বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

Romantic story. 1

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Niyan Ahmed (০ পয়েন্ট)

X তুমি চাইলেই আকাশ থেকে চাঁদ এনে তোমার হাতে তুলে দেব।তুমি হাসলেই পাহাড়ি ঝরনাকে থামিয়ে দেব।তুমি বললেই নদীর স্রোত বেধে দেব।যদি আমায় ভালবেসে একবার হাত টা ধর.... যাক এবার মনে হয় কাজ হইছে! মেয়েটা থেমেছে... কিন্তু নিচু কেন হচ্ছে বুঝলাম না। স্যান্ডেল খুলে হাতে নিতে দেখলাম শুধু। পরে কি হবে সেটা দেখার জন্য থেমে থাকা যাবে না।কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে দৃষ্টি সীমা পার হয়ে রণর বাসায় ঢুকে পড়লাম। ভাগ্যিস আন্টি নেই।থাকলে জবাব দিতে দিতে মরতাম। - কি হল হাপাচ্ছিস কেন।বাঘে তাড়া করছে নাকি? - আর বলিস না।স্নেহার পিছু নিয়েছিলাম আজও।বাংলা মুভি দেখে কত গুলা ডায়লগ মুখস্থ করে খুব সুন্দর করেই আওড়েছিলাম।ডায়লগ শেষ হতেই আজ জুতা নিয়ে তাড়া করল - ছি প্রহর! শেষ পর্যন্ত তুই কিনা মেয়েদের জুতার তাড়া খেয়ে ফিরলি! আনএক্সপেক্টেড দোস্ত...... - দোস্ত আমি তো ওকে লাভ করি ও বোঝে না কেন? - ধুর বেটা এটা কোন ভালবাসা হল? এটা জাস্ট আবেগ দোস্ত।আর ওই মেয়ের ক্যারেক্টার ভাল না।তুই শুধু শুধু টাইম নষ্ট করছিস। - বাদ দে, কিছু খাওয়াবি ক্ষুদা লাগছে খুব? - এই রুপন্তি.....?( রণ ছোট বোন রুপন্তি কে উদ্দেশ্য করে ডাক দিল।) > আসছি ভাইয়া..... - আমাদের কিছু খেতে দিস তো.... বলতে যত দেরি। ঠান্ডা পানি, জুস,পিঠার একটা ট্রে চলে এল।মনে হচ্ছে মেয়েটা ট্রে নিয়ে দরজার ওপারে দাড়িয়ে ছিল। > কেমন আছেন ভাইয়া? ( রুপন্তি ) - এইতো খুবই ভাল আছি।তুমি কেমন আছ? > জী ভাইয়া ভাল... ; খাওয়া দাওয়া শেষ করে সেদিনের মত বাড়ি ফিরলাম।রণদের প্রতিটা ফ্যামিলি মেম্বরের সাথে আমার খুব ভাল সম্পর্ক। খাওয়া দাওয়া সেখানে মাশাল্লা। সকালে ঘুম থেকে উঠেই কোচিং টার সামনে গিয়ে হাজির হলাম।ভাগ্য মনে হয় সু প্রসম্ন আজ।স্নেহার সাথে কেউ নেই। - এই মেয়ে আজ আমার একটা প্রশ্নের উত্তর তোমাকে দিতেই হবে। - তুমি তো আচ্ছা ঘাওড়া ছেলে। কি বলবে বল.. - দেখ মেয়ে আমি সত্যি সত্যি তোমাকে ভালবাসি। - আমি জানি সেটা।গত দুইটা মাস ধরেই পিছু নিয়ে পড়ে আছ। কিন্তু সত্যি টা হল আমি তোমার জন্য পারফেক্ট না। - কেন? - দুইটা মাস পিছনে ঘুরছ।