বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সেই ছেলেটি

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Rupkothar Rajkonna (০ পয়েন্ট)

X তখন মাত্র ৫ বছর বয়স খুব হাসি খুশিতে কাটছিলো ইমুর দিন কিন্তু কে জানতো সুখের জীবনে ঝড় আসতে সময় লাগে না। হটাৎ তার বাবা - মা এর মাঝে ডিভোর্স হয়ে যায়। কোর্টে যায় কেস ইমু কার কাস্টেডিতে থাকবে। বিচারক সবার বক্তবো শুনে ইমুর কাছে জানতে চায়। বিচারকঃতুমি কার সাথে থাকবে? বাবা নাকি মা? ইমুঃ আমি দুজন এর সাথেই থাকতে চাই। বিচারকঃযে কোন একটা বেছে নিতে হবে তোমাকে, নয় আব্বু নয়তো আম্মু? ইমুঃআব্বুর কাছে যাবো। ঠিক তখনি ইমুর আম্মু জোড় করে ইমুকে কোলে নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পরে। হয়তো ইমুও জানতো না এই ছোট সিদ্ধান্ত জীবনটাকে এভাবে ভেঙ্গে দিতে পারে। তারপর থেকেই ইমুকে রাখা হলো তার আব্বুর কাছে সেখানেই দিন কাটতে থাকলো তার, হটাৎ একদিন ইমুর আম্মু তাকে দেখতে আসলো কিন্তু তাকে দেখা করতে দেয়া হয় না। এভাবেই কেটে গেলো ২ টা বছর। এর মাঝে ইমুর আব্বু, আম্মু দুজনই বিয়ে করে নতুন সংসার নিয়ে ব্যস্ত কিন্তু একা হয়ে যায় শুধু ইমু। তারপর লেখাপড়া শুরু হয় ইমুর। স্কুল জীবনে ওতোটা ভালো ছাত্র ছিলো না ইমু, প্রায় সময় স্কুল পালিয়ে চলে আসতো, এমনও হতো স্কুল যাওয়াই বন্ধ করে স্কুলের আশে পাশে সময় কাটাতে লাগলো। হটাৎ একদিন এ কথা ইমুর সৎ মা জানতে পারলো সেদিন অনেক মার মারা হলো ইমুকে গায়ে প্রতিটা ব্যাতের দাগ চিৎকার করে বলছিলো এ জগৎটা তোর নয় কেনো এসেছিলি এ জগৎ এ। তারপর থেকে প্রায় দিন শুরু হয় এ অত্যাচার মাঝে মাঝে তার দাদী বাচালেও কিন্তু সেটা ছিলো ক্ষনিকের। এর মাঝেই ইমুর নিজের আম্মু একবার দেখার জন্য স্কুলে আসে সেই পথে ইমুও যাচ্ছিলো ইমু তার মাকে দেখেই দৌড়ে পালিয়ে আসে সেখান থেকে। সেই ছোট ইমুর মাঝে ততোদিনে এমন বিষ ঢেলেছিলো ইমুর মা এর সম্পর্কে ইমুর বাবার পরিবারের লোক যা ঘৃনার চেয়েও ভয়ঙ্কর রূপ নেয় ইমুর উপর। প্রায় সময়ই কষ্ট হতো ইমুর কিন্তু কষ্টগুলোকে নিজের মাঝেই কবর দিতো। স্কুলের সবার বাবা- মা ছিলো কিন্তু ইমুর থেকেও জানি কেউ ছিলো না। ইমুরও ইচ্ছা করতো কেউ তাকে নিয়ে স্কুলে যাক, কেউ তাকে হাতে মাখিয়ে খাইয়ে দিক কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস হয়তো অন্য কিছুই লিখে রাখছিলো। ইমু তখন ক্লাস ৫ম শ্রেনী পাশ করে ৬ষ্ঠ তে উঠছে তার মাঝেই ইমুর প্রানের দাদী মারা যায় অনেকটা