বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Romantic story. 8

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X অনেক হয়েছে আর না । রুপন্তীকে আর পড়াতে যাবো না । স্বিধান্ত টা নিয়েই বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই জগতের সমস্ত ঘুম যেন চোখে হানা দিলো ।কতক্ষণ ঘুমিয়ে ছিলাম জানিনা, তবে ঘুম টা ভাঙ্গলো মোবাইল এর রিংটনে । হাতে নিয়ে দেখি রুপন্তীর কল । ধরলাম না । একটু পর আবার কল । মোবাইল টা সাইলেন্ট করে ওয়াশরুমের দিকে গেলাম ফ্রেশ হতে । ফ্রেশ হয়ে এসে দেখি এখনো ফোন বাজছে। ফোনটা ধরেই বললাম ব্যাস্ত আছি পরে ফোন দিও, বলেই কেটে দিলাম। মোবাইল এর দিকে তাকাতেই দেখি ৯:০০ টা বাজে ।ক্ষুধা যে লাগছে তা টের পাচ্ছি এখন । ভাবতে লাগলাম রান্না করবো নাকি বাইরে যেয়ে খেয়ে আসবো ? এমন সময় আবার রুপন্তীর ফোন । হ্যা বলো ।(আমি) খেয়েছেন কি?(রুপন্তী) হুম খেয়েছি।(আমি) মিথ্যা কথা বলবেন না, আমি জানি আপনি খান নাই ।(রুপন্তী) ...... আপনি এখনি আমাদের বাসায় আসেন কথাটি বলেই রুপন্তী ফোন টা কেটে দিলো । . . ভাবছি যাবো কি না ,এদিকে ক্ষুধায় পেট জ্বলে যাচ্ছে আর ঐদিকে মাসের শেষের দিক বলে হাতে টাকা পয়সাও কম। আর রান্নাটা করতেও মন চাচ্ছে না । এইসব ভাবতে ভাবতে রুপন্তীদের বাসার দিকে রওনা দিলাম । রুপন্তীদের বাসা হতে আমাদের মেস বেশি দূরে না । হেঁটে যেতে সর্বচ্চো ১৫-২০ মিনিটের।রাস্তা দিয়ে হাঁটছি আর বিকেলে ওর সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা টি নিয়ে ভাবছি। আমি তো ভাবছিলাম এই ঘটনার পর ও আমাকে ফোন তো দেওয়ার কথা দূরে থাক আমার সাথে কোনদিন কথাও বলবে না।। আমি হাঁটছি গন্তব্য রুপন্তীদের বাসা... . . . ও আপনাদের তো আমার পরিচয়'টাই দেওয়া হয়নি। আমি ফিরোজ । একটা পাবলিক ভার্সিটিতে ফাইনাল ইয়ার এ পড়ছি ।আমার বাবা একজন কৃষক । অনেক কস্টে আমাকে এত দূর পর্যন্ত নিয়ে এসেছেন ।এছাড়াও আমার পরিবারে মা আর ছোট ২ টি বোন আছে । আর এতক্ষন যার কথা আপনাদের বললাম ও হচ্ছে রুপন্তী । আমার ছাত্রী । সামনে এস.এস.সি দিবে । দেখতে যেমন ভালো ,তেমনি পড়াশুনায়েও। কিন্তু ইদানিং দেখছি ও একটু পড়াশুনা করতে চায় না ।বই নিয়ে বসতে বললেই বলে , ভাইয়া সারাদিন ই তো পড়ি আজ কে না হয় একটু গল্প করি...