কিছুটা হয়ত শুনেছ আমার ব্যপারে। - ওসব আমি বিশ্বাস করি না। - কি করতে বলছ এখন আমাকে? - তুমিও আমাকে ভালবাস এখন থেকে... - ওকে দেখি চেষ্টা করে! ; এরপর কিছুদিন একসাথে ঘোরা।রাস্তার মোড়ে এখানে সেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে থাকা এক সাথে।রেস্টুরেন্টে গরম খাবার ঠান্ডা করে খাওয়া।এসব করেই তিন মাস কেটে গেল।ভালই চলছিল দুজনের। কিন্তু স্নেহার বদ অভ্যাস এখনো যায় নি।ফোনে লং টাইম ওয়েটিং থাকে।প্রহরের কাছে এটা বদ অভ্যাস মনে হয়।বুঝতে চাইনা আসলেই মেয়েটা তাকে ঠকাচ্ছে। সারা রাত ট্রাই করেও স্নেহার ফোনের লাইন পেল না।রাত তিন টায় সব কল ক্লোজ করে মুক্তি পেল স্নেহা।হাতমুখ ধুয়ে একটু ফ্রেস হয়ে বিছানায় পিঠ দিতেই প্রহরের কল দেখতে পেল।ভাবছে অনেক হইছে এবার এটাকে বিদায় করতে হবে।ফন রিসিভ করে প্রথমে ভাল ভাবে বুঝিয়ে বলল মেয়েটা রিলেশন রাখতে চাই না। আজও গোয়াড়তুমি শুরু করল প্রহর। এরপর কিছু বাজে কথা বলে ফোন রেখে দিল স্নেহা।স্নেহা চ্যাপ্টার এখানেই ক্লোজ...... এরপর কয়েকটা মাস কিভাবে যেন কেটে গেল... ; বিশ মিনিট ধরে ক্লাবের সামনে দাড়িয়ে আছি রিক্সার জন্য।তিন নাম্বার সিগারেটের শেষ অংশ টা হাতে আছে।এক গাল ধোয়া ছেড়ে রাস্তার দুদিকে চাইলাম। বর্ষা হবে মনে হয়।আকাশে অনেক মেঘ। উল্টো দিক থেকে একটা রিক্সা এসে থামল সামনে।রুপন্তি কে দেখে সিগারেট টা তাড়াতাড়ি ফেলে দিলাম।মেয়েটা এটা সহ্য করতে পারে না।মাঝে মাঝে বকাবকিও করে। - বাসায় যাবেন? ( রুপন্তি ) - হ্যা রিক্সা পাচ্ছি না..... - আমিও বাসায় যাচ্ছি।উঠে বসেন... - না না তুমি যাও রিক্সা পেয়ে যাব আমি। - আসতে বলছি না আসেন... কিছুটা সংকোচ নিয়ে উঠে বসলাম।আর দাড়িয়ে থাকতে বিরক্ত ও লাগছিল। অনেক্ষন চুপচাপ বসে থাকার পর রুপন্তি মুখ খুলল... - সিগারেট ছাড়বেন না তাই না? - হ্যা? - স্নেহা কে ভুলতে পারেন নি এখনো ? - তোমার ক্লাস চলছে কেমন? - আমার কথা এড়িয়ে যাচ্ছেন কেন? - বাদ দাও তো... - কি বাদ দিব? নিজের ভাল তো পাগলেও বুঝে আপনি কেন বুঝেন না? - মানে? - আচ্ছা আপনি বলেন তো স্নেহা কি আপনার সাথে বেঈমানি করেনি? - অবশ্যই করেছে... - আচ্ছা! তার সাথে মাত্র দুই তিনটা মাস রিলেশন ছিল।আর তাই তার জন্য এখন সিগারেট ধরেছেন,ইদানিং শুনছি পড়াশোনা বাদ দিয়ে রাজনীতি ও শুরু করছেন। এতে কি আপনি বেঈমানি করছেন না কারো সাথে? - আমি বেঈমানি করছি? কার সাথে? - একটু ভেবে দেখেন আংকেল আন্টি আপনাকে নিয়ে কত আশা করে,আর আপনি তাদের দিনের পর দিন ঠকাচ্ছেন। তিন মাসের ঠুনকো সম্পর্ক ব্রেক হয়েছে বলে আপনি স্নেহা কে বেঈমান বললেন। আর যাদের সাথে আপনার আত্বার রিলেশন আপনি তো প্রতিনিয়ত তাদের ঠকাচ্ছেন,তাহলে কে বেঈমান? নিরবতা গ্রাস করল আবার।