ভেঙ্গে পরে ইমু। যাকেই এ পৃথিবীতে আপন করে নেয় সেই জেনো এভাবেই ছেড়ে যাচ্ছিলো ইমুকে। তারপর ইমুকে শহরে আনে ইমুর আব্বু, ওর সৎ মা কে নিয়ে। সেখানেই ভর্তি করা হয় এক হাইস্কুলে ইমুকে। ভালোই যাচ্ছিলো দিনগুলো নতুন বন্ধু- বান্ধবীকে নিয়ে নিজের জীবনের কালো অংশটা ভূলেই গিয়েছিলো। এর মাঝেই একটা মেয়ে কেনো জানি প্রায় সব সময় চোখে চোখে রাখতো ইমুকে। ইমু জানতো মেয়েটা তাকে ভালোবাসে কিন্তু সে এটাও মানতো যে সে যাকেই আপন করে সেই পৃথিবী ছেড়ে চলে যায় তাই সবটা জেনেও চুপ হয়েই থাকতো। ইমু খুব সুন্দর গান গাইতে জানতো তা জানতো সেই সামান্তা মেয়েটি। কোন ক্লাস অনুষ্ঠান হলেই, সামান্তাই আগে বলে উঠতো ইমুর গান শুনতে চায়। ইমুও তার অনুরোধ ফেলতে পারতো না। এভাবেই ক্লাস, প্রাইভেটে সামান্তা ইমুকে এক দৃষ্টিতে তাকিতে থাকতো কিন্তু ইমুর মাঝে একটা ভয় কাজ করতো যদি সামান্তাও ছেড়ে চলে যায় তাই চেয়েও আগাতে পারতো না। এর মাঝেই কেটে যায় কয়েকটা বছর, ১০ম শ্রেনীর বিদায় অনুষ্ঠান চলে আসে। সেদিন সামান্তাকে একটি বার দেখার ইচ্ছা ছিলো ইমুর, কিছু কথা বলার বাকি ছিলো যখন দেখা হলো তখন সামান্তা চেলে যাচ্ছে স্যারের সাথে বাসার দিকে কিন্তু সামান্তা চোখের পানিটা আড়াল করতে পারেনি সেদিন। এই দিনের পর থেকে সামান্তার সাথে আর দেখা হয়নি বলা চলে। এর পর পাশ করে কলেজ লাইফ শুরু হয় ইমুর। ভালোই চলছিলো সময় বন্ধুদের সাথে আড্ডা, পড়াশুনা । হয়তো জীবনটা নতুন রূপ নেয়া শুরু করছিলো কিন্তু অভাগা যেদিকে যায় নদীও শুকিয়ে যায় এমনটাই হলো। ইমু ইন্টারে ১ বিষয়ে ফেল করে বসে। খুব ইচ্ছা ছিলো ইমুর ডাক্তারী পড়ার কিন্তু সব স্বপ্ন নিজের সামনেই ভেঙ্গে যেতে দেখে। অনেক কথা শুনতে হয়েছিলো সেবার কিন্তু চুপ করে থাকা ছাড়া কোন উপায় ছিলো না। ১ বছর পর পরীক্ষা দিয়ে পাশ করলেও কোন ভার্সিটিতে চান্স পাচ্ছিলো না ইমু। কতো আকুতি করছিলো ইমু তার আব্বুর কাছে কিছু টাকা দিয়ে প্রাইভেট ভার্সিটিতে ভর্তি করাতে কিন্তু সৎ মা ও ভাইদের ভবিষৎ এর কথা ভেবে তার বাবাও মুখ ঘুড়িয়ে নেয়। এর পর ডিগ্রিতে ভর্তি হয় ইমু, স্বপ্ন ভেঙ্গে যেনো রাতটাই প্রিয় সঙ্গী হয়ে যায় ইমুর। সারা রাত এভাবেই জেগে কাটিয়ে দিতো। সবাই মুখ ঘুড়িয়ে নেয় ইমুর দিক থেকে, অনেক চেস্টা করে একটা চাকরীর জন্য কিন্তু কেউ ঘুরেও তাকায়নি। ডিগ্রি শেষে ছোট খাটো একটা চাকরী পেয়ে যায় ইমু। ভালোই যাচ্ছিলো দিনগুলো কিন্তু অতীত এভাবে সামনে আসবে কেই বা জানতো। হটাৎ একদিন অফিস থেকে ফেরার