বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
কাহিনীটা দুইজন উচ্চ শ্রেণির প্রানীর। উচ্চ বলতে মোটেও বড়লোক বোঝাচ্ছি না। বায়োলজির ভাষায় আ্যনিমিলিয়া পর্বের প্রানী। অর্থাৎ মানুষ।
মানুষ দুটো হল অর্ণব আর শ্রুতি। আমি ওদের ছোট্ট একটা মুহূর্তের বর্ণনা দিচ্ছি। মাঝে মাঝে ছোট ছোট মুহূর্তগুলোও এমন অনেক না বলা কথাগুলো ব্যক্ত করে যা হয়ত অনেক সময় চিন্তা ভাবনা করে কথা বলেও ঠিক কোনো সিদ্ধান্তে পৌছাঁতে পারে না। এমনই একটা কাহিনী অর্নব আর শ্রুতির। আশা করি ভালো লাগবে...।
সময়টা তখন বিকেলের দিকে। প্রায় চারটা বাজে। গত আধা ঘণ্টা থেকে ওই কলেজের গেটটার বাইরে এক পলকে তাকিয়ে আছে অর্ণব। তাও নিজের কলেজ না। শ্রুতির কলেজ। আজকে শ্রুতিদের কলেজে "শ্রাবণ অরণ্য" নামে একটা প্রোগ্রাম হচ্ছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অর্ণব কি করে জানল? না না, শ্রুতি বলেনি। শ্রুতি তো হয়ত অর্ণবকে চিনেও না। অন্তত অর্ণবের তো তাই মনে হয়। আরে যে ছেলে সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে পাঁচ দিনই একটা কলেজের বাইরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকে, তার তো সেই কলেজের উপর এতদিনে পি.এইচ.ডি করে ফেলার কথা। এতটুকু প্রোগ্রাম সম্পর্কে জানা কোন ব্যাপার হলো! যাই হোক। অর্ণব আড়ালে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছিল যে শ্রুতি কি পরেছে আজকে, কিভাবে সেজেছে, কেমন লাগছে ওকে? যাই পরুক
না কেন, নিশ্চয়ই একটা পরির মত লাগছে ওকে। ঠিক যেন স্বর্গমহলের রাজকন্যা যার জন্য সে না জানি কতদিন থেকে অপেক্ষা করছে। এসব ভাবতে ভাবতে ও দেখল কলেজ ছুটি হয়েছে। সব ছাত্রীরা বের হচ্ছে। কত্ত ভিড়। কিন্তু শ্রুতিকে তো দেখা যাচ্ছে না। কই ও...? তাহলে কি ও আজকে আসেনি? না না। তা কি করে হয়? এত সুন্দর একটা প্রোগ্রাম মিস করবে বলে তো মনে হয় না। থাক আরেকটু দেখি। ভিড় বলে হয়ত পরে বের হবে। হুম, দাঁড়াই। এ কথা মনে করে দাঁড়িয়ে থাকল অর্ণব। কই পাঁচটা তো বেজে গেল। শ্রুতি আসছে না যে। আপন মনেই এত কথা ভাবছে ছেলেটা। আজকে তো আবার খুব বাতাস হচ্ছে। বৃষ্টি নামবে হয়ত একটা। নামবেই তো। আজকে তো শ্রাবণের প্রথম দিন। প্রথম বৃষ্টি। নিশ্চয়ই ময়ুরেরা নাচবে আজকে। এই অরণ্য হয়ে উঠবে আরও সবুজ। নদীগুলো হবে মনের আয়নার মত স্বচ্ছ। আর আমি? আমরা? ভাবতে ভাবতে মুখের কোণে একটা মুচকি হাসি দেখা গেল অর্ণবের। সাথে সাথে এক দমকা হাওয়াও। ভিড় কমে এসেছে। চারদিকে শুন্যতা। অর্নবের মনের সেই শুন্যতার কোলাহল পেরিয়ে বের হয়ে আসল শ্রুতি। ওই যে শ্রুতি...। আড়াল থেকেও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে ওকে। কি অপূর্ব লাগছে মেয়েটাকে। ঠিক অর্ণবের স্বপ্নের রাজকন্যার মত। অর্ণব যেভাবে ভেবেছিল, শ্রুতি ঠিক সেভাবেই সেজেছিল আজকে। সবুজ পাড়ের নীল সুতি শাড়ি। আঁচলটা ছেড়ে দেওয়া। চুলগুলো খোলাই ছিল। ওর লম্বা খোলা চুলগুলো বাতাসে উড়ছিল। কি মায়াবী দেখাচ্ছিল দৃশ্যটা। চোখটা আরো জুড়ে দিচ্ছিল শ্রুতির চোখের টানা কাজল, কানে রূপালিরঙা একজোড়া ঝুমকো, হাতভর্তি নীল সবুজ রেশমি চুড়ি আর কপালে একটা কালো টিপ। আজকালকার অতিকথিত