বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্বপ্ন-০৪(শেষ পর্ব)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X নুরুজী বসে আছে সামনে বসে আছে খলিল। একটু আগে জানা গেছে লোকটার নাম খলিল। লোকটা ইমন দের বাসার দারোয়ান। ইমনের বাবা ৫০০টাকার বিনময়ে খলিল কে দিয়ে ফোন করিয়েছেন। খলিল গরীব মানুষ। অতশত বুঝে না। ভেবেছে শুধুমাত্র ফোন করে যদি ৫০০টাকা পাওয়া যায় তাহলে আর ক্ষতি কি। প্রতিদিন তো আর এমন সুযোগ আসেনা। কিন্তু এই সামান্য ফোনকল যে তাকে থানা পর্যন্ত নিয়ে আসবে সেটা খলিল স্বপ্নেও ভাবেনি । নুরুজী খলিল কে ছেড়ে দিতে বলেছেন তবে সেটা ২দিন পর। এখন ছেড়ে দিলে খলিলের বিপদ হতে পারে। এটা শুনে বেচারা খলিল আবার কান্না শুরু করেছে। একটাই কথা "আমার দুইটা ছুডু মাইয়া আছে। আমি না গেলে ওরা একলা একলা ডরাইবো। খাইতে পারবো না।ঘরে বাজার নাই" নুরুজী খলিল কে অভয় দিয়ে বলেন তুমি চিন্তা করো না খলিল আমি তোমার মেয়েদের দেখে রাখবো। ইন্সপেক্টর হারুন নুরুজী কে জিজ্ঞেস করলেন "ইমনের বাবা কেন ওর ট্রিটমেন্ট বন্ধ করতে চায়? বাবা হয়ে ছেলের ক্ষতি চায় কেন? নুরুজীর মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।তিনি বললেন "কাল রাত পর্যন্ত আমার মনেও এই প্রশ্ন টা ছিলো।কিন্তু সব কিছু হাতে পেয়ে এখন সব কিছু পানির মতোই পরিষ্কার। আমি থানায় আসার আগেই জানতাম ইমনের বাবার লোক ধরা পরবে। কিন্তু সেটা কে তাই দেখার জন্য আসা আরকি।" হারুন সাহেব বললেন "তার মানে আপনি আগে থেকেই সব জানতেন? " "না সব জানতাম না। শুধু ধারনা ছিলো। আর কাল সব প্রমান হাতে পেয়েছি। "কই আমি কি দেখতে পারি" "নাহ। আগে ইমন কে দেখাবো। ইমনের বাবা মা কে দেখাবো। চাইলে আপনি আসতে পারেন আমার সাথে" ইন্সপেক্টর হারুন লোভনীয় ভাবে বলেন "এমন একটি রহস্য উন্মোচনের সাক্ষী হয়ে থাকতে পারলে মন্দ হবে না" নুরুজী একটি হাসি দিয়ে বলেন "আপনি সাথে কিছু ফোর্স নিয়ে নিন তাহলে। ওখানে অনেক কিছুই হতে পারে।" ৫ নুরুজী তার বাসায় বসে আছেন। বরাবর বসেছে ইমন ও ইমনের বাবা মা। ইমনের বাবা মায়ের মুখে কৃত্তিম হাসি স্পষ্ট। নুরুজী তাদের তোয়াক্কা না করে ইমনকে জিজ্ঞেস করলেন "ইমন তুমি কি প্রস্তুত? তোমার সব কিছুর সমাধান আমার হাতে চলে এসেছে। ইমন উত্তেজিত ভাবে বললো "হ্যা আমি প্রস্তুত। আপনি বলেন তারাতারি বলেন।" নুরুজী সামনে রাখা প্যাকেট থেকে একটি ছবি বের করলেন। ছবিটা ইমনকে দেখিয়ে বললেন "ইমন এটা কে চিনো? " ইমন না সূচক উত্তর জানিয়ে দিলো। নুরুজী হাসলেন। ইমনের মায়ের দিকে তাকালেন। তার চোখে অবিশ্বাসের দৃষ্টি। নুরুজী সেদিকে খেয়াল না করে বললেন আমি জানতাম তুমি চিনবে না। নুরুজী প্যাকেট থেকে আরো একটি ছবি বের করলেন। রক্ত মাখা চেহারার একটি ছবি।