বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাজিদের হাতি

"ছোট গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Mahmud (০ পয়েন্ট)

X সাজিদের হাতি . . . হাতিটার চার পায়ে চারটা চাকা লাগানো। চাকা দিয়ে হাতিটা হাটে। হাতিটার রং হালকা কালো রঙের। মাথায় হলুদ রঙের ছোপ। . আম্মুর সাথে বাজারে বেড়াতে এসে ঠিক এই হাতিটাই পছন্দ হয় সাজিদের। সাজিদের বয়স আর কতটুকুই হবে। ওইটুকু ছেলে দোকানদারের কাছে দরদাম করে হাতিটা কিনে নেয়। হাতিটার গলায় একটা দড়ি বাধা । সাজিদ বাজার থেকে ওই দড়ি দিয়ে টানতে টানতে হাতিটাকে নিয়ে আসে। কি সুন্দর হাতিটা চাকাগুলো দিয়ে হাটছিল। দেখে খুব খুশি হচ্ছিল সাজিদ। সাজিদ হাতিটাকে সামনে থেকে টানে আর পিছন ফিরে ফিরে দেখে। যে হাতিটার চাকায় কিছু লাগল বাকি। . কিন্তু অর্ধেক রাস্তা অাসতে না অাসতেই সাজিদ পড়ল মহা ঝামেলায়। হাতিটা আর যাচ্ছে না। সাজিদ পিছন ফিরে দেখল হাতিটার চাকায় কিছু লেগেছে নাকি। কিন্তু হাতির চাকায় তো কিছুই লাগে নি। হাতিটা তো ঠিকই অাছে। তাহলে যাচ্ছে না কেন? সাজিদ হাতিটার দড়িটা নিয়ে জোরে টান দেয়। কিন্তু হাতিটা তো যাচ্ছেই না। . শেষে মহা বিরক্ত হয়ে সাজিদ হাতিটাকে বলে... - ওই হাতি যাস না কেন? তোর জন্য আমার অনেক সময় নষ্ট হলো। এবার চল। - আমি কেন যাব? তুমি আমাকে যখন কিনে নিয়েছিলে তখন কি লেখা ছিল নাকি যে আমাকে তোমার সাথে যেতে হবে। তুমি কিনে নিয়েছ বলে আমার কোনো স্বাধীনতা থাকবে না নাকি? আমি তোমার সাথে যাব না। ওই পিচ্চি আমার দড়িটা ছাড়। . সদিজ হাতিটার কথা শুনে চমকে উঠে। হাতিটা আবার জীবিত হল কবে। হাতি আবার কথা বলতে পারে নাকি। জীবিত হাতিও তো কথা বলতে পারে না। তাহলে... - ওই পিচ্চি কথা বলছ না কেন আমি তোমার সাথে যাব না। ছাড়, আমার দড়ি ছাড়। - আমাকে পিচ্চি বলিও না। আমার নাম সাজিদ। তুমি আমাকে ওই নামেই ডাকতে পার। তো তুমি কথা বল কিভাবে? - বা রে। তোমরা কথা বলতে পার। আর আমরা বুঝি পারব না। - ওহ। তা এখন চল তো আমার কিন্তু দেরি হয়ে যাচ্ছে। আম্মু আমাকে খুব বকবে। - আমি যাব না তোমার সাথে। তুমি যাও। - আমি তোমাকে কিনে নিয়েছি। আমি তোমার মালিক। তোমাকে আমার সাথে যেতেই হবে। - না। যাব না আমি। - চল বলছি। . হাতিটা কিছুক্ষন ভেবে বলল.. - হুমম। যেতে পারি তবে আমার তিনটা শর্ত আছে। - শর্ত। শর্ত মানে কি? - শর্ত মানে নিয়ম। এটাও জানো না বোকা। - ও আচ্ছা। তা বলো তোমার কি শর্ত। - আমার এক নম্বর শর্ত: তুমি আমার পিঠে চড়ে বেড়াতে পার। কিন্তু তুমি আমার খেলা দেখিয়ে লোকদের কাছে টাকা নিতে পারবে না। - আমি তোমার সাথে খেলা দেখাতে যাব কেন। আর আমি লোকদের কাছে টাকা নিব কেন? তোমার শর্তে আমি রাজি। - হুম। এবার আমার দ্বিতীয় শর্ত। তুমি আমাকে নিয়ে ফুটবল খেলতে পারবে না। খেলাও দেখাতে পারবে না। - আমি কি মেসি, নেইমার, রোনালদো নাকি যে তোমাকে নিয়ে ফুটবল খেলব। তোমার এই শর্তেও আমি