বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সে অনেক কাল আগের কথা ,দূর হিমালয়ের
কোলে ছিল এক ছোট্ট গ্রাম । সেই গ্রামে
বাস করত সামদ্রুপ নামে এক অসীম সাহসী তরুন ।
সারা দিনমান চমরী গাই চড়াত আর রাতে চুলার পাশে
বসে বসে চাদর বুনত । গ্রামে সবাই তাকে
ভীষণ পছন্দ করত ।
একবার হয়েছি কি সামদ্রুপ এর দাদীর ভীষণ
অসুখ ,এখন কি করা । বদ্দি যে পথ্যি আনতে বলল
তা তো শহর ছাড়া পাওয়া যায় না আর শহরে যেতে
সময় লাগে দুই দিন এক রাত । সে যে দূরের
উপত্যাকায় শহর।
সামদ্রুপ এর গাঁয়ের সবাই প্রয়োজনে দল
বেধে শহরে যেত ,একা একা কেউ যেত না ।
কারন শহরে যাওয়ার পথে ছিল পদে পদে বিপদ ।
পাহাড়ি রাস্তা আর গিরি খাতের বাঁকে বাঁকে বন্য পশু
,ইয়েতি ছাড়াও ছিল ভূতের ভয় ।
কিন্তু সামদ্রুপ তার দাদীকে ভীষণ ভালবাসত তাই
সে ঝুকি নিয়েও তৈরি হল শহরে যেতে । খুব
সকাল সকাল সূর্য যখন পাহাড়ের বরফ ঢাকা চূড়া
গুলোকে সোনালি আভায় আলোকিত করতে
শুরু করেছে তখন ই সে রওয়ানা দিল শহরের
পথে । বাড়ির সবাই তাকে পই পই করে বলে দিল
সাবধানে থাকতে ।
সারাদিন হাঁটতে হাঁটতে ,ফুল পাখিদের সাথে কথা
বলতে বলতে আর নিজের মনে গুনগুন করে
গান গাইতে গাইতে সে এসে পৌঁছাল পাহাড়ের
ঢালে ,রাতটুকু হাতলে কাল দুপুর দুপুর পৌঁছে যাবে
শহরে । ওইদিকে সূর্য হঠাত করেই চলে গেল
পাহাড়ের আড়ালে ।
সাহসী সামদ্রুপ তারপরও হাঁটতে লাগলো তার
নিজের গন্তব্যের দিকে । মাঝরাতে চাঁদের
ঘোলা আলোয় পাহাড়ে পাইনের বনের ধারে
হঠাত তার দেখা হল এক ভূতের সাথে ।
কে রে তুই ? এত রাতে কোথায় যাচ্ছিস
খ্যানখ্যানে গলায় হেঁকে উঠল ভূত ।
হে হে আমায় চিনলে না ,আমি ওই দূর পাহাড়ের
কাছে যে পুরানো ঝং আছে সেই ঝং এর ভূত ।
মনে মনে ভয় পেলেও মুখে তা প্রকাশ করল
না সামদ্রুপ ।
ভূত তাকে বিশ্বাস করল ,আর উপস্থিত বুদ্ধির
জোরে আপাতত রক্ষা পেল সামদ্রুপ ।
ভূতের হাতে ছিল এক বিশাল বস্তা । ভূত
সামদ্রুপকে বস্তাটা কাঁধে নিয়ে হাঁটতে বলল ।
মনে মনে রাগ হলেও কিছুই করার নাই তাই সামদ্রুপ
ভূতের কথা মতই কাজ করল ।
আশ্চর্য ব্যাপার ,এত্ত বড় বস্তা অথচ বাতাসের মত
হালকা , নিজের মনেই বলল সামদ্রুপ ।
এরপর তারা একসাথে হাঁটতে শুরু করল । কিছুদূর
যাওয়ার পর ভূত বেশ খোশ মেজাজে গল্প শুরু
করল ।
ইয়ে এই বস্তাটা এত্ত বর কিন্তু এক্কেবারে হালকা
, মিনমিন করে বলল সামদ্রুপ ।
আরে বোকা হালকা তো হবেই ,ওর মাঝে
আছে শুধু রাজকন্যার আত্মা ,আমি চুরি করে নিয়ে
যাচ্ছি , খ্যানখ্যানিয়ে বলে উঠল ভূত ।
বলছ কি ? আঁতকে উঠে জিজ্ঞেস করল
সামদ্রুপ ।
হ্যাঁ রে ,আর এই জন্যই তো রাজকন্যা ভীষণ
অসুস্থ ,হাসিমুখে উত্তর দিল ভূত ।
ওমা তাহলে তো রাজকন্যা আর বাঁচবে না ,সভয়ে
আবারও বলল সামদ্রুপ ।
পৃথিবীর কোন বদ্যির সাধ্য নাই এই আত্মা ছাড়া
ওকে বাঁচানোর , সদম্ভে উত্তর দিল ভূত ।
হুম ,আস্তে করে বলল সামদ্রুপ । হঠাত করেই
দয়ালু সামদ্রুপ এর মনটা ভারী হয়ে উঠল রাজা আর
রাজকন্যার জন্য ।
সে করল কি সুযোগ বুঝে হুট করে পালিয়ে
গিয়ে লুকিয়ে পড়ল গম ক্ষেতে ।
এদিকে ভূত তো রেগে অস্থির ,কিন্তু
বেশীক্ষণ খোঁজাখুঁজির সুযোগ পেল না ।
কারন দিনার আলো ফুটতে শুরু করেছে ।
আলো এসে ভুতের গাঁয়ে পড়ার সাথে সাথেই
সে হাওয়ায় মিলিয়ে গেল ।
কালবিলম্ব না করে সামদ্রুপ দৌড় দিল রাজার প্রাসাদে ।
আত্মা ফিরে পেয়ে মরণাপন্ন রাজকন্যা ধীরে
ধীরে চোখ মেলে তাকাল । চারপাশে বয়ে
গেল খুশির বন্যা ।
রাজা সামদ্রুপ এর কাছে সব শুনে পথ্যি যোগাড়
করে পাইক পেয়াদা দিয়ে তা পাঠিয়ে দিল সামদ্রুপ
এর গাঁয়ে ।
আর রাজকন্যার বিয়ে দিয়ে দিল সাহসী ,দয়ালু আর
বুদ্ধিমান সামদ্রুপ এর সাথে । সামদ্রুপ পরবর্তীতে
সে রাজ্যের রাজা হয়ে সুখে দিন কাটাতে লাগল ।
সাহস ,দয়া উপস্থিত ,বুদ্ধি আর ভাগ্য সহায় থাকলে সব
সম্ভব এই পৃথিবীতে ।
আর তাইত সেই রাজ্যের নাম হয়ে গেল সামদ্রুপ
ঝংখা । যা আজও ভুটানের এক শহর হিসাবে আছে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now