বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৩

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X সাইমুম-৪৬ ৩ ফাতিহ পাশা পার্কের পূর্ব-দক্ষিন পাশের রাস্তার ওধারে সম্ভাব্য সবগুলো এলাকা তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখেছে ৩৯৫ নং বাড়ি। অবশেষে ৩৯৫ নাম্বার একটা বাড়ি সে পেয়েছে, তা পার্কের প্রায় দক্ষিণ-পশ্চিম কোনে এবং বাড়িটাও একটা পুলিশ ফাঁড়ি। ক্লান্ত আহমদ মুসা পুলিশ ফাঁড়ির সামনে একটা বেঞ্চিতে বসে পড়ল। পার্কের দক্ষিণ-পশ্চিম দিকের বাড়িগুলো থেকে শুরু করে পশ্চিম-উত্তরের এই প্রান্ত পর্যন্ত বাড়িগুলোর নাম্বার তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। ফাতিহ পাশা পার্কের সত্যিকার দক্ষিণ পশ্চিম যাকে বলে, সেখানে বাড়ি রয়েছে মাত্র বিশটি। বাড়িগুলোর নাম্বার ৩৪৬ থেকে ৩৬৫ পর্যন্ত। তারপর ৩৯৭ পর্যন্ত অবশিষ্ট বাড়িগুলো রয়েছে পার্কের দক্ষিণ এবং দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের প্রান্ত পর্যন্ত। সাবাতিনি কি তাকে ভুয়া নাম্বার দিয়েছে? না সে নিজে প্রতারিত হয়েছে? এ দুটোর কোনটিই সম্ভব নয়। সাবাতিনি তাকে ভুয়া নাম্বার দিতে পারে না। অন্যদিকে সাবাতিনি প্রতারিত হলে প্রফেসর আলী আহসান বেগভিচ নির্দেশিত বাড়িতে সে পৌঁছাবে কি করে? সাবাতিনির ওখানে পৌছা বেগভিচদের জন্যেই প্রয়োজনীয়। তাহলে? উত্তর খুঁজতে গিয়ে হঠাৎ আহমদ মুসার মনে পড়ল প্রফেসর বেগভিচরা যে বাড়ির নাম্বারে সাবাতিনিকে ডেকেছিল, সাবাতিনি আসার পর তার নাম্বার আবার পাল্টে ফেলেছে। এটাই ঘটেছে নিশ্চয়। কিন্তু কোন নাম্বারকে ৩৯৫ বানাল? যে কোন নাম্বারকেই পাল্টাতে পারে। আবার চিন্তায় বুঁদ হয়ে গেল আহমদ মুসা। তার মনে প্রশ্ন জাগল, নাম্বার ৩৯৫ বানাল কেন? যে নাম্বারটিকে সে চেঞ্জ করেছে সে নাম্বারের সাথে ৩৯৫ নাম্বারের কি মিল আছে? মিল থাকাটাই স্বাভাবিক। ধাঁধার সাইকোলজি এটাই যে অঙ্কগুলো ঠিক থাকে, চেঞ্জ হয় অঙ্কের বিন্যাস। এখানে যদি তাই করা হয়ে থাকে, তাহলে তিনটি অঙ্ক দিয়ে ছয় সেট সংখ্যা তৈরি করা যায়। সেগুলো হলো ৩৯৫,৩৫৯,৯৫৩,৯৩৫,৫৯৩ এবং ৫৩৯। এই ছয় সেট সংখ্যার যেকোন একটি হবে আসল সংখ্যা। ভাবলও অনেকক্ষণ আহমদ মুসা। ঠিকানার একটি প্রধান বিষয় ছিল বাড়িটা ফাতিহ পাশা পার্কের পূর্ব-দক্ষিন কোনে। এই দিক নির্দেশনাকে প্রধান ধরলে এই ছয় সেট চারটিই অর্থাৎ ৯৫৩, ৯৩৫, ৫৯৩ এবং ৫৩৯ বাদ হয়ে যায়। কারণ সংখ্যাগুলো ফাতিহ পাশা পার্কের রাস্তার বিপরীত দিকের কোন পাশেরই সংখ্যা নয়। ৩৯৫ যে আসল সংখ্যা নয় তা এ থেকে প্রমাণ হয়েছে। তাহলে একমাত্র ৩৫৯ সংখ্যাটিই বাকি থাকে। সুতরাং এই সংখ্যাটিই হতে পারে আসল ঠিকানা। আহমদ মুসার মনটা প্রসন্ন হয়ে উঠল। তার মনে হলো তার হিসেবে কোন ভুল নেই, ৩৫৯-ই হবে সেই বাঞ্ছিত নাম্বার। আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। গাড়িতে উঠে ছুটল ৩৫৯ নাম্বার বাড়ির দিকে। দক্ষিণ দিক থেকে যাচ্ছে বলে ৩৫৯ নাম্বার বাড়িটা রাইট লেনে পড়েছে, সে যাচ্ছে লেফট লেন ধরে। সুতরাং তাকে আরও উত্তরে টার্ন ঘুরে বাড়িটার দিকে ফিরে আসতে হবে। টার্নটা ৩৫৯ নাম্বার বাড়ির দু তিনটি বাড়ির উত্তরেই। আহমদ মুসা টার্ন ঘুরে দ্বিধাহীনভাবে গাড়ি চালিয়ে এসে ৩৫৯ নাম্বার বাড়ির সামনে