আজ পড়বো না,পড়তে মন চাচ্ছে না ইত্যাদি বাহানা দিচ্ছে । আর একটা বিষয় আমি খেয়াল করছি যে,ও এখন প্রত্যেক দিন সেঁজে পড়তে বসে । মাঝে মাঞে বলে দেখেন তো ভাইয়া আমাকে কেমন লাগছে? আর আজ বিকালে পড়ানোর সময় যেটা বললো সেইটা আমি আগে থেকেই একটু অনুমান করতে পেরেছিলাম যে ও কিছু একটা বলবে, রুপন্তীর এই কয়েকদিনের আচরণ তো তাই বলছিলো। আর তাইতো আমিও স্বিধান্ত নিয়েছি যে ও কএ আর পড়াতে যাবো না। এইসব ভাবতে ভাবতে দেখি রুপন্তীদের বাসার সামনে এসে পড়েছি...। রুপন্তীর বাবা অনেক বড়লোক। আর ও বাবা মার একমাত্র সন্তান।রুপন্তীদের বাসাটা অনেক বড়।কলিং বেল চাপবো নাকি চাপবো না ভাবছি। যদিও এর আগেও অনেক দিন রাতে এসে খেয়ে গেছি কিন্তু আজ কেন যানি দ্বিধাবোধ কাজ করছে। তবুও কলিং বেল এ চাপ দিলাম। কলিং বেল চাপতেই দেখি সাথে সাথে রুপন্তী দরজা খুলে দিলো, মনে হচ্ছিলো ও যেন দরজার ওপাশেই দাঁড়িয়ে ছিলো। আমি রুপন্তীর দিকে তাকিয়ে দেখি ওর চোখ টা বেশ লাল হয়ে আছে।মনে হচ্ছে অনেক কেঁদেছে। ভিতরে আসেন...(রুপন্তি) হুম...(আমি) আরে বাবা তুমি কখন এলে?(আন্টি) এইতো আন্টি এইমাত্র আসলাম(আমি) আছা বাবা তুমি বসো রুপন্তী তোমায় খাবার দিচ্ছে এই কথা বলে আন্টি চলে গেলেন। আমি রুপন্তীর দিকে চেয়ে আছি,ফর্সা মুখটা লাল হয়ে গেছে। ও কিছু না বলে খাবার আনতে চলে গেলো। আমি ভাবছি কাজ টা কি আমি ঠিক করেছি?আবার পরক্ষনেই ভাবলাম যা করেছি একদম ঠিকই করেছি,এইসব আমার জন্য না...ফোনে মিথ্যা কথা বললেন কেন?(রুপন্তী) চেয়ে দেখি রুপন্তী খাবার নিয়ে এসে দাড়িয়ে আছে । আমি কিছু বললাম না । আমার চুপ থাকা দেখে আর কিছু না বলে খাবারের প্লেট আমার দিকে বাড়িয়ে দিলো । খাবারের আইটেম গুলো বেশ ভালোই । আর ভালো হবেই না কেন বড়লোক বলে কথা । কি হলো খাচ্ছেন না কেন?(রুপন্তী) তুমি খেয়েছো? (আমি) হুম..খেয়েছি ..আস্তে করে বললো। (রুপন্তী) আমি জানি যে ও না খেয়ে আছে তাই বললাম ,দেখো রুপন্তী রাগ করে নিজেকে কস্ট দিয়ে কোন লাভ নেই । খেয়ে নিও। . আমি রাগ করেছি আপনাকে কে বলেছে? (রুপন্তী) কন্ঠে তার স্পষ্ট অভিমান। আমি বললাম রাগ কোন কিছুর সমাধান হতে পারে না,তাই বলছি খেয়ে নিও আর হ্যা একটা কথা মাথায় রেখো আবেগ দিয়ে সব কিছু হয় না ,নিজেকে সব কিছুর সাথে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করো তবেই সেটা তোমার জন্যই ভালো হবে । শুনেন আমার কিসে ভালো হবে না হবে সেটা আপনাকে বলতে হবে না , আর হ্যা এখানে আপনি কিন্তু আমার টিচার না যে আপনার কথা আমাকে শুনতে হবে ,কথাগুলো বলেই হনহন করে চলে গেলো। (রুপন্তী) . আমি অবাক হয়ে ওর চলে যাওয়া দেখলাম । এখনো রেগে আছে। এই মেয়ে যে রাগ ও করতে পারে আমি ভাবতেই পারছি না। কি রাগটাই না করেছে । আচ্ছা এটা কি ওর রাগ ছিলো নাকি অভিমান? যাইহোক আমি খাওয়া শেষ করে আন্টির রুমের দিকে পা বাড়ালাম । আসবো আন্টি? (আমি) আরে বাবা এসো এসো, তুমি আসবে আর এতে অনুমতির কি আছে?