এভাবে কখনো ভাবিনি।রুপন্তির কথা গুলা ভাবাচ্ছে খুব। আসলেই কি বেঈমান আমি? - চুপ করে আছেন কেন? - হ্যা? বল শুনছি! - শুনছি মানে? আপনাকে বললাম আর সিগারেট খাবেন না। - হুম... - হুমম কি? কথা নাই? - ঠিক আছে খাব না... - হুম গুড...আর শোনেন জীবন টা উপন্যাসের মত ছোট নয় অনেক বড়।যে আপনাকে ছেড়ে গেছে সে কি বালিস ভেজাচ্ছে ঘরে বসে? যেয়ে দেখেন অন্য কারো সাথে ঠিকিই কন্টিনিউ করছে.... - হয়ত ঠিক বলেছ... - হয়ত বলছেন? যেটা বলছি হান্ডেরড পারসেন্ট খাটি কথা। - অনেক বড় হয়ে গেছ দেখছি। - ভাইয়া আমি অনার্স থার্ড ইয়ার মাইন্ড ইট... - এই মামা রিক্সা বামে রাখ... রুপন্তি তুমি বাসায় চলে আমার এখানে একটু কাজ আছে। - এখানে কি কাজ আপনার?যত সব বাজে ছেলেদের আড্ডা এখানে। - এই মামা নিয়ে যাও... পাশের একটা ছোট গলিতে ঢুকে পড়লাম। মেয়েটার খবরদারি কেমন বেড়ে গেছে। এড়ানোর জন্যই রিক্সা থেকে নেমেছি। এখানে সেখানে ঢু মেরে সন্ধ্যার সময় বাসায় গেছি।ঘরে ঢুকতেই রুপন্তি কে দেখলাম মায়ের সামনে বসে আছে।ভয় পেয়ে গেলাম,মাকে কি নালিশ করে দিল কি না! থমথমে মুখ নিয়ে মা আমার দিকে চেয়ে রইল। - রাতেও না হয় বাইরে থাকবি, বাসায় আসার দরকার কি? - কেন কি হয়েছে? - রুপন্তির রেজাল্ট দেখ।সারা জীবন তো কলেজ ভার্সিটির বই ব্যাগ টেনে গেলি জীবনে তো একটা ভাল রেজাল্ট করে দেখাতে পারলিনা। তারমানে ও তখন বাসায় না গিয়ে এখানে আসছে।তাও ভাল ওসব কিছু বলেনি। - তুমি বাসায় যাও নি? - আপনি তো রেজাল্ট এর কথা না শুনেই নেমে পড়লেন।পরে মিষ্টি চেয়ে খোটা দিতেন।তাই বাসায় চলে আসছি। - তোমার মা, বাবা,ভাইয়া টেনশন করবে না? - বাসায় ফোন দিয়ে বলেছি। বলতে বলতে ফোন বেজে উঠল আমার। রণর ফোন... - হ্যা রণ... - হ্যা প্রহর... রুপন্তিকে একা ছাড়িস না। দিয়ে যাস সাথে করে।আন্টি বলল রাতে খেয়ে যাবে।আমিই নিয়ে আসতাম।মাকে নিয়ে একটু ডক্টরের কাছে আসছি তো.... - ঠিক আছে তুই চিন্তা করিস না... রুমে গিয়ে কাপড় চেঞ্জ করলাম।কিছুক্ষন পর রুপন্তি নক করল। - ভেতরে আসব? - হ্যা... এস। এর আগেও আমার রুমে ও বহু বার আসছে। আজ কেমন খুঁতখুঁতে লাগছে ওকে। কি যেন খুজছে মনে হল। - কিছু দরকার তোমার? - না দেখছি... - কি? - ছেলেদের ঘর সব সময় অগোছালো হয়। কিন্তু আপনার টা তো বেশ পরিপাটি। - ওও ওটা মায়ের অবদান! হঠাৎ টেবিল ল্যাম্পের কাছে দাড়িয়ে পড়ল ও।