বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
দু বছর পর রাইসার সাথে দেখা। দু বছর
আগে ব্রেক আপ হবার পর এই দুবছর একটি
বারের জন্যও রাইসার সাথে দেখা
করি নাই। এর কারণটা ছিলো রাইসা
নিজেই।
.
সে যাই হোক, আমি ভুলে গেছি
আমাকে দেওয়া সব কষ্ট। সত্যি বলতে
প্রথম প্রথম মেনে নিতে পারিনি, সব
সময় ভাবতাম ও কেনো আমার সাথে
এমন করলো। তবে একটা সময় নিজেকে
ফিরিয়ে নিয়েছি ওর কাছ থেকে।
.
.
ভার্সিটিতে চান্স পাওয়ার পর প্রথম
বাড়ি ফিরেছি কালকেই। উইন্টার
ভেকেসন চলছে। বাড়ি আসার সময়
ফেসবুকে স্টাটাস দিয়ে ছিলাম,
অনেক দিন পর বাড়ি ফিরছি,,,,।
.
.
রাতে বিছানায় শুয়ে আছি। ভাবছি
একটা গল্প লিখবো। নুতুন বছরে নুতুন কিছু
শুরু করা দরকার। তাই ফোনটা হাতে
নিয়ে টাইপ শুরু করলাম। কিন্তু হঠাৎ
ফোন কল এসে আমার টাইপিংয়ের ১২
টা বাজলো।
.
আননোন নাম্বার। ধুর এত রাতে আবার
কোন সালা ডিস্টার্ব দিচ্ছে। মনে
মনে সেই সালার গুষ্টি উদ্ধার করে কল
টা রিসিভ করলাম।
.
.
: হ্যালো কে,,,,
: (একটা নিশ্বাসের শব্দ)
.
খুব পরিচিত সেই শব্দ, দু বছর আগে সেই শব্দ
সব সময় আমার কানে বাজতো। এটা
নিশ্চই রাইসা। কিন্তু না চেনার ভান
করেই বললাম।
.
: কি হলো,,,, কথা বলছেন না কেনো। এত
রাতে কল দিয়ে কি বোবা হয়ে
গেছেন।
: কেমন আছো হাসান,
: ভালো, কে আপনি?
: কন্ঠ টাও দেখছি ভুলে গেছো।
: হুম গেছি, যখন মানুষ টাকেই ভুলে
যেতে বাধ্য হইছি তখন তার কন্ঠকে মনে
রেখে আর কি করবো।
.
: শুনে খুব কষ্ট পেলাম। তুমি এখন কোথায়।
: বিছানায়।
: শুনলাম বাড়িতে আসছো।
: হুম।
: জানো হাসান তোমাকে খুব দেখতে
ইচ্ছা করে। জানি তোমাকে এসব বলার
অধিকার আমি নিজেই হারিয়েছি।
তারপরো বলছি,,,,, আচ্ছা তোমার কি
আমাকে দেখতে ইচ্ছা করে না।
: কই নাতো।
.
: তুমি এতটা বদলে গেছো।
: হুম, সেটা তোমার কারণেই।
: হাসান, তোমার কাছে একটা জিনিস
চাইবো, দিবা।
: দিবো কিনা জানি না, তবে
তোমার ইচ্ছা হলে চাইতে পারো।
: সমস্যা নাই দামি কিছু তোমার কাছে
চাইবো না। তবে যা চাইবো প্লিজ না
করো না।
: ওকে বলো আমি চেষ্টা করবো।
: তোমার জীবনের মূল্যবান সময় থেকে
একটা দিন কি আমায় দিবা। যেই
দিনটা হবে দু বছর আগের সেই দিন
গুলোর মত। বিশ্বাস করো আমি আর কিছুই
চাইবো না তোমার কাছে। প্লিজ না
করো না।
.
: কবে লাগবে?
: কাল সকাল ৮ থেকে সন্ধ্যা ৬ টা
প্রর্যন্ত।
: ওকে। সকাল ৮ টায় পার্ক মোড়ে
আসিও। শুভ রাত্রী।
.
.
