বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাদা পাখি (৪)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X শিরযাদ ওই নতুন মুসাফিরের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতে শুরু করলো এবং এক পর্যায়ে সে তার জীবনের ঘটনাপঞ্জি মুসাফির বন্ধুর কাছে বর্ণনা করলো। সবশেষে চেরাগের বিষয়টাও বলে মুসাফিরকে বললো সে যেন ওর চেরাগটা বিক্রি করে তার কাছে। মুসাফির এই বিক্রির প্রস্তাব পেয়ে বললো: ঠিক আছে আমি তোমাকে চেরাগটা দেবো তবে তুমিও আমাকে একটা কিছু দেবে-ঠিক আছে? শিরযাদ বললো: ঠিক আছে, তুমি যা চাও তাই দেবো। মুসাফির বললো: এখান থেকে দৈত্যকেল্লার দূরত্ব এক মাসের। তাদের ওখানে অনেক সুন্দর সুন্দর কবুতর আছে। তুমি যদি সেখান থেকে এক জোড়া কবুতর আমাকে এনে দিতে পার তাহলে আমার চেরাগটা তোমাকে দিয়ে দেবো। শিরযাদ বললো: সমস্যা নেই, এনে দেবো। বলো কীভাবে যেতে হবে সেখানে। মুসাফির শিরযাদকে দৈত্যকেল্লার রাস্তা সুন্দর করে বাতলে দিলো। পরদিন ভোরেই শিরযাদ রওনা হয়ে গেল। টিলার পর টিলা আর উপত্যকার পর উপত্যকা পেরিয়ে কেল্লার কাছাকাছি পৌঁছে গেল। কেল্লার কাছে যেতেই একটা আওয়াজ ভেসে এলো শিরযাদের কানে। শিরযাদ শব্দের উৎস খুঁজতে এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখলো পাহাড়ের ওপরে একটা সাদা পাখি বসে বসে ওভাবে ডাকছে। শিরযাদ দাঁড়িয়ে গেল। পাখিটা তখন শিরযাদকে বললো: ‘হে মানব সন্তান! কে তোমাকে এই মৃত্যুর ঠিকানায় পাঠালো? এখানকার দৈত্যরা কবুতরগুলোকে তাদের বাবার চেয়ে বেশি ভালোবাসে। তবে তুমি একটা কাজ করতে পারো। গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করো। দৈত্যরা যখন গভীর ঘুমে থাকবে তখন যাও কেল্লার ভেতর’। শিরযাদ ঘোড়ার পিঠ থেকে নামলো এবং মধ্যরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করলো। তারপর গেলো কেল্লার প্রাচীরের কাছে। সেখানে যাবার পর আবারও সাদাপাখি ডেকে উঠলো। পাখি বললো: ‘লোভ করবে না শিরযাদ! মনে রাখবে এক জোড়ার চেয়ে বেশি নেবে না কিছুতেই’। শিরযাদ প্রাচীর বেয়ে ভেতরে গেল এবং হামাগুড়ি দিয়ে গেল কবুতরের বাসার কাছে। সেখানে কবুতরগুলোকে দেখে তো হতবাক হয়ে গেল শিরযাদ। এতো সুন্দর কবুতর! শুধু দেখতেই মন চায় তার। ক্রলিং করে করে শিরযাদ এগিয়ে যায় সামনে একেবারে কবুতরগুলোর কাছে। এক জোড়া কবুতর সে নেয় কিন্তু লোভ সামলাতে না পেরে নিজের জন্যও এক জোড়া নেয়। কবুতরগুলো যেন এই মুহূর্তের জন্যই অপেক্ষা করছিল। একেবারে চীৎকার চেঁচামেচি করে দৈত্যদের জাগিয়ে দিলো তারা। শিরযাদ ধরা পড়ে গেল দৈত্যদের হাতে। দৈত্যদের জিজ্ঞাসাবাদে শিরযাদ তার জীবনের পুরো ঘটনা খুলে বললো। শিরযাদের জীবন কাহিনী শুনে দৈত্যরা বললো: আমরা তোমাকে