ছোট্ট টেবিলের উপর রাখা এলার্ম ঘড়িটা তুলে নিল।স্নেহা দিয়েছিল গিফট হিসেবে।ঘড়িটার উপর দিকে দুইটা পাতলা গ্লাস।মাঝের দিকটা ফাকা।সেখানে স্নেহার একটা ছবি রেখেছিলাম।সেটাই দেখছে রুপন্তি। পেছন দিক থেকে ঘুরে ওর সামনে গেলাম।চেহায় কেমন নিষ্ঠুরতা ফুটে উঠল ওর।এরপর একটা মাত্র আওয়াজ পুরা বাড়ি কাপিয়ে দিল।প্রাথমিক ধাক্কা সামলে নিয়ে বললাম এটা কি হল? উত্তর দিল না..... বাসার বাইরে এলাম পিছু নিয়ে।মাও বিষয় টা বুঝে উঠতে পারেনি।তার আগেই বাড়ির বাইরে চলে এল ও।একটা রিক্সা নেই। হাটতে শুরু করল। - রুপন্তি কি হল বলবে তো। এমন করলে কেন? কথা বলছে না শুধু হেটে চলেছে।একটা রিক্সা পেয়ে উঠে পড়ল।একা যেতে দেয়া যায় না। আমিও উঠে পড়লাম। - আপনি নামেন... - নামবো মানে? - নামতে বলছি আপনি নামেন। - একা যাবে নাকি? - হ্যা একাই যাব।আপনার প্রবলেম? - রণ কি ভাববে? - কিচ্ছু আসে যায় না আমার। আপনি নামেন।এই মামা ওনাকে নামিয়ে দেন। রিক্সা থামতে নেমে পড়লাম। ; দুপুরে খাওয়ার পর ঘুমানো খুব আরামের। চোখ দুটা লেগে আসছে।ঠিক তখনি মা এসে ডাকা শুরু করল.... - প্রহর ওঠ তো... - কি হইছে মা???? মাত্র ঘুম আসছে.... - ঘুমাতে হবে না ওঠ! - পারব না যাও... - আরে রুপন্তি দের বাসায় যাব একটু ওঠ। - কি জন্য যাবে? - কাল ও এমন কেন করল। আমার রান্না নষ্ট হইছে... - তুমি যাও। আমি এখন ঘুমাব... আরো কতক্ষন বকবক করে মা একাই চলে গেল।বাসায় কেউ নেই আরামে ঘুমানো যাবে..... ; রুপন্তির মা দুপুর থেকে মেয়েকে খাওয়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।শেষ মেশ না পেরে অধৈর্য হয়ে ভাতের প্লেট মেয়ের রুমে রেখে চলে গেলেন। সে সময় পৌছে গেলেন প্রহরের মা। রণর মায়ের সাথে তার খুব ভাব হয় যখন রণ প্রহর দের কলেজের ফাস্ট দিন ছিল।এর আগেও বহুবার তারা একে অপরের বাড়ি যাওয়া আসা করেছেন।সৌজন্য বিনিময়ের প্রয়োজন দেখালেন না প্রহরের মা সোজা জিগেস করলেন... - ভাবি আপনার মেয়ে কোথায়? - কেন। কি হয়েছে? - কি হয়নি? গতদিনের কথা খুলে বললেন তখন। রুপন্তির ঘরে ঢুকে দেখলেন তারপর। - রুপন্তি? মেয়েটা চমকে উঠল কিছুটা।জানালার দিক থেকে ঘুরেই চোখ মুছলো। - আন্টি আপনি? - কাল কি হয়েছিল তোমার? - কিছু না আন্টি। ওই ভাবে চলে আসার জন্য আমি সরি। - সত্যি কথা বল।কিছু লুকিয়ো না... - প্রহর ভাইয়া একটা বাজে মেয়ের ছবি এখনো রেখে দিয়েছে।