বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
সাইমুম-৪৫
রোমেলী দুর্গে
চ্যাপ্টার- ১
‘চলুন। তবে আমি আশাবাদী কিছু একটা সংবাদ খুব তাড়া তাড়াতাড়িই আমরা পাব। নৌবাহিনীর ওয়াটার স্ক্যানিং কাজ শুরু করে দিয়েছে দেখছি। পানির যে কোন গভীরে হিউম্যান বডিকে ওয়াটার স্ক্যানার লকেট করতে পারে।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল।
মুখটা বিষণ্ণ হয়ে গেল জেনারেল তাহির তারিকের। তার চোখে-মুখে উদ্বেগের ছায়া আরও গভীর হলো। বলল, ‘আমরা তাঁর বডি নয়, তাঁকে চাই আমরা। এই বসফরাসে এসে তিনি শেষ হয়ে যাবেন, তা হয় না, হতে পারে না।’ শুষ্ক কণ্ঠ জেনারেল তাহিরের।
‘এটা আমাদের সবারই চাওয়া। আল্লাহ আমাদের এই চাওয়াকে মঞ্জুর করুন।’ জেনারেল মোস্তফা কামাল বলল।
বসফরাসের প্রায় পানি ঘেঁষে প্রান্ত বরাবর আপ-ডাউন হাইওয়ে। তার পাশ দিয়ে সুদৃশ্য ফুটপাত। এই রাস্তাগুলো নীল বসফরাসের গলায় যেন হীরকের হার। বসফরাসের তীরে মাঝে মাঝে রয়েছে ফেরী ঘাট। ঘাটগুলো বোট, ফেরি ও মানুষের ভীড়ে ব্যস্ত থাকে। ছোট বোটগুলো ঘাটে ছাড়াও তীরে ভিড়ে থাকে, কিন্তু তা ব্যতিক্রম।
ব্রীজের নিচে নেমে ফুটপাত ধরে হাঁটতে শুরু করেছে সকলেই।
ব্রীজের নিচে বিরাট এক ফেরি ঘাট।
ঘাটে বেশ কিছু ফেরি ও বোট দাড়িয়ে আছে। এসব ঘাটে ফেরি ও বড় বড় বোট ছাড়াও ছোট ছোট বোটও ভাড়ায় পাওয়া যায়।
ফুটপাত দিয়ে হেঁটে ফেরিঘাট অতিক্রম করছিল জেনারেল তাহিররা।
‘ঘিয়ে ভাজা কোন কিছুর গন্ধ পাচ্ছি জেনারেল তারিক।’
বলে ডান দিকের পাহাড়ের ঢালের দিকে তাকাল।
বসফরাসের তীর এখানে হাইওয়ে ও ফুটপাতের পর ঢালু হয়ে ক্রমশ উপরে পাহাড়ে উঠে গেছে। এই ঢালে গড়ে উঠেছে মনোরম সব রেস্টুরেন্ট, ক্লাব ও ঘর-বাড়ি।
জেনারেল তাহিরও তাকাল পাহাড়ের ঢালের দিকে।
‘জেনারেল তাহির, আমরা কিন্তু খেয়াল করিনি, লাঞ্চের সময় অনেক আগে পার হয়ে গেছে। বেশি উপরে নয়, এই ঢালেই সুন্দর রেস্টুরেন্ট আছে। আমরা কি যেতে পারি?’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল।
খেয়ে সময় নষ্ট করতে মন চাইছিল না জেনারেল তাহিরের। তার কাছে এখন আহমদ মুসার সন্ধান করার চেয়ে বড় কিছু নেই। তবে ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে, এ কথাও ঠিক। হয়ত জেনারেল মোস্তফা কামাল বোধ হয় বেশি কষ্ট পাচ্ছে ক্ষুধায়। জেনারেল তাহির সায় দিল জেনারেল মোস্তফা কামালের কথায়। বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা রেস্টুরেন্টে যেতে পারি জেনারেল মোস্তফা।’
লাঞ্চের পিক আওয়ার শেষ হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। তবে মাঝে মাঝে টেবিল এ দু’চারজন লোক আছে। কেউ কেউ খাচ্ছে, কেউ কেউ বসে গাল-গল্প করছে। গল্পের প্রধান সাবজেক্ট হলো বসফরাস ব্রীজের ঘটনা।
