বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X আহমদ মুসা গাড়ি থেকে বেরিয়েই টেলিফোন করেছিল জেনারেল মোস্তফাকে। তাকে খবরটা মানে বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসির উদ্ধারের খবর দিলে জেনারেল মোস্তফা কয়েক মুহূর্ত বিস্ময় ও আনন্দে কথা বলতে পারেনি। তারা আহমদ মুসাকে ধন্যবাদ দিয়ে বলে, ‘এখানে বড় ঘটনা ঘটেছে। এসে বলব। আমরা আসছি। আপনারা সাবধান থাকবেন।‘ আহমদ মুসা জেনারেল মোস্তফার সাথে কথা বলার পর প্রথমেই এল আইজ্যাক বেগিনের লাশের কাছে। আহমদ মুসা তাকে ‘থ্রি জিরো’র ইউরোপীয় প্রধান হিসেবে চেনেন না। নামও জানে না। কিন্তু ইউরোপীয় চেহারা ও বিজ্ঞানীর বহনকারী গাড়ির প্রধান হিসেবে দেখে নিশ্চিত হয়েছে একজন খুব বড় নেতা হবেন। আহমদ মুসা তাকে সার্চ করল। পকেট থেকে পেল মোবাইল ও একটি মানিব্যাগ। মানিব্যাগে কিছু ডলার ও টার্কিশ লিরা পেল। তার সাথে মানিব্যাগের কয়েন কেবিনে একটি সীম এবং মাইক্রো চিপ পেল আহমদ মুসা। সীম ও চিট পকেটে রেখে মোবাইলটা হাতে নিল। মেনু বাটনে চাপ দেবার জন্যে আঙুল তুলেছিল আহমদ মুসা। আঙুল মেনু বাটন স্পর্শ করার আগেই মোবাইল নতুন মেসেজের সংকেত দিয়ে উঠল। আহমদ মুসার আঙুল থেমে গেল। মেসেজের সংকেত শেষ হবার পর আহমদ মুসা মেসেজটা দেখার জন্যে উদগ্রীব হয়ে উঠল। এই সময় আসা মেসেজ নিশ্চয় জরুরি ও গুরুত্বপূণ হবে। যিনি মেসেজ পাঠিয়েছেন, তিনি জানেন না এখানে কি ঘটেছে। মেসেজটি ওপেন করল আহমদ মুসা। মাত্র কয়েকটি শব্দের একটি মেসেজ: Change Direction to 101 Barbaros Boulevard ম্যাসেসের শেষে প্রেরকের নাম Dy লেখা। চট করেই আহমদ মুসার মনে পড়ল Dy বর্ন দুটির অর্থ David, Yahood, এই ডেভিড ইয়াহুদ তুরস্কে ‘থ্রি জিরো’র প্রধান। তিনি একে মেসেজ পাঠিয়েছেন যে, গতি পরিবর্তন করে ১০১ বারবারোজ বুলেভার্ডে যাও। মানে বন্দী বিজ্ঞানীকে অন্য কোন ঠিকানায় যাবার কথা ছিল, শেষ মুহুর্তে কোন কারণে গন্তব্য চেঞ্জ করে নতুন ঠিকানা ১০১ বারবারোজ বুলেভার্ডে যেতে বলা হয়েছে। গাড়ির শব্দ পেল আহমদ মুসা। মোবাইলটা অফ করে পকেটে রেখে দিল। ফিরে দাঁড়িয়ে দেখল কয়েকটি পুলিশের গাড়িসহ দু’টি কার এসে দাঁড়িয়েছে। দু’টি কারের একটি থেকে নামছে জেনারেল মোস্তফা, অন্যটি থেকে পুলিশ প্রধান নাজিম এরকেন। আহমদ মুসা এক ধাপ, দু’ধাপ করে তাদের দিকে এগোলো। আর তারা দু’জন ছুটে এল আহমদ মুসার দিকে। তারা দু’জন এক সাথেই জড়িয়ে ধরল আহমদ মুসাকে। জেনারেল মোস্তফা বলল, ‘খালেদ খাকান, আপনি আমাদের সকলের গর্ব। আল্লাহ আপনাকে দীর্ঘজীবী করুন।‘ আর পুলিশ প্রধান বলল, ‘আল্লাহ আপনাকে সবচেয়ে ভালোবাসেন, কারন আপনি সব বান্দাকে ভালোবাসেন। এজন্য বিজয় সব সময় আপনার হাতেই ধরা দেয়।