বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
প্রতিদিন টিউশানি থেকে ফিরতে একটু দেরি হয়ে
যায়। বিশেষ করে নতুন আরেকটা টিউশনি নেওয়ার
পর থেকে কোন ভাবেই সাড়ে দশটার আগে
বাসায় ফেরা হয় না। তবে আজকে একটু বেশিই
দেরি হয়ে গেল। যখন হাউজিং এ পৌছালাম তখন সাড়ে
এগারোটা পার হয়ে গেছে। হাউজিং এলাকা
ততক্ষণে ঠান্ডা হয়ে গেছে। মানুষজন নেই
বললেই চলে। প্রায় সব দোকানপাট বন্ধ হয়ে
গেছে। আমি দ্রুত হোটেলের দিকে পা বাড়ালাম।
আজকে আর হোটেলে বসে খাওয়ার উপায়
নেই। খাবার বাসায় নিয়ে যেতে হবে।
খাবার হাতে নিয়ে যখন বাসার পথ ধরেছি তখনই
বিড়ালটাকে দেখতে পেলাম। সামনের দুই পা দিয়ে
কোন মতে এগিয়ে চলছে। নিশ্চয়ই কেউ শক্ত
কিছু দিয়ে বিড়ালটার মেরুদণ্ডে শক্ত করে আঘাত
করেছে। ফলে সেটা ভেঙ্গে গেছে। আমার
বিড়াল এমনিতেই খুব পছন্দ। এই অবস্থা দেখে খুব
মায়া লাগলো।
কেমনে কাজটা করলো?
দেখলাম বিড়ালটা হাটা বন্ধ করে দিয়েই নেতিয়ে
পড়লো। কেমন করুন স্বরে ডাকতে শুরু
করলো। আমার এখানে কিছুই করার নেই। আশে
পাশে কোন পশু চিকিৎসালয় আছে কি না আমার জানা
নেই। তবুও বিড়ালকে ওখানে অভাবে ফেলে
আসতে পারলাম না। পায়ে পায়ে এগিয়ে গেলাম।
বসে আস্তে আস্তে আদর করতে লাগলাম। মনে
হল বিড়ালটা আর বেশি সময় বাঁচবে না। আহারে! অবুঝ
প্রানীটাকে কে এমন ভাবে মারলো! তখনই
মনে হল বিড়ালটার নিশ্চয়ই কিছু খাওয়া হয় নি। এই
শরীর নিয়ে কিছু যে খুজে খাবে সেটারও উপায়
নেই। খানিকট ইতস্তত করলেও নিজের জন্য কিনে
আনা ভাত আর মাংশ প্যাকেট থেকে খুলে বিড়ালটার
সামনে রাখলাম। কিছুটা সময় আমার চোখের দিকে
এক ভাবে তাকিয়ে রইলো বিড়ালটা। তারপর খেতে
শুরু করলো।
তখনই আমার খেয়াল হল বেশ খানিকটা সময় পার হয়ে
গেছে। রাস্তাঘাট একেবারেই নির্জন। মানুষজন
নেই বললেই চলে। তবে একজনকে দেখতে
পেলাম আমার থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে।
আমার দিকেই তাকিয়ে আছে। মেয়েটির পরনে
ধবধবে সাদা সেলোয়ার, সাদা ওড়না আর সাদা লেগিংস
পরা পরা। আমার দিকে মেয়ে এগিয়ে এসে বলল
-আপনি নিজের খাবারটা বিড়ালকে দিয়ে দিলেন?
রাতে কি খাবেন?
বুঝলাম মেয়েটা নিশ্চয়ই আশে পাশেই কোথাও
থাকে। প্যাকেট খুলে বিড়ালটাকে খাবার দিতে
দেখেছে। আমি বললাম
-সমস্যা নেই। আরেকবার কিনে আনা যাবে। এই
অবুঝ প্রাণীটাকে কেউ মেরেছে। খুবই খারাপ
কাজ হয়েছে।
মেয়েটা কঠিন গলায় বলল
-মানুষরা আর পারে কি! এদের মত নিষ্ঠুর কি আর
কেউ আছে?
