বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

স্বদেশ

"ফ্যান্টাসি" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান হৃদয় (০ পয়েন্ট)

X লেখক:কাল্পনিক হৃদয়[MH2] ১৭ ফেব্রুয়ারি,১৭৯৬ আজ এক লোককে ধরে আনা হয়েছে। অভিযোগ বেশ গুরুতর। ধারণা এবং কিছু প্রমাণ এটা বলছে যে লোকটা স্বদেশ নামক সংগঠনের লোক। এই সংগঠন আমাদের ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে কথা বলছে, লোকদের আমাদের বিরূদ্ধে যেতে উদ্ধুব্দ করেছে, আমাদের বিরুদ্ধে যুুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইংরেজ সরকারের এবং আমাদের ফোর্সের সেনাপতির হুকুম ছিল আমার উপর, যাতে যেকোনো মূল্যে স্বদেশ দলের লোককে ধরা হয়,সম্ভবত তাদের শাস্তি হবে মৃত্যুদন্ড। গত এক সপ্তাহ চেষ্টার পর সফল হয়েছি, বাঙ্গালি এক লোক টাকার বিনিময়ে আমাকে সাহায্য করতে রাজি হয়েছিল। তখনই এই লোককে একটা হ্যান্ড গান হাতে গ্রেফতার করা হয়। এদেশের লোক টাকার জন্য সব করতে পারে,আমি নিশ্চিত। ২০ এ ফেব্রুয়ারি,১৭৯৬ আজ লোকটার জবানবন্দির জন্য তার সেলে গেলাম। এই কয়দিন প্রচুর টর্চার করা হয়েছে,তবুও কিছু স্বীকার করে নি।আজ আমি প্রচুর মারলাম, ওকে অনেক টর্চার করলাম। তবুও লোকটা তার দলের লোকদের নাম স্বীকার করতে রাজি হলো না। মানতে হবে যথেস্ট শক্তিশালী আর ধৈর্যবান লোক ও। ওহ্, আরেকটা কথা, লোকটার নাম খালিদ শেখ। আজ সেলে পরিচয় নেওয়ার সময় জেনেছি, আপন বলতে দুনিয়ায় ওর কেউ নেই। তাই হয়তো দেশের জন্য জান দিতে পিছপা হচ্ছে না। ২৭ ফেব্রুয়ারি,১৭৯৬ এই সাতদিন খালিদকে অনেকভাবে টর্চার করা হয়েছে।মানষিক, শারীরিক, সব অত্যাচার করা হলো। লোকটার একটাই কথা, বারবার বলে,"দেশপ্রেম কী??? তোমরা ইংরেজরা বুঝবে না। আমাদের দেশ হতে কুত্তার মতো ভাগতে হবে তোমাদের।আর আল্লাহর নামে ওয়াদা করেছি,মুসলিমরা ওয়াদার দাম বুঝে, তোমরা নাসাররা বুঝবে না। মরে গেলেও বলব না কখনও"। আমিও ছাড়বার পাত্র নই, মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে এসেছি। তবুও টলবার পাত্র নয় লোকটা। ২৮ ফেব্রুয়ারি,১৭৯৬ আজ প্রচুর অর্থের লোভ দেখিয়েছি খালিদকে।টাকার লোভে পা দেয় নি ও।আমি ভাবতাম বাঙ্গালিরা টাকার জন্য নিজ ভাইকে মারতেও কুন্ঠিত হয় না।কিন্তু ওকে দেখে বুঝলাম সব বাঙ্গালি গাদ্দার নয়। ৫ মার্চ,১৭৯৬ এই কয়দিনে লোকটাকে সকল প্রকার অত্যাচার করেছি।খালিদের বাবা মা বোন বউ কেউ নেই।