গল্পের সাবজেক্ট শুনে খুশি জেনারেল তাহির তারিক। রেস্টুরেন্টের ঠিক নিচেই দুর্ঘটনার বাঁ ঘটনার স্থান।
মাঝখানের এক ফাঁকা টেবিল দেখে বসেছে জেনারেল তাহিররা।
খেতে শুরু করেছে তারা।
নানারকম কথা তাদের কানে আসছে বিভিন্ন দিক থেকে। ব্রীজে গোলা-গুলি কারা করল, কেন করল-তা নিয়ে নানা রকম ধারনার কথা। ব্রীজ থেকে যে লাফ দিয়ে পড়েছে, সে পাগল না হয়ে যায় না। কেউ বলছে জীবন বাঁচাবার জন্যেই ওটা করেছে। আবার কেউ বলছে, জীবন বাঁচাবার জন্যে কেউ মৃত্যুমুখে ঝাপ দেয় না। বেঘোরে মারা গেল লোকটা।
জেনারেল তাহিরদের পেছনের টেবিলে তিনজন লোক এসেছে সব শেষে। এই মাত্র তাঁর খাওয়া শুরু করেছে। তাদেরই একজন বলল, ‘কিছু না জেনেই বলা হচ্ছে বেঘোরে প্রাণ দিয়েছে লোকটা। আসলে লোকটা মরেনি বলেই মনে হয়। একটা মোটর বোট তাঁকে তুলে নিয়ে দ্রুত চলে গেছে।’
তাঁর কথা শেষ হতেই তাঁর টেবিলের একজন বলল, ‘দেখেছ তুমি? তখন কোথায় ছিলে?’
‘আমিও একটা বোটে এই ঘাটের দিকে আসছিলাম। গোলা-গুলির মুখে সামনের ঐ বোটটি সামনের দিকে ছুটে পালায়, আমি পিছনের দিকে সরে যাই।’ বলল দ্বিতীয় লোকটি।
খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে জেনারেল তাহির ও জেনারেল মোস্তফা কামাল দু’জনেরই।
শিরদাঁড়া সোজা করে বসেছে তারা। তাদের সমস্ত মনোযোগ এখন ওদের কথার দিকে।
ঐ টেবিলের তৃতীয় লোকটি বলল, ‘সোয়া দু’শ ফিট উপর থেকে পড়লে কারও কিন্তু বাচার কথা নয়।’
‘কিন্তু লোকটা যখন পানিতে ডুবে যাবার পর ভেসে উঠতে পেরেছে, তখন বলতে পার নিজ চেষ্টায় সে ভেসে উঠেছে। তার অর্থ সে মরেনি।’ বলল প্রথম লোকটি।
জেনারেল তাহির ও জেনারেল মোস্তফা কামাল দু’জনেরই দু’চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল।
জেনারেল মোস্তফা কামাল চট করে পেছন ফিরে লোকটাকে একবার দেখে নিল। তারপর সে জেনারেল তাহিরের কানের কাছে মুখ নিয়ে বলল, ‘লোকটার কাছে আরও কিছু জানার আছে।’
‘ওদের খাওয়া শেষ হলেই ভাল হয়।’ বলল জেনারেল তাহির।
‘না, এক মিনিট নষ্ট করা যায় না জেনারেল তাহির।’ জেনারেল মোস্তফা কামাল বলল।
‘তা ঠিক।’ বলল জেনারেল তাহির।
উঠে দাঁড়াল জেনারেল মোস্তফা কামাল।
গেল পেছনের টেবিলে।
‘এক্সকিউজ মিঃ জনাব’ বলে পকেট থেকে আইডেন্টিটি কার্ড বের করে লোকটার সামনে ধরে বলল, ‘আমি টার্কিশ ইন্টারনাল সিকিউরিটি সার্ভিস (TISS)-এর ডিজি জেনারেল মোস্তফা কামাল। আমি আপনাদের কথা সামনের টেবিল থেকে শুনেছি। যে লোকটা প্রাণ বাঁচানোর জন্যে বসফরাসে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। তুরস্কের সম্মানিত মেহমান তিনি। ঘটনার সাথে তুরস্কের মর্যাদা জড়িত হয়ে পড়েছে। যে বোটটি তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে তাঁর কোন হদিস কি দয়া করে দিতে পারেন?’
