বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Sadia♥Siyam

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Tawsif Ishrak Labib(guest) (০ পয়েন্ট)

X মেয়েটার নাম সাদিয়া। ধার্মিক মেয়ে, মাথা থেকে পা পর্যন্ত তার কোন অংশই দেখা যায় না। এমন কি চোখ দুটোও না, চোখের উপরে পাতলা কালো পর্দা থাকে। সবেমাত্র এসএসসি পাশ করে এইচএসসি তে ভর্তি হয়েছে। কিন্তু তার পোশাক দেখে তা বোঝার উপায় নেই। কলেজ অাইডি কার্ডে রক্তের গ্রুপ দিতে হবে তাই সে তার ছোট ভাইকে সাথে করে বনানীর একটি ল্যাবে এসেছে রক্তের গ্রুপ জানতে। দিনটি ছিল শুক্রবার, সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় ল্যাব এ লোক সংখ্যা কম ছিল। সাদিয়া রিসেপশন থেকে রিসিপ নিয়ে ল্যাব এর কালেকশন রুমে প্রবেশ করলো। এক মিনিট পর ল্যাব থেকে একটি ছেলে কালেকশন রুমে গেল। ছেলেটার নাম সিয়াম। ছেলেটিকে দেখামাত্রই সাদিয়া জিজ্ঞেস করলো ব্লাড কে নিবে? সিয়াম বলল সে নিবে।  সাদিয়া: ব্লাড নেয়ার জন্য এখানে কোন মেয়ে নেই? সিয়াম: আছে, কিন্তু আজ নেই। আজ সবার অফডে। আজ ল্যাবে আমি একা। সাদিয়া: কিন্তু আমি তো আপনার কাছে ব্লাড দিতে পারবো না। সিয়ামও বিষয়টা বুঝতে পারে আর বলে ঠিকাছে তাহলে আপনি বরং কাল আসুন।  সাদিয়া: আমার তো কাল রিপোর্ট জমা দেয়া লাগবে, আজ ই করা লাগবে। দুইজনই একপ্রকার টেনশন এ পরে যায়, তখন সাদিয়া বলে রিসেপশনে যে মেয়েটা আছে সে ব্লাড নিতে পারবে না? সিয়াম: সে তো কখনো ব্লাড নেই নাই, আচ্ছা দেখছি কি করা যায়। সিয়াম রিসেপশনে থাকা মেয়েটাকে ডেকে পাঠালো, মেয়েটার নাম রিয়া। রিয়া অাসলে সিয়াম তার কাছে জানতে চাইলো সে কি ব্লাড নিতে পারবে? রিয়া: না, আমি কখনো ব্লাড নিই নাই। রিয়ার কথা শুনে সাদিয়া হতাশ হল। তখন সিয়াম বলল সে যদি দেখিয়ে দেয় তাহলে কি পারবে? রিয়া: চেষ্টা করে দেখবো।  সিয়াম রিয়াকে কালেকশন চেয়ারে বসিয়ে দেখিয়ে দিল কিভাবে ব্লাড নিতে হয়। ওটা দেখার পর রিয়া বলল সে পারবে। কিন্তু সাদিয়া রিয়াকে ভরসা পাচ্ছে না, ভয় পাচ্ছে এবং ব্লাড দিতে চাচ্ছে না। বলছে তার ব্লাড নেয়ার আগে যদি অন্য কারো ব্লাড নিতো তাহলে ভাল হতো। কিন্তু এখন অন্য কাউকে পাবে কথাই, তাছাড়া এক রোগী নিয়ে তো আর সারাক্ষণ বসে থাকা যাবে না। এসব চিন্তা ভাবনা করে সিয়াম বলল ঠিকাছে আমার ব্লাড নিয়ে তারপর সাদিয়ার ব্লাড নিয়েন। এটা শুনে সাদিয়া চুপ থাকলো আর রিয়া সিয়াম এর দিকে তাকিয়ে থাকলো।  