বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রুমি—০৪ (শেষ পর্ব)

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X *** ঝুম বৃষ্টির ভোরগুলো অদ্ভুত হয়। আকাশ ভর্তি মেঘের পাহাড়। কালো, ফ্যাকাসে। সেই মেঘের পাহাড়ের ভীর ডিঙ্গিয়ে রূপোর বৃষ্টি। ফাঁকা রাস্তার ল্যাম্প পোস্ট অথবা কারও বাড়ির ছাদের কার্নিশে আশ্রয় নেয়া কাকের পাল দেখলেই মনে হয়, পৃথিবীতে বুঝি কোন জন-মানব নেই। আছে শুধু শূন্যতা, দুঃখ, একাকীত্ব। এর মাঝেই বাতাসের ডানায় ভেসে আসে সুরেলা আজানের ধ্বনি। তখন পারুলের বড্ড ইচ্ছে করে ছোটবেলায় ফিরে যেতে। জীবনের এই জটিলতা ছিল না যেখানে। বেশ কিছুদিন যাবত পারুলের মন খারাপ। এই বাড়িটা ছেড়ে চলে যাচ্ছে ওরা। আরও দূরে কোথাও, স্বল্প খরচে থাকার তাগাদায়। এখানকার সবকিছুর উপর কেমন মায়া পড়ে গেছে। উঠোন ঘেরা ভাঙ্গা দেয়ালটা, চালার উপর আঁকড়ে থাকা সীমের গাছ, কল ঘরের টিউবওয়েলের জং ধরা শব্দ আর... রুমি। অচেনা এই ছেলেটাকে নিজের হারানো সেই ভাইয়ের স্থানে কবে যে বসিয়ে ফেলেছে পারুল, নিজেও জানে না। আহারে মায়া... এভাবেই মায়ায় মায়ায় শুরু হয় প্রতিটি ভোর। প্রহর শেষেও থেকে যায় এর রেশ। শেষ বিকেলের আলোয় জানালার গ্রিল ধরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে পারুলরা... জীবনের চাওয়া, পাওয়ার হিসাব মেলাতে মেলাতেই কেটে যায় নির্ঘুম রাত, এরপর......... আসে আরও একটি ভোর। আর রুমিরা, অনিশ্চিত পথের ধার ঘেঁষেই যাদের বেড়ে উঠা, যখন পারুলের মতন কেউ আপন ভেবে কাছে টেনে নেয়, পেয়ে যায় স্বর্গীয় আনন্দ। ইচ্ছে করে, পুরো পৃথিবীর মানুষকে ডেকে বলুক, ‘আমারও পারুল আপার মতন একটি বোন আছে!’ দিন শেষে ওদেরও মায়ায় জেঁকে ধরে। আগামী কাল ‘মাটির পরী’ হাতিয়ে নিয়ে, পারুল আপাকে উপহার দেবার ভাবনায় কেটে যায় কত না সময়! ওদেরও নতুন ভোর আসে... সেই ভোরেই হয়ত একদিন হুট করে জানতে পারে, ‘পারুল আপারা’ আর নেই। হারিয়ে গেছে কোথাও। মানুষটা হারিয়ে যায়, মায়াটা রয়েই যায়। গড়িয়ে পড়ে, ধুলোমাখা গালের তামাটে চামড়ায় অশ্রুরূপে। অথবা, স্নেহময়ী বোনের স্বচ্ছ চোখের মাঝেই ঢেউ খেলিয়ে মিলিয়ে যায়। (সমাপ্ত)


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৩২ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রুমি—০৪ (শেষ পর্ব)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now