমাকে সত্যি ভালবাসে তাহলে নিশ্চই তোমাকে মিস করবে। কি বল?? -- বলছিস?? কুসুম জোরে জোরে হ্যা সূচক মাথা নাড়ল। -- আরেকবার ভেবে নে।...( পরশ) -- কি আশ্চর্য!.. আমি কি ভাববো? ভাববে তো তুমি.. -- ঠিক আছে। তবে মনে হয়না এতে কাজ হবে বলে। -- আরে হবে হবে।"".... কুসুম অনেক খুশি হয়েই বলল। পরশ ওর দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেসে উঠলো। কুসুমের কথা শুনে ওর এই হাসি। ও মনে মনে বলে ..""এই মেয়েটা কি জানে যে ও কতটা বোকা!"" পরশ হাসতে হাসতেই বাসায় গেল। বাসায় গিয়ে ওর মাকে জড়িয়ে ধরে শব্দ করে হাসছে। মা ওর মাথায় হাত রেখে বললেন -- তুই কাঁদছিস কেন বাবা? পরশ চমকে উঠলো। মায়ের কাছে ফাকি দেওয়া মোটেও সহজ ব্যাপার না! ও বলল... --আপার কথা খুব মনে পড়ছে মা। ভাবছি কিছুদিন ওর ওখানে বেড়িয়ে আসব। -- হুম সেই ভাল। ... সকালবেলা কুসুম ঘুম থেকে উঠেই পরশদের বাসায় গেলো। কিন্ত ওকে অনেক খুজেও পেলনা। পরশের মাকে জিজ্ঞেস করলে জানতে পারল ও নাকি কাল রাতে এক সাপ্তাহের জন্যে সিলেট গিয়েছে। ওর আপার বাড়িতে। কুসুম যথেষ্ট অবাক হলো।ও বলেছিল কিছুদিনের জন্যে মেয়েটার থেকে দূরে থাকতে। একেবারে শহর ছেড়ে যাওয়ার কথা বলেনি। প্রচণ্ড বিরক্ত লাগছে। কুসুম ওর মোবাইলে ফোন দিলো। রিং হচ্ছে বাট ধরছে না। -- কাকে ফোন দিচ্ছিস কুসুম??... ( পরশের মা).. -- পরশ ভাইকে খালা। -- আর বলিস না। যাওয়ার আগে ফোনটাও ভুলে রেখে গেছে। অবশ্য পৌছেই আমাকে ফোন দিয়েছে। সারারাত খুব টেনশনে ছিলাম। .. এক সাপ্তাহ কেটে গেছে। এই এক সাপ্তাহের বেশির ভাগ সময়ই কুসুমের কেটেছে পরশের ঘরে। খালি ঘরটাতে। প্রতিদিন একা একা কিছুক্ষণ বসে থাকত। কেন বসে থাকত তা সে নিজেও জানেনা!.. এর মধ্যে কুসুম আবিষ্কার করলো সে পরশকে ভয়ংকর রকমের মিস করছে। মিস করবে ভাল কথা। তাই বলে এতটা!!.. এতটা মিস করার কথা তো সেই মেয়েটার। আচ্ছা সেই মেয়েটাও কি পরশকে ওর মতোই এতটা মিস করছে?? কুসুম কিছুই বোঝতে পারছেনা। ওর আকাশকে মিস করা উচিত। তা না করে সে পরশকে মিস করছে। লক্ষণ মোটেও ভালোনা!! ওর দম বন্ধ হয়ে আসছে। এই মূহুর্তে মনে হচ্ছে সত্যি সত্যি ওর আরেকবার ভাবা উচিত ছিলো। কিন্তু পরশ ওকে কেন ভাবতে বলেছিল? কেমন রহস্যের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কুসুম রহস্য উদঘাটনে নেমে পড়লো। সে পরশের পুরো রুমটা তন্নতন্ন খুজছে। কি খুজছে সেটা নিজেও জানেনা। অনেক তল্লাশির পর পরশের বিছানার তোষকের নিচে থেকে একটা ডায়েরী উদ্ধার করল।