বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
অবন্তীকে নিজের ফ্লাটে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আবির। আর একটু পরেই অজানা সুখের অনুভূতি লাভ করতে যাচ্ছে সে। ভাবতেই যেন তার ভিতর দিয়ে কেমন এক শীতল স্রোত বয়ে যায়। অবন্তীও রাজি হয়ে গিয়েছে খুব সহজেই। সেও সাজছে মনপ্রাণ উজাড় করে। সাদা শাড়িতে তাকে যেন একটা সাদা পরির মতো লাগছে।
ও এদের পরিচয়ই দেওয়া হয়নি। আবির আর অবন্তীর সম্পর্ক প্রায় তিন মাস। আবির খুব ভালো একজন গিটারিস্ট, যার কারণে অবন্তী সহজেই ইমপ্রেস হয়ে যায়। তাছাড়া আবিরের কথাবার্তাও হৃদয় ছুঁয়ে যেতে সক্ষম। আবির তাকে নিজের ফ্লাটে যেতে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। প্রথমে দু’এক বার আপত্তি করলেও পরে রাজি হয়ে যায়।
--চলে এসেছ?
-হুম।
--এতো দেরী করলে যে?
-কি করবো বলো? ঢাকা শহরে জ্যাম কেমন তাতো জানোই।
--আজ তোমাকে অনেক সুন্দর লাগছে। একদম সাদা পরির মতো।
-দুষ্টামি করোনা তো!
--দুষ্টামির কি দেখলে। আজ অনেক দুষ্টামি করবো তোমার সাথে।
-(এক লজ্জা মিশ্রিত হাসি দেয় অবন্তী)
--এখানেই অপেক্ষা করো, আমি আসছি।
একটু পরেই সে কয়েক হাত দঁড়ি নিয়ে ফিরে আসে। অবন্তী অবাক হয়ে জানতে চায় এগুলো কেন। আবির শুধু বলে যে সবকিছুতেই নতুনত্ব তৈরি করতে হয়। অবন্তীকে খাটে শুইয়ে দেয় আবির।এরপর দঁড়ি দিয়ে হাত পা খাটের সাথে বেঁধে ফেলে। অবন্তীও মজা পাচ্ছিলো খুব। হয়তো এটা কোনো নিউ স্টাইল। আবির অবন্তীর মুখের দিকে তাকিয়ে এক রহস্যময় হাসি দিয়ে নিজের কাজ শেষ করে। এবার অবন্তীর মুখে আঙ্গুলের এক পরশ একেঁ দেয় আবির। প্রচন্ড উত্তেজনায় অবন্তী চোখ বন্ধ করে ফেলে।
এটারই অপেক্ষা করছিলো আবির। দ্রুত পকেট থেকে ব্লেডটি বের করে এবার। অবন্তী এখনো চোখ বন্ধ করেই আছে। ব্লেডটি দিয়ে এবার সে অবন্তীর মুখের উপর আলতো করে একটা টান দেয়। চিৎকার করে ওঠে অবন্তী। রক্ত বেরুচ্ছে,তার সাদা মুখ রক্তে লাল হয়ে যাচ্ছে। তার চিৎকারে কর্ণপাত না করে মুখের অপর পাশে আবারো ব্লেডের আচড় দেয় আবির। অবন্তী চিৎকার মেরে বলছে -কি করছো আবির?যন্ত্রণা হচ্ছে খুব আমার। তার কথায় কর্ণপাত করছে না আবির। অবন্তী মেয়েটার চোখ বেয়ে পানি পড়তে শুরু করেছে। প্রচন্ড যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে। "উহু,এই চোখ দুটো তো খুব জ্বালাতন করছে।"-আবির মুখ খোলে এবার। ধারালো ব্লেড দিয়ে চোখের পাতা দুটি কেটে ফেলে সে। অবন্তীর চোখ রক্তে ঢেকে গিয়েছে। চোখের পানি আর রক্ত গড়িয়ে পড়ছে একই সাথে। একবার ভাবুন তো চোখের পাতা ছাড়া মানুষ,কেমন দেখাবে?