( আন্টি) আমি আন্টিকে বললাম,আন্টি একটা কথা বলতে চাচ্ছি । দেখো বাবা আমি তোমাকে আমার নিজের ছেলের মতোই দেখি,আর কোনদিন যেন কোন কথা বলতে অনুমতি নিতে না দেখি । আমি একটু হেসে বললাম,আচ্ছা ঠিক আছে । ও কি যেন কথা বলবে?(আন্টি) কিভাবে যে বলি,আসলে আমি... বুঝছি টাকা লাগবে? তাইতো? আচ্ছা তুমি একটু বসো আমি টাকা আনছি।(আন্টি) না আন্টি আমার টাকা লাগবে না, আসলে আমি আর রুপন্তীকে পড়াতে পারবো না । আন্টি আমার মুখের দিকে কিছুক্ষন চেয়ে রইলেন তারপর বললেন, রুপন্তীর সাথে কিছু হয়েছে ? না আন্টি ওর সাথে আমার কিছুই হয়নি ,আসলে ভার্সিটির সাথেই একটা মেস পেয়েছি,আর তাছাড়া সামনে আমার ফাইনাল পরীক্ষা আছে ।তাই ভাবলাম ঐখানেই চলে যাবো । আপনি কোন চিন্তা করবেন না,আমি রুপন্তীর জন্য টিচার ঠিক করে দিয়ে যাবো । না গেলে হয় না ?(রুপন্তী) আন্টি আরো কিছু বলতে যাবেন এই সময় রুপন্তী ঐ কথাটি বলে উঠলো । না ,হয় না ।(আমি) দেখলাম রুপন্তী শুধু এক দৃস্টিতে আমার দিকে চেয়ে আছে। তার দৃস্টি যেন আমায় বলছে প্লিজ যাবেন না। . . আমি আন্টিকে বললাম আজ আসি। বেতন আমি কোন এক সময় এসে নিয়ে যাবো। . . রুপন্তীদের বাসা হতে বের হয়ে রাস্তার দোকান হতে একটা সিগারেট নিলাম। সিগারেট টানছি আর বিকেলের কথা ভাবছি... . প্রতিদিনের মতো আজকেও অনেক সেঁজে এসেছে।কিন্তু আজ শাড়ী পরেছে,কপালে ছোট্ট একটি কালো টিপ দিয়েছে। এমনিতেই অনেক সুন্দরী তার উপর শাড়ী আর টিপ দেওয়াতে আজ রুপন্তীকে অন্যদিনের চাইতে একটু বেশি_ঈ সুন্দরী লাগছে...চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। আমি নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম কি ব্যাপার আজ হঠাৎ এতো সাঁজলে যে? কোথাও বেড়াতে যাচ্ছো নাকি? আমাকে আজ কেমন লাগছে?(রুপন্তী) আমার প্রশ্নের জবাব না দিয়ে উল্টো আমাকেই প্রশ্ন করলো। ভালো লাগছে,এখন পড়তে বসো।(আমি) শুধু ভালো আর কিছু না?(রুপন্তী) প্রশ্ন টা করেই আমার দিকে এক দৃস্টিতে তাকিয়ে রইলো। দেখলাম অবস্থা সুবিধাজনক মনে হচ্ছে না,তাই একটু ধমকের সুরেই বললাম হচ্ছে টা কি শুনি, বই খুলো। আমি আপনাকে ভালোবাসি। (রুপন্তী) চেয়ে দেখি মাথা নিচু করে আছে.. আমি শুনেও না শুনার ভান করলাম। বই খুলো রুপন্তী। আমি আপনাকে কিছু বলেছি।(রুপন্তী) আচ্ছা পরে দেখা যাবে,আগে পড়তে বসো।(আমি) না,আমার এখন _ই উত্তর চাই।(রুপন্তী) পাগলামির একটা লিমিট থাকা উচিত, তুমি কি সেটা জানো?