ডায়েরীর উপরে বড় করে লেখা ""ডোন্ট টাচ্""..। লেখাটাদেখে কুসুমের হাসি পাচ্ছে। মানুষযে কেন এই ভুলটা করে কে যানে। যাই হোক সে অনেক আগ্রহ নিয়েই ডায়েরিটা টাচ্ করল। পুরো ডায়েরিটা '"সেই মেয়েকে" নিয়ে লেখা। দেখে মনে হচ্ছে একটা বই লেখা হয়ে গেছে!... . কুসুম ওদের বাড়ির ফুল বাগানের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। আজকে পরশ বাড়ি ফিরবে। ওর জন্যেই অপেক্ষা করছে। ও একমনে নখ কামড়ে যাচ্ছে। একবার গেটের দিকে তাকাচ্ছে, একবার ফুলগুলোর দিকে তাকাচ্ছে। হঠাৎ ও দেখল আকাশ দৌড়ে দৌড়ে ওর দিকেই আসছে। কুসুম বোঝতে পারছেনা আকাশ এখানে কেন!..আকাশ ওর সামনে এসে হাপাতে হাপাতে বলল... -- তুমি ক্লাসে আসোনা কেনো??.. -- এমনি আসিনা। ( কুসুমের নির্বিকার জবাব) -- তুমি জানো এতদিন তোমাকে আমি কতটা মিস করেছি?.. আমি এখন জানি তুমি সেদিন কেনো ঐ কান্ডটা করেছিলে। আমি বোঝতে পেরেছি যে ঐ মেয়েটা আমাকে ঠকাচ্ছিলো। ""-- কুসুমকে দেখে বোঝার উপায় নাই কথাগুলো তার কানে যাচ্ছে কিনা। সে এখনো গেটের দিকে তাকিয়ে নখ কামড়ে যাচ্ছে। কিছুই বলছেনা। আকাশ আবার বলল... -- তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো? কুসুম গেটের তাকিয়েই বলল... -- হুম বলো। আকাশ ওর হাত ধরে বলল... -- এতদিনে আমি একটা বিষয় ভাল বোঝতে পেরেছি কুসুম। আমি যাকে ভালবাসি, সে আমাকে ভালবাসল কিনা সেটা জরুরি বিষয় না। আমাকে কে ভালবাসে সেটা জানা জরুরি। আমি তোমাকে ভালবাসি কুসুম। আর আমি জানি তুমি এখনো আমাকে ভালবাস।""-- কুসুম অনেক মনোযোগ দিয়ে ওর এই কথাগুলো শুনছিল। সবগুলো কথাই ঠিক আছে। কিন্তু শেষের কথাটা ভুল ছিলো। ওর ভুলটা শোধরানো দরকার। কুসুম ওকে কিছু শ্বান্তনামূলক বানী শুনাবে বলে ঠিক করলো। এমন সময় গেট দিয়ে পরশ ঢুকলো। পরশ দেখলো আকাশ কুসুমের হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে। সে ওদের দিকে তাকিয়ে হাসি হাসি মুখ করে বাসায় ঢুকল। কুসুমের মনে হল শ্বান্তনামূলক বানী দেওয়ার সময় এখন নেই। তবে ওকে কিছু একটা বলা দরকার। কুসুম তাড়াহুড়ো করে বলল... -- তোমাকে ভালবাসা জাস্ট ইম্পসিবল!"".. বলেই এক দৌড়!!আকাশ হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে ওর দৌড়ানো দেখছে। . রুমে ঢুকে কুসুম দেখলো আকাশ মনমরা হয়ে বসে আছে। কুসুমকে দেখে ও হাসল। জোর করে হাসা যাকে বলে আরকি! -- দেখলি তো আমার লাস্ট বুদ্ধিটা ঠিক কাজ করেছে।...( পরশ) -- হুম দেখলাম। কিন্তু তোমাকে এমন দেখাচ্ছে কেনো?? -- কেমন দেখাচ্ছে? -- কেমন মনমরা। বিষন্ন! -- আসলে জার্নি করে এসেছি তো। তাই মনে হয়। -- ও...।.. আচ্ছা মেয়েটার কি খবর?.. কি মনে হয় তোমার? মিস করেছে?? -- ((পরশ কিছু বলছেনা)) --ছাড়ো। আসলে ঐ মেয়েটার মন বলে কিছু নেই। হৃদয়হীন মেয়ে। না না হৃদয়হীনা!.. আসলে মেয়েটা ভালবাসতেই জানেনা। তুমি দু:খ করোনা। এর চেয়ে আরো অনেক ভালো মেয়ে পাবে দেখে নিও। আর ঐ মেয়েটা কখনো সুখি হবেনা।.......""" কুসুম বক বক করে নিজেই নিজের চৌদ্দগোষ্টী উদ্ধার করছে। ওদিকে পরশ কথাগুলো শুনে রেগে যাচ্ছে। কুসুম ভাবলো এই রাগে কিচ্ছু হবেনা। উনাকে আরো রাগাতে হবে। সে মেয়েটার সম্পর্কে যা ইচ্ছে তাই বলা শুরু করলো। অবশেষে পরশের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম হলো। উঠে এসে কুসুমের গালে ঠাশ করে চড় বসিয়ে দিয়ে বলল... --""একদম ওর নামে বাজে কথা বলবিনা বলে দিলাম!""