সময় হাসপাতালের বারান্দায় সামান্তার বোনকে দেখতে পায় ইমু। তার থেকেই জানতে পারে সামান্তার হার্টের সমস্যার কথা। ডাক্তার বলছে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হার্ট ট্রেন্সপ্লান্ট করতে হবে। সামান্তার পারিবার অনেকটা ভেঙ্গে পরে কোথাও ডোনার পাওয়া যাচ্ছিলো না বলে। এদিকে সময়টাও নিজ গতিতে চলে যাচ্ছে। পুরানো সৃতিগুলো জেনো বার বার ফিরে আসছে ইমুর কাছে। হারানোর ভয়টা জেনো জেকে বসেছে ইমুর মনে। ৪৮ ঘন্টার আর মাত্র ৬ ঘন্টা বাকি ডাক্তারও চাপ দেয়া শুরু করছে। এর মাঝেই সামান্তার পরিবারের কাছে খবর আসলো হার্ট পাওয়া গেছে। ডাক্তার অপারেশন শুরু করছে, ডাক্তারের অক্লান্ত চেস্টা ও আল্লাহর রহমতে সামান্তা সুস্থ হয়ে উঠে। সামান্তা কিছু দিন থেকেই একটা প্রশ্ন মনে জেকে বসেছে কে তাকে হার্ট দিলো। ডাক্তারের কাছে অনেক বার জানতে চেয়েছে কিন্তু শর্ত ছিলো, ডোনারের নাম না বলার জন্য। কিন্তু সামান্তার বেকুলতা দেখে সামান্তার হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দিয়ে চলে যায় সামান্তার বোন। সামান্তা, হার্ট বিট এর প্রতিটি স্পন্দনের নাম তুমি ছিলে, কিন্তু কখনো বলা হয়ে উঠেনি। ছোট থেকেই যাকে চাইছি ভূলে, সেই চলে যায় এপারে আমাকে একা ফেলে। জানতাম তুমি ভালোবাসতে কিন্তু আমার ভালোবাসাটা কখনোই বুঝাতে দিতাম না, কারন প্রকৃতি আমার কাছ থেকে বাবা, মা সহ সবটাই ছিনিয়ে নিয়েছে সেখানে তোমাকে হারালে মেনে নিতে পারতাম না হয়তো তাই এতো দূরে থাকা। তুমি হয়তো ভাবতে কতোটা স্বার্থপর আমি, হুম সবার সাথে স্বার্থপরতা করতে পারলেও তোমার ভালোবাসার সাথে স্বার্থপরতা করতে পারলাম না। তুমিই ছিলে আমার সৃষ্টিকর্তার সেরা উপহার। কিন্তু এটাও জানতাম তুমি কখনোই আমার হবে না। স্বপ্নের রানী কখনোই বাস্তবের হয় না। তবে আজ কোন ভয় নাই কারন এটা মৃত্যু নয় আমি তোমার মাঝেই বেচে থাকবো। সেই তো তোমাকে আবার ফিরে পাবো যা কল্পনাতেও ছিলো না। উপরে যেয়ে সৃষ্টিকর্তা যদি কোন চাওয়া পূরন করে, শুধু মাত্র আর ১ টি বার তোমার সাথে বাচতে চাইবো .... ইতি তোমার ইমু


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৪৮ জন


এ জাতীয় গল্প

→ নিঝুম দ্বীপের সেই ছেলেটি_লেখকঃ ইমদাদুল হক মিলন
→ সেই ছেলেটি
→ সেই ছেলেটি!
→ *থালা হাতে সেই ছেলেটি!!
→ অদ্ভুত সেই ছেলেটি
→ সেই ছেলেটি (পর্ব-২)
→ সেই ছেলেটি(পর্ব-২)
→ সেই ছেলেটি (পর্ব-১)
→ গাধাঁ সেই ছেলেটি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now