জেনারেল মোস্তফার পরিচয় জানার পর খাওয়া বন্ধ করে তিনজনই উঠে দাঁড়িয়েছে। তুরস্কের বহুল পরিচিত গোয়েন্দা সংস্থা TISS-এর স্বয়ং ডিজিকে তাদের সামনে দেখে তারা মুহূর্তের জন্যে বিমূঢ় হয়ে পড়েছিল। নিজেকে সামলে নিয়ে প্রথম লোকটি বলল, ‘সিওর স্যার, আমি বলছি।’
বলে একটু থামল লোকটি। স্মরণ করছে সে।
‘আপনারা বসুন।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল।
‘ওকে স্যার। ঠিক আছে। বলছি আমি।’
একটু থেমেই বলা শুরু করল, ‘বোটটির পেছনের দু’পাশেই নাম্বার সাইনের উপরে কনকর্ডের ছবি আঁকা ছিল। বোটে ‘কনকর্ড’ মনোগ্রাম ব্যবহার করা একটা আনকমন ব্যাপার। এ কারণেই ‘কনকর্ড’ সাইনটি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করে, তাঁর সাথে নাম্বার সাইনটিও। নাম্বার সাইনটিও ছিল মজার। মনে পড়ছে নাম্বার সাইনটি ছিল- ‘এমভি’ ড্যাশ ‘বি’ ড্যাশ টি নাইনটি ট্রিপল নাইন (T90999)।’
জেনারেল মোস্তফা কামাল পকেট থেকে কলম ও নোটপ্যাড বের করে দ্রুত নাম্বার লিখে নিল। তারপর সেখানে দাড়িয়েই পকেট থেকে অয়ারলেস বের করে একটা জরুরি মেসেজ ট্রান্সমিট করলঃ ‘রেড এলার্ট ফর অল সিকিউরিটি সার্ভিস অ্যান্ড পুলিশ। ‘এমভি ড্যাশ বি ড্যাশ টি নাইনটি থাওজ্যান্ড নাইন হান্ড্রেড নাইনটি নাইন’ নাম্বারের মোটর বোট যেখানে যে অবস্থায় পাওয়া যাবে আটকান এবং আমাকে খবর দিন। বোটের বাড়তি চিহ্ন ‘কনকর্ড’ মনোগ্রাম। ওভার।’
মেসেজ শেষ করে জেনারেল মোস্তফা কামাল দাঁড়ানো লোকটিকে চেয়ারে বসিয়ে দিয়ে বলল, ‘আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। আপনি তুরস্কের সীমাহীন উপকার করেছেন। এমন একটা ক্লুর জন্যে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীগুলো এবং পুলিশ হন্যে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’
‘আল্লাহ তাঁকে বাঁচিয়ে রাখুন।’ বলল লোকটি। তাঁর কণ্ঠও আবেগঘন।
‘আমিন। আমরা সবাই এটা চাই।’ বলে জেনারেল মোস্তফা কামাল আবারো তাদের ধন্যবাদ দিয়ে তার খাবার টেবিলে ফিরে এল।
টেবিলে বসতে বসতে বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল, ‘এখন অপেক্ষা ছাড়া আর কি করার আছে জেনারেল তাহির?’
