বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
বাবার শর্তের কথা শুনেই বড় ছেলে সামনে পা বাড়িয়ে মাটিতে চুমু খেয়ে সৌজন্য সম্মান প্রদর্শন করে দাঁড়িয়ে নিজের প্রস্তুতির কথা ঘোষণা করলো। বাদশাহ তার বড় ছেলের প্রস্তুতির অবস্থা দেখে তাকে পথ খরচা দিয়ে বললো: যাও! ছেলে তো বিপুল উদ্দীপনায় ঘোড়ায় চড়ে বসলো এবং রওনা হয়ে গেল। যেতে যেতে যেতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। তারপর রাত। আবার এলো দিন। এভাবে রাতের পর রাত দিনের পর দিন যেতে যেতে দুই মাস পেরিয়ে গেল। অবশেষে একদিন একটি এলাকা পার হবার সময় তার ঘোড়া হ্রেষাধ্বনি তুললো। সে ঘোড়াকে থামালো। হঠাৎ দেখলো একটা গাছের পাশে বড় একটা রুবি পাথর বা পদ্মরাগ মণি পড়ে আছে। ঘোড়া পিঠ থেকে নেমে সে খানিক চিন্তা করলো যে আমার বাবা যদি এই পথ অতিক্রম করতো তাহলে অবশ্যই এই মূল্যবাণ মণিটা তুলে নিতো।
আলতো হেসে মণিটা তুলে নিয়ে ঘোড়ায় চড়লো এবং ঘোড়ার গতিপথ উল্টো দিকে ফিরিয়ে প্রাসাদের দিকে রওনা হলো। এ খবর ছড়িয়ে পড়লো সবখানে। এক কান দু’কান হতে হতে বাদশার কানে পৌঁছে গেল খবর। বাদশাহ তার দরবারের অভিজাত ব্যক্তিদের বললো তার ছেলেকে অভ্যর্থনা জানাতে যেন এগিয়ে যায়। ব্যাপক জাঁকজমকের মধ্য দিয়ে বাদশাহর বড় ছেলে ফিরে এলো। পরদিন রাজ দরবারকে সুসজ্জিত করা হলো। দরবারের সবাই অভিজাত আনুষ্ঠানিক পোশাক পরে যে যার আসনে বসলো। বাদশাহর ছেলে যেই রুবি পাথর বা পদ্মরাগ মণিটা পেয়েছিল সেটা একটা সুসজ্জিত ট্রে-তে রাখলো এবং বাদশার হাতে দিলো।
বাদশাহ ছেলের কপালে চুমু দিয়ে বললো: “এই চাবিটা নাও! শহরের পাশের পাহাড়ের নীচে একটা গূহা আছে। ওই গূহার ভেতর চল্লিশটি কক্ষ আছে। এই লাল রুবিটা নিয়ে এগারো নম্বর কক্ষে রাখবে”।
বাদশাহর ছেলে ভীষণ খুশিমনে গূহায় গেল এবং এগারো নম্বর কক্ষের দরোজাটা খুললো। দরোজা খুলেই সে দেখলো কক্ষটা লাল ইয়াকুত বা রুবি পাথরে পূর্ণ। ছেলের চেহারা থেকে এবার আনন্দের হাসিটা মিইয়ে গেল। সে বুঝতে পারলো তার বাবা তাকে ভালো একটা শিক্ষা দিয়েছে।
এবার মেজো ছেলের পালা। সেও একইভাবে তিনমাস মরুপ্রান্তর আর পাহাড় পর্বত পেরিয়ে এক বনে গিয়ে পৌঁছলো। সেই বনের একটি গাছে দেখলো চমৎকার ফল ধরে আছে। একটা ছিঁড়ে খেতে গিয়ে বুঝলো ওই ফলটা আসলে সোনার ফল। সে তাড়াতাড়ি ঘোড়ার পিঠে থাকা জিনটাকে পূর্ণ করলো ওই ফল দিয়ে। তারপর ফিরে গেল প্রাসাদে। বাদশাহ ছেলের কপালে চুমু দিয়ে বললো: যাও! এগুলো গূহার একুশ নম্বর কক্ষে রেখে আসো! মেজো ছেলে সোনার ফলগুলো নিয়ে গূহার একুশ নম্বর কক্ষে গিয়ে দেখলো: ওই কক্ষটা সোনার ফলে ভর্তি।
শেষ পর্যন্ত ছোটো ছেলে শিরযাদের পালা এলো। শিরযাদ যথাযথ কুর্নিশ করে বললো: হে চাচা আমার! যদি অনুমতি দেন তাহলে আমি আপনার ঘোড়া নিয়ে যেতে চাই!
বাদশাহ আদেশ দিলো তার ঘোড়াটা যেন শিরযাদকে দেওয়া হয়। শিরযাদ ওই ঘোড়ায় চড়ে রওনা হয়ে গেল। কিছুটা পথ গিয়ে শিরযাদ ঘোড়ার লাগাম ছেড়ে দিলো যাতে ঘোড়া তার ইচ্ছেমতো যেদিকে খুশি যেতে পারে। ঘোড়াও এদিক,ওদিক না তাকিয়ে তার মতো যেতে লাগলো। ছয় মাস এভাবে চললো ঘোড়া। সপ্তম মাসের প্রথম দিন ঘোড়া একটা জায়গায় গিয়ে হ্রেষা তুলে থামল এবং পায়ের ক্ষুর দিয়ে মাটি খুঁড়তে লাগলো। এরপর পেছন ফিরে আবারও হ্রেষাধ্বনি তুললো এবং এমন অঙ্গভঙ্গি করলো যে শিরযাদ বুঝলো এই ঘোড়া ওই দাগের পর তার পা রাখে নি মানে আর সামনে যায় নি কখনো।
শিরযাদ ঘোড়ার লাগামে হাত রেখে তাকে ধীরে ধীরে সামনের দিকে নিয়ে গেল। কিছু পথ যাবার পর শিরযাদ এদিক ওদিক ভালো করে দেখলো। হঠাৎ তার নজরে পড়লো মাটির ওপর কিছু একটা বস্তু যেন জ্বলছে। ঘোড়া থেকে নেমে ভালো করে দেখলো শিরযাদ: একটা চেরাগ! কোনোরকম তেল ছাড়াই জ্বলছে এবং তার আলো চারদিকে ছড়াচ্ছে। শিরযাদ চেরাগটা হাতে নিয়ে দেখলো তার গায়ে লেখা রয়েছে: পৃথিবীতে এ ধরনের মাত্র দুটি চেরাগ রয়েছে।
শিরযাদ ভাবলো তার মানে এর একটি হয়তো তার চাচার সংগ্রহে আছে। সিদ্ধান্ত নিলো যতক্ষণ না অপর চেরাগটি দেখতে না পাবে ততক্ষণ ফিরবে না প্রাসাদে। আবারও ঘোড়ায় চড়ে পথ চলতে শুরু করলো সে। যেতে যেতে এক শহরে গিয়ে পৌঁছলো এবং একটা সরাইখানায় গিয়ে উঠলো রাতের বিশ্রামের জন্য।
মজার ব্যাপার হলো রাতে তার রুমে আরও এক মুসাফিরকে পাঠানো হলো। ওই মুসাফির তার ঘোড়ার জিন থেকে একটা চেরাগ বের করে জ্বালালো। শিরযাদ গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখলো একইরকম মানে যেই চেরাগটা সে পেয়েছে সেই চেরাগের মতোই এটি।#
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now