"রক্তবর্ণের চোখ,এতোদিন শুধু ফিল্মে দেখেছি। আজ সামনাসামনিই দেখতে পাচ্ছি। ওহ, কত্ত কিউট লাগছে তোমায় "-আবির বলতে থাকে অবন্তীকে। এদিকে অবন্তী যন্ত্রণায় হাত পা ছুড়তে থাকে। চেষ্টা করতে থাকে হাত পায়ের বাঁধন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য।
--হাত-পা এভাবে ছোটাছুটি করছো কেন জানু? খুব শক্ত করেই বেঁধেছি, ছুটতে পারবেনা।
-প্লিজ আবির, ছেড়ে দাও আমাকে। কি দোস করেছি আমি? আমায় মেরে ফেলতে চাচ্ছো কেন?
--কোনো দোস করোনি সোনা। আমার নেশা এটা,রক্তের নেশা।
-আমায় মেরোনা আবির,ছেড়ে দাও প্লিজ। কথা দিচ্ছি আমি দূরে কোথাও চলে যাবো। তোমার ব্যাপারে কাউকে কিছু বলবোনা। প্লিজ যেতে দাও।
--এতো সহজে তো যেতে দেবোনা তোমায়। বললাম না আজ অনেক দুষ্টামি করবো। আহারে, হাত-পা গুলো যে খুব জ্বালাতন করছে। দাঁড়াও এখনি ব্যবস্থা করছি।
একটু পর সে একটা প্লাস নিয়ে হাজির হয়। হাত পা এর নখ গুলো তুলে ফেলতে থাকে এক এক করে। অবন্তী চিৎকার করেই চলেছে। কিন্তু আবির তার চিৎকারে কর্ণপাত করছেনা মোটেই। এরপর শরীরে একের পর এক ছুরির আঘাতে তার সাদা শাড়িটিকে রক্তে লাল করে ফেলে। অবন্তীর কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসছে। একপাশে মাথা হেলিয়ে চুপ হয়ে যায় সে।
"এতো দ্রুত মরে গেলি কু**। আর একটু সহ্য করতে পারলি না?বড়লোকের মেয়ে,একটুতেই নেতিয়ে পড়িস।"-বলেই গলা বরাবার শেষবারের মতো ছুরির আঘাত করে আবির। অবন্তীর দেহ থেকে প্রাণ বের হয়ে যায়। আবিরের তৃতীয় শিকার এটা। মানুষের বিড়ি,সিগারেট,এলকোহল,মাদক বা মেয়ের নেশা থাকে। আবিরের নেশাটা রক্তের। রক্তাক্ত বেদনাময় কাতরানো মানুষ দেখে না জানি সে কি আনন্দ পায়।
যাই হোক লাশটাকে গুম করতে হবে। আর তার জন্য অবশ্য ভালো পদ্ধতিও করে রেখেছে সে। বাড়ির পিছনে পুকুরে থাই মাগুরের চাষ করছে। সেখানেই তার শিকার গুলোকে টুকরো টুকরো করে মাছের খাদ্য বানায়। খুনের কি অভিনব কৌশল,তাইনা? কেউ জানতেই পারবেনা।
——————————
অবন্তীকে হত্যার প্রায় এক মাস পরে আবারো প্রেমে পড়ে সে,অধরার। তবে তাকে খুন করতে আবিরের মন সায় দিচ্ছিলো না। কেমন যেন মায়াবী চেহারা,যে কেউই প্রেমে পড়তে বাধ্য।
--উইল ইউ ম্যারি মি,অধরা?