কলটা কেটে দেবার পর থেকে
হাজারো সংশয় বাধছিলো বুকের
মধ্যে। আমি সত্যি আজো রাইসার প্রতি
খুব দূর্বল। জানি ওর চোখে দিকে
তাকিয়ে আমি কথা বলতে পারবো
না। কারণ ওর চেখের দিকে তাকালে
আজো আমি নিজেকে হারিয়ে
ফেলবো। নিজেকে এত বুঝাই, তারপরো
কেনো যেনো ওর কথা ফেলতে পারি
না।
.
.
সকাল ৮:১০....
.
শীতের মধ্যে কাপতে কাপতে পার্ক
মোড়ে আসলাম। রাইসা একটা চাদড়
গায়ে দিয়ে দারিয়ে আছে। খুব
কাপছে শীতে, ওর আবার প্রচুর ঠান্ডা
লাগে। দু বছর আগে হলে নিজের
জেকেট টা ওকে দিতাম। কিন্তু আজ আর
দিবো না। কারণ আমি বদলে গেছি।
.
সারাটা দিন দুজন ঘুরলাম। শহরের এমন
কোন অলিগলি নেই যা বাদ রাখলাম।
তবে প্রতি পদে পদেই সৃত্মিরা শুধু
হাতছানি দিচ্ছিলো। কারণ ওর
সাথের এক বছরের রিলেশনে যত সৃত্মি
আছে, ইচ্ছা করলে তা নিয়ে ভেবে
জীবন পার করে দেওয়া সম্ভব।
.
সত্যি বলতে রাইসা আগের থেকে
অনেক বেশি স্মার্ট হইছে। চুল গুলাও
বেশ বড় হইছে। ভূরু প্লাগ করছে। মনে হয
এখন নিয়মিত পার্লারে যায়। আগের
থেকে একটু লম্বাও হয়েছে। কিন্তু এসব
ব্যপার আমি নোটিস করলেও ওকে বলবো
না। কারণ আমি বদলে গেছি।
.
সারাদিন ঘুরা শেষে বিকাল ৫ টায
কলেজে মাঠে বসলাম। এই সেই ফুসকার
দোকান। যেখানে দুবছর আগে প্রতিটা
সন্ধ্যায় বসতাম। ফুসকা ওয়ালা আগের
সেই মামাটা নেই। তার দোকান এখন
তার ছেলে চালায় তাই হয়তো আমায়
চেনে না।
.
রাইসার খুব করা ঝাল দিযে বানানো
ফুসকা পছন্দ। তাই ফুসকা দিতে বললাম।
ফুসকা খেতে খেতে রাইসা কথা বলা
শুরু করলো,,,
.
: হাসান তুমি সত্যি অনেক বদলে
গেছো।
: হুম।
: আজ সারাটা দিন তোমার বদলে
যাওয়া প্রতিটা মূহুর্ত আমি খেয়াল
করলাম।
: ভালো।
: অনেক ভালো গল্প লেখো ফেসবুকে,,,,
: কে বললো।
: আমার বান্ধবী সাথি,ও তোমার
গল্পের খুব ভক্ত।
: ওহহ,,,,,
: সাথি তোমাকে অনেক পছন্দ করে।
.
: ওহহ,,,,
: আমি কিন্তু আজো ওকে বলি নাই।
আমি তোমাকে চিনি।
: ভালো।
: তুমি কি আমায আজো ক্ষমা করতে
পারো নাই।
: ক্ষমা,,,, হাহাহা সেটা তো দু বছর
আগেই করে দিসি।
: তুমি কি আমায় আজো ভালোবাসো।
: হুম। আগের মতই।
: জানি তোমাকে ফিরে আসতে বলার
মত মুখ আমি রাখিনি। তারপরো তুমি
যদি ফিরে আসো তবে আমি তোমাকে
আর বাধা দিবো না। আগের সব ভুল
গুলো থেকে বেরিয়ে আমি তোমায়
আজীবনের জন্য আপন করে নিবো। সত্যি
হাসান তোমায় ছেরে দেওয়াটা
আমার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল
সিদ্ধান্ত ছিলো।
.
: ওহহ।
: তুমি কি এই দু বছর কে ভুলে গিয়ে
আবার আমার জীবনে ফিরে আসবা?
.
.
