বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ২

"সাইমুম সিরিজ" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ২ তোপকাপি ভিআইপি গোল্ড রিসোর্টের ভিআইপি ক্লিনিক। সংজ্ঞা ফেরেনি তখনও আহমদ মুসার। আহমদ মুসার মাথার কাছে একটা চেয়ারে বসে আছে ডোনা জোসেফাইন। কয়েকজন নার্স কক্ষটিতে। যে কোন নির্দেশের অপেক্ষায়। কক্ষে প্রবেশ করল কয়েকজন ডাক্তার। প্রধান ডাক্তার মানে ক্লিনিকের চীফ ডাঃ মোস্তফা সাইদ দ্রুত এগিয়ে এল ডোনা জোসেফাইনের দিকে। বলল, ‘ম্যাডাম সমস্ত পরীক্ষা শেষ। সব কিছু ওকে আছে। বুকে প্রচন্ড চাপের কারণে ফুসফুসে চাপ পড়ে ফলে অক্সিজেন শূন্য হয়ে যায় ফুসফুস। তার ফলেই সংজ্ঞা হারান তিনি। হার্ট, ব্রেন সব ঠিকমত কাজ করছে এখন। স্বাভাবিক হয়ে আসছেন তিনি।’ বলেই ডাঃ মোস্তফা সাইদ এগিয়ে গিয়ে আহমদ মুসার পালস দেখল। বলল, ‘আমি মনে করি, আর ক’মিনিটের মধ্যেই তাঁর জ্ঞান ফিরে আসবে।’ আহমদ মুসার হাতটা আস্তে আস্তে বেদে রেখে বলল, ‘ম্যাডাম, আমরা অফিসে আছি। কোন দরকার হলে নার্সকে বলবেন।’ ডাক্তার বেরিয়ে গেল। নার্সরাও। শুধু দু’জন নার্স থাকল। ডাক্তাররা সান্ত্বনা দিলেও উদ্বেগের কালো মেঘ জোসেফাইনের মুখ থেকে কাটেনি। তবে আগের সেই অস্থিরতা এখন নেই। ডাক্তাররা বেরিয়ে যেতেই জোসেফাইনের পারসোনাল সেক্রেটারি লতিফা আরবাকান নার্স দু’জনকে বলল, ‘সিস্টার, তোমরা বাইরে তোমাদের টেবিলে গিয়ে বস।’ ‘ইয়েস ম্যাডাম।’ বলে নার্স দু’জন বেরিয়ে গেল। কক্ষের দরজা বন্ধ হয়ে জেতেই লতিফা আরবাকান বলল, ‘ম্যাডাম, শয়তানদের কয়েকজন স্যারের বন্ধুর পরিচয় দিয়ে গোল্ড রিসোর্টে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। গোল্ড রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ ও পুলিশকে তারা আইডি কার্ড দেখিয়ে বলেছিল যে, ‘আমরা মিস্টার খালেদ খাকানের কর্মস্থল আইআরটিতে তাঁর সহকর্মী ও বন্ধু। আমরা খালেদ খাকানকে দেখতে এসেছি।’ পুলিশ আমার সাথে যোগাযোগ করলে, আমি তাদের নাম জানতে চেয়েছিলাম। যে পাঁচটি নাম তারা বলল, তাদের চারজনের নাম আইআরটির স্টাফদের সাথে মিলে গেল। একটি নামই শুধু নতুন। ইনি নাকি অফিসের নতুন রিক্রুট। যাদের নাম মিলে যায়, তাদের মধ্যে ডঃ শেখ বাজের নাম ছিল। ডঃ শেখ বাজের সাথে বছরখানেক আগে আমার ইস্তাম্বুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখা হয়েছিল। আমি তাঁর সাথে কথা বলতে চাইলাম। কথা বলে দেখলাম সে নকল লোক। আরবী ধাঁচে ইংরেজি বলার চেষ্টা করলেও আমার জানা কোনো তথ্যই সে ঠিক মত বলতে পারেনি। পুলিশ ওদের গ্রেফতার করতে চেয়েছিল। কিন্তু ওরা গোলা-গুলি চালিয়ে কয়েকজন পুলিশকে আহত করে পালিয়েছে। আপনার মনের উপর নতুন করে প্রেসার সৃষ্টি না হোক, এজন্যেই খবরটা আগে আপনাকে দেইনি।’ ‘ধন্যবাদ লতিফা। তুমি একটা বড় বিপদ থেকে আমাদের বাঁচিয়েছ। তুমি এতোটা সতর্ক না হলে বড় একটা কিছু ঘটতে পারতো। কিন্তু ওরা তো শক্তি বৃদ্ধি করে আবার ফিরে আসতে পারে।’ বলল জোসেফাইন। ‘সে সম্ভাবনা নেই। তোপকাপি প্রাসাদ ও সংলগ্ন গোটা এলাকায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। গোল্ড রিসোর্টকে সবদিক থেকে ঘিরে রেখেছে পুলিশ।’ ‘আলহামদুলিল্লাহ।’ বলল জোসেফাইন। এ সময় আহমদ মুসার দুই হাত নড়ে উঠল আর নড়তে লাগল তাঁর চোখের দুই পাতা। মুখটা উজ্জ্বল হয়ে উঠল জোসেফাইনের। বলল, ‘আলহামদুলিল্লাহ, ওর সংজ্ঞা ফিরে আসছে। যাও লতিফা তুমি আহমদ আব্দুল্লাহকে নিয়ে এস।’ লতিফা আরবাকান দ্রুত দরজার দিকে হাঁটতে শুরু করেও ফিরে দাঁড়াল। বলল, ‘ছোট সাহেবের ঘুম যদি না ভেঙ্গে থাকে?’ ‘আস্তে আস্তে সুড়সুড়ি দিয়ে ধীরে ধীরে ওর ঘুম ভাঙ্গিয়ে নিও। তার আব্বার কথা শুনলে দেখবে ঘুমের সব জড়তা তার চলে যাবে।’ জোসেফাইন বলল। ঘর থেকে বেরিয়ে গেল লতিফা আরবাকান। ধীরে ধীরে চোখ খুলল আহমদ মুসা। প্রথমেই তার দু’হাত নরম বেডের উপর বুলাল। তার খোলা চোখ কক্ষের ও জোসেফাইনের মুখে এসে নিবদ্ধ হতে রাজ্যের বিস্ময় নামল আহমদ মুসার চোখে। বলল, ‘জোসেফাইন তুমি! আমি কোথায়?’ জোসেফাইন ছুটে এসে আহমদ মুসার পাশে বসে তার চুলে হাত ধুঁকিয়ে বলল, ‘তুমি গোল্ড রিসোর্টের ক্লিনিকে।’ ‘আমি ছিলাম বসফরাসের পানিতে। এখানে এলাম কিভাবে? আর কাউকে দেখছি না, তুমি জানলে কিভাবে?’ বলল আহমদ মুসা। তার কণ্ঠে বিস্ময়। ‘বলছি। আল্লাহর হাজার শোকর। সোয়া দু’শ ফুট উঁচু থেকে কেউ লাফিয়ে পড়ার কথা ভাবতে পারে! আল্লাহ বাঁচিয়েছেন।’ বলল জোসেফাইন। ‘আলহামদুলিল্লাহ। কিন্তু আমি এখানে কি করে এলাম, এত দূরে, একেবারে তোমার এখানে!’ আহমদ মুসা বলল। ‘সব পরে জানাব। বসফরাস থেকে একটা বোট তোমাকে তুলে নিয়ে আয়ুব সুলতান ব্রীজের ঘাটে পৌঁছে। জটলা দেখে সেখানে হাজির হওয়া আমার বান্ধবী জেফি জিনা তোমাকে দেখে চিনতে পেরে তোমাকে উদ্ধার করে এখানে নিয়ে আসে।’ ‘মিস জেফি জিনা ওখানে? আমাকে উদ্ধার করার অর্থ কি? আমাকে কেউ কি বন্দী করেছিল?’ বল আহমদ মুসা। তার কণ্ঠে বিস্ময়। ‘সব আমি শুনিনি। তোমাকে নিয়ে সবাই আমরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম। তবে এটা লতিফা আমাকে বলেছে, তোমাকে এখানে আনার কিছুক্ষণ পরই চার পাঁচজন তোমার অফিস সহকর্মীর পরিচয় দিয়ে গোল্ড রিসোর্টে ঢোকার চেষ্টা করেছিল। লতিফা ওদের নাম শোনার পর ওদের ভুয়া পরিচয়ের কথা জেনে গোল্ড রিসোর্টে ঢুকতে দিতে নিষেধ করে। তখন পুলিশকে ওরা আক্রমণ করে। তিনজন পুলিশ আহত হলেও সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।’ একটু থামল জোসেফাইন। পরে বলল, ‘থাক এসব কথা। এসব নিয়ে তুমি এই মুহূর্তে ভেব না।’ ‘ভাবছি না, অবস্থাটা বুঝতে চেষ্টা করছি। বুঝতে পারছি, নদীতেও ওদের পাহারা ছিল। ওরাই......।’ জোসেফাইন আহমদ মুসার ঠোঁটের উপর হাত চাপা দিয়ে বলল, ‘প্লিজ, এসব বিষয় এখন থাক। আমাকে একটু সময় দাও। তোমাকে সংজ্ঞাহীন দেখে আমাদের দম বন্ধ হবার জোগাড় হয়েছিল।’ ভারী কণ্ঠ জোসেফাইনের। তার দুই চোখের কোনে অশ্রু চিক চিক করে উঠেছিল। আহমদ মুসা তাকাল জোসেফাইনের দিকে। গভীর, অন্তরঙ্গ দৃষ্টি। জোসেফাইনের একটা হাত ছিল আহমদ মুসার মাথায়, অন্য হাতটা ছিল বেডের উপর। আহমদ মুসা বেডের উপর থেকে জোসেফাইনের হাত তুলে নিয়ে টানল জোসেফাইনকে নিজের দিকে। জোসেফাইন বেডের উপর অনেকটা আলতোভাবে বসে ছিল। সে খসে পড়ল আহমদ মুসার বুকের উপর। আহমদ মুসার দু’হাত তাঁকে আঁকড়ে ধরতে যাচ্ছিল। জোসেফাইন আহমদ মুসার বুক থেকে তার মুখ তুলে তার হাতের বাঁধন থেকে বেরুতে বেরুতে বলল, ‘দরজায় নার্সরা বসে আছে, আহমদ আব্দুল্লাহও এখনি এসে পড়বে।’ জোসেফাইন উঠে বসেছে এই সময় দরজায় নক হলো। জোসেফাইন উঠে পাশের চেয়ারে বসতে বসতে বলল, ‘হ্যাঁ, ভেতরে আসুন।’ প্রবেশ করল একজন নার্স। তার হাতে কর্ডলেস টেলিফোন। বলল, ‘এক্সকিউজ মি ম্যাডাম, আপনার একটা কল এসেছে, জরুরি।’ ‘কার কল’ জিজ্ঞেস করল জোসেফাইন। ‘জেনারেল মোস্তফা কামাল ও জেনারেল তারিক।’ বলল নার্স। জোসেফাইন আহমদ মুসার দিকে একবার তাকিয়ে নার্সকে বলল, ‘নিয়ে এস টেলিফোন।’ জোসেফাইন টেলিফোন কানের কাছে তুলে নিয়ে বলল, ‘আসসালামু আলাইকুম। আমি জোসেফাইন মানে মিসেস খালেদ খাকান।’ ‘ওয়া আলাইকুম সালাম। আমি জেনারেল মোস্তফা কামাল। মিঃ খালেদ খাকান কোথায়? আমরা ভীষণ উদ্বিগ্ন।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল। ‘উনি গোল্ড রিসোর্টের ক্লিনিকে। জ্ঞান ফিরেছে। ভালো আছেন জনাব। টেলিফোন তাঁকে দিচ্ছি।’ জোসেফাইন বলল। ‘থাক, আমরা এখনি আসছি। আল্লাহ তাঁকে দ্রুত সুস্থ করে তুলুন।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল। ‘আসুন জনাব।’ ‘ওকে। আসসালামু আলাইকুম।’ বলল ওপার থেকে। জোসেফাইনও টেলিফোন রেখে দিল। ডাক্তাররা ভেতরে ঢুকল। ডাক্তাররা আহমদ মুসাকে স্বাগত জানিয়ে কিছু জরুরি জিজ্ঞাসাবাদ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করল। জোসেফাইন ঘরের একপাশে দাঁড়িয়েছিল। সে বিস্মিত হয়েছে। ডাক্তারদের কাউকে চিনতে পারছে না সে। হঠাৎ জোরে দরজা ঠেলে একজন ঘরে প্রবেশ করল। দ্রুত কণ্ঠে বলল, ‘সব ক্লিয়ার, তাড়াতাড়ি।’ তার কথা শেষ হতেই একজন ডাক্তারের হাতে রিভলবার উঠে এল। তাক করল আহমদ মুসাকে এবং চিৎকার করে বলল, ‘হারাজাদাকে ক্লোরোফরম করে বাঁধ।’ ডাক্তারবেশী তিনজন এগুলো আহমদ মুসার দিকে। তাদের একজনের হাতে ক্লোরোফরমের শিশি। ঘটনার আকস্মিকতায় জোসেফাইন প্রথমে বিমূড় হয়ে পড়েছিল। আহমদ মুসার দিকে রিভলবার তাক হতে দেখেই জোসেফাইন সম্বিত ফিরে পেল। দ্রুত ওড়নার আড়ালে হাত দিয়ে কাঁধে ঝুলন্ত ছোট ব্যাগের পকেট থেকে ছোট্ট একটা রিভলবার বের করে আহমদ মুসার দিকে রিভলবার তাক করে থাকা ডাক্তারকে লক্ষ্য করে প্রথম গুলী ছুঁড়ল সে। প্রথমেই আহমদ মুসাকে বেকায়দা অবস্থা থেকে মুক্ত করা তার লক্ষ্য। ডাক্তারটির মাথা গুড়িয়ে দিল জোসেফাইনের গুলী। গুলীর শব্দে অবশিষ্ট তিনজন ফিরে তাকিয়েছে জোসেফাইনের দিকে। যে লোকটি পরে ঘরে ঢুকেছিল, তারই চোখ প্রথম পড়েছিল জোসেফাইনের উপর। সংগে সংগে রিভলবার তুলে নিয়েছিল সে। জোসেফাইনও তার দিকে তাকিয়েছিল। সে নিশ্চিত ছিল আহমদ মুসাকে বাঁধতে ও