যার জন্য সে সিগারেট ও খাই।অনেক বার নিষেধ করেছি। কথা শুনে না। - আর? - আ আর কিছু না। - সত্যি কিছু না তো? - জি মানে? - মায়েদের কাছে অনেক কিছু ধরা পড়ে। তুমি যে ওকে ভালবাস ও কি জানে? - বোঝাতে চেয়েছি অনেকবার... - বুঝতেই চাই না।বলে আমি নাকি ছোট এখনো... দরজার বাইরে শব্দ শুনে রুপন্তি বাইরে তাকাল।ভাইয়া আর মা কে দেখে কিছুটা ঘাবরে গেল।ওকে আশ্বস্ত করলেন প্রহরের মা। - ভাবি আসছেন, ভালই হল...( প্রহরের মা ) - প্লেট তো এখনো খালি হল না। মেয়েটাকে যদি একটু খাওয়াতে পারতেন! - আগে বসেন কথা বলি... ; আপত্তি করার মত কেউ নেই বিয়েতে।ওর মত জানার জন্য ফোন করলেন মা।ফোন রিসিভ করছে না দেখে রণ বলল সে নিজে গিয়ে ডেকে নিয়ে আসবে।রুপন্তি মাঝ থেকে উঠে চলে গেল...... ; দরজা খোলাই ছিল।বাইরে থেকে মৃদু ধাক্কা দিতেই পাল্লা খুলে গেল।অন্ধকারে আবৃত পুরো ঘর।ফোনের আলো দিয়ে সুইচ জ্বেলে দিল রুপন্তি। মরার মত ঘুমাচ্ছে এখনো প্রহর। কয়েক বার কাশি দিয়েও ওকে ওঠাতে পারল না রুপন্তি। - এই যে.....?( ধাক্কা দিয়ে ) - উমমম..... কাজ হবে না ভেবে একটা বালিস নিয়ে নাকের উপর চেপে ধরল রুপন্তি। কিছুক্ষনের মধ্যে হাসফাস করে উঠে গেল প্রহর। - তু..তুমি এখানে? - হুম আমি..... - কে.. কেন? মা কই? - আমাদের বাসায়... - তুমি এখানে কেন? - আপনাকে নিতে আসছি। - মানে? - আমাদের বাসায় নিয়ে যেতে আসছি। - কেন? - গেলেই বুঝতে পারবে। - মানে? - চল তো, তারপর বুঝবে। - তুমি মনে হয় ভুলে যাচ্ছ কার সাথে কথা বলছ। - ওহ সরি,।আপনি... এখন উঠেন তো কুইক...(হাত ধরে টানা টানি শুরু করে দিল) মেজাজটা এবার প্রচন্ড খারাপ হয়ে গেল..... - এই মেয়ে ছাড়হ.....( এক ঝাড়িতে মেয়েটার মুখ শুকিয়ে গেছে,ভয়ে দু হাত সরে গেছে আগেই..) খুব সাহস হইছে তোমার তাই না? - উ...উ...উ...( কথা বলার আগেই গলার স্বর পাল্টে গেল!) প্রথমে আস্তে ধীরে ধীরে কান্নার আওয়াজ বেড়ে গেল। - এই মেয়ে প্রবলেম কি তোমার? - ভুল হয়ে গেছে। আর কখনো হবে না এমন।( ঠোট জোড়া অনবরত কাপছে ওর আর নাকটা অসম্ভব রকমের লাল হয়ে গেছে ) একটু খারাপ লাগল ওর এমন অবস্থা দেখে। কাছে গিয়ে একরাশ সংকোচ নিয়ে চোখ ডুটো মুছে দিচ্ছি।ঠিক তখনি বলে উঠল... - আই লাভ ইউ... - হ্যা... কি বললা? - আপনাকে আমি ভালবাসি। - দেখ মেয়ে খুব বেশি বেয়াদবি করছো কিন্তু। - ঠিক আছে আমি চলে যাচ্ছি।