দাড় করাল। বাড়িটা চারতলা। আহমদ মুসা ঠিক করেই এসেছে, একজন ট্যাক্স গোয়েন্দার পরিচয় নিয়ে সে বাড়িতে ঢুকবে, বাড়িটার ভাড়া সংঙ্ক্রান্ত সব কাগজপত্র সার্চ করার পরোয়ানা নেবে। গোয়েন্দার আইডেন্টিটি কার্ড তার পকেট এ রয়েছে। তুরস্কের মত দেশে কোন বাড়িতে প্রবেশের ক্ষেত্রে এর চেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা আর নেই। পুলিশ কিংবা গোয়েন্দা পুলিশের উপস্থিতি জানলে বাড়ির অনেকেই সরতে পারে। যার ফলে শিকার ভাগতে পারার সম্ভাবনা থাকে। ট্যাক্স-গোয়েন্দাকে মানুষ বাড়িতে ঢুকতে দেখলে অসন্তুষ্ট হয়, উদ্বিগ্ন হয়, কিন্তু পালায় না কেউ। আহমদ মুসা তার গাড়ি গেটের সামনে দাড় করিয়ে নামল গাড়ি থেকে। বাম পাশেই গেটবক্স। আহমদ মুসা গেটবক্সের দিকে যাবার জন্য পা বাড়িয়েছে, ঠিক সে সময়েই গেটের বিশাল দরজাটা দ্রুত ডান দিকে সরে গিয়ে উন্মুক্ত করে দিল গেট। কিছুটা বিস্মিত আহমদ মুসা পকেটে হাত পুরেই উন্মুক্ত দরজা দিয়ে ভেতরে তাকাল। চোখ পড়ল সরাসরি লাল তুর্কি টুপিধারি একজন লোকের উপর। চোখে গোল্ডেন ফ্রেমের সানগ্লাস। তার স্থির দৃষ্টি আহমদ মুসার দিকে। তার ডান হাতের রিভলবার আহমদ মুসার দিকে উঠে আসছে। চোখ পড়তেই আহমদ মুসা তাকে চিনতে পেরেছিল। রিভলবার উঠে আসা দেখেই বুঝেছিল কি ঘটতে যাচ্ছে। বাম দিকে দেহটাকে ছুড়ে দিয়েছিল আহমদ মুসা। প্রায় তার সাথে সাথেই গুলিরও শব্দ হয়েছিল। আহমদ মুসার কোটের ডান হাতার একটা অংশ ছিঁড়ে নিয়ে গুলিটা চলে গেল। বাম দিকে ছিটকে যাবার সময় আহমদ মুসাও রিভলবার ধরা বাম হাত পকেট থেকে বের করে এনেছিল। আঙ্গুলটাও ছিল ট্রিগারে। মাটিতে পড়ার আগেই ট্রিগার টিপেছিল আহমদ মুসা। গেটের সামনের জায়গা নিচু ও ঢালু। গুলীটা কিছুটা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলো। ডান হাতকে টার্গেট করা গুলীটা গিয়ে বিদ্ধ হলো প্রফেসর বেগভিচের হাঁটুতে। আহমদ মুসা মাটিতে পড়ে স্থির হবার আগেই ব্রাশ ফায়ারের শব্দ ভেসে এল। এক ঝাঁক গুলী ছুটে এল সেই সাথেই। আহমদ মুসা নিরাপদেই দ্রুত গড়িয়ে গেটবক্সের দিকে সরে গেল। ব্রাশ ফায়ার থামলো না। গেটের সামে দাঁড়ানো আহমদ মুসার গাড়ি ঝাঁঝরা হয়ে গেল। গুলীবৃষ্টি এসে গেটবক্স ঘিরে ধরল। আহমদ মুসা লক্ষ্য করল, গুলির আওয়াজটা ক্রমশ নিচে আসছে। গুলী শুরু হয়েছিল দু’তলা থেকে। মনে হয় ওরা ক্রমশ নিচে নেমে আসছে। আহমদ মুসা গেটবক্সকে সামনে রেখে উঠে দাঁড়াল। এগোলো গেটবক্সের দিকে। গেটবক্সের দরজায় চাপ দিতেই তা খুলে গেল। গেটবক্সের আরেকটা দরজার দিকে আর গেটবক্সের ভেতর ও বাহির দু’দিকেই পর্যবেক্ষণ জানালা। ভেতরের পর্যবেক্ষণ জানালা দিয়ে আহমদ মুসা উঁকি দিল বাইরে। প্রথমেই চোখ পড়ল সিঁড়ি ঘরের দিকে। সিঁড়ি ঘরটা জানালা থেকে সামনে সোজা সামনে একটা ছোট চত্বরের ওপারে। দক্ষিণ দিকে ঘুরেই দেখতে পেল হাঁটুতে গুলিবিদ্ধ প্রফেসর বেগভিচ ডান পাটা টেনে নিয়ে গাড়ির ড্রাইভিং সিট এ উঠে বসেছে। আহমদ মুসা বুঝল সে পালাচ্ছে। সংগে সংগেই আহমদ মুসা রিভলবার তাক করল প্রফেসর বেগভিচের গাড়ির সামনের চাকা। নির্ভুল নিশানা। একটা গুলী গিয়ে বিদ্ধ হলো সামনের চাকার পেটে। শব্দ তুলে চাকাটা দেবে গেল। প্রফেসর বেগভিচ তাকাল গেটবক্সের দিকে। তার রিভলবার থেকে কয়েকটা গুলী ছুটে এল গেটবক্স লক্ষ্যে। ওদিকে