ইমন কে দেখিয়ে বললেন এটা কে চিনো? ইমন চমকিয়ে উঠে। ওর হাত পা কাপা শুরু করেছে। ইমন তোতলাতে থাকে। নুরুজী ইমন কে অভয় দিয়ে বলেন ইমন ভয় পেয়ো না। চিনো কিনা বলো। ইমন বললো হ্যা চিনি। এই লোকটাকেই আমি স্বপ্নে দেখি। ইমনের মা খেঁকিয়ে উঠলো। বন্ধ করেন এই সব। কি আলতু ফালতু কাজ এগুলো। আপনি ডাক্তার ঔষধ দিন।এইসব ছবি দেখানোর মানে কি। নুরুজী সেদিকে লক্ষ্য না করে ইমন কে বললেন "গুড। ওই রক্ত মাখা লোকটাই এই ছবির লোক। ইমন লোকটার ছবি ভালো ভাবে দেখছে। লোকটা অসম্ভব সুন্দর। ইমনের চেয়েও অনেক বেশি। ইমন ছবি থেকে মুখ সড়িয়ে নুরুজী কে লক্ষ্য করে বললো "আপনি এই ছবি গুলো কোথায় পেয়েছেন?" "ব্যাপারটা খুব সোজা। ও অনেক পুরাতন একটি পদ্ধতি। তোমার দেয়া বর্ণনার সাথে মিলিয়ে এই ছবিটা আকা হয়েছে। তার সাথে নতুন কিছু প্রযুক্তি সংযোগ করা হয়েছে। মানে কম্পিউটারে ছবিটা নিয়ে সফটওয়ার এর মাধ্যমে আসল ছবিটা বের করা হয়েছে। এটাই। " ইমনের চোখ বড় বড় করে সব গুলো কথা শুনছিলো। কিন্তু বাধা দেয় ইমনের মা। তিনি পাগলের মতো হয়ে ইমনের কাছ থেকে ছবি গুলো কেড়ে নেয়। সাথে সাথে ছিড়ে ফেলে। তার চোখ দিয়ে আগুন ঝরছে। যেনো এখুনি নুরুজী কে সে আগুনে পুড়িয়ে ছাড়খাড় করে দিবে। নুরুজী শান্তভাবে বললেন আমি জানতাম আপনি ঝামেলা করবেন। তাই হারুন সাহেব কে সাথে নিয়ে এসেছি। হারুন সাহেব আপনি ইমনের বাবা মা কে আটক করেন আমার কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত। ইমন ছেলেটা ভয় পেয়ে গেছে। সে কিছুই বুঝতে পারছে না। চোখের সামনে যা দেখছে তা কিছুই বিশ্বাস করতে পারছেনা ইমন। তার মায়ের এমন রুপ আগে কোন দিন দেখেনি ইমন। তার বাবার ভয়ার্ত চেহারা আগে কোন দিন দেখেনি ইমন। এই ছবি দেখার পর সব কেন এলোমেলো হয়ে গেলো। কি আছে এই ছবিতে? কে এই ছবির লোক? ইমন জিজ্ঞেস করে ফেলে নুরুজী কে। নুরুজী বলেন বলছি সব বলছি। দেখো তো ইমন ছবির লোকটার সাথে তোমার চেহারার মিল পাও কিনা? ইমন কিছু বলার আগেই হারুন সাহেব বলে উঠেন পুরোপুরি মিল। আর মনে হয় এই লোকটাকে আমি আগে কোথাও দেখেছি। নুরুজী বললেন হ্যা দেখেছেন। এই লোক এইঈ দেশের সেরা মেধাবীদের একজন ছিলেন। ওনার নাম এহসান হক। হারুন সাহেব বললেন হ্যা মনে পরেছে । ২০-২১বছর আগে লোকটার খুনের খবর পড়েছিলাম।