বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

সাদা পাখি (১)

"উপন্যাস" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X অনেক অনেক দিন আগের কথা। এক বাদশা ছিল সন্তানহীন। বাদশার স্ত্রী গর্ভবতী হতো ঠিকই কিন্তু জন্মের আগেই কেন যেন মারা যেত। বাদশা ডাক্তার কবিরাজ হেকিম বলতে আর কিছুই বাকি রাখে নি। যতরকমের চিকিৎসা ছিল সবই করিয়েছে। এমনকি যাদু টোনা ফকিরি কেরামতিও বাদ রাখে নি। কিন্তু কিছুতেই কিছু হলো না। বাদশা অনেকটা হতাশই হয়ে পড়লো। কী করবে বুঝে উঠতে পারছিল না। ভীষণ দুশ্চিন্তায় পড়ে গেল বাদশা। সে মারা গেলে কে এই বাদশাহির মসনদ অলংকৃত করবে। কে এই বাদশাহি মুকুট মাথায় পরবে! শেষবার যখন বাদশার স্ত্রী গর্ভবতী হলেন বাদশাহ তাঁকে পাঠিয়ে দিলেন বাপের বাড়ি যাতে তার সেবাযত্নের কোনোরকম কমতি না হয়। যথাযথ যত্নআত্তির পর অবশেষে বাদশার স্ত্রী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন। এই খবর শুনে বাদশাহ তো মহাখুশি। সাথে সাথে বাদশাহ তাঁর স্ত্রীর কাছে বার্তা পাঠালেন স্ত্রী যেন প্রাসাদে না এসে বাপের বাড়িতেই থাকে। কারণ হলো নবজাতকের ওপর যাতে কারও কুদৃষ্টি না পড়ে কিংবা কোনো বালা মুসিবতের মুখে না পড়ে। এমনিতেই বাদশার এক মন্ত্রী ছিল খুবই শয়তান। সে সারাক্ষণ বাদশাকে মেরে ফেলার ধান্ধা করতো। তার টার্গেট ছিল বাদশাকে মেরে তার মসনদ এবং রাজপ্রাসাদ সে দখল করবে। এই দুষ্ট মন্ত্রী যখন শুনতে পেলো বাদশার স্ত্রীর এক পুত্র সন্তান হয়েছে অমনি বিরক্তিতে ভরে উঠলো তার মন। কেননা এখন তো বাদশাকে মেরে ফেললেও কোনো কাজ হবে না, সে যেই অসৎ পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছিল সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা যাবে না। বাদশাহ মারা গেলে তার ছেলে হবে বাদশাহ-এটাই নিয়ম। ফলে বদমাশ মন্ত্রী ভাবলো তার বাদশাহ হবার স্বপ্ন তো ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছে। মন্ত্রী মোটামুটি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো যে,যে করেই হোক বাদশাকে তার পথ থেকে সরিয়ে দিতেই হবে। যেই কথা সেই কাজ, মন্ত্রী তার সাঙ্গ-পাঙ্গদের নিয়ে একদিন বাদশার প্রাসাদে হামলা চালালো এবং বাদশাকে মেরে ফেললো। বাদশাহির আসন তো শূন্য থাকতে পারে না সুতরাং সে নিজেই বাদশার মসনদে আসীন হলো। এরপর কোনো একদিন কয়েকজনকে পাঠালো বাদশার স্ত্রী কাছে। লোকদের কাছে বাদশার নামে একটা জাল চিঠি দিলো বাদশার স্ত্রীকে দেওয়ার জন্য। চিঠিতে লেখা ছিল: আমি অসুস্থ! তাড়াতাড়ি প্রাসাদে ফিরে আসো! মন্ত্রীর লোকেরা ওই চিঠি নিয়ে বাদশার স্ত্রীর কাছে গেল। স্ত্রী ওই চিঠি পেয়ে তাড়াতাড়ি করে উটের পিঠে চড়ে বসলো এবং মন্ত্রীর পাইক-পেয়াদার সাথে প্রাসাদের উদ্দেশ্যে রওনা হলো। প্রাসাদের পথে আসতে আসতে সন্ধ্যার কাছাকাছি একটা পাহাড়ের পাদদেশে পৌঁছে খানিক বিশ্রাম নেওয়ার লক্ষ্যে যাত্রাবিরতি করলো তারা। তাঁবু খাটিয়ে ভেতরে বিশ্রাম নিতে গেল। দুষ্ট মন্ত্রী তার পেয়াদা সর্দারকে আগেই বলে দিয়েছিল পথিমধ্যেই যেন ‘কর্ম সাঙ্গ’ করে ফেলা হয় মানে বাদশার স্ত্রী আর সন্তানের শিরোচ্ছেদ করা হয়। সে কারণেই পাইক-সর্দার মাঝরাতে