বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

♦সাধ্য♦

"শিক্ষণীয় গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান মফিজুল (০ পয়েন্ট)

X #সাধ্য #নাদিরা জামান আঁখি। তখন দুপুর ঠিক ১ বাজে। মাথার উপরে গ্রীষ্মের কাঠ ফাটা রোদ; ঘামে ভেজা শরীর এবং দুইজন যাত্রী নিয়ে ভাড়ায় চালিত রিক্সা চালিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যে চলছে মানিক মিয়া।ঢাকার রাস্তার এত জ্যাম ; এত মানুষ; বিভিন্ন গাড়ির শব্দ; কাকের কর্কশ কন্ঠের কা কা শব্দ।দুপুর হওয়ায় পেটেও প্রচুর ক্ষুধা।কিন্তু এত শব্দ; রোদ; গরম; মানুষ; পেটে ক্ষুধা ;এত কষ্ট এসব নিয়ে মানিক মিয়ার নাই কোন ভ্রুক্ষেপ আর নাই কোন চিন্তা।তার চিন্তা এখন কি ভাবে তাড়াতাড়ি যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌছে দিয়ে মালিকের কাছে রিক্সাটা জমা দিয়ে আবার বিকালে তাড়াতাড়ি রিক্সা নেওয়া যায়।না হয় তো আর রিক্সা পাওয়া যাবে না। হয়ত অন্য কাউকে দিয়ে দিবে বেশি টাকার লোভে। মানুষ কি সবসময় বয়সের ভারে বুড়া হয়? না না মাঝে মাঝে অনেক মানুষ রোগ শোকে বুড়া হয় তাড়াতাড়ি। ঠিক তেমন মানিক মিয়া। তার বয়স বেশি না হলেও বিভিন্ন রোগে আর সংসারে চিন্তায় বেশ তাড়াতাড়ি চেহারায় বয়সের ছাপ পড়েছে। দেখতে একেবারে রোগা পাতলা চেহারা। ভালোভাবে দ্রুত চালাতে পারবে না তাই বলে অনেকে তার রিক্সায় ওঠে না।তাই মালিকও তাকে বেশি রিক্সা দিতে চায় না।কারন সে তো বেশি টাকা আয় করতে পারবে না।এত এত রিক্সার ভিড়ে মাঝে মধ্যে যে যাত্রী পায় সে টাকা দিয়ে মালিককে দিয়ে যা থাকে তাতেই তার সংসার চলে। তাই মানিক মিয়া তাড়াহুড়া করে চালিয়ে যাত্রীদের তাদের গন্তব্যে পৌছে দিয়ে তাড়াতাড়ি মালিকের কাছে রিক্সা জমা দিয়ে তার বাসায় ফিরে আসে। মানিক মিয়া একটা টিনের ছোট ঘর ভাড়া নিয়ে সেখানে নিজের স্ত্রী ও দুই কন্যাসন্তানকে নিয়ে থাকে। বাসার পাশে এসেই শুনকে পায় এক পরিচিত কন্ঠের কান্নার শব্দ।ঘুরে প্রোবেশ করেই দেখে তার ছোট মেয়ে পুতুল দুহাত- পা ছড়িয়ে কান্না করছে। আর বলছে আমি এগুলা দিয়া ভাত খামু না।আমি ডাইল আলু ভর্তা খামু না। পুতুল জন্মের সময় দেখতে খুব সুন্দরী হইছিল।দেখতে পুতুলের মত লাগত।তাই নাম রাখছে পুতুল।এখন অবশ্য অতটা সুন্দরী নাই।না ভালো খাবার আর না ভালো পোশাক আর যত্ন। জীর্ণ-শীর্ণ চেহারা।তবে আগের মত ফর্সা আছে। তারপাশেই চুপচাপ বসে আছে তার স্ত্রী সালমা বেগম। আর তার পাশে বসেই তৃপ্তি নিয়ে খাচ্ছে তাদের বড় মেয়ে রুমা। মানিক মিয়াকে দেখেই পুতুল কান্না থামিয়ে এসে গলি জড়িয়ে ধরে আদুরে গলায় বলে আব্বা আব্বা আমি আলু ভর্তা আর ডাইল খামু না। আব্বা কবে আমরা মাংস খাইছি।