‘ পুলিশ প্রধানের কণ্ঠ আবেগে ভারি হয়ে উঠেছে। ‘চলুন দেখবেন বিজ্ঞানী ড. আন্দলুসিকে।‘ বলল আহমদ মুসা। আহমদ মুসার পেছনে এসে দাঁড়িয়েছিল সাইমি ইসমাইল ও আয়েশা আরবাকান। তাদের উপর চোখ পড়তেই পুলিশ প্রধান সাইমি ইসমাইলকে স্বাগত জানিয়ে আয়েশা আরবাকানকে বলল, ‘তুমি এখানে কি করে?’ আয়েশা কিছু বলার আগেই আহমদ মুসা বলল, ‘উনি এই অপারেশনে আমার সাথী।‘ বিস্ময়ে চোখ কপালে তুলল পুলিশ প্রধান। আয়েশা প্রতিবাদে কিছু বলতে যাচ্ছিল, তার আগেই আহমদ মুসা বলল, ‘চলুন বিজ্ঞানী একা আছেন।‘ ‘চলুন।‘ বলল জেনারেল মোস্তফা। জেনারেল মোস্তফা ও নাজিম এরকেন ঘুরে দাঁড়িয়ে কয়েক ধাপ সামনে এগোতেই দেখতে পেল আইজ্যাক বেগিনকে। তাকে দেখেই চমকে উঠল তারা। বলল, ‘ইনি তো আইজ্যাক বেগিন। ইনি ইহুদীবাদী একটি গোপন আন্দোলনের ইউরোপীয় নেতা। কি আশ্চর্য! ইনি এস্তাম্বুলে এসেছেন এবং কিডন্যাপের সাথে ইনিও জড়িত!’ ‘যে গাড়িতে বিজ্ঞানী ও সাইমি ইসমাইলকে পাওয়া গেছে, সেই গাড়িতে ইনি এবং ইউনির্ভাসিটি অব টেকনোলজির একজন ছাত্র ছিল। এ দেখুন তার লাশ।‘ সামনের একটা লাশের দিকে ইংগিত করে বলল আহমদ মুসা। জেনারেল মোস্তফা ও নাজিম এরকেন সামনে এগিয়ে ছাত্রটিকেও দেখল। পুলিশ প্রধান বলল, ‘চিনতে পেরেছি। এর ছবি আমাদের ছাত্র অপরাধী ফাইলে রয়েছে। এর বিরুদ্ধে রহস্যজনক গতিবিধির অভিযোগ রয়েছে।‘ ‘এখানে কতজন মারা গেছে মি. খালেদ খাকান?’ জিজ্ঞাসা জেনারেল মোস্তফার। ‘গুলীতে চারজন। অন্য ছয় জন গাড়ির একসিডেন্টএ?।‘ বিজ্ঞান ড. আন্দলুসি যে গাড়িতে আছেন, সে গাড়ির পাশে সবাই এসে পৌছেছে। আহমদ মুসা জেনারেল মোস্তফাদের লক্ষ্য করে বলল, ‘জেনারেল মোস্তফা, কথা আদায়ের জন্যেই নিশ্চয় বিজ্ঞানীকে বৈদ্যুতিক শক দেয়া হয়েছিল। তিনি অসুস্থ। তাকে একটু ঠান্ডায় রাখা হয়েছে। আসুন তাঁর সাথে কথা বলুন।‘ বলে গাড়ির দরজা খুলল আহমদ মুসা। দরজা খুলতেই বিজ্ঞানী ড. আন্দলুসি উঠে বসছিলেন। ‘স্যার, আপনি শুয়ে থাকুন তুরস্কের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা প্রধান জেনারেল মোস্তফা এবং পুলিশ প্রধান জনাব নাজিম এরকেন এসেছেন। তারা একটু দেখা করবেন আপনার সাথে।‘ জেনারেল মোস্তফা ও নাজিম এরকেন গাড়ির ভেতর দিকে এগোলো। আহমদ মুসা সরে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য বসার জায়গা করে দিয়ে বলল, ‘আপনারা তার সাথে বসুন। আমি আসছি।‘ বলে আহমদ মুসা সরে এল। একটু দূরে দাঁড়িয়েছিল সাইমি ইসমাইল ও আয়েশা আরবাকান। আহমদ মুসা ওদের লক্ষ্য করে বলল, ‘পুলিশ এখনি লাশগুলোকে নিয়ে যাবে। আপনার আইজ্যাক বেগিন বাদে অন্য নিহতদের পকেটগুলো সার্চ করে দেখুন। পকেটের কাগজপত্র ও মোবাইলগুলো কাজে লাগতে পারে।