ক্লোরোফরম করতে এগিয়ে যাওয়া তিনজনকে আহত মুসাই ম্যানেজ করতে পারবে। জোসেফাইনের রিভলবারই প্রথমে টার্গেট করেছিল লোকটিকে। সুতরাং জোসেফাইনের রিভলবারের বুলেটই প্রথমে আঘাত করল লোকটিকে। বুলেটটি বিদ্ধ হয়েছিল তার বুকে। তার রিভলবারেরও ট্রিগার টেপা হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বুলেটটি বিদ্ধ হবার পর মর্মান্তিক ঝাঁকুনি তার হাতকে কাপিয়ে দিয়েছিল। গুলীটি লক্ষভ্রষ্ট হয়ে জোসেফাইনের মাথার উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। ওদিকে আহমদ মুসা ওরা তিনজন একশন এ যাবার আগেই দু’পায়ের স্নেক নক ব্যবহার করে ওদের তিনজনকেই মাটিতে ধরাশায়ী করেছে এবং সংগে সংগেই উঠে দাঁড়িয়েছে। আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াবার সংগে সংগেই জোসেফাইন তার দিকে রিভলবার ছুড়ে দিয়েছিল। আহমদ মুসা ওদের দিকে রিভলবার তাক করে বলল, ‘যে যেভাবে আছ, সেভাবে থাক। নড়বার চেষ্টা করো না। তিনজনকে মারতে আমার তিন সেকেন্ডের বেশি সময় লাগবে না।’ এই সময় বাইরে অনেকগুলো পায়ের ছুটে আসার ভারী শব্দ পাওয়া গেল। পরক্ষনেই দরজা ঠেলে ছুটে এসে ঘরে প্রবেশ করল জেনারেল মোস্তফা কামাল, জেনারেল তারিকসহ কয়েকজন পুলিশ। ঘরে ঢুকেই চিৎকার করে উঠল জেনারেল মোস্তফা কামাল, ‘মিঃ খালেদ খাকান, আপনি ঠিক আছেন তো?’ ‘আলহামদুলিল্লাহ। পুলিশকে বলুন এ তিনজনকে এরেস্ট করতে, মিঃ জেনারেল মোস্তফা কামাল।’ বলল আহমদ মুসা। ‘হ্যাঁ, এরেস্ট কর তিনজনকে।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল। ওরা তিনজন তাকাল আহমদ মুসা, জেনারেল মোস্তফা, জেনারেল তাহির ও চারজন পুলিশসহ সবার দিকে। সবার হাতের রিভলবার, স্টেনগান তাদের দিকে তাক করা। তিনজন পুলিশ ওদের দিকে এগোচ্ছিল। চতুর্থজন পুলিশ অফিসার। সে বলল ঐ তিনজনকে লক্ষ্য করে, তোমরা উপুড় হয়ে শুয়ে পড়। পুলিশ অফিসারটির কর্কশ নির্দেশের সাথে সাথেই ওরা শুয়ে পড়ল উপুড় হয়ে এবং তার সাথে সাথেই দেখা গেল তাদের অনামিকা আঙ্গুল তাদের মুখে চলে গেছে। চমকে উঠে আহমদ মুসা লাফ দিয়ে ওদের সামনে গিয়ে পড়ল। একজনের আঙ্গুল টেনে বের করল তার মুখ থেকে। কিন্তু দেখল সব শেষ হয়ে গেছে। নীল হয়ে উঠেছে তার মুখ। ‘দুর্ভাগ্য, হাতে পেয়েও এদের জীবিত ধরা যাচ্ছে না।’ স্বগত কণ্ঠ আহমদ মুসার। ‘ওদের হাতের রিং এ পটাসিয়াম সায়ানাইডের মত কিছু ছিল নিশ্চয়!’ বলল জেনারেল মোস্তফা। ‘হ্যাঁ, মিঃ জেনারেল। আগের ঘটনাগুলোতে এধরনের বিষয়ই ছিল।’ আহমদ মুসা বলল। ‘প্রথম দু’জন দেখছি গুলীতে মরেছে। ওরা দু’জন নিশ্চয় আক্রমণে এসেছিল। এরা তিনজন আক্রমণে আসেনি?’ জিজ্ঞাসা জেনারেল মোস্তফার। ‘আসলে ওরা সকলেই এসেছিল ডাক্তারের ছদ্মবেশে আমার কাছে আসার সুযোগ নিয়ে আমাকে কিডন্যাপ করতে। এরা তিনজন এসেছিল আমাকে বাঁধতে এবং ওরা দু’জন রিভলবার নিয়ে আমাকে পাহারা দিচ্ছিল। আমি নিরস্ত তখন। আমি বাঁধাই পড়ে যেতাম যদি জোসেফাইন ওদের দুজনকে গুলী করে না মারতো। ওরা দু’জন মারা পড়ার পর আমি আক্রমণে যেতে সুযোগ পাই। আর তার রিভলবারও আমার দিকে ছুড়ে দেয়। সেটা দিয়েই ওদের নিষ্ক্রিয় করেছিলাম। তখনই আপনারা এসেছেন।’ আহমদ মুসা বলল। ঘরের একপাশে দাঁড়ান জোসেফাইনের দিকে না তাকিয়েই জেনারেল মোস্তফা কামাল বলল, ‘তাঁকে মোবারকবাদ। কৃতজ্ঞ আমরা তার প্রতি। আমাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যা পারেনি, সেটা তিনিই করেছেন।’ জেনারেল মোস্তফা কামাল থামতেই জেনারেল তারিক বলে উঠল, ‘শুধু তাই নয়, বেগম খালেদ খাকান যে বুদ্ধিমত্তা ও দৃঢ়তার সাথে সংজ্ঞাহীন জনাব খালেদ খাকানকে হর্নের আইয়ুব সুলতান ফেরিঘাট থেকে উদ্ধার করে এনেছেন, সেটা বিস্ময়কর। যারা বসফরাস থেকে উদ্ধার করে খালেদ খাকানকে আইয়ুব সুলতান ফেরিঘাট এ নিয়ে এসেছিল, তাদের হাত থেকে ষড়যন্ত্রকারীরা মিঃ খালেদ খাকানকে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু বেগম খালেদ খাকান সেখানে হঠাৎ গিয়ে উপস্থিত হন এবং নিজেকে স্ত্রী পরিচয় দিয়ে আপনাকে উদ্ধার করে আনতে সমর্থ হন।’ বিস্ময় ফুটে উঠেছে আহমদ মুসার চোখে-মুখে। বলল, ‘ষড়যন্ত্রকারীরা কারা? মানে আমার আইআরটির শত্রুরা। ওরাই যদি হয়, তাহলে একা জোসেফাইন আমাকে ছাড়িয়ে আনল কি করে? কি ঘটনা বলুন তো? আমি কিছু শুনেছি! পুরোটা বলুন।’ ‘যারা আপনাকে বসফরাস থেকে তুলে নিয়েছিল, তাদের খোজ পাওয়ার পরই আমরা হর্নের আইয়ুব ফেরিঘাটে চলে আসি। ওদেরকে আমরা পেয়ে যাই। জিজ্ঞাসাবাদ করে আমরা সব কিছু জেনে নেই আপনাকে যাতে দ্রুত খুঁজে পেতে পারি। তারা বলেছে, আপনাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ওখানে ওরা পৌছার পাঁচ মিনিটের মধ্যে দু’জন লোক এসে হাজির হয়। ওরা মনে হয় জেনেই এসেছিল। এসেই আপনাকে দাবি করল যে, আপনি ওদের লোক বসফরাস ব্রীজ থেকে পড়ে গিয়েছিলেন। তারা যখন ওদের সাথে কথা বলছিল এই সময় আপনার স্ত্রী জোসেফাইন ম্যাডাম পাশ দিয়ে ঘাট এ নেমে যাবার পথে ওখানে দাড়িয়ে যান। তিনি আপনাকে দেখতে পেয়ে ছুটে আসেন। তখন উদ্ধারকারীদের সাথে আলাপ চলছিল ওদের। ম্যাডাম জোসেফাইন দ্রুত এগিয়ে ব্যতিব্যস্ত হয়ে বলেন, ‘এঁর এ অবস্থা কেন? কি হয়েছে ওঁর?’ উদ্ধারকারীদের একজন তাকে জিজ্ঞেস করেন এঁকে আপনি চেনেন? ম্যাডাম জোসেফাইন কথা বলায় আগের যারা মিঃ খালেদকে আগে থেকেই দাবি করছিল, তারা তেড়ে উঠে। একজন বলে, মিথ্যা বলছে এই বিদেশী মহিলা। নিশ্চয়ই কোন বদ মতলব আছে। ইতিমধ্যেই দু’জন পুলিশ এসে দাড়িয়েছিল। তারাও শুনছিল কথা। লোকটার কথা শেষ হতেই ম্যাডাম জোসেফাইন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমার নাম মারিয়া জোসেফাইন। ইনি আমার স্বামী। নাম মিঃ খালেদ খাকান।’ সংগে সংগেই ওরা বলে উঠল, ‘হ্যাঁ, ওঁর নাম খালেদ খাকান। ইনি ইনিস্টিউট অব রিসার্চ এন্ড টেকনোলজিতে চাকরি করেন। উনি মিথ্যা পরিচয় দিয়েছেন। দেখুন ইনি ইউরোপীয় আর মিঃ খাকান এশিয়ান।’ পুলিশের একজন এগিয়ে এসে সংজ্ঞাহীন আহমদ মুসার পকেট সার্চ করে আইডেন্টিটি কার্ড বের করে দেখল। তারপর ওদের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, উনি ইনিস্টিটিউট অব রিসার্চ এন্ড টেকনোলজিতে চাকরি করেন। বলেই পুলিশটি জিজ্ঞেস করল ম্যাডাম জোসেফাইনকে, ‘উনি সত্যিই স্বামী হলে বলুন, উনি যে প্রতিষ্ঠান এ চাকরি করেন তার পুরো নাম কি?’ ম্যাডাম সঠিক জবাব দেন। পুলিশ ওদের জিজ্ঞেস জিজ্ঞেস করে, ‘বল, উনি কোন পদে চাকরি করেন?’ ওরা উত্তর দিতে পারে না। পুলিশ ম্যাডামকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে। ম্যাডাম সঠিক উত্তর দেন। এরপর আপনার উচ্চতা ও আইডি মার্ক সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে। ওরা উত্তর দিতে পারে না। ম্যাডাম ঠিক জবাব দেন। পুলিশ ওদের তাড়িয়ে দিয়ে আপনাকে ম্যাডামের গাড়িতে তুলে দেয়। ম্যাডাম নিরাপত্তার প্রশ্ন তুলে পুলিশকে অনুরোধ করে তাদের পৌঁছে দিতে। পুলিশ আপনাকে কাছের ক্লিনিকে ভর্তি করতে বললে, ম্যাডাম বলেন, তোপকাপি এলাকায় আমাদের গোল্ড রিসোর্টে নিজস্ব ক্লিনিক রয়েছে, তাঁকে ওখানেই নিতে চাই।’ পুলিশের গাড়ি ম্যাডামের গাড়ির পেছন পেছনে এসে এই গোল্ড রিসোর্টে পৌঁছে দিয়ে যায়।’ কথা শেষ করল জেনারেল মোস্তফা কামাল। আহমদ মুসার চোখেমুখে অপার বিস্ময়। সে অবাক হয়, জোসেফাইনের একজন নতুন বান্ধবী জেফি জিনা তার জন্য এতটা করেছে! নিজেকে ভিন্ন একজনে মানুষের স্ত্রী বলেও পরিচয় দিয়েছে। কিন্তু জেফি জিনা আমার নাম, আমার প্রতিষ্ঠানের নাম, আমার পদের নাম জানতে পারে, কিন্তু আমার উচ্চতা ও আইডি মার্ক জানল কি করে! এ জিজ্ঞাসার কোন উত্তর পেল না আহমদ মুসা। বরং বিস্ময় বাড়লই তার। আনমনা হয়ে পড়েছিল আহমদ মুসা। এই বিস্ময় জোসেফাইনেরও চোখে-মুখে। জেফি জিনা সেখানে আমার নামে পরিচয় দিয়েছে! হ্যাঁ, সে পরিচয় না দিলে তো সে সংজ্ঞাহীন আহমদ মুসাকে শত্রুর কবল থেকে উদ্ধার করতে পারতো না। জেফি জিনার প্রতি কৃতজ্ঞতায় ভরে গেল জোসেফাইনের মন। অকল্পনীয় ও দুঃসাহসিক এক উপস্থিত বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে সে। ভাগ্যিস জেফি জিনার দেওয়া তথ্য ভুল প্রমাণিত হয়নি। ভুল প্রমাণ হলে সেও বিপদে পড়তো। কিন্তু জেফি জিনা আহমদ মুসার এসব তথ্য জানল কি করে। এসব ভাবনা তার বিস্ময় আরও বাড়িয়েই দিল। জেনারেল মিঃ মোস্তফা কামাল বলল, ‘মিঃ আহমদ মুসা, ক্লিনিকের ভিন্ন একঘরে আপনাকে নিতে হবে।’ জেনারেল মোস্তফার এ কথার দিকে কোন মনোযোগ নেই আহমদ মুসার। বলল, ‘কি ঘটল বলুন তো। শুরুতেই তো এরা একবার এ ক্লিনিকে হানা দিয়েছিল। কিন্তু তার পরে তো সতর্ক পাহারাই থাকার কথা ছিল।’ পুলিশ অফিসারের চোখে সঙ্কুচিত ভাব ফুটে উঠল। সে একটু এগিয়ে সামনে পড়ে থাকা একটি লাশের গা থেকে ডাক্তারের অ্যাপ্রন সরিয়ে বলল, ‘স্যার, এই দেখুন এরা সুপার সিকিউরিটি ফোর্স (SSF) এর ইউনিফরম এরা এসেছিল। এক গাড়িতে ওরা ১৫জন এসেছিল। ওরা এসে প্রথমেই গোল্ড রিসোর্ট চেকপোস্টের দখল নিয়েছিল। এজন্য পুলিশ দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিল। ওদের বাধা দিতে গেলে সংঘর্ষে যেতে হয়, এ সাহস তারা পায়নি। ওদের কয়েকজন চেকপোস্ট দখল করে পুলিশদের নিরস্ত্র করে সেখানকার পুলিশদের হত্যা করে সাইলেন্সার লাগানো রিভলবার দিয়ে। ভুয়া SSF-এর অবশিষ্ট কয়েকজন অন্য পুলিশদের দিকে ছুটে যায়। বাকিরা ছুটে আসে ক্লিনিকের দিকে। ডাক্তাররা বলেছে, ‘সশস্ত্র লোকরা ভেতরের ডাক্তারদের পোশাক খুলে নেয়।’ থামল পুলিশ অফিসারটি। সংগে সংগেই জেনারেল মোস্তফা কামাল বলল, ‘SSF-এর একটা ইউনিট আসছিল তোপকাপি প্রাসাদে। তাদের গাড়ি নির্জন এপ্রোচ গার্ডেনে প্রবেশের সংগে সংগেই একটা গ্যাস বোমা এসে পড়ে গাড়িতে। মুহূর্তে সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলে সবাই। ঐ SSF-দের ইউনিফরম ও গাড়ি নিয়ে সন্ত্রাসীরা গোল্ড রিসোর্টে হামলা চালায়। এক মাত্র ড্রাইভার শেষ মুহূর্তে বাঁচবার চেষ্টা করেও আংশিক আক্রান্ত হয়। সে তাড়াতাড়ি জ্ঞান ফিরে পেয়ে টেলিফোন করে SSF হেডকোয়ার্টারে। আমরা জানতে পারি তার পরেই। এসএসএফ উদ্ধার ইউনিট ছুটে আসে, আমরাও ছুটে আসি। পুলিশও খবর পেয়ে পৌঁছে যায়।’ জেনারেল মোস্তফা কামাল থামতেই আহমদ মুসা মুখ খুলেছিল কিছু বলার জন্যে। তখন তিনজন ডাক্তার প্রবেশ করল ঘরে। তাদের কারও ডাক্তারের অ্যাপ্রন নেই। অন্যান্য স্টাফদের সাথে এ তিনজন ডাক্তারকেও আটকে রেখেছিল সন্ত্রাসী ‘থ্রী-জিরো’র লোকরা। ঘরে প্রবেশ করল এ সময় জোসেফাইনের পার্সোনাল সেক্রেটারি লতিফা আরবাকান আহমদ আব্দুল্লাহকে নিয়ে। তার চোখে মুখে বিস্ময় ও আতঙ্ক। সে ছুটে এল ঘরের একপাশে দাঁড়ানো জোসেফাইনের কাছে। ‘ডাক্তার, আপনারা মিঃ খালেদ খাকানকে ভিন্ন ঘরে নিয়ে যান। তাকে ভাল করে দেখুন। জ্ঞান ফেরার পরই তার উপর দিয়ে বিরাট ধকল গেছে।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল একজন ডাক্তারকে লক্ষ্য করে। ‘প্লিজ জেনারেল মোস্তফা, আপনারা আপত্তি না করলে ওকে এখন অন্য ঘরে নয়, আমি বাসায় নিয়ে যেতে চাই।’ বলল জোসেফাইন। জেনারেল মোস্তফা কামাল জোসেফাইনের দিকে চকিতে একবার মুখ তুলল, মুখ নামিয়ে নিল সংগে সংগেই। বলল, ‘ওয়েলকাম ম্যাডাম। আমাদের আপত্তি নাই।’ তারপর ডাক্তারের উদ্দেশ্য করে জেনারেল মোস্তফা কামাল বলল, ‘আপনারা জনাব খালেদ খাকানকে দেখুন। তারপর ওকে গোল্ড রিসোর্ট কটেজে রেখে চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করে আসুন।’ ডাক্তারদের দিক থেকে ফিরে জেনারেল মোস্তফা কামাল পুলিশ অফিসারকে বলল, ‘এখন থেকে গোল্ড রিসোর্টের নিরাপত্তায় পুলিশের সাথে সাথে এসএসএফও থাকবে।’ বলেই উঠে দাঁড়াল জেনারেল মোস্তফা কামাল, তার সাথে সাথে জেনারেল তাহিরও। ‘মিঃ খালেদ খাকান, আপনি বিশ্রাম নিন। আমরা পরে কথা বলব। এখন চলি।’ আহমদ মুসার দিকে দিকে ফিরে বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল। ‘আসুন। আয়েশা আজীমা মানে ডঃ বাজের ওখান থেকে কিছু পাওয়া গেছে?’ বলল আহমদ মুসা। ‘তেমন কিছু নয়। তবে ভাল করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়নি। আপনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন। এক সাথে সব পরীক্ষা করা যাবে।