বিশ্বের সবগুলো নামীদামী পত্রিকা হেডলাইন করেছিলো। ইত্তেফাক বলেছিলো "বাংলার হীরকের রহস্যজনক খুন" লোকটা খুব সম্ভবত আমেরিকার ফ্লোরিডায় থাকতেন পরিবার নিয়ে সেখানেই খুন হয়েছেন। নুরুজী বললেন হ্যা ঠিক ধরেছেন। ইনি সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর উপর একটি থিসিস করে ভালো নাম করেছিলেন। বুয়েট থেকে স্কলারশিপ পেয়ে সোজা AASHO তে চলে গিয়েছিলেন। তার থিসিস সবার নজর কেড়েছিলো। হারুন সাহেব বললেন সবই বুঝলাম কিন্তু ইমন এই লোককে স্বপ্নে কেন দেখে? নুরুজী বললেন "কারন এই লোকটা ইমনের আসল বাবা। এবং ইমনের সামনে এই লোককে খুন করা হয়েছে" ইমন ৩০০০ ভোল্টের শক খায়। বলে উঠে "মানে? নুরুজী দাড়িয়ে যান বলা শুরু করেন "তোমার বাবা এহসান হক ছিলেন অনেক বিখ্যাত একজন লোক। আর বিখ্যাত লোকের সব কাজ ইতিহাস লিখে রাখে। তাই আমার সব কিছু বের করতে সহজ হয়েছে। ইন্টারনেট এ খুঁজলেই দেখবে তোমার বাবার প্রেমের বিয়ে ছিলো। সে অনুযায়ী তোমার বাবার সাথে তোমার মায়ের প্রেম ছিলো। তোমার মাকে নিয়ে তোমার বাবা ওখানে চলে যায়। তোমার জন্ম হয় আমেরিকাতেই। কিন্তু আমেরিকা যাবার পর তোমার বাবা অনেক ব্যাস্ত হয়ে যায়।তোমার মাকে সময় দিতে পারে না। তোমার মা হয়ে যায় একা। তখন তোমার মায়ের মনে স্বাভাবিক ভাবে ভুল ধারনা জন্মে। তোমার বাবা অনেক চেঞ্জ হয়ে গেছে। আগের মতো ভালোবাসে না। আরো অনেক কিছু। তখন তোমার মায়ের সাথে পরিচয় হয় তোমার এখনের বাবার সাথে। মানে রফিক সাহেবের সাথে। আস্তে আস্তে তোমার মা তার প্রতি দুর্বল হয়ে যায়। এবং দ্বিতীয় দফা প্রেমে পরে। তখন তোমার মা চিন্তা করে যেহেতু তাদের প্রেমের বিয়ে সেহেতু তিনি অন্য লোকের সাথে চলে গেলে তোমার বাবা অনেক খারাপ মনে করবে। কোন দিন ক্ষমা করতে পারবে না। তোমার মাকে হয়তো ঠিক ভাবে থাকতে দিবে না। তাহলে এই ঝামেলা থেকে বাচার কি উপায়? হ্যা একটি উপায় আছে। একটি খুন। যে খারাপ ভাববে তাকে খুন করলেই সব ঝামেলা শেষ। তোমার মা তোমার বাবা কে খুন করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রেমে পরে তোমার মা পশু হয়ে যায়। তাই তোমার বাবা কে খুন করে ফেলে নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে। যেহেতু তুমি ছোট ছিলে। তাই তোমার সামনেই তোমার বাবাকে খুন করে তোমার মা। কারন তখনো তোমার জ্ঞান বুদ্ধি হয় নি।" নুরুজী বলা শেষ করে তাকিয়ে দেখে ইমন কাঁদছে। ইমন ঘৃণার দৃষ্টি তার মায়ের