সিঁড়িঘরের দিক থেকেও ছুটে এল গুলীর ঝাঁক। সম্ভবত গুলীর শব্দ থেকে তারা আহমদ মুসার অবস্থান আঁচ করে নিয়েছে। আহমদ মুসা আড়াল থেকে ব্রাশ ফায়ারের উৎস সিঁড়ি ঘরের দিকে নজর রেখে এক হাতে রিভলবার ধরে অন্য হাতে দ্রুত মোবাইলে একটা কল করল পার্কে অপেক্ষমাণ গোয়েন্দাদের। তাদেরকে বাড়ির নাম্বার দিয়ে এদিকে আসতে বলল। গেটবক্সের জানালা লক্ষ্যে গুলীবৃষ্টি অব্যাহতভাবে চলছে। আহমদ মুসা বুঝতে পারছে, ওরা গুলীর দেয়াল সৃষ্টি করে এদিকে অগ্রসর হতে চাচ্ছে। অব্যাহত গুলীর কারণে সিঁড়িঘরের দিকে নজর রাখতে পারছে না আহমদ মুসা। আড়ালে দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে এমন জায়গায় চোখ রেখেছে তার মানে ওরা সামনে মুভ করতে চাইলে সে জায়গা তাদের অতিক্রম করতেই হবে। তবে আহমদ মুসার দিক থেকে গুলীর শব্দ না পেয়ে ওরা সম্ভবত বিভ্রান্তিতে পড়ে যাবে যে, আহমদ মুসা পালাল কিনা। এরকমটা তারা ভাবলে এমন কিছু করে বসবে যা তাকে সুযোগ করে দেবে। ওদিকে ব্রাশ ফায়ার হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেল। আহমদ মুসা তার দিক থেকে কোন প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করল না। ওরা কিছু করবে বলে যা ভেবেছিল আহমদ মুসা, সেটাই ঘটছে মনে করল সে। ট্রিগারে আঙুল চেপে রুদ্ধশ্বাসে অপেক্ষা করল আহমদ মুসা। হঠাৎ ব্রাশ ফায়ার আবার শুরু হলো। এবার গুলীর লক্ষ্য শুধু জানালা নয়, গুলী এখন গেটকেই কভার করেছে। দু’একটা গুলী জানালা লক্ষ্য করে আসছে। এই গুলীর আড়ালে ষ্টেনগান বাগিয়ে গুঁড়ি মেরে মেরে দু’জন দৌড় দিয়েছে সিঁড়িঘর থেকে গেটের দিকে। এমন সুযোগের জন্যেই ওঁৎপেতে ছিল আহমদ মুসা। তার রিভলবার দু’বার অগ্নিবৃষ্টি করল। চত্বরটার মাঝখানে ওদের দু’টি লাশ ঢলে পড়ল। এর জবাব এল ওদিক থেকে। দুই ষ্টেনগান থেকে বৃষ্টির মত গুলী ছুটে এল জানালা লক্ষ্যে। এই সময় গেটবক্সের বাইরে অনেকগুলো পায়ের শব্দ পাওয়া গেল। আহমদ মুসা দ্রুত মাথা নিচু করে গেটবক্স থেকে বাইরে এল। বেরিয়েই দেখতে পেল সাদা পোশাকের সাতজন গোয়েন্দা পুলিশ। আহমদ মুসা নিজের পরিচয় দিয়ে বলল, ‘ভেতরে চারজন ষ্টেনগানধারী ছিল। দু’জন মারা গেছে। দু’জন সিঁড়ি ঘরে লুকিয়ে থেকে গুলী করছে। আসল শিকার প্রফেসর বেগভিচ আহত অবস্থায় চত্বরের গাড়িতে বসে আছে। তাকে পালাতে দেয়া যাবে না।‘ ‘ধন্যবাদ স্যার, ওয়েল ডান স্যার। আমরা দেখছি। আমাদের সাথে বুলেটপ্রুফ গাড়ি আছে।‘ বলে সে সাথীদের দিকে ফিরল। বলল, ‘রেডি।’ তারা এগোলো গাড়ির দিকে। গুলী-গোলার শব্দ শুনে পুলিশের দু’টো গাড়িওঁ এসে দাঁড়িয়েছিল। গোয়েন্দা অফিসার একটু এগিয়ে গিয়ে তাদেরকেও কিছু নির্দেশ দিল। নির্দেশের সংগে সংগেই, পুলিশের দু’টি গাড়ি বাড়ির দু’পাশের দু’দিকে এগোলো। তাদের দৃষ্টি বাড়িটার পেছন দিকে। গোয়েন্দা পুলিশরাও তাদের গাড়িতে উঠে বসেছে। পুলিশরা দু’দিক থেকে বাড়ির পেছন দিকে এগিয়ে যাবার পর গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি গেট পার হয়ে ছুটল সিঁড়ি ঘরের দিকে। তাদের গাড়িতে ফিট করা গান থেকেও গুলীবৃষ্টি হচ্ছে। ওদিক থেকে গুলী বন্ধ হয়ে গেল। আহমদ মুসা ছুটল গাড়ির দিকে। ওদের গুলীর কভার নিয়ে আহত প্রফেসর বেগভিচ পালাতেও পারে, এ আশংকা আছে। গেট পার হতেই গাড়ির ভেতরটা চোখে পড়ল আহমদ মুসার। প্রফেসর বেগভিচকে দেখা পেল না। তাহলে কি প্রফেসর বেগভিচ সত্যিই পালাল! মনটা খারাপ হয়ে গেল আহমদ মুসার। তবুও দ্রুত গিয়ে আহমদ মুসা দাঁড়াল গাড়ির পাশে। গাড়ির ভেতরে চোখ যেতেই আহমদ মুসা দেখতে পেল গাড়ির সিটে ঢলে পড়ে আছে প্রফেসর বেগভিচের দেহ। এবার নতুন আশংকা আহমদ মুসার মনে, পটাশিয়াম সাইনাইড কি প্রফেসর বেগভিচকেও কেড়ে নিল তাদের হাত থেকে! প্রফেসর বেগভিচের নীল হয়ে যাওয়া মুখের উপর ভালো করে নজর পড়তেই নিশ্চিত হলো তার আশংকাই ঠিক। আহমদ মুসা গাড়ির দরজা খুলে ফেলল। প্রফেসর বেগভিচকে সার্চ করতে চায় সে। প্রফেসর বেগভিচ কোথায় বেরুচ্ছিল গাড়ি নিয়ে। বেরুবার মুখেই সে আহমদ মুসার মুখোমুখি হয়েছে। অপ্রস্তুত অবস্থায় সে ধরা পড়েছে। সুতরাং তার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কিছু পাওয়া অসম্ভব নয়। প্রফেসর বেগভিচের প্যান্টের পকেটে একটা রুমাল এবং একগোছা চাবি সমেত একটা রিং পেল। কোটের দুই সাইড পকেটের একটিতে একটি সিগারেট লাইটার পেল, অন্য পকেটে পাসপোর্ট এবং এয়ার লাইন্সের একটি টিকিট পাওয়া গেল। আহমদ মুসা দেখল, টিকিটটা ইস্তাম্বুল-তেলআবিব (ইসরাইল) রুটের। তার মানে, প্রফেসর বেগভিচ ইসরাইল যাবার জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল, ভাবল আহমদ মুসা। সিগারেট লাইটার একই সাথে মিনি বন্দুক ও ক্যামেরাও। এই সিগারেট লাইটারের পিনাকৃতির বুলেট ৬ ফিটের মধ্যে যে কোন শিকারকে তাৎক্ষণিক মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিতে পারে। পিনাকৃতি বুলেটের মাথায় বিশেষভাবে মাখানো থাকে পটাশিয়াম সাইনাইড। সিগারেট লাইটার পকেটে পুরল আহমদ মুসা। কোটের ভেতরের দুই পকেটের একটিতে পেল একটি মানিব্যাগ, অন্যটিতে চামড়ার কভারের মধ্যে পেল একটা ‘মাইক্রো ভিসিডি’।‘ দারুণ খুশি হলো আহমদ মুসা। এই মাইক্রো ভিসিডিও ‘মাইক্রো চিপস’-এর মতই এক একটা মেমোরি সাগর। মাইক্রো ভিসিডিটাও পকেটে পুরল আহমদ মুসা। মানিব্যাগে পেল ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা আইডি কার্ড এবং এক হাজার ডলারের অনেকগুলো নোট। টাকা ও আইডি কার্ড সমেতই মানি ব্যাগটা আহমদ মুসা প্রফেসর বেগভিচের পকেটেই আবার রেখে দিল। আহমদ মুসা গাড়ি থেকে বেরিয়ে এল। গোয়েন্দা পুলিশের গাড়ি সিঁড়ি ঘরের সামনে দাঁড়িয়েছিল। আহমদ মুসা বুঝল, বন্দুকধারীদের অনুসরণ করে গোয়েন্দারা বাড়িতে ঢুকে গেছে। আহমদ মুসা মোবাইল বের করে কল করল জেনারেল মোস্তফা কামালকে। প্রফেসর বেগভিচের পরিণতিসহ এখানকার সব কথা জানিয়ে বলল, ‘প্রফেসর বেগভিচ ইসরাইল যাবার জন্যে বেরুচ্ছিলেন। তাঁর পকেটে যা পাওয়া গেছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো একটা মাইক্রো ভিসিডি। আমার মনে হয় এটা কাজে লাগতে পারে।‘ ওপ্রান্ত থেকে জেনারেল মোস্তফা বলল, ‘ধন্যবাদ। আপনি চলে আসুন। আমি গোয়েন্দা অফিসারকে বলে দিচ্ছি তারা কয়েকজন পুলিশকে পাহারায় রেখে অবশিষ্ট পুলিশ দিয়ে লাশগুলো নিয়ে এখানে চলে আসবে। আর এদিকের খবর ভালো। সাবাতিনিকে নিরাপদে তার দায়িত্ব পালন করতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার হাত কেঁপে যাবার ফলে ‘ট্রান্সমিশন চিপস বুলেট’টা হেলিকপ্টারের পেটে পেষ্ট না হয়ে টপে পেষ্ট হয়েছে।