‘চলুন, আমরা বোট নিয়ে আমরা বসফরাসের দক্ষিণ দিকে এগিয়ে যাই। ও বোটটাতো ওদিকেই গেছে। বোট ডিটেক্ট হবার পর ও দিক থেকেই খবর আসবে। আমরা যতটা সামনে যাব ততটাই আমরা এগিয়ে থাকব।’
‘ঠিক বলেছেন, চলুন, উঠি।’
বলেই উঠে দাঁড়াল জেনারেল মোস্তফা কামাল।
রেস্টুরেন্ট থেকে বেরুবার জেনারেল মোস্তফা কামাল একটা পুলিশ বোট কল করল।
রেস্টুরেন্টের বিল চুকিয়ে ঘাটে নেমে এসে দেখল, একটা পুলিশ বোট অপেক্ষা করছে।
একজন পুলিশ অফিসার তীরে দাড়িয়ে অপেক্ষা করছিল।
জেনারেল মোস্তফা কামালরা ওয়াক ওভার ব্রীজ দিয়ে পৌছতেই অফিসার দ্রুত এসে স্যালুট করে বলল, ‘স্যার, বোট রেডি।’
‘এস।’ বলে জেনারেল মোস্তফা কামাল বোটে উঠল। তার পেছনে জেনারেল তাহির। সবশেষে পুলিশ অফিসার।
বোটটা ছোট। দুই রোতে চারটি সিট।
জেনারেল তাহির ও জেনারেল মোস্তফা কামাল সামনের দুই সিটে বসল। পেছনের দুই সিটের একটিতে পুলিশ অফিসার।
ড্রাইভিং সিটে ছিল আরেকটি পুলিশ অফিসার।
‘বোটটি ধীরে ধীরে হর্ন ও মর্মরের সংযোগস্থলের দিকে এগিয়ে নাও। ওখানে গিয়ে আবার ভাবব।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল পুলিশ অফিসারকে লক্ষ্য করে।
ধীর গতিতে চলেছে বোটটি।
বসফরাসের কামাল আতাতুর্ক থেকে বসফরাস-হর্ন-মর্মর সাগরের সন্ধিস্থল খুব বেশি দূরে নয়। প্রায় এসে পড়েছে বোট সেখানে।
জেনারেল মোস্তফা কামাল ও জেনারেল তাহির তারিকের অপেক্ষারও অবসান হলো।
ওয়ারলেস বিপ করতে শুরু করল।
শসব্যস্তে কল ওপেন করল জেনারেল মোস্তফা কামাল।
কথা বলে উঠল ওয়ারলেস।
‘আমি পুলিশ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আইদিন গোল্ডেন হর্নের আয়ুব সুলতান ব্রীজ থেকে। ব্রীজের ঘাটে টি ৯০৯৯৯ বোটটি পাওয়া গেছে। বোট ও বোটের লোকজনদের আটকানো হয়েছে। কোন নির্দেশ, স্যার। ওভার।’ ওপ্রান্ত থেকে বলল পুলিশ ইন্সপেক্টর আইদিন।
‘বোটে কোন যাত্রী আছে?’ জিজ্ঞাসা জেনারেল মোস্তফা কামালের।
‘নেই স্যার, তিনজন ক্রু ও মালিক ছাড়া আর কেউ নেই।’ পুলিশ ইন্সপেক্টর বলল।
‘তুমি ওদেরকে আটকে রাখ, আমরা আসছি কয়েক মিনিটের মধ্যে। আমরা এখন হর্নের মুখে।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল।
ওয়ারলেস কল অফ করতেই উদগ্রীব কণ্ঠে জেনারেল তারিক বলল, ‘জিজ্ঞেস করলেন না বসফরাস থেকে উদ্ধার করা লোকটি কোথায়?’
‘বিষয়টা ওদের অজানাই থাক। বোটটা শত্রু পক্ষের কিনা কে জানে! আগে জানলে ওরা সাবধান হতে পারে, কিংবা কিছু ঘটেও যেতে পারে ওখানে। আমরা ক’মিনিটের মধ্যেই ওখানে পৌছাচ্ছি।’ বলল জেনারেল মোস্তফা কামাল।
‘ঠিক আছে।’ জেনারেল তাহির বলল।
জেনারেল মোস্তফা কামাল কোন কথা বলল না। তার দৃষ্টি সামনে হর্নের দিকে।
বোট ইতোমধ্যেই টার্ন নিয়ে দ্রুত গতিতে গোল্ডেন হর্নে প্রবেশ করেছে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now