বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোহিঙ্গা

"জীবনের গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X "রোহিঙ্গা" লিখাঃ- Shahjahan Sagor নির্বাক একটি গ্রাম। চারিদিকে সুনসান নীরবতা। বিদ্যুতের আলো এই জনপদে নেই। বৌদ্ধদের নির্যাতনে অতিষ্ঠ যখন এলাকার মুসলিম রাখাইনবাসী, তখনই রাতের অন্ধকারে টিপটিপ পায়ে হেটে আসছেন এক রোহিঙ্গা। সাথে তাঁর ৮/১০ বছরের এক মেয়ে। এলাকায় তখন রোহিঙ্গাদের উপর চলছে অমানবিক নির্যাতন ও হত্যাযজ্ঞ। লোকটির ভালো নাম মঈনুল। দাঙ্গার ভয়ে সাথে তাঁর একটা ছুরিও ছিলো। কবিরাজের কাছে মেয়েকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তাই ফিরতে রাত ১২:৩০ বেজে গেলো। বাড়ির থেকে যখন তাঁরা প্রায় কয়েক গজ দূরে তখনই পিছন থেকে একটা ডাক হঠাৎ-ই তাদেরকে কাঁপিয়ে তুলে। কোনো এক বৌদ্ধ পিছন থেকে তাঁর নাম ধরে ডাকছে.. মঈনুল! মঈনুল! লোকটি ভাবেন, নিশ্চয় এতরাতে শুধু তাঁকে মারার অপেক্ষায়ই এই বৌদ্ধ অত্যাচারী অপেক্ষা করছিল। তাই মঈনুল পকেট থেকে চাকু বের করে মেয়েকে নিয়ে ছুটতে লাগলেন। কিন্তু আশ্চর্য! কয়েক কদম সামনে যেতেই ঐ লোকটি আবার তাদের পথ আগলে দাঁড়ালো। কিন্তু এটি তো এতো জলদি দৌঁড়ে তাদের সামনে আসার কথা না! মঈনুল ও তাঁর মেয়ে এবার লোকটিকে ভালোমতো পরখ করতে লাগলেন। তার পরনে ছিলো টকটকে লাল একটি জামা যা থেকে রক্ত পড়ছে, মনে হচ্ছে এইমাত্র কাউকে খুন করে আসছে। কিন্তু মুখটা ছিলো কালো বিদঘুটে যা দিয়ে অন্ধকারে ভয়ঙ্কর হাসি বেরুচ্ছে। শরীর থেকে প্রচণ্ড দূর্গন্ধ বেরুচ্ছে। মঈনুল সেটি সহ্য করতে না পেরে চাকু দিয়ে সামান্য দূর থেকেই লোকটির বুকে আঘাত করলেন। আঘাতে বিশ্রী লোকটি বিশাল চিৎকার করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় শরীর থেকে কোনো রক্ত পড়লো না। সেই রাতে তিনি মেয়েকে নিয়ে বাড়ি চলে আসলেন। পথে আর কোনো ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটলো না। কিন্তু আসল ঘটনার শুরু হলো তার পর থেকেই। এই ঘটনার পর থেকে মঈনুল প্রতিরাতে স্বপ্নে দেখতেন, কেউ একজন তাঁকে বলছে.. "আমি তোঁকে ছাড়বো না, আমি আমার প্রতিশোধ নিবোই"। এমনি একদিন রাতে মঈনুল সেদিন তাঁর ঘরে একা ঘুমাচ্ছেন। বউ মেয়েকে নিয়ে বাপের বাড়ি গেছে। এলাকায় সেদিন বৌদ্ধদের হাতে ৯জন রোহিঙ্গা একসাথে মারা যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় তাঁর ঘুম আসছিলো না। ঘুমাতে ঘুমাতে রাত ১টা বেজে যায়। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ কিসের আওয়াজে যেনো তাঁর ঘুম ভাঙে। ঘরে কিসের যেনো খুব গন্ধ হচ্ছে। চোঁখ খোললেই একটা কালো আবছায়া যেনো চোঁখের পলকে তাঁর সামনে দিয়ে চলে গেলো। এটা দেখে সে ভয় পেয়ে যায়। তাঁর ঘরের কাছেই কোথা থেকে যেনো কান্নার আওয়াজ আসছে। ভয়ে তিনি হারিকেনের আলোটা একটু বাড়িয়ে দিলেন। হারিকেনের মৃদু আলোতে যা দেখতে পেলেন, তা দেখার জন্য তিনি মোটেও প্রস্তুত ছিলেন না। তিনি দেখলেন যে, তাঁর রুমের দরজার সামনে একটা সাদা কাপড় পড়া লোক দাঁড়িয়ে আছে। তিনি এটি দেখে আরো ভয় পেয়ে গেলেন। লোকটি আগ্নেশিখার মতো লাল বড় বড় চোঁখ করে এক দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। লোকটির শরীর প্রচণ্ড রকমের বড় যা মানুষের আকৃতি ছিলো না। মঈনুল তখন প্রচণ্ড ভয়ে চিৎকার দিয়ে বিছানা থেকে সড়ে যাবার জন্য চেষ্টা করতে লাগলেন। কিন্তু তাঁর গলা দিয়ে কোনো আওয়াজ বের হলো না। এদিকে ওই বিশ্রী লোকটি আস্তে আস্তে করে তাঁর দিকেই এগিয়ে আসছে। আর গাঁ থেকে প্রচুর দূর্গন্ধ বের হচ্ছে। লোকটি যখন তাঁর ঠিক কাছাকাছি এসে পড়লো, মঈনুল লক্ষ্য করলেন যে ওর মুখটা অত্যন্ত কালো বিশ্রী, ঠিক সেদিনকার লোকটির মতো। বিশ্রী জিনিসটি তাঁর কাছে এসেই তাঁর গলা চেপে ধরলো, যা সহ্য করতে না পেরে মঈনুল তখন অজ্ঞান হয়ে যান। নাহ! মঈনুল সে রাতেও মারা যাননি। পরদিন জ্ঞান ফিরে দেখেন, তিনি তাঁর এক প্রতিবেশীর বাড়িতে শুয়ে আছেন। তাঁর শরীরে এখন প্রচণ্ড ব্যথা করছে। ভোরে নাকি এলাকার কিছু লোক তাঁকে সেদিনকার সেই রাস্তাটিতে অজ্ঞান অবস্থায় পেয়ে বাড়ি নিয়ে আসেন। এবং সেই সাথে তাঁর গায়ে অনেক আঁচড়ের দাগ দেখতে পান। মঈনুল তাদেরকে সেদিন সব ঘটনা খুলে বলেন। তাঁর পর থেকেই মঈনুলের প্রচণ্ড রকমের জ্বর আসে এবং ২১ দিনের মাথায় তেমনি এক রাতে তিনি মারা যান। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। তারও ঠিক ১মাস পর সেই একই ঘটনায় মঈনুলের সেই মেয়েও বাবার মতোই মারা যায়। কিন্তু মারা গেলেও মঈনুল ও তাঁর মেয়ে চিরতরে অত্যাচারী মানুষরূপী বৌদ্ধ নরপিশাচদের নির্যাতনের হাত থেকে বেঁচে যান। পরকালে পাড়ি জমান, না ফিরার দেশে। ( সমাপ্ত )


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রোহিঙ্গা কি খারাপ জাতি?
→ রোহিঙ্গা প্রেম
→ রোহিঙ্গা
→ একটি রোহিঙ্গা পরিবারের আত্নঃকাহিনী

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now