ময়দা মাখা মেয়েদের মত তেমন কোনো সাজ নেই ওর। অনুষ্ঠান থেকে কলেজের একেক জন যেভাবে বের হল, মনে হয় না ঢাকার কোনো পার্লার আজকে এদের সাজানো ও মেকাপ মারা থেকে বাকি পড়েছে। একেক জনকে আ্যমাজনেরবন্য ময়ূরের মত লাগছিল। তবুও এদের সামনে শ্রুতির কোনো তুলনাই হয় না। তাই মনে হচ্ছে স্বর্গ থেকে এক অপ্সরী নেমে এসেছে অর্ণবের সামনে। প্রতিদিনই তো এই মেয়েটাকে দূর থেকে আড়াল করে দেখে অর্ণব। পড়াশোনায় বেস্ট, খেলাধুলায় বেস্ট এই ছেলেটার মন কিভাবে যেন এসে পড়েছে একদম সিম্পল এই পড়ুয়া ছাত্রীটার উপর। ছয়মাস আগে এনডিসির সায়েন্স ফেয়ারে শ্রুতিকে প্রথম দেখেছিল অর্ণব। প্রথম দেখাতেই অর্ণবের কিছু একটা ফীল হয় শ্রুতির জন্য। ফর দ্যা ফার্স্ট টাইম, এমন একটা অনুভূতি হয়েছিল অর্ণবের। তারপর এসে গেল এইচ.এস.সি। ভালো, না না, অনেক ভালোভাবেই পরীক্ষাটা দিল অর্ণব। ব্যাস! এক্সামটা শেষ হওয়ার দেরি ছিল। এক্সাম শেষ হওয়ার পর থেকেই ও প্রতিদিন শ্রুতির কলেজের বাইরে এসে দাঁড়িয়ে থাকে শ্রুতিকে একটা বার দেখার জন্য। এমন করতে করতে প্রায় তিন মাস হয়ে গেল। এখন পর্যন্ত অর্ণব শ্রুতির সামনে গিয়ে দাঁড়ায় নি। হয়ত বা ওকে হারিয়ে ফেলার ভয়ে। যদিও এখনো শ্রুতিকে ও পায়নি, কিন্তু এখন অন্তত দূর থেকে ওকে দেখতে তো পারছে। বললে যদি সে সুযোগটুকুও হারিয়ে ফেলে। আসলে কাউকে ভালোলাগার অনুভূতিটাই এমন। ভালোবাসার মানুষকে তো অধিকারের বাহুডোরে বেঁধে রাখা যায়। কিন্তু সবার আড়ালে, মনের গভীরে ভালোলাগার মানুষটাকে যেমন কোনো অধিকারে বেঁধে রাখা যায় না, তেমনি নীরবতায় হারিয়ে ফেলাটাও অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। এমন একটা অনুভূতিতেই সিক্ত ছিল অর্ণব।
যাই হোক, বাতাসটা কিন্তু বেড়েই চলেছে। বৃষ্টিটা বোধহয় নেমেই যাবে। শ্রুতি সামনে হেঁটে গিয়ে সব সময়ের মতই রিকশা নিবে। প্রতিদিনই এতটুকু পথ ফ্রেন্ডদের সাথে এসে সামনের রাস্তা থেকে রিকশা নেয়। ওর রিকশায় চলে যাওয়া যতদূর পর্যন্ত দেখা যায়, ততদূর পর্যন্ত দেখে তারপরে ওখান থেকে ফিরে যায় অর্ণব । কিন্তু আজ এমন করবে না। আজ ও সেটা বলবেই যার জন্য এতগুলো দিন থেকে প্রহর গুনছে। মনের কথাগুলো বলার জন্য এক পা এক পা করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিল অর্ণব। শ্রুতি তখনও রিকশা খুঁজছিল। তখনই অর্ণব শ্রুতির একদম সামনে এসে দাঁড়াল। যদিও আত্মা ধকধক করছিল খুব। কথা বলা শুরু করলে এই মাত্রাটা হয়ত আরো বেড়ে যাবে। আর শ্রুতি যদি সামনে থেকে কিছু বলে তাহলে তো আত্মাটা বেরই হয়েযাবে ভিতর থেকে। তাই হওয়ার পরিস্থিতি হল। শ্রুতি অর্ণবকে দেখে বলল, 'আপনি? আপনি এনডিসির ভাইয়াটা না? 'অর্ণব একটা ঢোক গিলে বলল, 'আ...হ্যাঁ।' শ্রুতি বলল, 'আপনার সাথে তো সেই সায়েন্স ফেয়ারে দেখা হয়েছিল, তো আপনি এখানে?' অর্ণব বলল, 'হ্যাঁ...আসলে একটা কা...কা...কাজে এসেছিলাম।' 'কাজ? কিসের কাজ এখানে ভাইয়া?' অর্ণব বলল, 'কাজটা তোমার সাথেই, শ্রুতি।' '
.
.
(সত্যিই কি অর্নব শ্রুতিকে তার ভালবাসার কথা বলতে পারবে।শ্রুতিই কি অর্নবের ভালবাসাকে বুঝতে পারবে...)
চলবে......
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now