থাকলে না হয় কোনো একটা ব্যাবস্থা করা যেত। বয়সও বেশি নয় খালিদের, ২৫/২৬ হবে হয়তো। তাই মনের জোর এতো বেশি। আজ সকালে ইংরেজ উপর কর্তাদের রাগী বার্তা এসেছে আমার উপর,কেন আমি কথা বের করতে পারছি না এজন্যে। তাই আজ কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আজ ওই ব্যাবস্থা করতে হবে।তাই সেলে গেলাম, হাতে একটা কাচি নিয়ে গিয়েছি। আমার সাথে আমার সহকারী অফিসার স্মিথ আছে। প্রতি দিনের মতো জিজ্ঞেস করার পরও যখন ও বলল না,তখন আমার হাতের কাচি দিয়ে ওর কনিষ্ঠ আঙ্গুল কাটলাম। ছটফট করছে ও আমার সামনে, তবে আমি ঘাবড়ালাম না, কারণ এসব আমার কাছে কোনো ব্যাপার না।লোকটা তবুও বলল না। এবার আরেকটা আঙ্গুল কাটলাম। তবুও স্বীকার করে না। এভাবে বাম হাতের সব কয়টা আঙ্গুল কাটলাম। আঙ্গুলগুলো নিচে পড়ে গিয়ে নড়ছে আপনাআপনি। তবুও স্বীকার করল না ও। আরও কিছু করার আগেই রহমত অজ্ঞান হয়ে গেল। বুঝছি না একটা মাত্র ওয়াদার জন্য এমনভাবে নিজেকে বিলীন করার কোনো মানে হয়??? ১২ মার্চ,১৭৯৬ এই সাতদিনে খালিদ সুস্থ হয়েছে কিছুটা।আজ আরেকভাবে চেষ্টা করা হবে, তা হলো ঘুমের মাঝে সম্মোহিত করে কথা আদায় করা।কারণ স্বদেশ গ্রুপের লোকেদের দাপট বাড়ছে আরও, লোকদের উদ্ধুব্দ করছে ওরা।ভয় দেখিয়েও থামানো যাচ্চ না। ওদের যতো শীঘ্রই সম্ভব থামাতে হবে। ডাক্তার রিচার্ডকে নিয়ে সম্মোহনের পরীক্ষা করা হলো প্রচুর, মুসলিম বলে খালিদ মদও খায় না।সম্মোহনে কথা আদায়ে বারবার ব্যার্থ হওয়ার পর ডাক্তার রিচার্ড বলল লোকটার মানসিক শক্তি নাকি প্রচুর।তাই কাজ হচ্ছে না। ঘুম হতে জাগার পর লোকটা হেসে বলল," ইমান আর দেশপ্রেম মনে কতো শক্তি আনে তা তোমরা বুঝবে না"।বলে হাসতেই লাগল। আমি রাগের মাথায় ওর দিকে বন্দুক তাক করেছিলাম। স্মিথ আমায় থামাল,কারণ সরকারি বন্দি, খুন করে ফেললে পরে আমিই ফেসে যাব। ১৩ মার্চ,১৭৯৬ কামাল আমায় তার সেলে যেতে বলেছে, ভাবলাম হয়তো এতোদিনে সুবুদ্ধি হয়েছে, সব বলে দিবে।কিন্তু না, আমায় বলল, "সাহেব, একটা কাগজ আর কলম দিবেন???" আমি কারণ জিজ্ঞেস করায় হেসে বলল," আমি তো মুখ খুলব না,আমার হয়তো ফাসি হবে।আবার বলা যায় না কখন আমার ডানহাতও কেটে ফেলেন,তাই সময়মতো আমার জীবণী লিখে যাব।আপনারা যখন পালাবেন তখন লোকেরা আমার সম্পর্কে জানতে পারবে।" অনুরোধটা রাখলাম। কাগজ আর কলম পাঠিয়ে দিলাম। ১৫ মার্চ,১৭৯৬ আদালতে আজ ওকে হাজির করতে হলো। সামরিক আদালতে সিদ্ধান্ত হলো যেহেতু এই লোক কিছু স্বীকার করবে না,তাহলে এর মৃত্যুদণ্ড কার্য়কর করা হোক।