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল। ‘আর একটা কথা। ওরা এখন মরিয়া হয়ে উঠবে। বিজ্ঞানীদের নিরাপত্তার দিকে বেশি নজর দিতে হবে।’ আহমদ মুসা বলল। ‘দোয়া করুন মিঃ খালেদ খাকান। আর আপনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠুন। আল্লাহ আপনাকে যেভাবে বাঁচিয়েছেন, সেভাবেই আল্লাহ আমাদের সাহায্য করবেন। আসি। আসসালামু আলাইকুম।’ ওরা বেরিয়ে গেল। ‘স্যার, পাশের রুম এ চলুন। আমরা আপনার ব্লাডপ্রেসার ও হার্টবিটটা একটু দেখতে চাই।’ বলল একজন ডাক্তার আহমদ মুসাকে লক্ষ্য করে। আহমদ আবদুল্লাহ গিয়ে গাঁট হয়ে বসেছিল আহমদ মুসার কোলে। তার চোখে-মুখে কিন্তু আনন্দের চেয়ে বিস্ময়ই বেশি। সে বারবারই তাকাচ্ছে ছড়ানো রক্ত আর পরে থাকা লোকগুলোর দিকে। জোসেফাইন এগিয়ে গিয়ে আহমদ আব্দুল্লাহকে আহমদ মুসার কোল থেকে নিয়ে বলল, ‘ও আমার কাছে থাক। এসো পাশের রুমে।’ আহমদ মুসা উঠে দাঁড়াল। লতিফা আরবাকান গিয়ে জোসেফাইনের কোল থেকে আহমদ আব্দুল্লাহকে নিয়ে বলল, ‘ম্যাডাম, আপনি স্যারকে পাশের রুম এ নিয়ে যান।’ আহমদ আবদুল্লাহ লতিফা আরবাকানের কোলে উঠেই তার মাথায় বাঁধা রুমাল নিয়া টানাটানি আরম্ভ করল।’ ‘হ্যালো স্যার জুনিয়র, একি করছ তুমি। তোমার তো কাজ হবে মানুষের নেকাব রক্ষা করা, বেনেকাব করা নয়।’ বলল লতিফা আরবাকান। তার মুখে আনন্দের হাসি। হাসল জোসেফাইন। বলল, ‘বল বেটা আহমদ, এটা আমার অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ। মায়ের কোল থেকে কেড়ে নেয়ার প্রতিবাদ।’ আহমদ মুসার ঠোটে হাসি। চোখ তার নিচু। হাঁটতে শুরু করেছে সে দরজার দিকে। জোসেফাইনও তার পাশে হাঁটছে। লতিফা আরবাকান আহমদ আব্দুল্লাহর বিদ্রোহের সাথে অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে আর ওদের পেছনে পেছনে হাঁটছে। সবশেষে বেরিয়ে এল ডাক্তাররা। দরজার বাইরে পুলিশ, এসএসএফ-এর লোকরা ও দু’জন ক্লিনার দাড়িয়ে আছে। আহমদ মুসা ঘর থেকে বেরুতেই পুলিশ ও এসএসএফ-এর লোকরা তাকে স্যালুট করল। একজন পুলিশ এগিয়ে এসে আহমদ মুসাকে পাশের ঘরের দিকে নিয়ে চলল।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮৭ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৭ (শেষ)
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৬ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৬
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৫
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৪ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৪
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৩ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ৩
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ২ বাকি অংশ
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ২
→ রোমেলী দুর্গে চ্যাপ্টার- ১

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now