(আমি) আমি কিচ্ছু জানিনা,কিচ্ছু জানতেও চাই না,আমি শুধু জানি আমি আপনাকে ভালোবাসি এই বলে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। ছাড়িয়ে নিয়ে সাথে সাথে ২ টা চড় দিলাম,আর বললাম তোমাকে আমি আর পড়াতে পারবো না বলেই চলে আসলাম।। . . এমন না যে আমি রুপন্তী কে ভালোবাসি না,আমিও ওকে খুব ভালোবাসি কিন্তু কি যেন এক অদৃশ্য দেয়াল আমাকে বাধা দিচ্ছে। কোন সে দেয়াল সেটা আমিও বুঝতে পারছি না...।।এইসব ভাবতে ভাবতে দেখি মেসের সামনে চলে এসেছি। মেসেজের টোনে মোবাইল টা বেজে উঠলো,চেয়ে দেখি রুপন্তীর মেসেজ,,, ""আগামীকাল যদি পড়াতে না আসেন, তবে আমি যে কি করবো তা আমি নিজেও জানি না""মেসেজটির দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলাম । কি বলছে ও, কাল পড়াতে না গেলে কি করবে? খারাপ কিছু করবে না তো আবার? যে রাগী মেয়ে ,কিছু করলেও করতেও পারে ।এইসব মেয়েদের কোন বিশ্বাস নেই। এদের আবেগের পারদের লেভেল উচ্চ পর্যায়ে থাকে । আমি কি যাবো পড়াতে? আচ্ছা আমি ভয় পাচ্ছি কেন?এতগুলো প্রশ্ন একসাথে মনে বেজে উঠলো। , . ধুর কি সব আবোল তাবোল ভাবছি আমি ? নিজেই নিজেকে বললাম ,দেখ ফিরোজ তুই কোথায় আর রুপন্তী কোথায়? তুই গরীব আর রুপন্তী হলো বড়লোক বাবার একমাত্র মেয়ে । তোর সাথে ওর যায় না । তোর ভালোবাসা মানায় না কারন গরীবদের ভালোবাসা মানায় না,এদের জন্য অভিনয় টাই পারফেক্ট । তুইও না হয় অভিনেতার দলে থাক । রুপন্তী কিচ্ছু করবে না,আবেগের বশে হয়তো এইরকম করছে কয়েকদিন না গেলে সব আগের মতো হয়ে যাবে ।হঠাৎ আসা আবেগ হঠাৎ মিলিয়ে যাবে আর মাঝখানে কস্ট পাবি তুই। যাবো না পড়াতে ভাবতে ভাবতে রুমে আসলাম। ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসছে না। শুধু রুপন্তীর অভিমানী মুখটা চোখে ভাসছে। . . আচ্ছা রুপন্তী কি আমাকে সত্যিই ভালোবাসে নাকি এটা ওর হঠাৎ আসা আবেগের বহিঃপ্রকাশ?? , এই সময় আবার রুপন্তীর ফোন,, হ্যা বলো।(আমি) কখন পৌঁছেছেন?(রুপন্তী) এইতো এইমাত্র। (আমি) সত্যি করে একটা কথা বলবেন?(রুপন্তী) বলো কি কথা?(আমি) আপনি কি সত্যিই আমাকে আর পড়াবেন না?(রুপন্তী) না,আমি আর তোমাকে পড়াবো না। (আমি) কেন পড়াবেন না?(রুপন্তী) কেন পড়াবো না সেইটা তুমি ভালো করেই জানো।(আমি) কেন আমাকে কি ভালোবাসা যায় না? আমি দেখতে এতটাই খারাপ? (রুপন্তী) এখানে ভালো খারাপের কিছু নেই।(আমি) তবে??(রুপন্তী) কিছু না,,তোমাকে আমি আর পড়াচ্ছি না এটাই ফাইনাল,,আর তোমার জন্য আমি টিচার ঠিক করে দিয়ে যাবো। রাত হয়েছে ঘুমিয়ে পড়ো। আর হ্যা না খেয়ে থেকে কোন লাভ নেই,,তাই খেয়ে নিও।(আমি) আমি আপনি ছাড়া আর কারো কাছে পড়বো না। আর আমি যে না খেয়ে আছি তা আপনি বুঝলেন কেমন করে??