১৮ তারিখ ওর ফাসি হবে।মৃত্যুর আগের শেষ ইচ্ছা জানতে চাইলে ও বলল, বাইরের মুক্ত পরিবেশটা একটু দেখতে চায়।কড়া পাহাড়ার সাথে তার ইচ্ছা পূরণ করা হয়েছে। ১৮ মার্চ,১৭৯৬ রাত বারোটায় আমার চোখের সামনে খালিদকে ফাসি দেওয়া হলো।মৃত্যুর আগেও হাসি বন্ধ করে নি ও।ওর হাসি আমার রক্তে আগুণ ধরিয়ে দিচ্ছিল। দড়িতে ঝুলে তড়পাতে তড়পাতে মারা গেল ও। ১৯ মার্চ,১৭৯৬ আজ খুব ইচ্ছা হলো খালিদের শেষ লেখাটা পড়ার।তাই কাগজটা নিলাম। খুব বেশি কিছু লিখে নি, নিজের পরিচয় দিয়ে একটা ঘটনার কথা লিখেছে।কৌতুহল হলো, তাই পড়তে শুরু করলাম: "সাল ১৭৮০ তে যখন আমি ছোট,তখন আমাদের বাড়িতে ইংরেজ সেনা আসে। ওরা এসে আমাদের বাড়ি লুটপাট শুরু করে দেয়।বাবা বাধা দিতে গেলে তাকে একজন ইংরেজ সেনা লাঠিপেটা করে।তারপরও যখন বাবা থামে নি,আমার বাবাকে ওরা গুলি করে মেরে ফেলে।মা তখন বাবার লাশের দিকে অগ্রসর হলে মাকেও গুলি করে মেরে ফেলে ওরা আমার চোখের সামনে। রহিম চাচা আমায় লুকিয়ে রাখছিল,লুকিয়ে সব দেখেছি।সেদিন শপথ নিয়েছিলাম হয় নিজে মরব নয়তো এদের মারব। কয়েকজনের প্রতি বদলা নিয়েছি। তারপর বন্দি হওয়ার পর আমায় আমার সঙ্গীদের নাম বলতে বলা হলো।আমি তা কখনও করব না,কারণ যার কিছু থাকে না তার কোনোকিছু হারানোর ভয়ও থাকে না।তাই শহীদ হতে সমস্যা নেই আমার।" আমি সেনা অফিসার এবং শক্ত মনের মানুষ হলেও চোখ দিয়ে দু ফোঁটা জল চলে আসল। ২৬ মার্চ,১৭৯৬ এই এক সপ্তাহ তীব্র মানষিক কষ্টে ভোগেছি। কিছুতেই শান্তি পাচ্ছি না। বারবার খালিদের কথাগুলো এবং আমার করা অপরাধ মনে পরছে। আমি ভাবতাম,আমি ইংরেজ এবং সেনা অফিসার,আমার মন পাথরের মতো শক্ত।কিন্তু আর নিজেকে সামলাতে পারছি না।আমার মনে হচ্চে আমিই ভুল।আমি শান্তিতে বাঁচতে পারছি না। আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছি,আমার মৃত্যুর জন্য আমিই দায়ী।অন্তত একজন দোষীর মৃত্যু হলেও তা সকলের জন্য ভালো হবে। [কেমন লাগল গল্পটা??? শিখাকে ধন্যবাদ।তার "আত্মহত্যা" গল্পের ধরণটা ব্যাবহার করলাম। আর আমার গল্পে কোনো ভুল নজরে এলে বলবেন] বি.দ্র.: যথেস্ট সময় এবং শ্রম কাজে লাগিয়ে গল্প লিখি,তাই দয়া করে কপি করবেন না। আল বিদা,,,


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৯৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ স্বদেশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now