বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাহসী নারী

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান muntasir al mehedi (০ পয়েন্ট)

X এক সাহসী নারীর গল্প" . -- নিধি তুই তো জানিস না পুরুষ জেদ করলে হয় বাদশাহ্ আর নারী জেদ করলে হয় বেশ্যা । তুই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গিয়ে বেশ্যা ছাড়া আর কিছুই হতে পারবি না . নিধি জানে বড় চাচির এই কথাটি ভুল, আর ভুল না হলেও কথাটি ভুল প্রমাণ করার জন্য সহসীকতার সাথে ঘর থেকে আজ বেড়িয়ে গেছে নিধি । যদিও নিজের ঘর নয় । এতোদিন চাচাদের কাছে লালিত পালিত হয়েছিল । চাচারা সামান্য আদর করলেও চাচিরা তাকে দেখতে পারতো না । চাচাদের এই সামান্য আদরের জোড়েই ইন্টার পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিল নিধি । কিন্তু চাচিদের কু পরামর্শে টাকার লোভে বিবাহিত এবং মধ্য বয়সী লোকের সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছিল । যে লোকের কিনা বিবাহ যোগ্য ছেলে মেয়ে আছে, সেই লোক কে বিয়ে করার আগে মৃত্যুই যে অধিক শ্রেয় নিধির । কিন্তু না বিয়ে বা মৃত্যু কোনটাকেই সে বেঁছে নেয়নি, সে বেড়িয়ে গেছে ঘর থেকে কিন্তু ঘর থেকে বেড়িয়ে সে বুঝতে পেরেছে আসলে দুনিয়াটা এতো সহজ নয় । ছেলেদের জন্য যে কোন জায়গায় রাত্রি যাপন করা যতটা সহজ মেয়েদের জন্য ততটাই কঠিন । . প্রথমে কলেজ বান্ধবীর বাসায় গিয়েছিল ।নিধি বলেছি তিন চারদিন তাদের বাসায় থাকবে তারপর একটি হোস্টেল ঠিক করে নিবে কিন্তু বাস্তবতা বড়ই কঠিন, তার বান্ধবী উটকো ঝামেলা মাথায় পেতে নেয়নি । কলেজে যতই ঘনিষ্ঠতা দেখাক কিন্তু বিপদে বন্ধুত্বের পরিচয় এটাই আজ প্রমাণ হলো । আরেকজন আছে নাম সজিব, তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না । তার বাসাটা অবশ্য সে চিনে না কিন্তু বন্ধুর বাসায় গিয়ে কি থাকা যায় ? সজিব হয়তো কিছু একটা ব্যবস্থা করে দিতে পারত . সন্ধ্যা হয়ে আসছে এখন সে কি করবে কিছুই ভেবে পাচ্ছে না । তার কাছে সামান্য টাকা আছে কিন্তু হোটেলে তো একা তার পক্ষে থাকা নিরাপদ নয় । ফোনটা আবার হাতে তুলে নিয়েছে নিধি । আবার ফোন দেয় সজিব কে । হ্যাঁ এবার রিং হচ্ছে । . -- কে, নিধি কি খবর -- শয়তান কুত্তা এতক্ষণ ফোন ধরিসনি কেন । -- আরে দূর বলিস না ফোনে চার্জ ছিল না মাত্র বাসায় আসলাম । -- আমি তো বিশাল বিপদে পরে গেছি । তুই তো জানিস চাচা আমার বিয়ে ঠিক করেছে এক বুড়ো লোকের সাথে । তারা নাকি আজ দেখতে আসবে । পছন্দ হলে নাকি আজই বিয়ে তাই বাড়ি থেকে বেড়িয়ে এসেছি । নুসরাতদের বাসায় গিয়েছিলাম একটু আশ্রয়ের জন্য । ভেবেছিলাম তিন চারদিন থেকে হোস্টেল ঠিক করে নিব কিন্তু নুসরাত ধানাই পানাই করলো । আমি ওদের ওখানে থাকলে নাকি ওদের খুব সমস্যা হবে তাই চলে এসেছি । তোকে অনেক ক্ষণ যাবত পাচ্ছিলাম না । এখন একটু সাহায্য করতে পারবি । প্লিজ একটু দেখা কর না আমি খুব বিপদের ভেতর আছি । .. -- আচ্ছা ঠিক আছে, তুই এখন কোথায় আছিস । -- আমি এখন মালিবাগ মসজিদের পাশে দাঁড়িয়ে আছি । -- আচ্ছা তুই কোন চিন্তা করিস না আমি আসছি । দেখি কোন ব্যবস্থা করতে পারি কিনা । . সজিব এখন নিধির জন্য কি করবে ঠিক ভেবে পাচ্ছে না । সে না হয় তার সাথে দেখা করলো তারপর ? আচ্ছা মাকে বললে কি মা রাজি হবে ? রোজির সাথে না হয় দুই তিনদিন থাকলো । . মাগরিবের নামাজ শেষ করে সজিবের মা মাত্র খেটের উপর বসেছে । . -- মা আসতে পারি ? -- মায়ের রুমে আসতর আবার অনুমতি লাগেরে পাগল, ভেতরে আয় । -- মা আমার এক বান্ধবী খুব বিপদে পড়েছে । জান মা মেয়েটার না মা বাবা কেউ নেই । চাচাদের কাছে বড় হয়েছে । কিন্তু চাচারা এক বৃদ্ধ লোকের সাথে তার বিয়ে ঠিক করেছে । -- বলিস কি !! -- হ্যা মা, তবে কি আর বলি । মেয়েটা আজ বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেছে কথাও আশ্রয় খুঁজে পাচ্ছে না । আমাকে বলছিল দুই তিন দিনের জন্য একটা থাকার ব্যবস্থা কর দিতে তারপর হোস্টেল ঠিক করে নিবে । মা ওকে নিয়ে আসি । রোজির সাথে না হয় দুই তিনদিন থাকলো । -- কিন্তু ওর চাচারা কোন ভেজাল করবে নাতো । -- আরে ওর চাচারা জানলে তো নিধি এখানে আছে । আচ্ছা নিয়ে আয় তবে সবাইকে বলবি মেয়েটা আমাদের আত্মীয় । আসার পর আমি ওকে সব কিছু বুঝিয়ে দিব । .... কয়েকটা লোক নিধির দিকে কেমন করে যেন তাকাচ্ছিল । হারামজাদা সজিব কেন আসছে না । . -- এই যে ম্যাডাম রেট কত ? . পেছন ফিরে তাকাতেই নিধি দেখে একটা বিদঘুটে লোক তার দিকে তাকিয়ে আছে । নিধির মনে চাচ্ছিল গাল বারবার একটা চড় মেরে পান খাওয়া দাঁত সব গুলো ফেলে দিতে । তবে নিধি মারার বদলে চোখ বড় বড় করে তাকালো আর এতেই লোকটা যা বুঝার বুঝে গেল । . -- সরি দোস্ত আসতে অনেক দেরি হয়ে গেল । -- বান্দর এতক্ষণ লাগলো তোর । -- আরে অনেক দূর তো আমাদের বাসা এখান থেকে । -- আর এদিকে আমাকে কিছু লোক অফার দিচ্ছিল । -- কিসের অফার । -- কিছু না বাদ দে, তো আমার থাকার ব্যবস্থা কি করলি । -- থাকার ব্যবস্থা করে ফেলেছি । আমাদের বাড়িতেই থাকবি -- কি !! -- হ্যা, মা কে সমস্ত ঘটনা খুলে বলেছি, মা রাজি হয়েছে তুই আমার বোন রোজির সাথে না হয় কিছুদিন থাকলি, তবে মা বলেছে কেউ জিজ্ঞেস করলে তুই আমাদের আত্মীয় এই পরিচয় দিতে বাদ বাকি মা বুঝিয়ে দেবে । . না তারপর আর নিধি কে পেছনে তাকাতে হয়নি সামান্য একটু আশ্রয় নিধির জীবনকে ঘুরিয়ে দিয়েছে । যদিও তিন চারদিনের কথা বলে বন্ধু সজিব তাকে বাসায় উঠিয়ে ছিল কিন্তু তার মা তাকে এক মাসের আগে ছাড়েনি । সজিবের বাবার সাথেও নিধির ভালো সম্পর্ক হয়ে গিয়েছিলো সেই তো চাকরিটা নিয়ে দিল । শুক্রবার সহ সপ্তাহে তিন দিন অফিস । তাকে শুধু পেন্ডিং কাজ গুলো করে দিয়ে আসতে হয় । বাদ বাকি চার দিন কলেজ । আর মাত্র তো কয়দিন পরেই পরীক্ষা তারপর স্বাধীন জীবন । কিন্তু স্বাধীনতা চাইলেই কি স্বাধীনতা পাওয়া যায় । তার চাচারা তাকে বাসায় নেওয়ার চেষ্টা করেছে কিন্তু সে যায়নি । ঐ নরকে কখনোই সে ফিরে যাবে না । . পরীক্ষা শেষ হয়ে গেছে এখন সে চাকরিতে পার্মানেন্টলি জয়েন করেছ । নিজের কর্ম দক্ষতা আর নিষ্ঠায় উপরে উঠতে বেশি সময় লাগেনি । না তাকে বেশ্যা হতে হয়নি নিজের চরিত্র ঠিক রেখে সে এগিয়ে গেছে নিজের পথে । চাচা চাচিদের দেখিয়ে দিয়েছে , দেখ তোমাদের নিধি আর অবলা নেই, মান সম্মান বাঁচিয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়েছে । তোমরা যাকে বুড়ো লোকের সাথে বিয়ে দিতে চেয়েছিলে তার পেছনে আজ ডজন খানেক ছেলে ঘুরে, তার একটাই কারন, আজ আমি প্রতিষ্ঠিত । প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য যৌবন বিলিয়ে দেওয়া লাগে না । যেটা লাগে সেটা হলো ইচ্ছা, সাহস এবং অদম্য শক্তি । যেটা আমার ছিল এবং থাকবে । . ও আপনাদের তো বলা হয়নি সজিবের মা আমাকে পুত্র বধু হিসেবে চায় কিন্তু ক্লাস ফ্রেন্ড কে বিয়ে করতে কেমন যেন লাগে তারপরও আমি ভেবে দেখছি যদিও বা সজিব ছেলে হিসেবে অনেক ভালো । কিন্তু শয়তানটায় আমাকে পেয়ে বাদর হয়ে যাবে নাতো । .


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১১৪ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সাহসী নারী
→ সাহসী নারী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now