‘ ‘ঠিক আছে, সে সন্দেহের শিকার না হলেই হয়। ট্রিপল জিরোর লোক বা লোকরা উপস্থিত থেকে নিশ্চয় সবকিছু অবজারভ করেছে।‘ আহমদ মুসা বলল। ‘না, সন্দেহ করার মত কিছুই ঘটেনি। হেলিকপ্টার দর্শকের ষ্টাইলে সে রিভলবার কোটের আড়ালে রেখেই গুলী ছুঁড়তে পেরেছে। কিন্তু আমি ভাবছি খালেদ খাকান, প্রফেসর বেগভিচ মারা যাবার পর তার এই নতুন ঠিকানার খোঁজ জানার ব্যাপারে সন্দেহের তীর সাবাতিনির দিকে নিক্ষিপ্ত হতে পারে।‘ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল। ‘তার সম্ভাবনা আছে। আবার নেইও বলা যেতে পারে। গেটে আকস্মিক দেখা হয়েছে, এটাই তাদের মনে হতে পারে। তাছাড়া হেলিকপ্টারে ‘ট্রান্সমিশন চিপ’ স্থাপনের তার দায়িত্ব সে ঠিক ঠিক পালন করেছে। তবু তার উপর নজর রাখার ব্যবস্থা করুন। সাবাতিনির মাধ্যমে তাদের কাজ যদি শেষ হয়ে থাকে, তাহলে সাবাতিনিকে পথের কাঁটাও ভাবতে পারে।‘ আহমদ মুসা বলল। ‘আপনি ঠিক বলেছেন। আমি এখনি ব্যবস্থা করছি। দু’জন গোয়েন্দা তার উপর সার্বক্ষনিক নজর রাখবে। ঠিক আছে, আপনি চলুন প্লিজ।‘ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল। ‘ওকে। আসছি আমি। আসসালামু আলাইকুম।‘ আহমদ মুসা রেখে দিল মোবাইল। গোয়েন্দা কয়েকজনও এসে পৌঁছল। অফিসার আহমদ মুসার সামনে এসে বলল, ওদের ধরা গেল না স্যার। বাড়িতে একটা সুড়ঙ্গ পথ আছে। সে পথেই ওরা পালিয়েছে। সুড়ঙ্গ পথটা একটা ষ্ট্ররস সোয়ারেজে গিয়ে মিলেছে। প্রফেসর বেগভিচের খবর কি স্যার ?’ ‘সে নেই। ধরা পড়ার চাইতে পটাশিয়াম বিষ নেয়া সে বেশি পছন্দ করেছে।‘ আহমদ মুসা বলল। ‘ও গড! তাহলে আমাদের মিশনটাই ব্যর্থ।‘ বলল গোয়েন্দা অফিসারটি। ‘না, আমাদের মিশন ব্যর্থ হয়নি। শুনুন অফিসার, আপনারা পুলিশের সাথে লাশগুলো নিয়ে আসুন। আমি জেনারেল মোস্তফার ওখানে যাচ্ছি। আপনারা আসুন।‘ আহমদ মুসা বলল। আহমদ মুসা ঘুরে দাঁড়াল গেটের দিকে। দেখল, জেনারেল মোস্তফার পাঠানো গাড়িটাও এসে পৌঁছেছে। আহমদ মুসা গাড়িতে গিয়ে উঠল। গাড়ি ষ্টার্ট নিল। গাড়ি তখন বসফরাস ব্রীজের গোড়ায় পৌঁছেছে। মোবাইল বেজে উঠল আহমদ মুসার। মোবাইল ধরতেই ওপার থেকে জেনারেল মোস্তফা বলল, ‘দুঃসংবাদ খালেদ খাকান, আমাদের লোকরা এই মাত্র খবর দিল যে, সাবাতিনি পাহাড় থেকে পড়ে মাথা ফেটে মারা গেছে।‘ ‘ইন্নালিল্লাহি...।‘ আহা, সরল, সোজা, রহস্যপ্রিয় মেয়েটা! আমরা তাকে বাঁচাতে পারলাম না।‘ বলল আহমদ মুসা। ‘স্যরি খালেদ খাকান। ও যে এত তাড়াতাড়ি সন্দেহের শিকার হবে তা বোঝা যায়নি।‘ জেনারেল মোস্তফা কামাল বলল। ‘কিন্তু জেনারেল, সে সন্দেহের শিকার নাকি তার প্রয়োজন ওদের শেষ হয়ে যাওয়ায় ওরা পথ পরিষ্কার করেছে, তা বলা মুস্কিল। আমি আসছি। জেনারেল, সিজলির ‘ওয়েসিস’ বাড়িটায় সার্বক্ষনিক পাহারায় যেন ঘাটতি না হয় দেখবেন প্লিজ।‘ ‘সে বিষয়ে নিশ্চিন্ত থাকুন। ওয়েসিসে যাবার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যতগুলো পথ আছে, সবগুলোর উপরে গোপনে চোখ রাখা হয়েছে। ওরা তাদের চোখ এড়াতে পারবে না।‘ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল। ‘ধন্যবাদ জেনারেল। আর কোন কথা ?’ আহমদ মুসা বলল। ‘না, ধন্যবাদ। আসুন।‘ ‘ওকে জেনারেল। আসসালামু আলাইকুম।‘ মোবাইল রাখল আহমদ মুসা। জেনারেল মোস্তফা কামাল তার অফিসে তার চেয়ারে বসতে বসতে বলল, ‘ভিসিডিতে কি আছে তা জানতে সত্যিই আমার তর সইছে না। ভিসিডিটা দিন মি. খালেদ খাকান।