তাছাড়া আমি না খেয়ে আপননার কি? তার মানে আপনি ও আমাকে??(রুপন্তী) তুমি আসলেই একটু বেশিই ভাবো,,আর তুমি যেটা ভাবছো সেটা কোনদিন সম্ভব না রুপন্তী(ধমকের সুরে বললাম)। (আমি) কেন সম্ভব না?(রুপন্তী) সব প্রশ্নের উত্তর সব সময় দেওয়া যায় না।(আমি) আচ্ছা আমি রাখছি, আমার অনেক ঘুম পেয়েছে(মিথ্যে কথা বললাম কেননা এই মেয়ের সাথে কথা বললে আমি ওর মায়া'য় পড়ে যাবো)।(আমি) তারমানে আপনি আর আমাকে পড়াতে আসছেন না??(রুপন্তী) হুম.....(আমি) এটাই আপনার শেষ কথা? কান্নাজড়িত কন্ঠে।(রুপন্তী) হ্যা,,।(আমি) আমি আপনাকে না দেখে থাকতে পারবো না যে?(রুপন্তী) এখন হতে থাকতে হবে।(আমি) আচ্ছা যান আমি আপনাকে ভালোবাসতে বলবো না,আমি শুধু নিজে নিজেই বেসে যাবো, তবুও বলেন আসবেন?(আমি) এটা সম্ভব না।(আমি) আচ্ছা ঠিক আছে,,আমিও দেখবো তুই আমাকে কেমনে না পড়াস আর না ভালো বেসে থাকতে পারিস??তোকে আমাকেই পড়াতেই হবে আর আমাকেই ভালো বাসতে হবে এই কথা বলেই ফোন টা কেটে দিলো রুপন্তী। আমি মোবাইল শুধু টার দিকে চেয়ে রইলাম,,, আসলেই অনেক রাগ করেছে মেয়েটি।। ""অনেক অনেক ভালোবাসি তোমায় রুপন্তী"" কথাটি একবার বলতে গিয়েও থেমে গেলাম। কি করবো বলো, আমি যে দেয়ালের মাঝে আটকা পড়ে রয়েছি? তোমার আর আমার মাঝে " দেয়াল" হয়ে আছে গরীব আর ধনী নামক শব্দ। তোমার আর আমার মাঝে "দেয়াল" হয়ে আছে এই সমাজ। তোমার আর আমার মাঝে "দেয়াল " হয়ে আছে আমার বিবেক। তোমার আমার মাঝে "দেয়াল"হয়ে আছে তোমার মা বাবার আমার প্রতি বিশ্বাস আর ভালোবাসা। আমি চাইলেই সে "দেয়াল" ভাঙতে পারি না। তুমি একা যেখানে আমাকে নিয়ে রঙিন স্বপ্ন দেখো,, সেখানে আমার পরিবার আমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। আমি কবে চাকুরী করবো? কবে তাদের কস্ট দূর করবো? তোমার একার স্বপ্ন পূরনের চাইতে আমার পরিবারের স্বপ্ন আমার কাছে আগে।। . . এইসব কথা ভাবতে ভাবতে কখন আমি ঘুমের রাজ্যে তলিয়ে গেলাম বুঝিনি। ঘুম ভাঙলো সকাল ১০ টার দিকে। মোবাইল টা হাতে নিয়ে দেখি ২৫ টা মেসেজ। সবগুলোই রুপন্তীর.... আমি একে একে সব মেসেজ গুলো পড়তে থাকলাম । সবগুলোতে_ই লেখা প্লিজ পড়াতে আসবেন । কিন্তু সর্বশেষ মেসেজ টা পড়ে আমি কি করবো ভেবে উঠতে পারছিলাম না । মেসেজ টা ছিলো এইরকম,, . আমি হয়তো দেখতে বা শুনতে খুব খারাপ, তাই হয়তো আমাকে আপনি আমাকে পছন্দ করেন না । কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না,আপনি যেদিন প্রথম আমাকে পড়াতে আসেন সেইদিন হতেই আমি আপনাকে ভালোবেসে ফেলেছি । আপনার