দিকে তাকায় ইমনের মা ও কাঁদছে। ইমন শুধুই বলে "ছি" ইমনের মা বলে "হ্যা আমি করেছি খুন। আমি যে সুখে আছি তাও নয়। তোর বাবার সব সৃতি আমি মুছে দিয়েছি। কিছুই রাখিনি। তারপরেও তুই ভুলিস নি। তোর বাবাকে আমি প্রচন্ড ভালোবাসতাম। কিন্তু আমার ভালোবাসা বুঝে নি তিনি তাই আমি সড়িয়ে দিয়েছি। আমি সুখি হতে চেয়েছিলাম। কিন্তু পারিনি।২১টা বছর আমাকে কুড়ে কুড়ে খেয়েছে তোর বাবা। তোকেও শান্তি দেয় নি। ইমনন তার মায়ের থেকে চোখ সড়িয়ে নেয়। হারুন সাহেব নুরুজী কে জিজ্ঞেস করেন আচ্ছা আপনি শিওর হলেন কিভাবে? এতো কিছু রেখে আপনার এই সন্দেহ কেন হলো? আমার সন্দেহ হয় নি। আমি প্রমান সহ এগিয়েছি। আমি প্রথমে ইমন কে জুস খেতে দিয়ে জুসের গ্লাস থেকে ইমনের ডি এন এ রেখেছি। তারপর ইমনদের বাসায় গিয়ে ইমনের বাবার রুম থেকে তার ব্যাবহার করা লিপজেল নিয়ে সেখান থেকে ডি এন এ সংগ্রহ করেছি। দুটো মিলিয়েছি। মিলেনি। তখন শিওর হয়েছি এই লোকটা ইমনের বাবা নয়। হারুনন সাহেবের মুখে অবিশ্বাসের ছাপ। তিনি নিজের অজান্তেই বলে উঠলেন জিনিয়াস। কিন্তু ইমন তো ছোট ছিলো। ওর কিভাবে এটা মনে থাকলো অথবা কেন এই স্বপ্ন টা দেখলো? "দেখেন হারুন সাহেব এটার দু টা ব্যাখ্যা আছে। প্রাচীন ব্যাখ্যা যদি দেই তাহলে হবে ইমনের বাবার আত্মা অতৃপ্ত ছিলো। সে আত্মা চাইতো ইমন সব সত্যি জানুক। তাই বারবার ইমনের কাছে দেখা দিতো।আর যদি বিজ্ঞান নিয়ে ঘাটি তাহলে আমরা জানতে পারবো মানুষের মস্তিষ্ক গ্রো আপ হয় ছোটকালেই বিশেষ করে ৬বছর পর্যন্ত। সে বয়সে যদি কিছু মাথায় ঢুকে যায় তাহলে আর বের হয় না। সেটা সারাজীবন চলতে থাকে। ইমনের মাথায় অবচেতন ভাবে সেটা গেথে গিয়েছিলো। ইমনের অবচেতন মন বারবার সে ছবি ইমনের কাছে নিয়ে আসতো আর এটার ব্যাখ্যা চাইতো। কারন ইমনের অবচেতন মন এটার ব্যাখ্যা জানতো না। আজকের পর থেকে ইমন আর স্বপ্ন দেখবে না। কারন ইমনের বাবার আত্মা শান্তি পেয়েছে। আর ইমনের অবচেতন মন পেয়েছে ব্যাখ্যা। নুরুজী সবাইকে ঘরে রেখে তিনি বের হয়ে গেছেন রাত হয়ে গেছে। খলিলের মেয়ে দুটু একা আছে। তাদের কাছে যেতে হবে। বাজার করতে হবে। মেয়েদের ভয় থেকে দূরে রাখতে হবে। ভয় জিনিসটা খুব খারাপ। পেছনে কি হচ্ছে নুরুজী জানেন না। জানতে চাননা। তার কাজ তিনি করেছেন। ইমন কে সাহায্য করেছেন। তার আর কিছু করার নেই। এখন তাদের টা তারাই বুঝুক।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্বপ্ন-০৪(শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now