বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
১
গলগল করে মুখ থেকে গড়িয়ে রক্ত পরছে।
পেটের একাংশ চিরে ফেলা হয়েছে। সেখান
দিয়ে শরীরের ভেতরের কিছু অংশ ঝুলে
আছে। টপটপ করে রক্ত ঝরছে সেখান দিয়ে।
চেহারাটা অস্পষ্ট। তবুও চেহারায় সূক্ষ্ম একটা হাসি
দেখা যাচ্ছে। এই অবস্থায় কেউ হাসতে পারে
ব্যাপার টা ভাবলেই গায়ে কাটা দেয়। তবুও লোকটা
হাসছেন। যেখানে মৃত্যু অনিবার্য সেখানে
জীবনের শেষ হাসাটুকু হেসে নেওয়াই
বুদ্ধিমানের কাজ মনে করলেন লোকটা।
লোকটার দাত বের হয়ে গেছে। দাতের ফাকা
অংশ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। রক্তের রং লাল না
কালো বুঝা যাচ্ছে না । তবুও স্পষ্ট এগুলো
রক্ত।লোকটা হাসতে হাসতে তার হাত বাড়িয়ে
দেয়। হাতেও ছোপ ছোপ রক্ত লেগে
আছে।
২
নুরুজী আজ ছয় দিন পর তার চেম্বারে
বসেছে। চেম্বারে বসলেও তিনি আজ
রোগী দেখছেন না।তার এসিস্ট্যান্ট কে বলে
দিয়েছেন বিশেষ কারনে তিনি আজ রোগী
দেখবেন না। কেউ আসলে তার সিরিয়াল টা
রেখে বাসায় পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে। কাল
যথারীতি সিরিয়াল মেন্টেন করে রোগী দেখা
হবে।
নুরুজী রোগী দেখছেন না। কিন্তু অবসর সময়
যে কাটাচ্ছেন তেমন ও না। তিনি "স্বপ্নের
ব্যাখ্যা" নামক একটি বই নিয়ে বসেছেন। তিনি
এইসব বইয়ে বিশ্বাস করেন তা নয়। তারপরেও তিনি
বই টা দেখছেন। তিনি বই টা যোগাড় করেছেন
তার বাসার দারোয়ান খলিলের কাছ থেকে। সেটাই
নেড়েচেড়ে দেখছেন তিনি।বেশ কিছুদিন
ধরেই তিনি একটি স্বপ্ন বারবার দেখছেন। স্বপ্নটা
অনেকটা এমন "নুরুজী ও আর একটা লোক
গাছে উঠছেন। তারা গাছে উঠার প্রতিযোগিতা
লেগেছেন লোকটা নুরুজীর আগে গাছে
উঠে যাচ্ছেন। নুরুজী কোন ভাবেই
লোকটাকে ধরতে পারছেন না। নুরুজী অনেক
চেষ্টা করেও লোকটার আগে যেতে
পারলেন না। লোকটা নুরুজীর আগে গাছের
একদম উপরে উঠে গেছেন। নুরুজী তার
পিছনে পিছনে উঠেছেন। লোকটা ঘুরে
নুরুজীর দিকে তাকালেন। নুরুজী অবাক হয়ে
দেখলেন লোকটা তো তিনি ই। আর তখন
নিজেকে লোকটার ছায়া মনে হতে থাকে
নুরুজীর। লোকটা নুরুজীর দিকে তাকিয়ে
নুরুজী কে একটা ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন "
নুরুজী আর নিচে পরতে পারে না। তার আগেই
তার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
নুরুজী বইটা খুঁজতে খুঁজতে "নিজেকে
স্বপ্নে দেখা" অধ্যায়ে একটা জায়গায় পেলেন
" যদি স্বপ্নে কেউ দেখে যে পাহাড়ের চূড়া
অথবা গাছের উপর থেকে অথবা কোন কিছুর
উপর থেকে নিজেকে নিজে ফেলে দিচ্ছে
তাহলে তার সামনে অনেক বড় বিপদ। এবং সে
বিপদের কারন হবে সে নিজেই। যতোই সাবধান
থাকে কোন লাভ নেই। বিপদে তাকে পরতেই
হবে। বিপদ অনিবার্য।
নুরুজী ব্যাখ্যাটা পড়ে হাসতে থাকেন। তিনি এইসব
বইয়ে বিশ্বাস করেন না।ফুটপাথের ১০টাকার বইয়ে
যদি আসোলেই স্বপ্নের ব্যাখ্যা পাওয়া যেতো
তাহলে হয়তো স্বপ্নের ব্যাখ্যা নিয়ে অনেক
গরীব কোটিপতি হয়ে যেতো। কিন্তু অশ্চার্য্য
ব্যাপার হলো এই সব বইয়ে গরীব রাই বেশি
বিশ্বাস করে। তারা ভাবে যদি এই বইয়ের বাহানায়
তাদের ভাগ্য ফিরে যায়।
নুরুজী তার স্বপ্নের ব্যাখ্যা এতো তারাতারি
পেয়ে যাবে ভাবেন নি। এখন আর তার সময়
কাটছে না। তিনি ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখেন মাত্র
সন্ধ্যা ৭টা বাজে। ৯টা পর্যন্ত তার চেম্বারে থাকার
কথা। তিনি তার এসিস্ট্যান্ট কে ডেকে বলে
দিলেন কেউ আসলে পাঠিয়ে দিতে।তিনি আজ
সিরিয়াল ছাড়াই রোগী দেখবেন।
৩
যে ছেলেটা নুরুজীর সামনে বসে আছে
ছেলেটার চুল গুলো এলোমেলো হয়ে
আছে। চোখের নিচে কালো দাগের স্তর
পরেছে। ছেলেটাকে দেখলে যে কেউ
বলে দিতে পারবে ছেলেটা প্রচন্ড রকমের
অস্থিরতায় ভুগছে। যার কারনে সে বাড়ি থেকে
বের হবার সময় ও চুল গুলো ঠিক করার
প্রয়োজন মনে করেনি।ছেলেটা যে রাতে
ঘুমাতে পারে না তা তার চোখের নিচের কালো
দাগ ই স্পষ্ট বলে দিচ্ছে।
নুরুজীর হাতে ছেলেটাকে নিয়ে যেসব তথ্য
আছে সে সব তথ্য অনুযায়ী ছেলেটার নাম ইমন
হবার কথা। তারপরেও নুরুজী মুখে একটি হাসি
টেনে ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলেন
তোমার নাম কি?