সিয়াম: এভাবে তাকিয়ে না থেকে তাড়াতাড়ি নেন আমার অনেক কাজ আছে। সিয়াম কালেকশন চেয়ারে বসে পড়লো আর রিয়া ব্লাড নেয়া শুরু করলো, প্রথমবার মিস করলো এবং সিয়াম ব্যাথা পেলো। কিন্তু কিছুই করার নেই, আবার অন্য হাত দিয়ে বলল এটা থেকে নিতে। ২য় বার রিয়া ঠিকঠাক মতোই পারলো। সাদিয়া চুপচাপ দাড়িয়ে সব দেখছিল। সিয়াম সাদিয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল আপনি এখানে বসেন, আর ব্লাড নেয়ার সময় হাত নড়াবেন না।  সাদিয়া: ঠিকাছে, আপনি এখন রুম থেকে যান। সিয়াম চলে গেল, সাদিয়া চেয়ারে বসলো তারপর হাতের মোজা খুললো। মোজা খোলার সাথে সাথে রিয়া অবাক হয়ে সাদিয়ার হাতের দিকে তাকিয়ে থাকলো। এত সাদা আর সুন্দর হাত সে আগে কখনো দেখিনি। যাইহোক রিয়া চুপচাপ ব্লাড নিয়ে সাদিয়া কে বিদায় দিয়ে প্যাথলজি রুমে এসেই সিয়াম ভাই বলে জোরেশোরে চিৎকার দিয়ে বলল এটা আমি কি দেখলাম ভাই। সিয়াম কিছুটা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে?  রিয়া: এতো সুন্দর হাত আমি জীবনেও দেখিনি, একদম পরির মতো। রিয়ার কথা বলার ধরন দেখে সিয়াম মজা করে বলল আপনি পরি দেখেছেন তাহলে... রিয়া: না ভাই, তবে পরির হাত এতো সুন্দর হয় কিনা আমার সন্দেহ, যার হাত এতো সুন্দর না জানি সে কতো সুন্দর। সিয়াম: হয়েছে হয়েছে, আমার দুই হাত তো ব্যাথা করে দিয়েছেন এখন আপনি যান। রিয়া: আমার তো কোন দোষ নেই সব তো আপনার জন্য। সিয়াম: আচ্ছা ঠিকাছে এখন রিসেপশনে যান, আর এসব কথা যেন কেউ না জানে। রিয়া: ঠিকাছে ভাই কেউ জানবে না। এই বলে রিয়া চলে গেল। সিয়াম কোনকিছু না ভেবে তার কাজে মন দিল। পরের দিন সিয়াম অফিসে আসতেই সবাই মজা করা শুরু করে দিল। এটা যে রিয়ার কাজ সিয়ামের বুঝতে অসুবিধা হল না। সিয়াম রিয়ার দিকে তাকাতেই রিয়া হেসে হেসে কানে ধরে সরি বলল। কিন্তু তাতে কি সবার মজা করা তো আর বন্ধ হলো না। বিষয়টা নিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ মজা চলতে থাকলো। এরপর অনেকদিন কেটে গেলো, সিয়াম ভালো চাকরি পেয়ে তার নিজ শহর কুমিল্লা চলে গেলো। দেখতে দেখতে দুই বছর কেটে গেলো, সাদিয়ার এইচএসসি কমপ্লিট হয়ে গেছে। সাদিয়ার বিয়ের জন্য তার বাবা মা পাত্র দেখছে, বিষয়টা সাদিয়া কে জানানো হলে সে নিশ্চুপ থাকে এবং কিছু ভাবতে থাকে। তার ভাবনা ছিল ছেলেদের নিয়েই। ছেলেরা কেমন হয়, বর হিসাবে কেমন হবে, তার বাবার মত ভালো মানুষ হবে কি? সাদিয়ার কোন ছেলে বন্ধুও নেয় যে তার কাছে থেকে