গোলগাল,বোকা বোকা চেহারা আর মিস্টি হাসি দেখেই আমি সেদিন_ই আপনার মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম । আমার স্পষ্ট মনে আছে সেদিন আপনি নীল পান্জাবী পড়ে এসেছিলেন। নীল পান্জবীতে আপনাকে যে কত ভালো লাগছিলো তা আমি বুঝাতে পারবো না । সেদিন রাতে আমি আর ঘুমাতে পারি নাই,সারারাত আপনাকেই ভেবে কাটিয়ে দিয়েছি । ঐ টাই হয়তো আমার প্রথম প্রেমে পড়ার অনুভূতি । আচ্ছা প্রেমে পড়লে কি মানুষের এইরকম অনুভূতি হয়? আমি নিজেই নিজেকে গালি দিচ্ছি যে ,তোর মাথা খারাপ হয়ে গেছে রুপন্তী। প্রথম দেখাতে_ই কেউ কারো প্রেমে পড়ে নাকি? কিন্তু বিশ্বাস করেন,আমি সত্যিই আপনার প্রেমে পড়ে গিয়েছিলাম । তারপর হতে আমার ভালোবাসা দিনকে দিন বাড়তেই লাগলো । কিন্তু আপনাকে বুঝতে দিতাম না ।। এই যেমন, কলম নেওয়ার ছলে আপনার হাতের আঙ্গুল ছুঁয়ে দিতাম। যখন আপনার আঙ্গুলের স্পর্শ পেতাম তখন যে কি ভালো লাগার অনুভূতি হতো। আমি এতোটাই আপনার মাঝে হারিয়ে গিয়েছিলাম যে, আমি পড়া না পাওয়ার ফলে আপনি আমায় বকা দিতেন সেই বকাগুলোও আমার কাছে মিস্টি লাগতো।। আমি ইচ্ছে করেই অনেকদিন পড়া শিখিনি শুধুমাত্র আপনার বকা খাওয়ার জন্য। , আপনার সাথে আমি প্রথম যেদিন ফোনে কথা বলি সেদিন আরো একবার আপনার প্রেমে পড়েছিলাম। এত সুন্দর করে কেউ কথা বলতে পারে আমার জানা ছিলো না। সেদিন হতে প্রতিদিন আমি আপনাকে ফোন দিতাম শুধু আপনার কন্ঠ টা শুনার জন্য। আপনি জিজ্ঞাসা করলে বলতাম পড়া বুঝিনি তাই ফোন দিয়েছি। এভাবেই আমার দিন কাটতে লাগলো, কিন্তু কিসের যেন অভাব ছিলো। কি যেন নেই? আমার মনের ভিতর অস্থিরতা বিরাজ করতে শুরু করলো।আপনাকে যে আমার মনের সেই কথা টি বলতেই হবে। আমি আর পারছিলাম না সেই কথা টি কে বুকের মাঝে ধরে রাখতে। তাইতো সেদিন আমার সব লজ্জা ভেঙ্গে আপনাকে আমার মনের ভিতর তোলপাড় করা অব্যক্ত কথাটি জানিয়েছিলাম। আপনি কি করলেন?? আমাকে ভালোবাসা তো দূরের কথা আমাকে নাকি আর পড়াতেই আসবেন না। আচ্ছা আমি কি আপনাকে ভালোবাসতে পারি না?? আমার কি আপনাকে ভালোবাসার যোগ্যতা নেই?? আপনি যখন বললেন আমাকে আর পড়াতে আসবেন না তখন আমার বুক ফেটে কান্না আসছিলো। আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারছিলাম না। কি করবো বলেন? আমার অবুঝ মন টা যে আর পারছিলো না। আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি আমাকে ভালোবাসতে আপনাকে জোর করবো না,,তবুও আমাকে পড়াতে আসবেন প্লিজ, প্লিজ।। আপনার ভালোবাসা না পেলাম তবুও তো আপনাকে দেখতে পারবো। তাই আমার এই অনুরোধ টা রাখবেন।। ইতি,,,রুপন্তী।। , , , আমি এখন কি করবো? ভেবে পাচ্ছিলাম না।। এই সময় আন্টির ফোন,, , জ্বী আন্টি বলেন।