‘ টেবিলের এপাশে বসেছিল আহমদ মুসা, জেনারেল তারিক ও প্রধানমন্ত্রীর সিকিউরিটি এডভাইজার ড. মোহাম্মদ আইদিন। আহমদ মুসা পকেট থেকে ভিসিডিটা বের করে জেনারেল মোস্তফার হাতে দিল। জেনারেল মোস্তফা আগ্রহের সাথে ভিসিডিটা হাতে নিয়ে কম্পিউটারে সেট করে প্লে অপশনে ক্লিক করে বলল, ‘প্রফেসর বেগভিচ দেশ থেকে বেরুবার সময় ভিসিডিটা পকেটে রেখেছিল, তখন এটা শূন্য নয় নিশ্চয়।‘ কম্পিউটার স্ক্রীন সচল হলো। মুহুর্তের জন্য ধোঁয়াটে হয়ে উঠল কম্পিউটার স্ক্রীন। একটু পর ধোঁয়া কেটে গিয়ে বেরিয়ে এলো বসফরাস। স্ক্রীনের সেন্ট্রাল পয়েন্টে এসে গেল বসফরাস তীরের রোমেলী দুর্গ। হঠাৎ আবার ধোঁয়ায় ঢেকে গেল স্ক্রীনটা। এই ধোঁয়ার মধ্যেই যেন একটা সুড়ঙ্গ নেমে এল। সুড়ঙ্গটা গোটা কম্পিউটার স্ক্রীন জুড়ে বিস্তৃত হলো। সুড়ঙ্গটা দ্রুত উপরে উঠে আসতে লাগল, তার সাথে দৃষ্টিটা ছুটল সুড়ঙ্গের বটমের দিকে। উধাও হয়ে গেল সুড়ঙ্গ। ফুটে উঠল একটা কক্ষের দৃশ্য। কক্ষটি নানারকম জটিল কলকব্জা ও কম্পিউটারে ঠাসা। চোখ ছানাবড়া হয়ে উঠেছে জেনারেল তাহির তারিকের। চিৎকার করে বলল, ‘এ যে আমাদের প্রধান বিজ্ঞানী ড. আন্দালুসির ল্যাব। এই ছবি এ সিডিতে কি করে এল!’ ‘সর্বনাশ। বাইরের আমরা দু’একজন ছাড়া তো এই ল্যাব আর কেউ দেখেনি। কোন ধরণের ক্যামেরা ভেতরে যাবার প্রশ্নই নেই। এ ছবি উঠল কি করে।‘ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল। আহমদ মুসার চোখে বিস্ময় নয়, উদ্বেগ ফুটে উঠেছে। তার স্থির দৃষ্টি ছিল ছবির এংগেলের দিকে। কক্ষের দৃশ্যটা স্থির ছিল না। একেকটা যন্ত্র-যন্ত্রাংশের উপর একেক সময় স্থির হচ্ছিল। মূল ফোকাসের সময় যন্ত্র-যন্ত্রাংশের ছবিগুলো এতই বড় হচ্ছিল যে, সূচের ডগা পরিমাণ বিন্দুও মার্বেলের মত বড় মনে হচ্ছিল। হঠাৎ দৃশ্যপট পাল্টে গেল। উবে গেল ল্যাব-কক্ষের দৃশ্য। স্ক্রীনে এল বিরাট একটা হলঘরের ছবি। ঘরটা ভর্তি নানারকম, নানা আকারের দুর্বোধ্য সব যন্ত্রপাতি, ক্রুজ মিসাইল ধরণের ও রকেটলাঞ্চার আকারের দ্রব্যে ভর্তি। হলঘরটা যেমন একটা ক্রিকেট মাঠের মত বিস্তৃত, তেমনি জাম্বোজেটের মত উঁচু। এই ঘরের দৃশ্যের উপর চোখ পড়তেই জেনারেল তাহির তারিক এবং জেনারেল মোস্তফা কামাল দু’জনেই এক সাথে চিৎকার করে উঠল, ‘সর্বনাশ, কি দেখছি আমরা। এযে আমাদের আইআরটির টপ সিক্রেট রিসার্চ-ট্রেজার এবং গ্রাউন্ডের দৃশ্য!’ আর কারো মুখ থেকেই কোন কথা উচ্চারিত হলো না। সকলের পলকহীন দৃষ্টি কম্পিউটার স্ক্রীনে ফুটে উঠা দৃশ্যের দিকে। কম্পিউটার স্ক্রীনে ছবির ফোকাস একেকটা যন্ত্র বা আইটেমের উপর গিয়ে পড়ছে। বিস্ময়ের ব্যাপার যন্ত্র বা আইটেমের সূক্ষ্ম খাঁজসহ একমাত্র বটম ছাড়া সব দিকের দৃশ্যই পরিষ্কার দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। এমন মাল্টি ডাইমেনশনাল ছবি কি করে সম্ভব! এ প্রশ্নও বিস্ময় বিস্ফোরিত চোখগুলোতে। ছবির ফোকাস এক এক করে সবগুলো জটিল যন্ত্রপাতি, ক্রুজ মিসাইল ও রকেটলাঞ্চার ধরণের জিনিস এবং ছোট-খাট সব দ্রব্যাদির উপর দিয়ে ঘুরল প্রায় স্থির গতিতে। আধা ঘন্টা সময় তখন পার হয়ে গেছে। হঠাৎই ঘরের দৃশ্য উবে গেল। অন্ধকার নেমে এল স্ক্রীনে। ভিডিও’র দৃশ্য স্ক্রীন থেকে চলে গেলেও দর্শকদের চোখগুলো যেন আঠার মত