সেই ফুপুগো বাড়ি বেড়াইতে যাইয়া খাইছি। একদিন মাংস কিননা আনবা? মেয়েকে খাওয়ানোর জন্য শান্তনা দিয়ে বলে আচ্ছা কিননা আনমু। বাবার মুখ থেকে কথা শুনে আবার খুশি হয়ে খাওয়া শুরু করে পুতুল। খাবার খেতে খেতে আবার মুখে খই ফুটতে শুরু করে।শুরু হয় আবার তার আবদার।পুতুল আবার তার বাবার কাছে আবদার শুরু করে।তার বাবাকে বলে আব্বা আমারে একটা লাল জামা কিননা দেবা? আর তার লগে লাল চুড়ি আর কিননা দেবা? আমাগো পাশের বাসার সাথী আছে না ? যার লগে আমি খেলি?ওর আব্বায় ওর লইগ্গা একটা লাল জামা আর লাল চুড়ি আনছে। মেয়ের এত আবদার শুনে মুখ শুকিয়ে যায় মানিক মিয়ার। মেয়ের কাছে যেটা আবদার মানিক মিয়ার কাছে সেটা অপমান। তাই খাবার খেয়ে মানিক মিয়া চলে যায় কাজে। রাতে যখন বাসায় ফিরে আসে দেখে পুতুল তার জন্য অপেক্ষা করে আছে।শুধু বার বার এক কথাই বলে মা ও মা? আব্বায় কোন সময় আইবে? আমার লাল জামা আনবে না? তার মা তাকে শান্তনা দেয় যে আনবে। মানিক যখন খালি হাতে প্রোবেশ করে।তখন তাকে দেখেই পুতুল প্রশ্ন করে আব্বা আমার লাল জামা কাই? মুখে শুকনো হাসির রেখা টেনে মানিক মিয়া জবাব দেয় আইজ মন নাই।কাই আনমু। কথাটা শুনে কিছুটা মন খারাপ হলেও কালকের কথা মনে করে আবার ঘুমিয়ে পড়ে পুতুল। সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পুতুল ঘুম থেকে ওঠার আগে চলে যায় মানিক মিয়া।কারন সে বার বার তার ছোট অবুঝ মেয়কে ঠকিয়ে মিথ্যা বলতে চায় না আর মেয়ের কাছে অপমানিত হতে চায় না আর লজ্জা পেতে চায় না। যাওয়ার সময় তার স্ত্রীকে বলে এখন তো পলাইয়া যাই। দুপুরে আর রাতে কি করমু? তার স্ত্রী তাকে শান্তনা দিয়ে বলে দুপুরে আমি আগে ওরে খাওয়াইয়া ঘুমপাড়ামু না হয় খেলতে পাডামু। দুপুরে মানিক মিয়া যখন খাবার খেতে আসে তখন বাসার টিনের ছোট্ট ছিদ্র দিয়ে দেখে পুতুল তার জন্য অপেক্ষা করে আছে।তার মা তাকে জোর খাওয়াতেও পারে না আর ঘুমপাড়াতে পারে না আর খেলতে পাঠাতেও পারে না।কারন সে তার বাবা আর লাল জামার জন্য অপেক্ষা করে আছে। অনেকক্ষণ বাহিরে দাড়িয়ে থেকে যখন দেখে তার যাওয়ার সময় প্রায় শেষ তখন বাধ্য হয়ে ঘরে প্রোবেশ করে মানিক মিয়া। মানিক মিয়াকে দেখেই আবার আগের মত প্রশ্ন করা শুরু করে আব্বা জামা আনো নায়? আর সকালে আমারে না বলে গেছো ক্যা? তুমি তো ঘুমাইয়া আছিলা মা আর তোমার জামা আজ রাইতে আনমু। দুপুরের খাবার খেয়ে যে যারমত কাজে যায়। রাতে কাজ শেষে অনেক দেরি করে যখন মানিক মিয়া বাসায় ফেরে তখন দেখে পুতুল ঘুমিয়ে আছে।কান্না করছে তা দেখেই বুঝতে পারছে মানিক মিয়া। কারন মোমের আলোতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পুতুলের চোখে শুকিয়ে যাওয়া চোখের পানির রেখা।পুতুলের হাতের মুঠোয় কিছু চুল। এসব দেখেই মানিক মিয়া বুঝতে পারছে কি হইছে।