সে ছেলেদের সমর্পকে কিছু ধারনা নিবে। কয়েকদিন পর সাদিয়ার মা সাদিয়া কে বলল ছেলে পক্ষ তাকে দেখতে আসবে। এটা শুনে সাদিয়া বলল না দেখে কি কেউ তাকে বিয়ে করবে না? ছেলে পক্ষ কে এমন প্রস্তাব দিলে কোন ছেলে পক্ষই তাতে রাজি হয়না। তখন সাদিয়া ভাবতে থাকে ছেলেরা কি তাহলে রুপের সুন্দর্য খোজে, মনের সুন্দর্য কি কোন ছেলেই খোজে না? এসব ভাবতে ভাবতেই সাদিয়ার ২বছর আগের সেই ল্যাবের ঘটনা মনে পড়ে গেল যেখানে একটি ছেলে রুপ না দেখে তার মন ও ঈমান কে সম্মান জানিয়ে তার জন্য কষ্ট করেছিল এবং রক্ত ঝরিয়েছিল। সাদিয়া বিষয়টা তার মাকে বলল এব্ং ওই ছেলের সম্পর্কে খোঁজ নেওয়ার কথা বলল। সাদিয়ার মা ছেলের নাম জানতে চাইলে সাদিয়া বলতে পারে না। তাহলে খোঁজখবর কিভাবে নেবে? সাদিয়ার মা সবকিছু সাদিয়ার বাবাকে বুঝিয়ে বললে সাদিয়ার বাবা খোঁজখবর নিতে সেই ল্যাবে যায়। মেয়ের সুখের জন্য বাবাদের অনেক কিছুই করতে হয়। ওখানে গিয়ে রিসেপশনে থাকা রিয়ার কাছে ঘটনাটা বলতেই রিয়া বলল ওটা তো সিয়াম ভাইয়ের সাথে ঘটেছিল।  রিয়া: কিন্তু এতোদিন পর এটা নিয়ে অাবার কি হলো?  সাদিয়ার বাবা: তেমন কিছুনা মা, তুমি কি সিয়ামের সাথে আমাকে দেখা করিয়ে দিতে পারবা? রিয়া: সিয়াম ভাইতো এখানে আর থাকেনা। ভাই এক বছর আগে তার নিজ শহর কুমিল্লা চলে গেছে। সাদিয়ার বাবা: ও আচ্ছা তাহলে তুমি কি সিয়ামের ঠিকানা বা ফোন নম্বর দিতে পারবা? রিয়া: হুম ফোন নম্বর আছে, নিন... ০১৯.......... সাদিয়ার বাবা: ঠিকাছে মা, ধন্যবাদ। এই বলে সাদিয়ার বাবা চলে গেলেন। রিয়া কিছুই বুঝলো না তাই সে সিয়ামের কাছে ফোন করে সবটা বলল। কয়েকদিন পর সাদিয়ার বাবা কুমিল্লায় থাকা তার এক বন্ধুকে সিয়ামের ফোন নম্বর দেয় এবং সিয়াম ও তার পরিবার সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে বলে। খোঁজখবর নিয়ে দেখা গেলো সিয়াম মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, তার পরিবারের মানুষজন অনেক ভালো এবং তাদের যে পরিবেশ, তাও মোটামুটি ভাল। সিয়ামের পরিবারও সিয়ামের বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্রী দেখছে। সাদিয়ার বাবার বন্ধু সিয়ামের বাবাকে বলে ঢাকা থেকে তার এক বন্ধু বেড়াতে এসেছে, তার একটি মেয়ে আছে, আপনি যদি অনুমিত দেন তাহলে ওকে কাল আপনার বাড়ি নিয়ে আসি? সিয়ামের বাবার অনুমিত পেয়ে সাদিয়ার বাবার বন্ধু সাদিয়ার বাবার কাছে ফোন দিয়ে বলে তুই আজই আমার বাসায় চলে আয়, কাল সিয়ামের বাবা