বাদশার স্ত্রীর তাঁবুতে ঢুকলো। বাদশার স্ত্রী সর্দারকে তাঁর তাঁবুতে ঢোকার মতো বেয়াদবিপূর্ণ আচরণ দেখে বুঝতে পারলো তার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য আছে। সর্দারের দিকে তাকিয়ে তাই বাদশার স্ত্রী বললো: কে তুই! বাদশার স্ত্রীর তাঁবুতে ঢোকার মতো এতো বড়ো দু:সাহস তোর কী করে হলো? পেয়াদা-সর্দার একথা শুনে হেসে বললো: কে বাদশাহ আর কোন বাদশার স্ত্রী। তোমার স্বামী তো বহু আগেই নিহত হয়েছে। এখন তোমার স্বামীর জায়গায় মন্ত্রী হয়েছে বাদশাহ। আমরা তার আদেশেই এসেছি তোমাকে আর তোমার সন্তানকে হত্যা করতে। বাদশার স্ত্রী এ কথা শুনেই তার সন্তানকে কোলে নিলো এবং তাঁবু থেকে বেরিয়ে পালালো। পেয়াদা সর্দার তার লোকজনকে ঘুম থেকে ডেকে তুললো এবং বাদশার স্ত্রীর পেছনে দৌড়তে বললো। মহিলা যখন দেখলো পেয়াদারা তাকে ধরে ফেলবে, তখন সে একবার আকাশের দিকে তাকালো আরেকবার মাটির দিকে তাকালো। তারপর বাচ্চাটিকে ফেলে দিলো একটা উপত্যকায়। ততক্ষণে পেয়াদারা এসে গেল এবং বাদশার স্ত্রীকে হত্যা করলো। কিন্তু উপত্যকার নীচের দিকে আর গেল না। তারা ভেবেছিল একটা শিশু বাচ্চা! নিশ্চয়ই পাথরের ওপর পড়ে মারা গেছে। বাদশার এক ভাই ছিল। এই ঘটনাবহুল সময়ে সে ছিল ভ্রমণে। ফিরে এসে যখন দেখলো দৃশ্যপট পুরোপুরি পাল্টে গেছে এবং মন্ত্রী তাকেও হত্যা করার পাঁয়তারা করছে, তখন সে নিহত বাদশার কয়েকজন সমর্থককে নিয়ে পাহাড়ের দিকে চলে গেল। নতুন বাদশা এ খবর শুনে একদল পেয়াদাকে পাঠালো তাকে খুঁজে বের করার জন্য। কিন্তু কাজ হলো না। তারা বাদশার ভাইকে খুঁজে পেল না। সুতরাং তার সাথে সন্ধিও হলো না, তাকে মারাও গেল না। কোনোরকম ষড়যন্ত্রেই কাজ হলো না। দিনে দিনে বাদশার ভাইয়ের দলে আরো বেশি লোক হলো। শক্তিশালী হলো তার দল। একদিন তার বাহিনী সেই পাহাড়ে গিয়ে হাজির হলো যেখানে তার ভাইয়ের স্ত্রীকে মন্ত্রীর লোকেরা হত্যা করেছিল। সেখানে যাবার পর একজনের নজরে পড়লো চমৎকার একটা দৃশ্য: ছোট্ট ফুটফুটে একটি বাচ্চা সিংহের সাথে খেলা করছে। সে বাচ্চাটিকে তুলে নিয়ে তার চাচ্চুর হাতে দিলো। বাদশার ভাই দেখলো ওই বাচ্চার বাহুতে একটা তাবিজ বাঁধা আছে এবং তাতে কী যেন লেখা আছে। সে প্রচণ্ড কৌতূহল নিয়ে পড়ে বুঝলো এই শিশু তার ভাইয়ের সন্তান। ভাইপো যেহেতু সিংহের দুধ খেয়ে বেড়ে উঠেছে সেজন্য তার নাম রাখা হলো শিরযদ। এই শিরযদ একেবারে সিংহের বাচ্চার মতোই হয়ে উঠলো। ধীরে ধীরে সে ঘোড়ায় চড়তে শিখলো। তীর মারা তলোয়ার চালানো সবই শিখলো সে। এভাবে বাদশার ছেলের বয়স ১৫তে পৌঁছলো যখন তখন সে ছোটোখাটো একজন পালোয়ান। এই খবরটা ছড়িয়ে পড়লে বহু লোক এসে বাদশার ভাইয়ের হাতে হাত মিলালো এবং তারাও তলোয়ার চালনা শিখে এই দলে ভিড়লো। তার দল এখন আরও বেশি শক্তিশালী হলো। এদিকে বর্তমান বাদশাহ দেখলো ঘটনা তো অনেক দূর গড়িয়েছে। ভাবলো: কিছুতেই আর বাড়তে দেয়া যায় না। কিন্তু কী করে আগের বাদশার ছেলে আর ভাইকে দমাবে তা ভেবে কুল পাচ্ছিল না।#


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৭৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ সাদা পাখি (১)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now