বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাব্বির আহমেদ শাওন
নুরুল এই নুরুল উঠ। অনেক দূর থেকে ডাক টা
ভেষে আসছে। নুরুজী চোখ খুলে দেখে
তিনি একটি গাছের উপরে বসে আছেন। গাছটা
অনেক উঁচু। সেই গাছের নিচ থেকে কেউ
তাকে ডাকছে। নুরুজী খুব ভালো করে লক্ষ্য
করে দেখেন লোকটা আর কেউ নয় তিনি
নিজেই। নুরুজী উপর থেকেই কথা বলার চেষ্টা
করতে থাকেন। কিন্তু তার মুখ থেকে কোন
কথা বের হয় না। নুরুজী লক্ষ্য করছেন নিচে
থাকা লোকটার মুখে হাসি ফুটে উঠেছে। নুরুজী
অনেক চেষ্টা করেও কথা বলতে পারছেন না।
তিনি ঘামা শুরু করেছেন। নিচে থাকা নুরুজীর
মতো লোকটা চিৎকার করব বললেন "নুরুল তুই
ভুল করলি। তুই নিজের বিপদ ডেকে আনলি ।
তোকে আগেই সাবধান করেছিলাম। তুই কথা শুনিস
নি। তুই ভুল করলি নুরুল বড্ড বড় ভুল করলি। নুরুজী
আবারো কিছু বলতে গিয়ে ব্যর্থ হলেন। তিনি
প্রাণপণে যুদ্ধ করে যাচ্ছেন কিছু বলার জন্য।
কিন্তু পারছেন না। তিনি তাকিয়ে তাকিয়ে নিচে থাকা
তার মতো লোকটার হাসি দেখছেন। হাসির শব্দ
বেড়েই চলেছে। সব কেমন যেনো
ঘোরের মতো হয়ে যাচ্ছে। হাসিটা মিলিয়ে
যাচ্ছে দূর থেকে দূরে। সামনে সব কিছু
ধবধবে সাদা হয়ে যাচ্ছে।
নুরুজী চোখ খুলে অনুভব করেন তার সারা
ষরীর ঘেমে একাকার হয়ে গেছে। মাথাটা ঝিম
মেরে আছে। মাত্র দেখা স্বপ্নটাকে স্বপ্ন
মনে হচ্ছে না। মনে হচ্ছে বাস্তব। মনে
হচ্ছে তিনি এই দুনিয়াতে নেই। সব কিছু কেমন
যেনো লাগছে। ঘুম কেটে গেলেও
নুরুজীর ঘোর কাটেনি। তিনি বিছানা থেকে উঠে
চোখে মুখে পানি দেন। বাহিরে তাকিয়ে
দেখেন সকাল হয়ে গেছে। নুরুজী আর না
ঘুমানোর পরিকল্পনা করেন।
সকাল ৭টা বাজে। পাশের হোটেল থেকে খাবার
আসবে নয়টায়। কিন্তু নুরুজীর এখুনি ক্ষুদা
লেগেছে। তিনিসেটাকে পাত্তা না দিয়ে ভাবতে
থাকেন কি দেখলেন তিনি?
পরক্ষনেই নিজের মন কে শান্তনা দেন এগুলো
কিছু না। সারাদিন এটা নিয়ে ভাবায় এমন স্বপ্ন
দেখেছি। যেটা হওয়া স্বাভাবিক। আর স্বপ্ন কোন
দিন সত্যি হতে পারেনা।
নুরুজী স্বপ্নের কথা মাথা থেকে তাড়িয়ে দেবার
চিন্তা করতে থাকেন। তখনি তার ইমনের স্বপ্নের
কথা মনে পরে যায়। ছেলেটা বিপদে আছে।
ওকে সাহায্য করা দরকার। তিনি আজ ই ইমনের সাথে
কথা বলার সিদ্ধান্ত নেন। একান্ত কিছু কথা।
ইমন ছেলেটা নুরুজীর পাশে বসে আছে। আজ
ছেলেটা লাল রঙের একটা শার্ট পড়ে এসেছে।
চুল গুলো ও সুন্দর ভাবে ঠিক করে এসেছে।
আজ ছেলেটার ভিতরের রুপ ফুটে উঠেছে।
একটি ছেলে এতো সুন্দর হয় কি করে তা
আসোলেই ভাববার বিষয়।
নুরুজী মুখে হাসি টেনে বলেন "কি ইমন কেমন
আছো?"