বাসায় যে একটা ঝড় বয়ে গেছে সেটা সে ভালো করেই বুঝছে। পাশেই পুতুলের পাশে একটা মলিন কাপড় পড়ে শুয়ে আছে তার স্ত্রী সালমা বেগম।মানিক মিয়া ভুলেই গেছে কবে সে তার স্ত্রীকে একটা ভালো শাড়ী কিনে দিয়ে ছিল।আর তার পাশেই পড়ছে তার বড় মেয়ে রুমা। রুমা পাশের একটা প্রাথমি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনীতে পড়ে।মেয়েটাকে ঠিকমত খাতা কলম কিনে দিতে পারে না। অনেক দিন আগে দুইটা কাঠ পেন্সিল ও রাবার কিনে দিয়েছিল সেইগুলা দিয়েই লেখে। একার লিখে মুছে আবার লিখে।এভাবে একটা খাতা দিয়ে চালিয়ে দিচ্ছে অনেক দিন ধরে। তবুও মুখ ফুটে কিচ্ছু বলে না।কারন তারা তো তার অবস্থা বোঝে।কিন্তু পুতুল তো একটা বাচ্চা মেয়ে।তাই না বুঝে সব আবদারের ঝুড়ি খুলে বসে। কি করে কিনে দিবে সে? তার যে সেই সামর্থ্য নেই।ভাত দিতে পারলে ভালো পোশাক দিতে পারে না।পোশাক দিতে পারলে আবার ভাত দিতে পারে না।এসব ভাবতেই বুক ফেটে একটা দর্ঘ নিশ্বাস বের হয়। পরদিন সকাল সকাল আবার কাজে চলে যায় মানিক মিয়া।আবার ফিরে অনেক রাত করে।আর পুতুলের কান্নাকাটি তো আছেই।দুইদিন পর হঠাৎ বিকালে মানিক মিয়া তাড়াতাড়ি বাসায় আসে। এসে পুতুলকে নিয়ে চলে যায়।পুতুলকে বলে দোকানে যাব।পুতুল তো মহা খুশি।বাসায় ফেরে অনেক রাতে। কিনে নিয়ে আসছে পুতুলের লাল জামা চুড়ি। ওর মায়ের জন্য একটা শাড়ী। আর রুমার জন্য খাতা কলম। রাস্তার ল্যামপোস্টের আলোতে পুতুলের মুখ আনন্দে চিক চিক করছে।মনে হচ্ছে সারা রাজ্যের অনন্দ তার মুখে ভর করছে। পরদিন সকালে মানিক মিয়া একটা মুরগি কিনে নিয়ে আসে।এসব দেখে তো পুতুলের অনন্দ আর ধরে না।যে পুতুলকে গোসল করাতে অনেক বেগ পেতে হয়।সেই পুতুল আজ সবাইকে গোসল করিয়ে দেওয়ার জন্য তাড়া দিচ্ছে।তার মাকে তাড়াতাড়ি রান্না করতে বলছে।তাড়াতাড়ি গোসল করে লাল জামাটা পড়ছে।আর হাতে লাল চুড়ি।আজ পুতুলকে সত্যিই পুতুল পুতুল লাগছে।আজ খুব তৃপ্তির সহকারে পুতুল খাবার খেয়েছে।সেটা তার জামার উপর থেকে ভরা পেট দেখেই বুঝতে পারছে মানিক মিয়া।এসব দেখে সে খুব খুশি হয়েছে মানিক মিয়া।পুতুলের এই হাসির জন্য মানিক মিয়া এই কটা দিন খুব সকালে বের হয়ে যেত আর বেশি রাত করে বাসায় ফিরত।কারন সে মালিককে বলে বেশি সময় ধরে রিক্সা চালাত।যা বাড়তি টাকা হইছে সেটা দিয়েই পুতুলের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।ইচ্ছা ছিল পুতুলের জন্য আরও অনেক কিছু কিনবে। কিন্ত গরীব বাবা মায়ের যেটা থাকে সেটা হলো সাধ।আর যেটা থাকে না সেটা হলো সাধ্য।এভাবেই চলতে থাকে গরীবদের জীবন। আমরা সবার সব খবর রাখি।সব খবর পাই। কিন্তু এদের মত গরীবদের খবর সবার অগোচরেই রয়ে যায়। সমাপ্ত


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ ♦সাধ্য♦

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now