আমি বললাম
-সবাই কি নিষ্ঠুর?
মেয়েটা একটু যেন নরম হল। তারপর বলল
-না, সবাই এক না। আমি জানি।
তারপর মেয়েটি আমার আরও একটু কাছে এগিয়ে
এল। মেয়েটি কাছে আসতেই এক চমৎকার
পারফিউমের গন্ধ পেলাম। মেয়েটি বলল
-আপনি বরং আপনার খাবার নিয়ে আসুন আরেকবার।
নয়তো হোটেল বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
আমার তখনই মনে হল মেয়েটা আসলে ঠিকই
বলছে। আজকে যদি আবার গিয়ে খাবার না পাই
তাহলে হয়তো রাতটা আমাকে না খেয়েই থাকতে
হবে। বিড়ালের দিকে তাকিয়ে দেখি ও ততক্ষণে
চেটে পুটে সব খেয়ে ফেলেছে। যাক মারা
যাওয়ার আগে বিড়ালটা অন্তত শান্তিমত কিছুটা খেতে
পারলো। আমার মনটা ভাল হয়ে গেল।
আমি মেয়েটার কাছ থেকে বিদায় নেওয়ার সময়
তাকিয়ে দেখি মেয়েটা বিড়ালটার দিকে একভাবেই
তাকিয়ে আছে। চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়বে
এখনই। মেয়েটাও নিশ্চয়ই বিড়াল পছন্দ করে খুব।
এই জন্যই মেয়েটার খারাপ লাগছে। আমি আর কিছু না
বলে আবারও হোটেলের দিকে রওনা দিলাম। বার
কয়েক কিয়েক পিছনের দিকে তাকিয়েও দেখি
মেয়েটা সেই একই ভাবে তাকিয়ে আছে। একটুও
নড়ে নি।
হোটেলের কাছে পৌছে দেখলাম হোটেল
বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। দ্রুত পৌছেও লাভ হল না। ওরা
বলল যে কিচ্ছু আর অবশিষ্ট নেই। এই
হোটেলটাই সব থেকে বেশি সময় ধরে খোলা
থাকতো। এটা বন্ধ মানে অন্য সব গুলাই বন্ধ হয়ে
গেছে। কেবল এই হোটেলই না, আসে পাশে
কোন দোকান আর অবশিষ্ট নেই। সব বন্ধ হয়ে
গেছে। ফিরতি পথ ধরলাম। বাসায় বিস্কুট আর পাউরুটি
আছে। আজকের রাত পার হয়ে যাবে। খুব একটা
সমস্যা হবে না।
একই রাস্তা দিয়ে ফেরার সময় মেয়েটাকে আর
দেখতে পেলাম না। অবশ্য সেই আশাও আমি করি
নি। নিশ্চয়ই বাড়ির ভেতরে ঢুকে পরেছে। কিন্তু
সেই বিড়ালটাকেও দেখতে পেলাম না। সেটার
অবস্থা এতোই খারাপ ছিল যে একা একা চলার মত
অবস্থা তার ছিল না। তাহলে কি মেয়েটা সাথে করে
নিয়ে গেল ওটাকে?