‘ ‘ঠিক স্যার। ধন্যবাদ, আমরা দেখছি।‘ বলে ওরা দু’জন কাজে লেগে গেল। আহমদ মুসা দাঁড়াল গাড়ি ঠেস দিয়ে। তার মাথায় একটা চিন্তা অবিরাম ঘুরপাক খাচ্ছে। সেটা হলো, তাদের অপারেশনের একটা মধ্যবর্তী সময় তারা গন্তব্য পরিবর্তন করল কেন? হঠাত তার মনে হলো, ডেভিড ইয়াহুদের ওখানে কি ঘটেছে তার মধ্যে এ প্রশ্নের উত্তর নিহিত থাকতে পারে, কারণ ডেভিড ইয়াহুদই গন্তব্য চেঞ্জ করেছেন। জেনারেল মোস্তফা ও নাজিম এরকেন এল এ সময়। আহমদ মুসা জেনারেল মোস্তফাকে লক্ষ্য করে বলল, ‘জেনারেল মোস্তফা, আপনি টেলিফোনে বলছিলেন যে, ওখানে কি একটা নাকি ঘটেছে?’ ‘হ্যাঁ, সাংঘাতিক ঘটনা ঘটেছে খালেদ খাকান। এখনি ছুটতে হবে প্রধানমন্ত্রীর ব্রিফিং-এ। আমাদের অসুস্থ প্রধান বিচারপতি মিলিটারি এ্যাম্বুলেন্সে সামরিক হাসপাতালে যাচ্ছিলেন, ওরা পালানোর পথে এই এ্যাম্বুলেন্স কিডন্যাপ করেছে। দু’তিন মিনিট পরেই ফাতিহ সুলতান মোহাম্মদ বাইপাশ সড়কের ওপ্রান্তের জংশন এলাকা থেকে খবর এল, সেখানে রাস্তার পাশে মিলিটারী এ্যাম্বুলেন্সকে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ‘ওরা মানে এই আইজ্যাক বেগিনের কিডন্যাপাররা?’ আহমদ মুসার জিজ্ঞাসা। ‘হ্যাঁ ওদের চারটি গাড়ির তিনটিই আমাদের পুলিশের হাতে পড়ে। ধরা পড়া নিশ্চিত যেনে ওরাই ওদের গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে উড়িয়ে দেয় এবং সবাই মারা পড়ে। কিন্তু বুলেটপ্রূফ গাড়িটা আমাদের তিনজন পুলিশের লাশের উপর দিযে পালাতে সক্ষম হয়। ওরাই কিডন্যাপ করে এ্যাম্বুলেন্সটিকে।‘ জেনারেল মোস্তফা বলল। ‘এ্যাম্বুলেন্সকে কিডন্যাপ করল কেন? ওরা কি জানত যে, এ্যাম্বুলেন্সে প্রধান বিচারপতি আছেন?’ বলল আহমদ মুসা। ‘না, ওরা বুলেটপ্রুফ গাড়ি ছেড়ে দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স নিয়েছিল। জংশন-৬ এলাকা নিরাপদে পার হবার জন্যেই তারা এ্যাম্বুলেন্সের কভার নিয়েছিল।‘ জেনারেল মোস্তফা বলল। ‘বুঝলাম, প্রধান বিচারপতির পরিচয় পাবার পর তারা তাকেঁ কিডন্যাপ করার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু আমি বুঝতে পারছি না তাঁকে দিয়ে কি করবে ওরা? ড. আন্দালুসীকে কিডন্যাপ করার সুস্পষ্ট কারণ রয়েছে। তাঁর ক্ষেত্রে তো এরকম কোন কারণ নেই।’ বলল আহমদ মুসা। জেনারেল মোস্তফা বলল, ‘তাদের পরিত্যাক্ত মিলিটারী এ্যাম্বুলেন্সে একটা চিঠি পাওয়া গেছে। তাতে লেখা হয়েছে, ‘বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসিকে উদ্ধার করার প্রচেষ্টা অবিলম্বে পরিত্যাগ করতে হবে। তার প্রমাণ হিসেবে অবিলম্বে খালেদ খাকানকে তুরস্ক থেকে বহিস্কার করতে হবে। এ দু’টি নির্দেশ মানা না হলে প্রধান বিচারপতিকে হত্যা করা হবে।’ হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘এখন তাহলে কি? বিজ্ঞানী তো উদ্ধার হয়ে গেছেন।’ বলল আহমদ মুসা। ‘এখন ভয় হলো, ক্রুদ্ধ হয়ে তারা যেন প্রধান বিচারপতিকে হত্যা না করে বসে।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। চোখে-মুখে তার উদ্বেগ। আহমদ মুসা কথা বলার জন্যে মুখ খুলেছিল। এ সময়েই বেজে উঠল জেনারেল মোস্তফার টেলিফোন। ‘এক্সকিউজ মি!’ বলে জেনোরেল মোস্তফা মোবাইল তুলে নিল। মোবাইল স্ক্রীনে প্রধানমন্ত্রীর নাম্বার দেকে চমকে উঠে মুখের কাছে মোবাইল এনে বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম, স্যার, আমি মোস্তফা কামাল। কিছু আদেশ স্যার?’ ওপার থেকে প্রধানমন্ত্রী কথা বলল। ওপারের কথা শুনে বলল, ‘স্যার, ড. আন্দালুসি এখন ভালো আছেন।’ ওপার থেকে প্রধানমন্ত্রী আবার কথা বলল। তার কথা শুনে জেনারেল মোস্তফা বলল, ‘স্যার, এখনি তাঁকে বলছি। জি স্যার, ব্রিফিং-এ আমি তাঁকেও নিয়ে আসব। তিনি আমার পাশেই আছেন স্যার।’ ‘জি স্যার, তাকে মোবাইল দিচ্ছি।’ বলল ওপারের কথা শুনে জেনারেল মোস্তফা। জেনারেল মোস্তফা মোবাইলটি আহমদ মুসার দিকে তুরে ধরে বলল, ‘জনাব খালেদ খাকান, মহামান্য প্রধানমন্ত্রী।’ আহমদ মুসা মোবাইলটি হাতে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়ে বলল, ‘আপনি ভালো আছেন স্যার?’ ‘ধন্যবাদ স্যার। আমি যা করেছি, আমার জায়গায় অন্য কেউ হলে সেও নিশ্চয় তা পারতো।’ বলল আহমদ মুসা ওপারের কথা শুনে। ‘এক্সকউজ মি স্যার, আমি মনে করি ওদের ফলো করাই এখন প্রথম কাজ। আমি একটা পরিকল্পনা অলরেডি করে ফেলেছি।’ ওপারের কথা শুনে বলল আহমদ মুসা আবার। ‘ধন্যবাদ স্যার, মহামান্য প্রেসিডেন্টকে আমার সালাম দেবেন। নিশ্চয় দু’একদিনের মধ্যেই আমি আপনাদের সাথে দেখা করব।’ বলল আহমদ মুসা আবার। ‘দোয়া করুন স্যার, আমি যা ধারণা করেছি তা যেন ঠিক হয়। আমি জনাব জেনারেল মোস্তফাকে টেলিফোন দিচ্ছি। আসসালামু আলাইকুম।’ আহমদ মুসা মোবাইলটা আবার জেনারেল মোস্তফাকে দিল। জেনারেল মোস্তফা টেলিফোন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনে ‘জি’ ‘জি’ করে অবশেষে বলল, ‘স্যার, মি. খালেদ খাকান অবশ্যই সব ব্যাপারে স্বাধীন স্যার। আমরা তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করছি। তাঁর সাথে পরামর্শ করেই আমরা আসছি স্যার।’ সালাম দিয়ে মোবাইল রেখে দিল জেনারেল মোস্তফা। মুখ তুলল আহমদ মুসার দিকে। বলল, ‘প্রধান বিচারপতির কিডন্যাপের বিষয়ে আপনি কি ভাবছেন, সে বিষয়ে সহযোগিতা করাকেই আমাদের প্রধান কাজ বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। বলুন মি. আহমদ মুসা আমরা কি করতে পারি?’ ‘ঘটনার পর আইজ্যাক বেগিনের মোবাইল নিয়ে আমি যখন ‘মেনু’ উইনডো ওপেন করতে যাচ্ছিলাম, তখন একটা মেসেজ আসে তার মোবাইলে। মেসেজে একটা নতুন ঠিকানা দেয়া হয়েছে। সব কার্যকারণ বিচার করে আমার মনে বলছে, এই ঠিকানায় আমরা প্রধান বিচারপতিকে পাব। এই ঠিকানাকেই আমি এখন টার্গেট করতে চাচ্ছি।’ বলল আহমদ মুসা। জেনারেল মোস্তফা ও পুলিশ প্রধান নাজিম এরকেনসহ সকলের মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। বলল পুলিশ প্রধান,‘ঠিকানাটা কি?’ ‘১০১ বার্বারোস বুলেভার্ডে।’ আহমদ মুসা বলল। আহমদ মুসার মুখে ঠিকানাটা উচ্চারিত হতেই সাইমি ইসমাইলের চোখে-মুখে চাঞ্চল্য দেখা দিল। সে বলল আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে,‘স্যার এ সম্পর্কে আমিও একটা তথ্য দিতে পারি।’ সবাই তাকাল সাইমি ইসমাইলের দিকে। ‘ওয়েলকাম মিস সাইমি ইসমাইল, বলুন।’ বলল আহমদ মুসা। ‘স্যার, আমাদেরকে আজ যখন গাড়িতে তোলা হচ্ছিল, তখন আইজ্যাক বেগিনের মোবাইলে একটা কল আসে। তিনি কলটি রিসিভ করে এ কথাগুলো বলেছিলেন, ১০১ বার্বারোস বুলেভার্ড রেডি? ধন্যবাদ। আমাদের লক্ষ্য এখন পিয়েল পাশা বুলেভার্ড। এটা কাছে।’ সাইমি ইসমাইল বলল। ‘ধন্যবাদ সাইমি ইসমাইল। আপনার এই তথ্য ১০১ বার্বারোস বুলেভার্ডকে কনফার্ম করল। আসলে শুরুতে গন্তব্য পিয়েল পাশা বুলেভার্ড ছিল। কিন্তু সম্ভবত তাদের গাড়ি বহর আক্রান্ত হওয়া এবং প্রধানবিচারপতিকে কিডন্যাপ করায় পিয়েল পাশা বুলেভার্ড কাছে বলেই ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়, অথবা সেখানে অন্য কোন অসুবিধা দেখা দেয়, তার ফলেই তারা গন্তব্যস্থান হিসেবে ১০১ বার্বারোস বুলেভার্ডকে ঠিক করে।’ থামল আহমদ মুসা। সংগে সংগেই পুলিশ প্রধান প্রধান নাজিম এরকেন বলে উঠল, ‘আলহামদুলিল্লাহ। ঠিকানা সম্পর্কে আপনার কথা ঠিক। এখন আমাদের কি করণীয় স্যার?’ ‘দয়া করে ১০১ বার্বারোস ঠিকানাটার চারপাশে আপনাদের লোকদের সাদা পোশাকে এমনভাবে অবস্থান নিতে বলুন, যাতে কারও মনে সামান্য সন্দেহের উদ্রেকও না হয়। এ ঠিকানায় ঢুকতে কাউকে তারা বাধা দেব না। কিন্তু কেউ বেরুলে তাকে ফলো করবে এবং নিরাপদ জায়গায় তাকে আটক করবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘অল রাইট’ বলে পুলিশ প্রধান একটু সরে দাঁড়িয়ে তার পকেট থেকে মিনি অয়্যারলেস বের করে নির্দেশ দিতে শুরু করল। ‘এরপর করণীয় কি মি. খালেদ খাকান?’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘আমাদের লক্ষ্য হলো, প্রধান বিচারপতিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা।’ বলে একটু থামল আহমদ মুসা। একটু ভাবল, তারপর বলল, ‘বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসি ওদের হাত ছাড়া হওয়া এবং আইজ্যাক বেগিনের পরিণতির কথা জানতে পারলে ওরা ক্ষ্যাপা কুকুরের মত হবে। রাগের মাথায় ওরা প্রধান বিচারপতির ক্ষতি করতে পারে। এই সম্ভাবনা রোধের জন্যে অবিলম্বে তাকে উদ্ধারের পদক্ষেপ নিতে হবে।’ থামল আহমদ মুসা। ‘আপনি কি উদ্ধার অভিযানের পরিকল্পনা নিয়ে কিছু ভেবেছেন?’ জিজ্ঞাসা পুলিশ প্রধান নাজিম এরকেনের। ‘উদ্ধার অভিযান এমন হবে যা শেষ মুহূর্তের আগে ওরা টের পাবে না। টের পেলে ওরা মরিয়া হয়ে প্রধান বিচারপতিকে হত্যাও করে ফেলতে পারে। উদ্ধার অভিযানের বিষয় যখন তারা টের পাবে, তখন তাদের করার কিছুই থাকবে না, এই ব্যবস্থা আমাদের করতে হবে।’ আহমদ মুসা আহমদ মুসা বলল। ‘সে ব্যবস্থার কথাই ভাবুন মি. খালেদ খাকান।’ বলল জেনারেল মোস্তফা। চোখ বন্ধ করেছিল আহমদ মুসা। ভাবছিল সে। জেনারেল মোস্তফা থামতেই আহমদ মুসা বলে উঠল, দু’একজনকে ঐ বাড়িতে ওদের অলক্ষ্যে প্রবেশ করতে হবে। তাদের কাজ হবে প্রধান বিচারপতিকে সাহায্য করা, নিরাপদ করা। তারা সংকেত দিলে, তারপর ঐ ঠিকানায় সর্বাত্মক অভিযান পরিচালিত হবে।’ থামল আহমদ মুসা। সবাই নিরব। ভাবছে সবাই। সব শেষে সবাই তাকাল আহমদ মুসার দিকেই। জেনারেল মোস্তফা বলল,‘এ ব্যাপারে আপনি নিশ্চয় কিছু ভাবছেন মি. খালেদ খাকান?’ ‘আমাকে ওরা তুরস্ক ছাড়া করতে চাচ্ছে, আমিই আগে দেখা করতে চাই ওদের সাথে।’ বলল আহমদ মুসা। তার মুখভরা হাসি। কিন্তু হাসতে পারল না আর কউ। বলল জেনারেল মোস্তফা,‘আপনি একা?’ ‘ওদের নজর এড়াবার জন্যে একাই সবচেয়ে ভালো। তাছাড়া এই মুহূর্তে দ্বিতীয় জনের সিলেকশন মুস্কিল।’ আহমদ মুসা বলল। ‘জেনারেল তাহির তারিক আংকারা থেকে ফিরেছেন, তাঁর সাথে কি একটু কথা বলবেন?’ জিজ্ঞাসা জেনারেল মোস্তফার। ‘সময় কম। এই সময়ে তার উদ্বেগ বাড়িয়ে লাভ নেই।’ আহমদ মুসা বলল। ‘আমি খুব সামান্য একজন কমান্ডো। আমি ও আমার সাথীরা সেদিন বিজ্ঞানী স্যারের কিডন্যাপ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছি। এরপরও আমি কি আমার সহযোগিতা অফার করতে পারি?’ বলল সাইমি ইসমাইল। ‘বোন ভাইকে এমন সহযোগিতা অফার করাটাই স্বাভাবিক। সেদিন তোমরা ব্যর্থ হওনি বোন। তুমি ছাড়া সবাই তো সেদিন জীবন দিয়েছে। বিজ্ঞানীর স্ত্রী মনে না করলে তোমাকেও ওরা মেরে ফেলত। সেদিন দিনটা ওদের ছিল, পরিকল্পনাও ছিল ওদের। তাই বিজয়ও ওদের হয়েছে। কিন্তু তোমরা সেদিন ব্যর্থ হওনি।’