বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাদা পাখি (৫)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X শিরযাদ ঘোড়ায় চড়ে নিজেকে নিজে ধিক্কার দিতে দিতে চললো সাদা দৈত্যের প্রাসাদের দিকে। গন্তব্যে পৌঁছার একটু আগে আবারও সেই সাদা পাখি শিরযাদের মাথার উপরে ডেকে উঠলো। বললো: “হে লোভী মানুষ! আবারও তুমি মৃত্যুর ফাঁদে পা দিতে যাচ্ছো। মনোযোগ দিয়ে আমার কথা শোনো। সাদা দৈত্যের কন্যা ঘুমিয়ে আছে। প্রতি মাসে সে টানা এক সপ্তা ঘুমায়। সে ঘুমালে তার লম্বা চুলের চারটি বেণিতে চারটা বড় পেরেক মারা হয় যাতে তাকে কেউ ঘুম থেকে ওঠাতে না পারে। তোমার পক্ষে তাই কিছুতেই তাকে ওই পেরেক থেকে ছাড়ানো সম্ভব না। তবে হ্যাঁ, একটা উপায় আছে। সাদা দৈত্যের আস্তাবলে একটা ঘোড়া আছে চুয়াল্লিশটা পেরেক দিয়ে বাঁধা। কোনো পাখিও ওই ঘোড়ার গতির ধারে কাছে যেতে পারে না। তুমি ওই ঘোড়াকে যে-কোনোভাবেই হোক খুলে যদি তাকে নিয়ে যাও তাহলে মাটি থেকে মেয়েটিকে তুলে নিতে পারার একটা সম্ভাবনা আছে”। সাদা পাখি আরও বললো: “তবে মনে রাখবে প্রথমবারে যদি মাটি থেকে ওই চারটি পেরেক ছাড়িয়ে মেয়েটিকে তুলতে না পারো তাহলে তোমার শরীরের হাঁটু পর্যন্ত পাথরে পরিণত হয়ে যাবে। দ্বিতীয়বারেও যদি না পারো তাহলে কোমর পর্যন্ত পাথর হয়ে যাবে আর তৃতীয়বারেও যদি ওই চারটি পেরেক তুলতে না পারো তাহলে তুমি মাথা থেকে পা পর্যন্ত পাথর হয়ে যাবে এবং সেখানেই পাথরের মূর্তি হয়ে পড়ে থাকবে”। এইসব শুনে শিরযাদ গিয়ে পৌঁছলো সাদা দৈত্যের কেল্লায়। সময় নষ্ট না করে সোজা চলে গেল আস্তাবলে। সাদা পাখির কথা অনুযায়ী আস্তাবলে গিয়ে দেখলো ড্রাগনের মতো বিশাল এক ঘোড়াকে সত্যি সত্যিই বেঁধে রাখা হয়েছে। শিরযাদ এক লাফে গিয়ে বসলো ড্রাগনের পিঠে। যে সব রশির মাথায় পেরেক মেরে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে, দ্রুত তার তলোয়ার গেলাফ থেকে বের করে খ্যাচ খ্যাচ করে রশিগুলো কেটে দিলো। ঘোড়াটি যখন দেখলো সে বন্ধনমুক্ত হয়ে গেছে, চেষ্টা করলো তার পিঠে চড়ে বসা সওয়ারিকে মাটিতে ফেলে দিতে। কিন্তু চেষ্টা করে ব্যর্থ হলো সে। বুঝলো এই সওয়ারি আগেকার অন্য কোনো সওয়ারির মতো নয়। ঘোড়া নিরুপায় হয়ে এবার শান্ত হলো আর শিরযাদ ঘোড়াকে নিয়ে চলে গেল সাদা দৈত্যের ঘুমন্ত কন্যার কাছে। বলছিলাম সাদা দৈত্যের ঘুমন্ত কন্যার কাছে পৌঁছে গেল শিরযাদ। ওই কন্যাকে দেখে শিরযাদ তো অবাক, এতো সুন্দর, এতো রূপসী! শিরযাদ কোমরে হাত রেখে ভাবলো কিছুক্ষণ তারপর কন্যার কোমরে হাত রেখে মাটি থেকে তুলতে চাইলো। কিন্তু পারলো না এবং