ছেলেটি সহজ ভাবেই উত্তর দিলো "ইমন"
নুরুজী পরিবেশ হালকা করার জন্য মুখের হাসিটা
ধরে রেখে বললেন তা ইমন কেমন আছো
তুমি?
-জ্বী ভালো।
নুরুজী বললেন "ভালো যে নেই তা বুঝতেই
পারছি তোমাকে দেখে।তুমি যে শার্টের একটা
বোতাম উল্টো লাগিয়েছো তাও লক্ষ্য করো
নি।
ইমন অবাক হয়ে নিচে তাকিয়ে দেখে ঠিকি সে
একটি বোতাম অন্যটার জায়গায় লাগিয়ে রেখেছে।
ইমন হটাত করেই অপ্রস্তুত হয়ে যায়।বোতাম টা
ঠিক করার চেষ্টা করতে থাকে।
নুরুজী ইমন কে সময় দেয়। তিনি বুঝতে
পারছেন ইমন কঠিন সময় পার করছে।
ইমনের বোতাম লাগানো হয়ে গেলে নুরুজী
শান্তভাবে ইমনকে জিজ্ঞেস করেন "তা ইমন কি
সমস্যা তোমার? "
ইমন স্থির ভাবে উত্তর দেয় " স্বপ্ন"
নুরুজী অবাক হয়ে যান কিছুটা। কারন এই স্বপ্ন
নিয়ে তিনিও কিছু ঝামেলায় আছেন। নুরুজী তার
অবাক হবার ভঙ্গী টা গোপন করে বলেন
"স্বপ্ন আবার কিভাবে সমস্যা করতে পারে? "
-আমি জানিনা তবে আমার সব সমস্যা একটি স্বপ্ন।
নুরুজী জিজ্ঞেস করেন ইমন কে "কি স্বপ্ন
দেখো তুমি?
ইমন ঘামতে শুরু করেছে। ইমন বলার চেষ্টা
করছে কিন্তু বলতে পারছে না।
নুরুজী ইমন কে অভয় দিয়ে বলেন "ইমন তুমি
বলে ফেলো কোন ভয় পেও না। অস্থির হবার
দরকার নেই। তোমার সময় নাও। আস্তে আস্তে
বলো।
রীতিমতো ইমনের হাত-পা কাপা শুরু করেছে।
ইমন এক গ্লাস পানি একেবারেই খেয়ে ফেলে।
কোন ভাবেই শান্ত হতে পারছে না সে।
নুরুজী ইমনে অবস্থা বুঝতে পারেন তিনি বলেন
"আচ্ছা ইমন তোমার বলা লাগবে না। বলতে কষ্ট
হলে বাদ দাও। তুমি বাসায় চলে যাও।
ইমন অস্থির হয়ে বলে উঠে না না আমার বলতে
হবেই। আমি এই সমস্যা থেকে মুক্তি চাই। অনেক
দিন থেকে যুদ্ধ করতে করতে আমি ক্লান্ত
হয়ে পরেছি।
নুরুজী বললেন "তাহলে এক কাজ করো তুমি
বাসায় চলে যাও তোমার কথা গুলো রেকর্ড
করে নিয়ে আসো। অথবা লিখে নিয়ে আসো।
ইমন বললো "আমি এখানেই লিখে দেই। আজ
লিখে দিয়ে যাই। আমি ২-৩দিন পর আবার আসবো।
সেদিন আপনি বলবেন এর সমাধান কি। আপনার
এখানে কি খাতা কলম হবে?
হ্যা অবশ্যই। বললেন নুরুজী। তিনি খাতা কলম
ইমনের দিকে বাড়িয়ে দিলেন।সাথে বললেন
নিচে তোমার বাসার ঠিকানা আর মোবাইল নাম্বারটা
লিখে দিয়ো।আমি দুরে সরে গেলাম। তুমি
আস্তে আস্তে লিখো।
নুরুজী দুর থেকে ইমন কে দেখছেম
ছেলেটা এখন অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
লিখে যাচ্ছে নিজের মতো করে। ছেলেটা
অসম্ভব সুন্দর একটি ছেলে। চেহারার অস্থিরতার
কারনে ছেলেটার সৌন্দর্য বোঝা যাচ্ছে না।
ছেলেটা কোন সমস্যায় না থাকলে তাকে
রাজকুমার অথবা প্রিন্স বললেও খুব বেশি অপরাধ
হতো না।কারন ছেলেটার চেহারায় সৌন্দর্যের
সাথে সাথে মায়া ও রয়েছে অসম্ভব। এই দুইটা
জিনিস খুব কম মানুষের চেহারাতেই থাকে।
ছেলেটার নাম্বার অথবা বাসার ঠিকানা নুরুজীর
প্রয়োজন নেই। তবুও তিনি চেয়েছেন। কেন
চেয়েছেন জানেন না। শুধু মনে হলো নাম্বার টা
লাগবে।সাথে বাসার ঠিকানা টাও।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now