ইমন আজ প্রথমবারের মতো আলতো করে
একটি হাসি দিয়ে বলে "হ্যা ভালো আছি। আপনি? "
"আমি ভালো আছি। আসতে কোন সমস্যা হয় নি
তো?" ইমন কে জিজ্ঞেস করলেন নুরুজী।
"নাহ। সমস্যা হয় নি। আপনি আমাকে গাড়ি ছাড়া আসতে
বলেছেন আপনি কিভাবে জানলেন আমার গাড়ি
আছে? আর আমার স্বপ্নের সমাধান কি
হয়েছে?"
"মনে হয় হয়েছে। আমার কিছু প্রমান দরকার। তাই
তোমাকে ডাকা। আমি কিছু প্রশ্ন করবো।যতোটা
পারো সত্যি উত্তর দিবে।"
আচ্ছা অবশ্যই। বললো ইমন।
-আচ্ছা ইমন তোমার আব্বু আম্মু তোমার সাথে
কেমন ব্যাবহার করে?
-হ্যা ভালো। তারা কোন দিন আমার সাথে খারাপ
ব্যাবহার করেন না।
-গুড। আচ্ছা তুমি যে লোকটাকে দেখো তার
চেহারার হালকা বিবরন কি তুমি আমাকে দিতে পারবে?
-হ্যা অবশ্যই।
ইমন বর্ণনা দেয় লোকটার। নুরুজী ইমনের কথা
গুলো রেকর্ড করে রাখে। ইমন নুরুজী কে
জিজ্ঞেস করে এতে কি লাভ হবে?
নুরুজী একটা হাসি দিয়ে বলেন "সময় হলে
দেখতে পাবে। নাও জুস টা খেয়ে নাও। আর হ্যা
আমি তোমার বাসায় একটু যেতে চাই।নেয়ে
যাবে কি আমাকে?
ইমন অস্থিরতার একটা ভাব দেখিয়ে বললো হ্যা
অবশ্যই"
নুরুজী ইমনের বাসাটাটা দেখে এসেছে। তিনি
ভেবেছিলেন তিনি গেলে ইমনের বাবা মা ব্যাপারটা
সহজ ভাবে নিতে পারবে না। অথচ ইমনের বাবা মা
নুরুজী কে দেখে প্রচন্ড খুশি হয়েছে।
অনেক আপ্যায়ন করেছে। এমনকি তাদের প্রতিটা
রুম নুরুজী কে ঘুরিয়ে দেখেছে।যদি ইমনের
কোন কাজে আসে। তারাও মনে প্রানে চায় যে
ইমন সুস্থ হোক।
সব হিসেব প্যাচ লেগে যাচ্ছে। নুরুজী প্রথমে
ভেবেছিলো ফোনটা ইমনের বাবা করেছে।
কিন্তু তাকে দেখে তেমন মনে হলো না।
তাহলে ফোনটা কে করেছে। ভাবতে ভাবতে
নুরুজীর মোবাইলে সে নাম্বার থেকে ফোন
আসে।
নুরুজী ফোনটা রিসিভভ করে না চেনার একটি
ভঙ্গী করে জিজ্ঞেস করলেন কে?
