বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
৪০ তম বিসিএস এ রুপন্তীর আম্মু!!!
রুপন্তীর আম্মুর সাথে আমার দেখা হয় ৩৯তম বিসিএস এ।
এক্সাম হলের বাইরে সবাই ব্যস্ত, সবাই যার যার মতো রিভিশন দিচ্ছে। আমিতো আবার ট্যালেন্ট স্টুডেন্ট সব পারি। তার আগেরদিন রাত ১ টা পর্যন্ত বন্ধুদের সাথে অপরাধী গানের প্যারোডি করেছিলাম। এখনো চোখে ঘুম ঘুম ভাব।
এমন সময় কেউ একজনের ধাক্কায় আমি পড়ে গেলাম।
পড়তে গিয়ে বললাম, কি আজব চোখে দেখেন না?
হা করে তাকিয়ে আছি! আল্লাহ!!! কি সুন্দর মেয়েটা!!
চোখ দুটো যেন পটলের মতো, নাকটা তোতা পাখির ঠোঁটের মতো বাকানো, তরমুজ মাঝখান থেকে কাটলে যেমনটি দেখায় রুপন্তীর আম্মুর চেহেরা ঠিক তেমনি।
চোখে মোটা ফ্রেমের চশমাও আছে!
প্রথম দেখাতেই আমার বুকে ছোটখাটো ফণী বয়ে গেল।
কিন্তু রুপন্তীর আম্মু আমাকে দেখে নাক সিটকায় চলে গেল।
ভাগ্যের লুডুখেলাও চরম!
রুপন্তীর আম্মুর সিট ঠিক আমার পাশের সিটে পড়ে গেল।
প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে গেছি!!!
রুপন্তীর আম্মুকে বেশ চিন্তিত দেখাচ্ছিল, বোধহয় প্রশ্ন কমন পড়েনি।
আমি তো অ্যান্সার দেয়া শুরু করে দিছি অলরেডি।
রুপন্তীর আম্মু এবার কলম দিয়ে গুতো দিয়ে বললো, ভাইয়া একটু শুনেন না!!
ও ম্যাডাম, ভাইয়া ডাকবেন না কিন্তু বলে দিলাম।
কেন?
আপনারা, সবাই যদি আমাদের ভাইয়া ডাকা শুরু করেন তাহলে এতগুলো বোন নিয়ে আমরা কয় যামু?
আচ্ছা, জ্বী....শুনেননা! প্রশ্ন কমন পড়েনি, একটু দেখান না! প্লীজ, ...
সুযোগ সন্ধানী মানুষ আমি। বললাম, সব প্রশ্ন দেখামু, তবে আপনাকে একটা পেপারে সিগনেচার করতে হবে।
এই বলে আমি একশো টাকার একটা স্ট্যাম্প পেপার তার সামনে রাখলাম। দু একটা সবসময় আমার পকেটে থাকে। আমি মনে করি এটা মানুষ ঠকানোর অভিনব কায়দা।
যদি এই পেপারে সিগনেচার করেন তাহলে আপনাকে বিসিএসের সব প্রশ্ন দেখাবো। আপনি পাশ করবেন সহজে। আমি কিন্তু খুব ট্যালেন্ট!
সে সাতপাঁচ চিন্তা না করে তাড়াতাড়ি সিগনেচার করে বসলো।
এবার প্রশ্নোত্তর পালা।
একটা প্রশ্ন ছিল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কৌতুক নাটক কোনটি?
উত্তর হবে বৈকুন্ঠের খাতা।
কিন্তু আমি দিলাম গেইমস অব থ্রোন!
কারন, আমি একটা প্রশ্নেরও উত্তর জানিনা হুদা মিছাই খুশির ঠ্যালায় পরীক্ষা দিতে আইছি। আজকাল বিসিএস এক্সাম দেয়াও একটা ট্রেন্ড! তাই আমি... চড়ুই পাখি বারোটা ডিম পেড়েছে তেরোটা ......এভাবে আন্দাজ করে করে সবগুলোর অ্যান্সার করলাম।
আরেকটা প্রশ্ন ছিল, বাংলদেশের প্রধানমন্ত্রী হতে গেলে কত বছর বয়স লাগবে?
উত্তর ছিল ২৫
কিন্তু, আমার ক্যালকুলেশন বলে যে দেশে এতো সেসন জট ২৫ এ তো অনার্সও শেষ করা যায়না। আর আমাদের দেশে ২৫ মানে এখনো বাচ্চা তাই বাড়াইয়া দিলাম ৪০।
লও ঠ্যালা!!!
যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাণিজ্যে বৃহত্তম বাজার কোনটি?
উত্তর ছিল চীন,
কিন্তু আমি দিসি নোয়াখালীর মাইজদি!
এর চেয়ে বৃহত্তম আর কি হতে পারে।
আগুন শব্দের সমার্থক শব্দ কি?
উত্তর ছিল অনল,
কিন্তু আমি দিছি বাংলাদেশ!
কারন যে হারে চারিদিকে আগুন লাগতেছে তাই বাংলদেশ আগুনের সমার্থক শব্দ হওয়া উচিত।
বাংলদেশের ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচীর জন্য বরাদ্দ আছে .....
উত্তর ছিল ১,৭৩,০০ কোটি টাকা।
কিন্তু অনেক চিন্তা করলাম, এটা দিলে অন্যায় হবে, ঘোর অন্যায়, তাই দিলাম বাবাজী কি টুল্লু!
শেষমেষ পরীক্ষা দিয়ে বের হলাম। এবার রুপন্তীর আম্মুরে বললাম,
দেখ মেয়ে তুমি ফেঁসে গেছো, যেহেতু তুমি স্ট্যাম্প পেপারে সিগনেচার করেছ তাই তোমার আমাকেই বিয়ে করতে হবে। যদিও তুমিও ভবিষ্যৎ বিসিএস ক্যাডার!
সে অনেক্ষণ ভাবলো, পরে দুইদিনের সময় নিয়ে জানালো বিয়ে করবে। যাক,
বিয়ে করার পরে বিসিএস রেজাল্ট আসলো,
পাশের নামগন্ধও আসেনি!!!
আমি রুপন্তীর আম্মুকে সান্ত্বনা দিলাম, ৪০তম বিসিএস এ ট্রাই করিও!
এখন ৪০তম বিসিএস দিয়ে এসে বললো,
রুপন্তীর পাপ্পা আমি সব প্রশ্ন পারছি। এবার নিশ্চিত টিকবো!!! আই এম অলসু বি এ নেক্সট বিসিএস ক্যাডার!
কিভাবে পারলে?
আমার পাশে এক ছেলে বসছিল। অনেক ট্যালেন্ট!
সে ও একটা স্ট্যাম্প পেপার দিছিল। আমিও খুশির ঠ্যালায় সিগনেচার করে দিছি।
লও ঠ্যালা!!!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now