বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সে রাতে পূর্ণিমা ছিল

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X কত কত দিনের ইচ্ছা ঢাকায় বইমেলায় যাব। এদিক- ওদিক করে টাকা জমাই। তিন গোয়েন্দা আর মাসুদ রানা কিনে খরচ হয়ে যায়। ঈদের সালামি জমাই। যশোরের হাসান বুক ডিপোতে হুমায়ূন আহমেদের নতুন আসা বইগুলো দেখে আর সহ্য করতে পারি না। জমানো টাকা সব খরচ করে কিনে ফেলি। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারে শুধু বইমেলায় যোগ দেওয়ার জন্য যশোর থেকে ঢাকায় আসার বায়না করে লাভ হয় না। বইমেলার আনন্দময় চিত্র টেলিভিশনের পর্দায় দেখে আর পত্রিকার পাতায় পড়ে দীর্ঘশ্বাস সঙ্গী করে দিন কাটে। এইচএসসি পাসের পর সুযোগ এসে গেল। সুযোগ করে দিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ভর্তি পরীক্ষা পড়ে গেল ফেব্রুয়ারিতেই। পরীক্ষা যেমন- তেমন বইমেলায় ঘোরা যাবে—এই চিন্তা করেই আনন্দ আর ধরে না। চলে এলাম ঢাকায়। বইমেলায় আসব। রাস্তা চিনি না। যাত্রাবাড়ী থেকে বাসে করে এসে নামলাম দোয়েল চত্বরে। তারপর এমনি আমি গাধা! ধূলিরে মারি করিয়া দিলাম কাদা। জানি বইমেলা হয় শাহবাগের আশপাশে কোথাও। তো আমি দোয়েল চত্বর থেকে হাইকোর্ট পেরিয়ে শিশুপার্কের সামনে দিয়ে ঘুরে শাহবাগে এসে আর বইমেলা খুঁজে পাই না। একজনকে প্রশ্ন করতেই জেনে গেলাম পথ। পরে মনে হয়েছিল, ইশ্ এই প্রশ্নটাই যদি আরেকটু আগেই কাউকে করতাম! অবশেষে পৌঁছে গেলাম বইমেলায়। সেই আমার প্রথম বইমেলায় যাওয়া। কী কী বই কিনেছিলাম, সেসব আর মনে নেই এখন। তবে বই কেনা নিয়ে একটা স্মৃতি অবশ্যই মনে পড়ছে এবং সেটা বইমেলা থেকেই। তখন শহীদুল জহিরের সঙ্গে নতুন পরিচয় হয়েছে। মানে ওনার লেখার সঙ্গে আর কি। সেবার প্রতিদিন বইমেলায় গিয়ে পাঠক সমাবেশের স্টলে শহীদুল জহিরের বইগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করি। কেনার সামর্থ্য নেই। তাই স্টলে দাঁড়িয়েই দু-চার পাতা পড়ে ফেলি। বেশিক্ষণ পড়তে পারি না। পাছে স্টলের কর্মীরা কেউ কিছু বলে এই ভয়ে। সন্ধ্যা নেমে এলে স্টলের বাইরে গিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারি। কিন্তু চোখ আটকে থাকে শহীদুল জহিরের বইয়ের প্রচ্ছদেই। কেউ এটা লক্ষ করবে ভাবিনি। একরাতে বইমেলার সময় শেষ হওয়ার পর বাংলা একাডেমির বাইরে আসতেই এক বন্ধু হাতে একটা প্যাকেট ধরিয়ে দিল। খুলে দেখি, পূর্ণ চাঁদের আলোয় আমার হাত ধরে হাসছেন শহীদুল জহির। কারণ সে রাতে পূর্ণিমা ছিল। ---সবুজ ওয়াহিদ


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সে রাতে পূর্ণিমা ছিল

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now