যাক নিয়ে! আমার আর এতো চিন্তা করার দরকার
নেই। আমি বাসার দিকে হাটা দিলাম। তবে বিড়ালটার
শেষ সময়ে যে একটু পেট ভরে খাওয়াতে
পেরেছি এটা ভেবে নিজ মনেই শান্তি লাগছিল।
পরদিন দুপুরে খাওয়ার সময় বের হয়েই বুঝলাম
এলাকাতে কিছু একটা সমস্যা হয়েছে। চারিদিকে
কেমন একটা থমথমে ভাব বিরাজ করছে। রাস্তার
মোড়ে দেখলাম বেশ কয়েকজন পুলিশ দাঁড়িয়ে
আছে। একটা পুলিশের জিপও দেখতে পেলাম।
আমার অবশ্য এতো কিছু জানার আগ্রহ নেই। আমি
পাশ কাটিয়ে হোটেলে ঢুকে পড়লাম।
ঘটনা জানতে পারলাম কিছু সময় পড়েই। বেয়ারার
সাথে আবার আমার ভাল পরিচয়। প্রতিদিন বিল দেওয়ার
সাথে সাথে একটা আলাদা বকশিস তার পকেটে দিয়ে
যাই। খাবার দিতে দিতে সেই সব খুলে বলল।
আমাদের এলাকাতে একটা মার্ডার হয়েছে। যে মারা
গেছে সে হচ্ছে কমিশনারের লোক। অবশ্য
আমি আগেই ধারণা করেছিলাম যে এমন কিছুই হবে।
কমিশনার আর সাবেক কমিশনারের লোকেদের
মাঝে প্রায়ই মারামারি বাঁধে। ডুই চারটা মার্ডার হওয়া নতুন
কিছু না। আগেও হয়েছে। তবে চমকপ্রদ ব্যাপার
হচ্ছে এই মার্ডারটা হয়েছে অস্বাভাবিক ভাবে।
যাকে মেরে ফেলা হয়েছে তাকে প্রচণ্ড
ভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। শরীরের প্রতিটি হাড়
নাকি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। এবং তাকে একটা
কারেন্টের থামের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
আমি সব শুনে একটু অবাকই হলাম। এতোটা
আক্রোশ নিয়ে মানুষ মানুষকে হত্যা করতে
পারে!
তবে এটা নিয়ে আর বেশি কিছু ভাবার নেই। জীবন
যেমন কারো জন্য থেমে থাকে না, এই ঘটনার
জন্যও থেমে থাকবে না। বিকেলের মধ্যেই
এলাকার সেই গুমট ভাবটা কেটে গেল। টিউশানি তে
যাওয়ার সময়ই দেখলাম এলাকা আবার অন্যান্য দিনের
মত স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে।
রাতে প্রতি দিনের মত ফিরছিলাম খাবার নিয়ে। সেই
রাস্তার মাথায় আসতেই গতদিনের সেই
মেয়েটাকে দেখতে পেলাম। আমার কেন জানি
মনে হল মেয়েটা আমার জন্যই অপেক্ষা করছিল।
আমার দিকে তাকিয়ে হাসলো একটু। তারপর বলল
-কেমন আছেন?
আজকেও মেয়েটি সেই সাদা পোষাকই পরে
আছে। মেয়েটাকে দেখতে সত্তিই পরীর মত
মনে হচ্ছে। এতো স্নিগ্ধ আর মোলায়েম
চেহারা আমি এর আগে কোন মেয়ের মাঝে
দেখি নি। মেয়েটি শরীর থেকে সেই অচেনা
সুগন্ধ আসলে। আমি মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে রইলাম কিছুটা
সময়। তারপর বলল
-ভাল আছি। আপনি?
মেয়েটা এই প্রশ্নের জবাব দিল না। তবে আমার
দিকে একটা প্যাকেট বাড়িয়ে দিল।
আমি সেটার দিকে তাকিয়ে থেকে বললাম
-কি এটা?
মেয়েটা বলল
-আপনার জন্য।
-তা তো বুঝলাম আমার জন্য। কিন্তু কি?
মেয়েটা সেটার জবাব দিল না। কেবল হাসলো।
তখনই আমার বুকের ভেতরটা ধক করে উঠলো।
কোন মানুষ এতো চমৎকার ভাবে হাসতে পারে
আমার জানা ছিল না। আমি কেবল অবাক হয়ে
মেয়েটার দিকে তাকিয়েই রইলাম।
মেয়েটাও নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছে আমি তার
দিকে মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছি। খানিকটা
লজ্জামিশ্রিত কন্ঠে মেয়েটা বলল
-আজকে আমি আসি!
