বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
.
-বই কোথায় তোমার?
-মা পানিতে ফেলে দিয়েছে।
-কেনো!
-আমার কলম ছিলোনা বলে ছোট
ভাইয়ের কলম দিয়ে লিখছিলাম।ছোট ভাই
কান্না করে মায়ের কাছে বলে,মা রেগে
সব বই পানিতে ফেলে দেয়।
[পাশ থেকে একজন বললো ওর আসল মা
নেই স্যার]
-তোমার বাবা কি করে?
-ছোট্ট একটা মুদির দোকান আছে।
-আচ্ছা ছুটির পর লাইব্রেরির সামনে
এসো।
-জ্বি আচ্ছা স্যার।
.
সব ক্লাস শেষ করে লাইব্রেরির সামনে
স্যারের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলাম।
ভেতরে গিয়ে স্যারকে ডাক দেবার সাহস হলোনা।
কিছুক্ষণ বাদে স্যার বেড়িয়ে এলো।
আমায় দেখে ডাক দিতেই এগিয়ে গেলাম।
-তোমার নাম কি যেন।
- ছগির রায়হান ।
-ও আচ্ছা,আমার সাথে এসো।
স্যার সাথে করে নিয়ে গিয়ে নতুন বই
দিলো।
আর দোকান থেকে পড়ার জন্য কিছু গাইড কিনে দিলো।
নিজের কাছে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করলো।
ষষ্ট শ্রেণীর ছাত্রের কাছে নতুন বই গাইড
পাওয়ার অনুভূতি এর চেয়ে ভালো হয়না।
তবুও স্যারকে জিজ্ঞাসা করলাম "এগুলো কি আমার জন্য"।
স্যার শুধু একটা মুচকি হাসি দিলো।
.
বাসায় ফিরে বই গুলো খুশি মনে পড়তে
লাগলাম।
মা নতুন বই দেখে প্রশ্ন করলে,স্যারের
কথা বলি।
তারপর কি বললো সেগুলোতে কান না
দিয়ে বইয়ে মন বসালাম।
.
পরেরদিন স্কুলে গিয়ে যখন মাঠে দৌড়া-
দৌড়ি করছি তখন স্যার আবারো ডাক
দিলেন....
-ছগির।
-জ্বি স্যার।
-বিকেলবেলা কি করো?
-এমনি বসে থাকি।
-আচ্ছা,আজ বিকেলে বই নিয়ে আমার
বাসায় এসো।
-আচ্ছা স্যার।
.
তারপর থেকে শুরু হলো স্যারের কাছে
আলাদা ভাবে শিক্ষা অর্জন করা।
.
জন্মের সময় মা মারা যায়।
তারপর নানির কাছে বড় হই।
যখন চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ি তখন নানি ও
মারা যায়।
এরি মাঝে বাবা আর একটা বিয়ে করে
ফেলেন।
নানির কাছেই যা মায়ের আদর
পেয়েছি।
তারপর আদর কাকে বলে বুঝিনি।
সারাদিন দোকান করে ক্লান্ত শরীরে
যখন বাবা ঘরে ফিরে তখনো মা আমার
নামে বানিয়ে বলে বাবাকে আরো
ক্লান্ত করে দেয়।
দেয়ালের ওপার থেকে আমি শুনে দু-
ফোঁটা চোখের জল ঝরানো ছাড়া আর
কিছুই করার থাকেনা।
.
তখনি ভালো মানুষের রূপে দেখা দেন সত্তার স্যার।
আমার সব কথা স্যারের সাথে শেয়ার
করতাম।
স্যার শুনে শুধু বোঝাতো।
আর সবসময় একটাই কথা বলতেন "মা মা_ই
হয়,হোক সে সৎ মা।একটা সময় আসবে যখন
সে তোমায় আপন করে নিয়ে সন্তানের
ভালবাসা দিবে।"
.
স্যারের কোনো সন্তান ছিলোনা।
তাই স্যারে আমায় নিজের সন্তানের মতই
ভালবাসতেন।
দেখতে দেখতে অষ্টম শ্রেণীতে উঠে
গেলাম।
এরি মাঝে বাসা থেকে পড়া লেখা
ছাড়ার অনেক চাপ এসেছে।
তখন পাশে থেকেছেন শুধুই স্যার।
কিন্তু সৎ মায়ের সাজানো চক্রান্তে
বাবা এক সময় বাসা থেকে বের করে
দিতে বাধ্য হয়।
মনের মাঝে সব কষ্ট চাপা দিয়ে
রাস্তায়-রাস্তায় আশ্রয়ের খোঁজে ঘুরি।
ভাগ্রক্রমে আশ্রয়হীন হয়ে প্রথমদিন
ক্ষুধার্থ পেটে রাস্তায় কাটাতে হয়।
পরেরদিন যখন স্কুলে গেটের সামনে
অসহায়ের মতন দাঁড়িয়ে তখন সবেমাত্র
স্যার গেট দিয়ে ঢুকছেন।
আমায় দেখে আমার দিকে এগিয়ে এসে....
-এখানে দাঁড়িয়ে ক্যানো!
-আজ স্কুলে আসিনি স্যার।
-ক্যানো?
নিজের কান্নাকে চেপে রেখে স্যারকে
সব বলি।
স্যার গালে ঠাস করে একটা চর মেরে
তখনি তাঁর বাসায় নিয়ে যান।
আর সবাইকে বলে দেন এখন থেকে আমি এখানেই থাকবো।
.
কিছুদিন পর বাবা বাসায় ফিরিয়ে নিতে
এলেও স্যার বাবাকে বুঝিয়ে মানা করে
দেন।
নতুন পরিবারের ভালবাসা পেয়ে এক
অন্যরকম আমি গড়ে উঠি।
যখন ভালো একটা জব পেয়ে প্রথম
স্যালারিতে স্যারকে বলি স্যার
আপনাকে দেওয়ার মতন আমার কাছে
কিছুই নেই,তবুও আজ আপনায় কিছু
দিতে চাই,তখন স্যার বলেন "তোমার
বাবা-মায়ের কাছে ফিরে যাওয়াই হবে
আমার কাছে সবচেয়ে বড় গিফট।"
শুনে আমি তখন আর চোখের পানি
আটকাতে পারলাম না।
স্যার ও আমায় জড়িয়ে ধরে কান্না করে
ফেলেন।
স্যারের পরিবারের থেকে বিদায় নিয়ে
যখন বাসায় ফিরে আসছিলাম তখন
দেখেছি বুঝেছি শিখেছি "ভালবাসা
আসলে কি!"
.
অনেক গুলো বছর পার হয়ে যাবার পর বৃদ্ধ
বাবা আমায় দেখে অভিমানের শুরে শুধু
বলে ফিরে এলি ক্যানো!
দেয়ালের আড়ালে মায়ের চোখেও জলের দেখা পাই।
তবুও সব কিছু ভূলে মাকে কাছে ডেকে
স্যালারির প্রথম টাকাটা হাতে তুলে
দিই।
মায়ের কান্নার স্রত যেন আরো বেড়ে
যায়।
তখন মনে পড়ে যায় স্যারের সেই কথাটা।
.
এখন শুধু মনের মাঝে একটা প্রশ্নই খেলা করে....
স্যার কে কি সৃষ্টিকর্তা ফেরেশতা রুপে পাঠিয়েছেন নাকি তাঁর চেয়েও বেশী!
নাহ্..স্যার শুধুই আমার স্যার.
আমার সত্তার স্যার।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now