সাদা পাখি যেমনটা বলেছিল শিরযাদের হাঁটু পর্যন্ত পাথর হয়ে গেল। আবারও কন্যার কোমরে হাত রেখে তুলতে চাইলো। কন্যা একটু নড়েচড়ে উঠলো কিন্তু মাটি থেকে উঠলো না। এবার শিরযাদের কোমর পর্যন্ত পাথর হয়ে গেল। শিরযাদ তবু নাছোড়বান্দা। সে এবার ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরে বললো: ‘শপথ করে বলছি এবার যদি তোমাকে মাটি থেকে তুলতে না পারি তাহলে এই ঘোড়ার কোমর আমি ভেঙ্গে দেবো’। এই বলে শিরযাদ আবারও মেয়ের কোমর ভালো করে জড়িয়ে ধরে নিজের সর্বশক্তি দিয়ে টান দিলো এবং সফল হলো। দেওকন্যাকে ঘোড়ার পিঠে তুলতেই শিরযাদের শরীরের পাথর হয়ে যাওয়া অংশ আগের মতো হয়ে গেল। ঘোড়া ছুটলো তীর বেগে। পেছন থেকে শোনা গেল অদ্ভুত রকম হৈ-চৈয়ের শব্দ: ‘ও-ই! ধর ধর! আটক কর, কোনোভাবেই পালাতে দিস না’..ইত্যাদি। শিরযাদ আর পেছনে তাকালো না। ঘোড়া ছুটালো ভীষণ বেগে। কিছুক্ষণ পর আর কোনো হৈ-চৈ শোনা যাচ্ছিলো না। চলমান ঘোড়ার দ্রুত গতির মাঝে হঠাৎ সেই সাদা পাখি ডেকে উঠে বললো: ‘শিরযাদ! শোনো! এক ঘণ্টা পরে এই মেয়ে জেগে উঠবে এবং এমন জোরে চীৎকার দেবে যে পাহাড়-মরু পর্যন্ত কেঁপে উঠবে। ওই শব্দে তোমার কানের পর্দা ফেটে যাবে’। সাদা পাখি আরও বললো: তোমার উচিত ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে গিয়ে মেয়েটাকে ভালো করে বেঁধে গাছের সাথে আটকে রাখা। আর একটা গর্ত খুঁড়ে সেই গর্তে তুমি লুকিয়ে থাকবে। মনে রাখবে, যতক্ষণ ওই মেয়ে তার মায়ের দুধের কসম না খাবে ততক্ষণ তুমি গর্ত থেকে বের হবে না’। শিরযাদ ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে সাদা পাখি যা যা বলেছিল তাই করলো। ঘণ্টাখানেক পর সত্যিই দেওকন্যা জেগে গেল এবং এতো জোরে চীৎকার দিলো যে গর্তের ভিতরে থেকেও শিরযাদ ভূকম্পন অনুভব করলো। মনে মনে সে বললো: কী সুন্দর মেয়ে! ও যদি আমার স্ত্রী হতো! কিন্তু প্রতি মাসে এক সপ্তাহব্যাপী ঘুমাবার পর যদি এভাবে চীৎকার দিয়ে ওঠে তাহলে তো শহরের কারও কানের পর্দা থাকবে না। দেওকন্যা তার আশেপাশে তাকিয়ে কাউকে দেখতে পেল না। সে বিলাপ করতে করতে বলতে লাগলো: কে তুমি ওখানে! বেরিয়ে আসো! আমার বন্ধন খুলে দাও! আমি এখন তোমারই। আমি যার নামে শপথ করতে বলো, করবো। কিন্তু শিরযাদ পাখির কথামতো মায়ের নামে কসম না খাওয়া পর্যন্ত বেরুলো না। মায়ের নামে কসম খাওয়ার পর গর্ত থেকে বেরিয়ে শিরযাদ মেয়েকে মুক্ত করলো এবং ঘোড়ায় চড়িয়ে আবারও রওনা হলো।#


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সাদা পাখি (৫)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now