-আপনার নামটা এখনও বলেন নি আমাকে?
-আমার নাম? বলব এক সময়। সময় আসুক তবে এখন
না।
এই মেয়েটা আবার দৌড়ে চলে গেল সামনের
গলির দিকে । একবার ভাবলাম আমি নিজেও মেয়েটার
পিছু পিছু যাই তারপরই মনে হল কি দরকার ! প্যাকেট
খুলে দেখি সেখানে সন্দেশ জাতীয় মিষ্টি ।
একটু ভেঙ্গে নিয়ে মুখে নিতেই মনে হল এমন
স্বাধের মিষ্টি আমি আমার জীবনে কোন দিন খাই
নি । বাসায় যেতে যেতে অর্ধেক মিষ্টি খেয়ে
শেষ করে ফেললাম ।
এরপর থেকে মেয়েটির সাথে আমার প্রায়ই
দেখা হতে লাগলো । একদিন দেখা হল
নিউমার্কেটে একদিন দেখা হল লাইব্রেরীতে
আবার একদিন দেখা হল পথে মাঝখানে । আর
টিউশনী থেকে ফেরার পথে তো দেখা হতই ।
লিজার সাথে মুভি দেখতে গিয়েছিলাম । লিজার স্বামী
অফিসের কাজে বাইরে গিয়েছে । আমাদের
আরেক বন্ধু লিপিও আটকে গেছে কাজে । তিন
জনের প্লান ছিল মুভি দেখার কিন্তু লিপি শেষ
পর্যন্ত লিপি না আসাতে আমি আর লিজাই হাজির হলাম মুভি
দেখতে । সেখানে গিয়ে মেয়েটার সাথে
দেখা হয়ে গেল । আমি স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে
গিয়ে যেতেই ধাক্কা খেলাম । কারন মেয়েটার
চোখের দৃষ্টি বলছে অন্য কথা । সেখানে আমি
আমার জন্য অভিমান দেখতে পেলাম ।
কেন ?
কিছু সময় লাগলো আমার সেটা বুঝতে । কিন্তু যখন
ডাকতে যাবো দেখি মেয়েটা দৌড়ে চলে গেল
। আমার কেন জানি খুব অস্বস্তি লাগলো ।
মেয়েটার নামও আমি জানি না যে ডাক দিবো ।
পুরো মুভির সময়টা ধরে আমার মন পড়ে রইলো
মেয়েটার কাছে । কি করবো বুঝতে পারছি । মুভি
শেষ করে বাসায় আসতে আসতে নয়টা বেজে
গেল । এসেই আমি সেই রাস্তা ধরে হাটাহাটি করতে
শুরু করলাম কিন্তু মেয়েটার দেখা নেই ।
কি করবো ঠিক বুঝতে পারছি না । বিকেল থেকে
একটু একটু মেঘ করেছিলো আকাশে । আমি
দাড়িয়ে থাকতে থাকতেই টিপটিপ বৃষ্টি শুরু হল ।
একবার মনে হল বাসায় চলে যাই তারপর মনে হল না
যাবো না । ভিজতে থাকি । যদি মেয়েটা না আসে
তাহলে এখানেই দাড়িয়ে থাকবো । এমন একটা
ভাবনার কোন কারন নেই তবে আমার কেন জানি
মনে হল মেয়েটা আসবেই । ঐদিনের পর
থেকে যতবার আমার মনে হয়েছে মেয়েটার
সাথে আজকে দেখা হবে ততবারই কোন না
কোন ভাবে মেয়েটার সাথে আমার দেখা
হয়েছে । তাহলে আজকে কেন হবে না !
কিন্তু কিছু সময় পড়ে তীব্র বৃষ্টি শুরু হল । আমি
তবুও দাড়িয়ে রইলাম । একবার রাস্তার এদিক আরেকবার
ওদিক হাটতে লাগলাম ।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now