লেগে আছে স্ক্রীনে। অনেকক্ষণ কথা বলল না কেউ। জেনারেল মোস্তফা কামাল, জেনারেল তাহির তারিক, প্রধানমন্ত্রীর সিকিউরিটি এডভাইজার ড. মোহাম্মদ আইদিনদের চোখে-মুখে ভয় ও উদ্বেগের চিহ্ন। আহমদ মুসার মুখে কিন্তু স্বস্তির চিহ্ন। আইআরটির তথ্যাদি সম্বলিত মহাগুরুত্বপুর্ণ এ ভিডিও চিত্র বাইরে পাচারের উদ্যেগ আল্লাহ্‌ ব্যর্থ করে দিয়েছেন। জমাট নিরবতার মধ্যে প্রথম কথা বলে উঠল জেনারেল মোস্তফা কামাল। বলল, ‘আল্লাহ্‌ রক্ষা করুন, আমাদের আইআরটি’র কিছুই তো ওদের অজানা নেই। কিন্তু এ ছবি তারা তুলল কি করে। ভেতরে ক্যামেরা প্রবেশ করার ব্যাপারটা অসম্ভব।‘ ‘ঠিক বলেছেন জেনারেল মোস্তফা। এমন ছবি তোলা অসম্ভব। যাদের ল্যাব, টেষ্টিং গ্রাউন্ড ও রিসার্চ ট্রেজারে প্রবেশের অনুমতি আছে, তারা ছাড়া ঐ সব স্থানে প্রবেশ করা যে কোন কারও পক্ষে অসম্ভব।‘ ‘ঠিক বলেছেন জেনারেল মোস্তফা। এমন ছবি তোলা অসম্ভব। যাদের ল্যাব, টেষ্টিং গ্রাউন্ড ও রিসার্চ ট্রেজারে প্রবেশের অনুমতি আছে, তারা ছাড়া ঐ সব স্থানে প্রবেশ করা যে কোন কারও পক্ষে অসম্ভব। আর যাদের প্রবেশ করার অনুমতি আছে, তাদের বিশ্বস্ততা প্রশ্নাতীত। তাহলে এটা ঘটল কি করে ?’ বলল জেনারেল তাহির তারিক। ‘আমার মনে হয় উপগ্রহের বিশেষ ক্যামেরা থেকে এসব ছবি উঠেছে। উপগ্রহ থেকে ভু-অভ্যন্তরের বিভিন্ন রকমের ছবি তোলা এখন একটা সাধারণ ব্যাপার। আইআরটি’র গোপন তথ্য যোগাড়ে তারা ভূ-উপগ্রহ ব্যবহার করেছে দেখা যাচ্ছে।‘ প্রধানমন্ত্রীর সিকিউরিটি এডভাইজার ড. মোহাম্মদ আইদিন বলল। আহমদ মুসা চেয়ারে সোজা হয়ে বসল। বলল, ‘ভিডিও চিত্র আকাশ থেকে কিংবা উপগ্রহের ক্যামেরা থেকে তোলা নয়। ছবির ফোকাসগুলো উপর থেকে নয়, বিভিন্ন কৌণিক এঙ্গেলে এসেছে। এমন এংগেল ভূ-পৃষ্ঠের বাইরে হতে পারে না। কোন পাহাড়, বা ব্রীজের উপর থেকেও তোলা হতে পারে ভিডিও চিত্রগুলো।‘ বিস্মিত জেনারেল মোস্তফা কামাল, আপনার ব্যাখ্যাই বেশি যুক্তিসংগত। কিন্তু এ ধরণের ক্যামেরা কি আছে ?’ ‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ষ্ট্রাটেজিক রিসার্চ সম্প্রতি এ ধরণের ক্যামেরা তৈরি করেছে। ভূ-পৃষ্ঠ থেকেই এ ক্যামেরা ভূ-অভ্যন্তরের মাল্টি ডাইমেনশনাল ছবি তুলতে পারে। এ ক্যামেরার ফোকাস কৌণিকভাবে ভূগর্ভে প্রবেশ করলেও টার্গেটের উপর ফোকাসের ক্ষেত্রে কখনও তা ভার্টিকাল এবং বিভিন্ন উচ্চতায় সমান্তরাল হতে পারে। তার ফলে টার্গেটের একমাত্র তলদেশ ছাড়া সব পাশের সব এংগেলের ছবি তুলতে পারে। আমার মনে হচ্ছে সর্বাধুনিক এ ক্যামেরাই এখানে ব্যবহৃত হয়েছে।‘ বলল আহমদ মুসা। ‘কিন্তু আবিষ্কৃত হলেও এ ক্যামেরা তো মার্কেটে আসেনি। উইপনসের সবগুলো লেটেষ্ট মার্কেট রিপোর্ট আমার কাছে আছে। তাহলে ষড়যন্ত্রকারীরা এ ক্যামেরা পেল কি করে বুঝতে পারছি না।‘ জেনারেল মোস্তফা কামাল বলল। হাসল আহমদ মুসা। বলল, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা ও মার্কিন ষ্ট্রাটেজিক রিসার্চ ল্যাবের মালিকরা যদি কাছাকাছি হয়, তাহলে তো ঐ ক্যামেরা কেনার জন্য মার্কেটের প্রয়োজন হয় না!’ ‘আপনি কি তাই মনে করেন মি. খালেদ খাকান ?’ জিজ্ঞাসা ড. মোহাম্মদ আইদিনের। ‘এটা মনে করার কথা নয়, চোখেই দেখা যাচ্ছে ড. আইদিন। এই ভিডিও ক্যাসেট নিয়ে প্রফেসর বেগভিচ যাচ্ছিলেন ইসরাইলে। ইসরাইল আর মার্কিন বর্তমান শাসকদের একটি মহলের ষ্ট্রাটেজিক স্বার্থ একই। অতএব মার্কিন ষ্ট্রাটেজিক ল্যাব থেকে ইসরাইল ষ্ট্রাটেজিক ক্যামেরা পেতেই পারে। আর ইসরাইল ও ষড়যন্ত্রকারী ‘থ্রি জিরো’ হতে পারে একই স্বার্থের দুই নাম।‘ আহমদ মুসা বলল। ‘সর্বনাশ, আমাদের আইআরটি তাহলে এক মহাষড়যন্ত্রের মুখে। কিন্তু একটা কথা, ইসরাইলের সাথে আমাদের তুরস্কের সম্পর্ক তো খুবই বন্ধুত্বপূর্ণ। তার পরেও কি তারা আমাদের সাথে এতবড় একটা ষড়যন্ত্রের কাজ করতে পারে ?’ বলল ড. আইদিনই। হাসল আহমদ মুসা। কিন্তু আহমদ মুসা কিছু বলার আগেই উত্তরটা এল জেনারেল তাহিরের কাছ থেকে। বলল, ‘তুরস্ককে নিজের স্বার্থে সে বন্ধু মনে করে এবং ইসরাইল নিজের স্বার্থেই ওআইসির গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইআরটিকে তুরস্কে স্থান দেয়ার সিদ্ধান্তকে বৈরিতার চোখে দেখছে।‘ ড. আইদিন তাকাল জেনারেল তাহিরের দিকে। বলল, ‘ঠিক বলেছেন। এটাই কারণ। ওরা তুরস্কের বন্ধু, কিন্তু সেটা যখন ওদের জন্য লাভজনক।‘ একটু থামল ড. আইদিন। বলল সংগে সংগেই আবার, ‘ওদের ক্যামেরা আমাদের গবেষণাগারের সর্বত্র পৌছেছে। আমাদের অত্যন্ত স্পর্শকাতর গবেষণাগার আইআরটির কোন গোপনীয়তা আর অবশিষ্ট নেই। এখন আমাদের করণীয় কি ?’ ‘ভিসিডিটা এখনও ওদের হাতে পৌঁছেনি। ভিসিডিটা আগে যদি কোনওভাবে পাঠিয়ে দিত, তবে আজ এতটা ঝুঁকি নিয়ে প্রফেসর বেগভিচ এটা সাথে নিত না। তবে ভিসিডির কপি আরও কারো কাছে থাকতে পারে, তবে নাও থাকতে পারে। হতে পারে, প্রফেসর বেগভিচ নিজেই ব্রীজ থেকে ছবি নিয়েছিলেন আইআরটি গবেষনাগারের। তিনি ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিত প্রফেসর বলে তার মাধ্যমে ছবি নেয়াই ছিল নিরাপদ। আমার মনে হয়, সেটাই করা হয়েছে। মনে হয় ফাতিহ পাশা পার্ক সংলগ্ন ঐ বাড়িটা এবং প্রফেসরের বিস্ববিদ্যালয়ের কোয়ার্টার খোঁজ করলে ক্যামেরার সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। আর...।‘ আহমদ মুসা কথা শেষ করতে পারলো না। কথার মাঝখানেই বলে উঠল জেনারেল মোস্তফা কামাল, ‘ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ, আমি এখনই নির্দেশ দিচ্ছি অনুসন্ধান করে দেখার জন্যে।‘ ‘ধন্যবাদ জেনারেল। আমি যে কথা বলছিলাম। আমাদের করণীয় বিষয় নির্ভর করে ‘থ্রি জিরো’ কি করতে চায় তার উপর। আইআরটি গবেষণাগারের যে বিস্তারিত ছবি তারা সংগ্রহ করেছে, তা তারা তাদের অনেক কাজেই লাগাতে পারে। তবে তারা আইআরটির থিয়োরিটিক্যাল গবেষণা ও প্র্যাকটিক্যাল অর্জন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায়। এই জানার জন্যে তারা কি করছে, এটাই আমাদের দেখার বিষয়, সেই সাথে প্রতিরোধ-প্রতিকারের বিষয়ও।‘ আহমদ মুসা বলল। ‘ধন্যবাদ খালেদ খাকান। এটাই এখন প্রধান বিষয়।‘


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৬ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৭ (শেষ)
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৬
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৫
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৪
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৩
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ২
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now