এখান থেকে এক জোড়া কবুতর তোমাকে দেব একটি শর্তে। শর্তটা হলো আমাদের জন্য আঙুর ফল নিয়ে আসবে। কেল্লার কাছেই যারা বসবাস করে তাদের মানে আমাদের প্রতিবেশীদের কাছ থেকে এক ঝুড়ি আঙুর নিয়ে আসবে। ওদের আঙুরগুলো খুবই মজার। ওরা খুব ভালোভাবে আঙুর গাছের যত্ন নেয়। শিরযাদ আঙুর আনার জন্য ঘোড়ায় চড়ে। প্রতিবেশী দৈত্যদের এলাকায় পৌঁছে একটা জায়গায় গাছের ছায়ায় আশ্রয় নেয়। হঠাৎ সেই সাদা পাখি ডেকে ওঠে। পাখি বলে: “শিরযাদ! তুমি আমার কথা শোনো নি যে কারণে এখন বিপদে পড়েছো। এবার ভালো করে শোনো। আবারও বলছি লোভ করো না। এক ঝুড়ি আঙুরের বেশি নিও না,ইত্যাদি...” শিরযাদ গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে দেয়াল পেরিয়ে ভেতরে গেল। ক্রলিং করে করে আঙুরের ঝুড়ির কাছে গিয়ে হাজির হল। চমৎকার সব আঙুর ভর্তি ঝুড়িতে পূর্ণ হয়ে আছে চারপাশ। শিরযাদ মনে মনে ভাবলো, আগে নিজে একটু স্বাদ নিই তারপর ঝুড়ি নেয়া যাবে। একটা আঙুর মুখে দিতেই আঙুরের স্বাদে বিমোহিত হয়ে টপাটপ খেয়ে ফেললো এক ঝুড়ি। কিন্তু শিরযাদের মতো পালোয়ানের জন্য এক ঝুড়ি আঙুর তো খুবই সামান্য। এক ঝুড়ি, দুই ঝুড়ি খেতে খেতে পাঁচ পাঁচটি ঝুড়ি সে সাবাড় করে দিলো। কিন্তু পঞ্চম ঝুড়ির সর্বশেষ আঙুরটি হাতে নিতেই আগের খালি ঝুড়িগুলো আবারও পরিপূর্ণ হয়ে গেল আঙুরে। শিরযাদের তো ভিমরি খাওয়ার মতো অবস্থা। নিজের চাখকেই বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল তার। শিরযাদ আরেকটি ঝুড়ি খেয়ে শেষ করতে না করতেই ঝুড়িটি আবার পূর্ণ হয়ে গেল আঙুরে।বিস্ময়ের পর বিস্ময়ে শিরযাদ কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। শেষ পর্যন্ত এক ঝুড়ি আঙুর হাতে নিয়ে ভাবলো: এতো কষ্ট করে এখানে যেহেতু এসেই পড়েছি তাহলে চাচা মানে বর্তমান বাদশার জন্য এক ঝুড়ি আঙুর নিয়ে গেলে তো মন্দ হয় না। এই ভেবে যে-ই দ্বিতীয় ঝুড়িতে হাত দিলো অমনি ঝুড়িগুলো চীৎকার করে উঠলো। মুহূর্তেই দৈত্যরা এসে পড়লো এবং শিরযাদকে ধরে ফেললো। দৈত্যের হাতে ধরা,যায় কোথায়। শিরযাদকে তারা জেরা করতে শুরু করে দিলো। শিরযাদও আগের মতোই তার জীবন কাহিনী শোনালো দৈত্যদেরকে। দৈত্যদের প্রধান ছিল বেশ স্বাস্থ্যবান এবং হৃষ্টপুষ্ট। সে শিরযাদকে বললো: “ঠিক আছে! তোমার কাহিনী তো শুনলাম। তোমাকে এক শর্তে একটা ঝুড়ি দিতে পারি। শর্তটা হলো: এখান থেকে কাছেই এক সাদা দৈত্য বাস করে। তার খুব সুন্দরী একটা মেয়ে আছে। আমি ওই মেয়েকে ভালোবাসি। তুমি যদি ওই মেয়েকে আমার জন্য নিয়ে আসতে পারো তাহলে আমি তোমাকে এক ঝুড়ি আঙুর দেবো”।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সাদা পাখি (৪)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now