আহমদ মুসা বলল। আবেগে মুখ ভারি হয়ে উঠেছিল সাইমি ইসমাইলের। তার দুধে-আলতা রংয়ের গালে স্ফটিকের মত দু’ফোটা অশ্রুও নেমে এসেছিল। বলল, ‘তাহলে কি ভাইয়ের সাথী হতে পারব আমি?’ আবেগরূদ্ধ কণ্ঠ সাইমি ইসমাইলের। মিষ্টি হাসি ফুটে উঠল আহমদ মুসার ঠোঁটে। বলল, ‘আমাদের ঐতিহ্য হলো, এ ধরনের লড়াই-এ বোনরা শুরুতেই শামিল হয় না। বিবি খাওলাদের ডাক পড়ে যুদ্ধের পরিনতি পর্বে। জেনারেল মোস্তফা ও জনাব নাজিম এরকেনের সাথে আজকে তুমিও থাকবে যুদ্ধের সমাপ্তি টানার অভিযানে।’ ‘ধন্যবাদ। কষ্ট হলেও ভাইদের সিদ্ধান্ত মেনে নেয়া বোনদেরও ঐতিহ্য।’ বলল সাইমি ইসমাইল চোখ মুছতে মুছতে। ‘আরেক বোনের তো কথা বলা হচ্ছে না! বোনরা সবসময় আবদার করেই কি অধিকার আদায় করবে?’ বলল আয়েশা আরবাকান। হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘তুমি তো আমার সাথেই আছ। তোমার দুই রিভলবারের সবগুলো গুলিই তুমি খরচ করেছ এই অভিযানে। আমি মোস্তফা ও জনাব নাজিম এরকেনের কাছে তোমার নামও রিকমেন্ড করব এই অভিযানে শামিল করার জন্য।’ ‘জনাব খালেদ খাকান, আয়েশা আরবাকানও আমাদের মহিলা কমান্ডো ইউনিটের একজন চৌকশ সদস্য। তাকে আমরা ওয়েলকাম করব এই অভিযানে।’ বলল পুলিশ প্রধান নাজিম এরকেন। ‘ধন্যবাদ মি. নাজিম এরকেন।’ বলেই আহমদ মুসা তাকাল জেনারেল মোস্তফার দিকে। বলল, ‘আমার গাড়ি ওরা ঝাঁঝরা করে দিয়েছে। একটা গাড়ির ব্যবস্থা করুন। আমি এখনি বের হতে চাই।’ ‘চলুন, আমরা ড. আন্দালুসিকে নিয়ে মিলিটারী হাসপাতাল পর্যন্ত একসাথে যাই। ওখানেই একটা ভাল গাড়ি আপনার জন্য থাকবে। প্রয়োজনীয় কমব্যাট ব্যাগও পাবেন তাতে।’ কথা শেষ করে একটু থেমেই জেনারেল মোস্তফা আবার বলল, ‘আমি ভাবছি, আপনি ১০১ বার্বারোস বুলেভার্ড ঠিকানায় পৌঁছে আমাদেরকে একটা সঙ্কেত দেবেন। আপনার সঙ্কেত পাওয়ার পর আমরা ওদিকে মুভ করব। যাতে আপনি বাড়িতে প্রবেশের বিশ-পঁচিশ মিনিটের মধ্যে আমরা সেখানে পৌঁছতে পারি।’ ‘ধন্যবাদ, ঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চলুন আমরা মুভ করি হাসপাতালের দিকে।’ ‘চলুন। মি. খালেদ খাকান আপনি সাইমি ইসমাইল ও আয়েশা আরবাকানকে নিয়ে ড. আন্দালুসির সাথে বুলেটপ্রুফ গাড়িতে বসুন। সাইমি ইসমাইলই গাড়িটা ড্রাইভ করবে।’ বলে জেনারেল মোস্তফা তার গাড়ির দিকে এগোলো। অন্যেরাও এগোলো তাদের গাড়ি লক্ষ্যে। স্টার্ট নিল সবগুলো গাড়ি। জেনারেল মোস্তফা ও পুলিশ প্রধান নাজিম এরকেনের গাড়ি সবার আগে। তারপরে বিজ্ঞানীকে নিয়ে আহমদ মুসাদের বুলেটপ্রুফ গাড়ি। সবার পেছনে পুলিশের দুটি গাড়ি। গাড়ির ছোট্ট বহরটি এগিয়ে চলল মিলিটারী হাসপাতালের দিকে।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৯ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now