আমি বেয়াদব আমার কোন ভালবাসা থাকতে পারে না। চোখ মুছতে মুছতে বেরিয়ে গেল রুপন্তি। কি করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।রুম থেকে বের হয়ে ওকে ধরলাম... - সত্যি করে বল কেন আসছ? - কিছু বলার নেই আর... - নেই মানে? - কি বলব? যখন ক্লাস সেভেনে পড়তাম। ভাইয়ার সাথে আপনি আমাদের বাসায় গেলেন।তখন থেকে ভাল লাগে আপনাকে। তখন ভাবতাম এটা শুধু আবেগ।সময়ের সাথে সাথে বুঝতে শিখেছি কোনটা কি! শুধু আপনার কাছে আজও ছোট রয়ে গেছি।ওই মেয়েটার সাথে রিলেশনে গেছেন শুনে খুব কান্না করেছি প্রতিদিন।আর আপনাকে বোঝাতে চেয়েছি ভালবাসি।ওই যে আমি ছোট বলে এড়িয়ে গেছেন।আজ বলে দিলাম তাই বেয়াদব আমি।আর কিছু বলা বা শোনার ইচ্ছা নেই.... - দেখ আমি জানি না তোমাকে এখন আমার কি বলা উচিত। - শান্তনা দিবেন তো কোন দরকার নেই। চলি বাই.... - রুপন্তি? - বলছি তো শান্তনা দিতে হবে না... - দেখ রণ বা তোমার বাবা মাকে ম্যানেজ করবা কিভাবে।যদি ওরা মেনে না নেয়? - আপনি এতটা ভেবেছেন সেজন্য ধন্যবাদ। ভাল থাকবেন..... - আমার সময় লাগবে একটু। দিতে পারবা? মেয়েটা কোন উত্তর দিল না।এসে জড়িয়ে ধরল আমাকে।কান্না করছে বুঝতে পারছি স্পষ্ট। পিঠের দিকে জামাটা খুব জোরে খামচে ধরেছে।ডান হাত দিয়ে ওর পিঠ চাপড়ে আশ্বস্ত করলাম।একটা ভাইব্রেট হচ্ছে বুকের ভেতর।কিছু অনুভূতি জেগে উঠছে। - চল তোমাকে বাসায় দিয়ে আসি.... একটা রিক্সা নিয়ে চললাম।সন্ধার চাদরে মুড়ে গিয়েছে চারপাশে। মোড় ঘোরার আগেই রিক্সা ওয়ালা কে অন্য পথে যেতে বলল রুপন্তি। - কোথায় যাবে? - আপনার সাথে ঘুরব আজ। - আপনি আর তুমি তে হারিয়ে যাচ্ছ। যেকোন একটা বল। - আবার বেয়াদব বলবেন না তো? ঘাড়ের উপর একটা হাত রেখে অভয় দিলাম। মেয়েটা চুপটি মেরে আমার আরো কাছে চেপে বসল। - বাড়িতে আমাদের বিয়ের কথা ফাইনাল। ( রুপন্তি ) - মানে? - এত মানে মানে কর কেন? - তোমার কথা বুঝলাম না? - বুঝতে হবে না এত... - বল না... - কানে কানে শোন........ মাথা ওর দিকে এগিয়ে নিলাম।তখন খুব ফিসফিসিয়ে বলল ; ...........আই লাভ ইউ.........


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১৯৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ Romantic story. 8
→ Romantic story. 7 ! ঝগড়াটে মেয়ে
→ Romantic story. 6 ! ★চিরকুট★
→ Romantic story. 5
→ Romantic story. 3
→ Romantic story. 4
→ Romantic story. 2
→ Romantic story. 1

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now