(আমি) , বাবা তুমি এখন একটু বাসায় আসতে পারবে?(আন্টি) , কেন আন্টি কি হয়েছে?(আমি) , কাল তুমি পড়ানোর পর হতেই রুপন্তী কিচ্ছু খায় নাই। কি হয়েছে সেটাও বলছেনা।দরজা বন্ধ করে আছে।(আন্টি) , আচ্ছা আন্টি আমি আসছি (আমি).....নাহ মেয়েটা আসলেই অনেক রাগী আর পাগলী ও বটে। কাল হতে এখনো না খেয়ে আছে। শুধু কি না খেয়ে আছে নাকি অন্য কিছুও করেছে? আমার এমন লাগছে কেন? মনে হচ্ছে আমার নিশ্বাস খুব দ্রুত পড়ছে। আচ্ছা আমি কি ওর সাথে অনেক খারাপ আচরণ করে ফেলেছি?? ওকে কি অনেক কস্ট দিয়ে ফেলেছি? নাহ আমি আর ভাবতে পারছি না। হাত মুখ না ধুয়েই একটা টি-শার্ট নিয়েই বেরিয়ে পড়লাম। , খুব দ্রুত হাটছি,তবুও যেন এই ১৫-২০ মিনিটের পথ যেন শেষ হতে চাচ্ছে না। আমার মাথায় শুধু একটাই চিন্তা, রুপন্তীর কিছু হয়ে গেলে আমি নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারবো না। অবশেষে রুপন্তীদের বাসায় আসলাম। কলিং বেল চাপতেই দেখি আন্টি কাঁদছে। আন্টি কে বললাম চিন্তা করবেন না আমি দেখছি। রুপন্তীরর রুমের সামনে গিয়ে ডাক দিলাম, রুপন্তী দরজা খোল। , কোন শব্দ নেই। , আমি আবার ডাকলাম রুপন্তী দরজা খোল। ভিতর হতে কোন সাড়া শব্দ নেই। আমি এইবার ভয় পেয়ে গেলাম,কিচ্ছু করে বসে নাই তো? তাই বারবার দরজা_য় নক করছি আর বলছি দরজা খোল, এইরকম করে কেউ পাগলামো করে? আন্টি ও আমার সাথে ডাকছে। তবুও কোন সাড়া নেই। অনেকক্ষন ডাকাডাকির পর যখন বললাম, আচ্ছা ঠিক আছে আমি যাচ্ছি না,আর তোমাকেই পড়াবো। ঠিক তখনি রুপন্তী দরজা খুললো। মনে হয় এই কথা টি শুনার জন্যই ও এতক্ষন অপেক্ষায় ছিলো। আমি আর আন্টি রুপন্তী কে দেখে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। যাক তাহলে কিছু করে নাই।আমাকে দেখে রুপন্তী একটু মুচকি হাসলো। আমি বুঝতে পারলাম না ও কেন হাসলো। , কিন্তু রুপন্তী কে এমন দেখাচ্ছে কেন? চোখ দুটো লাল আর কেমন যেন ফোলা ফোলা লাগছে। সারারাত কেঁদেছে মনে হচ্ছে। আমি শুধু বললাম যাও হাতমুখ ধুয়ে ফ্রেশ হও। তুমিও ফ্রেশ হয়ে আসো বাবা। আমি তোমাদের খাবার দিচ্ছি। (আন্টি) আচ্ছা,আন্টি। (আমি) , , ডাইনিং টেবিলে আমি,আন্টি আর রুপন্তী একসাথে বসে আছি। খাওয়া শুরু করো বাবা,আর তুইও শুরু কর,রুপন্তী কে বললো আন্টি। , আন্টি বলতে শুরু করলো তুমি তো ভালো করেই জানো আমার মেয়েটা একটু একরোখা আর জেদি। একমাত্র মেয়ে তো তাই আদরে আদরে এইরকম হয়েছে। তুমি কিছু মনে করো না,তোমার আর রুপন্তী কে কস্ট করে পড়াতে হবে না।