আগেই বলে ছিলাম রাইসার কথা আমি
ফেলতে পারি না। তার উপর আমি এই দু
বছরের প্রতিটা দিন যা চাইছি আজ তা
পেতে যাচ্ছি। আমি সব সময় চাইতাম,
রাইসা আমার কাছে ফিরে আসুক আমি
ওর সব ভুল, আমাকে দেওয়া প্রতিটা কষ্ট
ভুলে গিয়ে, ওকে আমার করে নিবো।
.
তাই ক্ষনিকের জন্য আমি হারিয়ে
গিয়েছিলাম কনফিউশনের আড়ালে।
নিজেকে ফিরে পেলাম রাইসার
ডাকে।
.
: কি হলো চুপ করো আছো কেনো।
ফিরে আসবে কি তুমি।
: আচ্ছা রাইসা জানো আজ আমি একটা
ভার্সিটিতে পড়ি, সেটা কার জন্য
সম্ভব হয়েছে।
: কার জন্য।
: তোমার।।।।। রাইসা জানো আজ আমার
পরিবারের সবার কাছে আমি খুব
ভালো একটা ছেলে। সেটা কার জন্য
সম্ভব হযেছে?
: কার জন্য?
: তোমার। আজ তোমার বান্ধবী
আমাকে পছন্দ করে, সেটাও তোমার
জন্যই সম্ভব হয়েছে ।
.
: বুঝলাম না ব্যেপারটা।
: তুমি আমায ছেরে চলে গেছো বলে
আমি আমার পৃথিবী হারিয়ে
ফেলেছিলাম। তাই সারক্ষন রুমের মধ্যে
থাকতাম। কারো সাথে মিশতাম না।
নিজের কষ্ট গুলো থেকে রেহাই
পাবার জন্য লেখালেখি শুরু
করেছিলাম। রুম থেকে না বের হবার
কারনে কোন খারাপ কাজও আমি আর
করতাম না।
.
তাই বাড়িতে এই দু বছর আমার নামে
কোন কম্পিলিন আসে নাই। তাই আমি
সবার কাছে ভালো ছেলে। আর রুমে
থাকার কারণে বই হয়েছিলো আমার
অন্যতম ভালো বন্ধু। আরতাই আজ আমি
ভার্সিটিতে। তাহলে তুমি বলো,,,
আমার জীবনের সব কিছুর পেছনে কে
দায়ী।
.
: আমি
: হ্যা তুমি। তাই তো আর কখনো তোমার
কাছে ফেরা সম্ভব নয়।
: কেনো?
: আমি আর রঙ্গিন প্রেমের স্বপ্ন দেখি
না। আমি এখন স্বপ্ন দেখি একটা মিষ্টি
বউয়ের। পড়াশুনা টা শেষ করে একটা জব
করবো। একটা ছোট বাড়ি নিবো। আর
একটা দুষ্ট মিষ্টি মেয়েকে বিয়ে
করবো। আর তাকেই রাইসা বলে
ডাকবো। তুমি আমার ভুল পছন্দ ছিলা
তাই আমায় কষ্ট দিয়ে চলে গেছো।
তাই আমি আর ভুল করবো না। আমার
জোরা যার সাথে স্রষ্টা রেখেছে
তাকেই বিয়ে করবো এবং বিয়ের পর
তাকেই ভালোবাসবো। ভালো
থাকো রাইসা আমি চললাম।
.
.
কথা গুলো বলেই চলে এসেছি। হয়ত
রাইসা তাকিযে ছিলো আমার চলে
আসার পথের দিকে। খুব ইচ্ছা হচ্ছিলো
তখন, একবার পিছন ফিরে দেখতে। কিন্তু
আমি দেখিনি। কারণ পিছনে
তাকালে দুবছর আগের মত ও আবার
আমার চোখের পানি দেখে ফেলতো।
.
রাইসার সাথে দেখা করার আজ ৪ দিন
হলো। ওকে দেখার পর সত্যি আমি
আমার সব ফিলিংস হারিয়ে
ফেলেছি। এই চারদিনে অনেক চেষ্টা
করেছি। কিন্তু একটা পাতাও লিখতে
পারিনি। হয়ত আমি লেখার ক্ষমতা
হারিয়ে আবার দু বছর আগের মত হয়ে
গেছি...... .....
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now