তাদের বাসায় যেতে বলেছে। বন্ধুর কথামত সাদিয়ার বাবা আর চাচা কুমিল্লা আসলো। পরেরদিন সিয়ামদের বাসায় গেলো, বাসার সবকিছুই তাদের পছন্দ হল এবং সাদিয়ার বাবা সিয়ামকে ২বছর আগের সেই ঘটনা বলল। ঘটনাটি শুনে সিয়াম ভাবতে থাকলো সামান্য সেই ঘটনা মেয়েটা আজও মনে রেখেছে। অতিথিরা সব চলে গেলে সিয়াম তার পরিবারের সবাইকে ডেকে ২বছর আগের ঘটনাটি বলে। আর বলে যে মেয়ে দেখার কোন দরকার নেই, তোমরা বিয়ের দিন ঠিক করে ওদের ফোন করে জানিয়ে দাও। তখন সিয়ামের মা সিয়ামকে বলে তুই কি মেয়েকে দেখেছিস? সিয়াম: না দেখিনি, তবে রিয়া বলেছিল সুন্দর। সিয়ামের মা: কেউ না দেখে কি বিয়ে করা ঠিক হবে? সিয়ামের বাবা: সিয়াম যখন বলছে তখন আর আমাদের কথা না বাড়ানোই ভালো। সিয়াম সাদিয়ার বিয়ে হয়ে গেল। বিয়ের দিনও সাদিয়া বোরখা পরা ছিল তাই কেউ তার চেহারা দেখতে পেল না। ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী কোনপ্রকার অনুষ্ঠান ছাড়ায় বিয়ে হয়, বরযাত্রী হিসাবে মাত্র ৫-৬ জন গিয়েছিল। ঢাকা থেকে কুমিল্লা আসতে অনেক রাত হয়ে গেল তাই সিয়াম সাদিয়াকে সরাসরি বাসরঘরে প্রবেশ করানো হল। সেখানেই তাদের রাতের খাবার দিয়ে দেওয়া হল। সাদিয়া সিয়ামকে উদ্দেশ্য করে বলল আপনি ফ্রেশ হয়ে অযু করে আসুন, আমরা একত্রে নামায পড়বো। সাদিয়ার কথামত তারা নামায শেষ করে সামনাসামনি বসে আছে। রুমের ভিতরে ড্রিম লাইট জ্বলছে, হালকা আলো, এমন সময় সাদিয়া তার মুখের পর্দা সরালো, সাথে সাথে ঘরের ভিতরটা যেন আরও আলোকিত হয়ে গেল। সিয়াম এক দৃষ্টিতে সাদিয়ার দিকে তাকিয়ে আছে। আর মনে মনে বলছে মাশআল্লাহ। এত সুন্দর মেয়ে সে কখনও দেখেনি। ভাবছে কোন ভালো কাজের ফল হিসাবে আল্লাহ সাদিয়াকে তার ঘরে পাঠিয়েছে। এমন সময় সাদিয়ার কথায় সিয়াম বাস্তবে ফেরে, তারপর তারা একত্রে রাতের খাবার খেয়ে গল্প করে রাত পার করে দিল। ফজরের আযান শুনে সিয়াম সাদিয়া একত্রে নামায আদায় করে। সকালে সাদিয়া ঘর থেকে বের হলে বাড়ির মেয়েরা সাদিয়াকে দেখে তার সুন্দর্যে হারিয়ে যেতে থাকলো। সাদিয়াকে দেখে সিয়ামের মা অনেক খুশি। দেখতে দেখতে অনেক দিন কেটে গেল, এখন সিয়ামের বাড়ির সবাই নামায পড়ে, পর্দা করে, ইসলামিক জীবনযাপন করে। ২বছর পর সাদিয়ার একটি সুন্দর মেয়ে হয়েছে। মেয়ে কে নিয়ে তারা অনেক সুখে দিন পার করছে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Sadia♥Siyam

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now