তোমার ও সুবিধা অসুবিধা থাকতে পারে। তুমি ওর জন্য ভালো একটা টিচার ঠিক করে দিও। আমি কিছু বলতে যাওয়ার আগে একবার রুপন্তীরর দিকে তাকালাম, দেখলাম ও খাবার হাতে নিয়ে শুধু মাখছে আর ওর চোখ যেন বলছে আর যদি একবার আমাকে পড়ানোর কথা না করেছিস তো তবে তোকে আমি আস্তো গিলে খাবো। ওর এই রকম চাহনি দেখে কিছু বলতে পারলাম না শুধু ঢোক গিললাম। আমার এই অবস্থা দেখে ও খিলখিল করে হেসে উঠলো। অনেক দিন পর ওর এমন প্রাণখোলা হাসি দেখলাম। আর আমারো কেমন জানি অন্যরকম এক ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি হলো। , , খাবার হাতে নিয়ে এতো হাসতে নেই। , আন্টিরর কথা শুনে চুপ হয়ে গেলো রুপন্তী। , , আমি আন্টি কে বললাম আন্টি আমি রুপন্তী কে পড়াবো।। তোমার আবার কোন সমস্যা হবে না তো?(আন্টি) একটু সমস্যা তো হবেই তবুও ওর সামনে এস.এস.সি এখন টিচার চেঞ্জ করলে ওর ও সমস্যা হবে। তাই ভাবলাম এস.এস.সি পর্যন্ত আমিই পড়াই। আমার মুখে এই কথা শুনার পর ওর মুখটা যে খুশিতে ভরে উঠলো তা আমি ভালোভাবেই টের পেলাম। , , খাওয়া দাওয়া শেষ করে আমি আন্টি কে বললাম, আমি এখন আসি আন্টি। , আচ্ছা আসো বাবা।(আন্টি) , আজ পড়াতে আসবেন না?(রুপন্তী) , আমি একটু চুপ করে থেকে বললাম, আসবো। , কখন আসবেন?(রুপন্তী) , প্রতিদিন যে সময়ে আসি সেই সময়েই আসবো ।(আমি) , আচ্ছা,ঠিক আছে।(রুপন্তী) । । । পরিশিষ্ট :আমি যখন আমার রুমে আসলাম তখন রুপন্তীর একটা মেসেজ পেলাম, মেসেজ টা ছিল, কি বলেছিলাম না, আমাকেই আপনাকে পড়াতে হবে আর আমাকেই আপনাকে ভালোবাসতে হবে। একটা তো পেয়েছি আর বাকীটাও পেয়ে যাবো। মনে রাখবেন আমি রুপন্তী, কিভাবে কি আদায় করতে হয় আমার ভালো করেই জানা আছে। আর হ্যা আপনি আপনার চাকুরী নিয়ে চিন্তা করবেন না। আপনার পড়াশুনা শেষ হলেই আপনি চাকুরী পেয়ে যাবেন।আমি আমার বাবাকে বলে রেখছি। আর একটা কথা আজ আপনি আপনার নীল পাঞ্জাবি টা পড়ে আসবেন কিন্তু। , এই মেসেজ টা পড়ার পর আমার মনে হচ্ছে, আমার আর তোমার মাঝে এখন আর যে "দেয়াল " ই থাকুক না কেন আমি সেটা ভাঙ্গতে পারবো। [ব্যাকগ্রাউন্ডে "তাহসানের মোমের দেয়াল" গান টা কেউ দিলে খুব ভালো হতো]


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৫৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Romantic story. 8
→ Romantic story. 7 ! ঝগড়াটে মেয়ে
→ Romantic story. 6 ! ★চিরকুট★
→ Romantic story. 5
→ Romantic story. 3
→ Romantic story. 4
→ Romantic story. 2
→ Romantic story. 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now