... কুসুম গোল গোলচোখ করে ওর সামনে থেকে চলে আসল। আপাতত ওকে রাগানোর শখ মিটে গেছে!..মনে মনে বলছে...""এত ভালবাসার দরকার নাই আমার। আমার জন্যেই আবার আমাকে চড় মারে!...। এ কেমন পাগল!! আসবে তো রাতে সরি বলতে। তখন দেখাবো মজা...হুহ!।"" . রাতে পরশ কুসুমদের বাসায় আসলো ঠিকই কিন্ত চেহারায় মোটেও সরিওয়ালা কোনো ভাব নাই। কুসুমের দিকে তাকিয়ে মিটি মিটি হাসছে। -- নাটকটা না করলেও পারতি। শুধু শুধু চড়টা মারলাম। ( পরশ) কুসুম ভ্রু কুচকে বলল.. -- কিসের নাটক?? -- পরে বলি। এখন আমার কথা শোন্। -- আমার কিছু শোনার নেই।"" বলে কুসুম চলে যাচ্ছে। পরশ ঝট করে ওর হাত ধরে ফেলল। তারপর ওর কানের কাছে ফিসফিস করে বলল.. -- তুই সেদিন ঠিকই বলেছিলি। দূরে যাওয়ায় কাজ হয়েছে। "সেই মেয়েটা" আমাকে মিস করেছে।"" কুসুম মনে মনে হাসছে। অবাক হচ্ছেনা। ও এখনো ভাবছে পরশ ওর আধ্যাত্মিক ক্ষমতা দিয়ে সব জেনেছে। কিন্তু তারপরো আজকে ওর জানতে ইচ্ছে করছে। কুসুম বলল... -- তুমি কি করে জানলে??.. পরশ মুচকি একটা হাসি দিয়ে কুসুমের বালিশের নিচ থেকে ওর ডায়রিটা বের করে আনলো। তারপর বলল... -- তোকে চড় মারতে দেখে মা আমার উপর সেই ক্ষেপা ক্ষেপেছে। তারপর মায়ের কাছেই শুনলাম তুই নাকি রোজ আমার রুমে গিয়ে বসে থাকতি। পরে অনেক খুজে যখন ডায়রিটা কোথাও পেলাম না তখনি বুঝেছি কুসুম নামের সেই বোকা মেয়েটা অনেক চালাক হয় গেছে। হা হা হা।"---- . কুসুম কনুই দিয়ে ওর পেটে একটা গুতো দিয়ে বলল... -- এতদিন বলোনি কেনো??... -- আউউউ!! কি করে বলব। তুই তো তোর আকাশকে নিয়ে ""আকাশ কুসুম"" স্বপ্ন দেখছিলি। স্বপ্নটা ভাঙতে ইচ্ছে করছিলোনা রে!... হে হে হে...""--- কুসুম ওর দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে। ও জানে এটা মোটেও হাসির কথা না। না জেনে এতদিন পরশকে অনেক কষ্ট দিয়ে ফেলেছে। কুসুম কিছু না বলেই হু হু করে কাঁদছে। ওর কান্না দেখে পরশ ওকে জড়িয়ে ধরে হাসতে হাসতে বলল... -- আমি মোটেও কষ্ট পাইনি রে পাগলী..এখন কান্না থামা..........!


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সেই মেয়েটি ২
→ সেই মেয়েটি পর্ব ১
→ আমার জীবনের অংশ সেই মেয়েটি
→ সেই মেয়েটি
→ সেই মেয়েটি
→ সেই মেয়েটি
→ ♥পাল্টে দেয়া সেই মেয়েটি♥
→ সেই পাগলি মেয়ে
→ বাসস্টপের সেই মেয়েটি
→ সেই মেয়েটি
→ সেই মেয়েটি
→ প্রেমকি সেই সোনার মেয়ে?
→ সেই মেয়েটি,,,,,,
→ পরিক্ষা হলের সেই মেয়েটি (সবাই পড়বেন)
→ ~ সেই মেয়ে ~

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now