-(আবিরের এমন প্রশ্নে সে অবাক হয়ে যায়। তবে রাজি হতেও খুব বেশি সময় নেয়নি সে)
বিবাহিত জীবন ভালোই চলছে তাদের। একটা মেয়েও হয়েছে তাদের। এরপর এতোগুলো বছর আবির আর কোনো খুন করেনি। সেই ফ্লাটটিও নির্জন অবস্থায় পড়ে আছে। আবির কি মনে করে একদিন সেই ফ্লাট টিতে যায়। যে ফ্লাটের সবখানেই রক্ত ছড়ানো ছিটানো থাকতো, আজ তা পরিত্যক্ত। মানুষ কখন কিভাবে বদলে যায় সে নিজেও জানে না। তার শেষ শিকার ছিলো অবন্তী। এরপর খাটের নিচ থেকে একটা ছোট বাক্স টেনে বের করে সে। অবন্তীর কাটা মাথা, অনেক কষ্ট দিয়ে মেরেছে তাকে। তবে মাথাটি এখন চেনা যাচ্ছেনা। ঘুরে ঘুরে সে সারা ঘর দেখতে থাকে। কতো বেদনাময় হৃদয় কাঁপানো স্মৃতি জড়িয়ে আছে ঘরটির সাথে।
--আবির...কেমন আছো?
-ককককে?
জীবনে প্রথম ভয়ের অস্তিত্ব পেল এই বাড়িটিতে।পাওয়ারই কথা কেননা বাড়িটিতে কেউই থাকেনা কয়েক বছর ধরেই। আবারো ডাকটি আবিরের দিকে তেড়ে আসছে বারবার। আবিরের মাথা ঘুরছে। আর থাকতে পারছেনা সে। দ্রুত বেরিয়ে নিজের বাসার দিকে রওনা হয় সে।
রাতের খাবার খেয়ে দ্রুত শুয়ে পড়ে সে। ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে কিন্তু তার চোখে ঘুম নেই। রাত ১ টা ১৫, অধরা ঘুমিয়ে আছে তার পাশেই। হঠাৎ আবির লক্ষ্য করে তার মেয়ের রুমে লাইট জ্বলছে। এতো রাতে কি করছে মেয়েটা? নিজেকে জিজ্ঞাসা করে সে। বিষয়টি জানার জন্য উঠে যায় আবির। দরজাটি ভিতর দিয়ে লক ছিলো না। আবির শুধু ধাক্কা মারতেই দরজা খুলে যায়। কোথায় তার মেয়ে? কেউই তো নেই রুমে,তাহলে সে গেল কোথায়?
তাকে ডাকতে যাবে এমন সময়ই পিছন থেকে মাথায় আঘাত। অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ে আবির। হুশ হলে দেখতে পায় তার হাত-পা বিছানার সাথে বাঁধা। চিৎকার মারতে থাকে সে। বারবার নিজের স্ত্রী মেয়েকে ডাকতে থাকে। কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ নেই। অন্ধকারে একটা ছায়া এগিয়ে আসছে তার দিকে। কাছে এলে বুঝতে পারে সেটা অধরা। কিন্তু অধরা?সে কেন তাকে মারতে যাবে? তাহলে সেদিনের প্রেতটা কি অধরার ভিতরে ভর করেছে?
--অধরা তুমি?
-অধরা না,অবন্তী আমি।
--(তার কথা শুনে হচকিয়ে উঠে আবির) ককককিন্তু তুমি তো....
-হ্যাঁ মরে গিয়েছিলাম আমি। তুমি বাঁচতে দাওনি আমায়।
--হাত-পা বেঁধেছ কেন আমার? ছেড়ে দাও।
-তোমার থেকেই তো শিখেছি। কথা দিচ্ছি ছেড়ে দেবো, আগে আমার দুষ্টামি টা পুরণ করি।
--অবন্তী প্লিজ...
একটা ধারালো ব্লেড বের করলো অবন্তী।।
অতঃপর শুরু হয় তার দুষ্টামি...
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now