অপর পাশ থেকে উত্তর আসলো "অনেক বড়
ডাক্তার হয়ে গেছেন তাই না। দেখি কিভাবে কি
করেন। তবে আপনার পস্তাতে হবে। না
করেছিলাম কথা শুনেন নি। আজ ইমনের বাসায় গিয়ে
ভুলটা করছেন আপনি। অনেক পস্তাতে হবে।
নুরুজী কিছুই বলে না। একটা হাসি না। ওপারে
লোকটা ক্ষেপে গিয়ে কিছু খারাপ ভাষায় বকতে
থাকে। নুরুজী ফোনটা কেটে দিয়ে মোবাইলটা
বন্ধ করে দেয়। এই সব ফালতু ফোন কলের
পিছনে বসে থেকে লাভ নেই। তার এখন
অনেক কাজ। অনেক গুলো কাজ করতে হবে।
আর তিনি বুঝে গেছেন ফোনের অপর পাশের
লোকটা আহাম্মক ছাড়া আর কিছুই না। তিনি কিছু
করতে পারবে না হুমকি ধামকি ছাড়া।কারন যারা সত্যি কিছু
করার ক্ষমতা রাখে তারা ঠান্ডা মাথায় করে। বকা দিয়ে
মুখ খারাপ নয়।
নুরুজী আজ সকাল সকাল ই ব্যাস্ত হয়ে
পরেছেন। থানায় যেতে হবে। সকালে থানা
থেকে ফোন এসেছিলো। ফোনে থ্রেড
দেয়া আহাম্মক টাকে সহজেই গ্রেফতার করা
গেছে। নুরুজী সে লোকটার চেহারা একটু
দেখতে চান। কে এই লোক। হয়তো এই
লোকের ভিতর থেকেই বেরিয়ে আসবে
সকল রহস্যের হিসেব।
নুরুজী থানায় এসে যা দেখলেন তা দেখে তিনি
মোটামুটি একটা ধাক্কা খেয়ে ফেললেন। তিনি এই
দৃশ্য দেখার জন্য মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না।
একটি লোক থানার অসির পায়ে জড়িয়ে ধরে
বসে আছে। আর বাচ্চাদের মতো কান্না করছে।
আর ২জন হাবিলদার লোকটার পায়ে ধরে টানা হিচড়া
করছেন। কিন্তু যতো জোরে টান দিচ্ছেন
লোকটা অসির পা ততো জোড়ে চেপে ধরে
রাখছে। ভাবটা এমন অসি সাহেবের পায়ের ইঞ্জুরি
না ঘটিয়ে তিনি পা ছাড়বেন না। অসির নাম খুব সম্ভবত
মিঃ হারুন।
হারুন সাহেব চিৎকার করে বলছেন "পা ছাড় ব্যাটা।
আমাদের হাতে কিছু নেই। নুরুল সাহেব আসলে
সব হবে। এ কথা বলায় লোকটার কান্নার বেগ
বেড়ে যায়। এতোটাই বেড়ে যায় যে নাক দিয়ে
সর্দি বেরুতে থাকে। কিন্তু সেদিকে লোকটার
খেয়াল ই নেই। হারুন সাহেব এই দৃশ্য দেখা মাত্রই
বলা শুরু করেন "ছি ছি ইয়াক। এই ব্যাটা পা ছাড়লি নাকি
সেলের ভিতরে নিয়ে পেঁদানি দিবো?
নুরুজী হালকা একটি কাশি দিয়ে নিজের উপস্থিতি
জানান দিলেন।
হারুন সাহেব নুরুজীর দিকে তাকিয়ে বললেন
ওইতো নুরুজী এসেছেন। এটা বলার সাথে
সাথে যা ঘটলো তার জন্য নুরুজী মোটেও
প্রস্তুত ছিলেন না। লোকটা হারুন সাহেবের পা
ছেড়ে,হাত দিয়ে নিজের নাক পরিষ্কার করতে
করতে দৌড়ে এসে হুমড়ি খেয়ে পড়লেন
নুরুজীর পায়ে। বলা শুরু করলেন "স্যার আমারে
ছাইড়া দেন। আমি কিছু জানিনা। আমারে বড়সাব
আপনারে ফোন দিতে কইছে আমি ফোন দিছি।
স্যার আমারে ছাইড়া দেন। আমি গরীব মানুষ।"
লোকটা বাচ্চাদের মতো কাঁদছে। দেখেই বুঝা
যাচ্ছে লোকটা আসোলেই সরল। একটু বেশি ই
সরল।
নুরুজী বললেন "আগে পা ছাড়ো। তোমাকে
ছেড়ে দেয়া হবে। কিন্তু তোমাকে সত্যি সত্যি
সব বলতে হবে।
লোকটার কান্নার বেগ এইবার একটু কমে। তিনি
মনে হয় নুরুজীর কথায় আস্বস্থ্য হয়েছেন।
তিনি নুরুজীর পা টা ছেড়ে দিয়ে উঠে দাড়ান।
বাচ্চাদের মতো হাত দিয়ে চোখের পানি নাকের
পানি মুছতে মুছতে পুরো মুখ মাখামাখি করে
ফেলেন। একদিম বিচ্ছিরি অবস্থা হয়ে যায়।
নুরুজী তার পকেট থেকে একটি টিশ্যু বের
করে লোকটাকে দেন ঠিক মতো পরিষ্কার করার
জন্য।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now