রাজি। আর তোমার তৃতীয় শর্তটা তাড়াতাড়ি বল। - আমার তৃতীয় শর্ত। তুমি আমার পিঠে চড়তে পার। কিন্তু আর অন্য কোনো মানুষকে চড়াতে পারবে না। এমন কি তোমার সমবয়সী কাকেও না। - আচ্ছা ঠিক আছে। আমি রাজি। এবার তো চল। - আরে দাড়াও দাড়াও। আমার ৪র্থ ও ৫ম শর্ত আছে। - আমি তোমার সব শর্তেই রাজি। এবার তো চল। . তারপর সাজিদ তার কথাবলা হাতিটাকে বাসায় নিয়ে যায়। বাসায় গিয়ে সাজিদ তার আম্মুর কাছে খুব করে বকা খায়। সে তার হাতিটা তার আম্মুর সামনেই খেলে বেড়ায়। কিন্তু তার আম্মু কিন্তু জানে না যে এটা কথাবলা হাতি। . সাজিদ ওই হাতিটার সাথে সারাদিন খেলে বেড়ায়। ঘুমাবার সময় ঘাতিটাকে একসাথে নিয়ে ঘুমায়। খাওয়ার সময় হাতিটাকে খাইয়ে দেয়। কিন্তু তার আম্মু টেরও পায়নি যে হাতিটা কথা বলতে পারে। সাজিদ হাতিটার পিঠে চড়ে। কিন্তু কাউকে চড়তে দেয় না। একা একা সে হাতিটার সাথে খেলে। কাউকে খেলতে নেয় না। দুদিনের মধ্যে হাতিটার সাথে সাজিদের খুব ভাব জমে যায়। দুজন দুজনকে ছাড়া থাকতে পারে না। একটু হাতিটার থেকে আড়াল হলে সাজিদের মনে শান্তি থাকে না। . কিন্তু সাজিদের কপালে আর বেশি সুখ সইল না। একদিন রাতে এক চোর এসে হাতিটাকে চুরি করে নিয়ে গেল। সেদিন সকালে উঠে সাজিদ হাতিটাকে খুজে। কিন্তু পায় না। কোথায় যে রেখেছে কে জানে। আজ তো হাতিটা তার সাথে ঘুমায় নি। তাহলে কি হাতিটা বাসা থেকে চলে গেছে নাকি কেউ চুরি করে নিয়ে গেছে। সাজিদ হাতিটার জন্য খুব কাদে। তার আম্মু তাকে আর একটা হাতি কিনে দেয়। কিন্তু সাজিদ ওই হাতিটা ছাড়া অন্য হাতি নিবে না। তার কান্না আরো দিনে দিনে বেড়ে যায়। . এখন সাজিদ খেলা করে না। নিয়মিত খাবার খায় না। স্কুলে যায় না। ঠিকমতো ঘুমায় না। শুধু হাতিটার কথা ভাবে আর কাদে। . এভাবে একবছর চলে যায়। . এখন সাজিদ বড় হয়েছে। ক্লাস টু তে পড়ে। বুঝতে শিখেছে। সে হাতিটার কথা একপ্রকার প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। . হঠাত একদিন ঘাতিটা কোত্থেকে যেন সাজিদের শোবার ঘরে আসে। সাজিদ তখন পড়ছিল। সে হাতিটাকে দেখে চমকে উঠে। হাতিটাকে কাদতে কাদতে বল, কোথায় গেছিলিস রে হ্যাঁ, তুই জানিস আমি তোকে ছাড়া থাকতে পারি। কোথায় গেছিলিস। . সাজিদ হাতিটাকে কুকে জড়িয়ে ধরে কাদতে কাদতে বলে। হাতিটা বলে, আমাকে এক চোর চুরি করে নিয়ে গিয়েছিল। সে খুব দুষ্টু ছিল। আমার পিঠে চড়ে অন্য মানুষদের খেলা দেখাত। অন্য কাউকে চড়তে দিত। আমাকে নিয়ে ফুটবল খেলত। তাই আমি তোমার কাছে পালিয়ে এসেছি। . “আর কোথায় হারিয়ে যাবে না তো??” সাজিদ বলে। “না আর কোথাও যাব না। শুধু তোর কাছে থাকব।” হাতিটা বলে উঠে। ‌‌. . তারপর থেকে সাজিদ আবার আগের মতো খেলাধুলা করে স্কুল যায়। আর হাতিটাকে কখনো চোখের আড়াল করতে দেয় না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সাজিদের হাতি

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now