বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
মাঝে মাঝে আমার মাথায় কিছু ভূত চাপে।ইদানিং চেপেছে ফটোগ্রাফির ভূত।ফটোগ্রাফি করে বিশ্বখ্যাত হয়ে গেছি-এই রকম স্বপ্ন দেখে রাত কাটাই।এই ভূত চাপার পেছনে প্রধান কারণ আমার ভাইয়ার ডি এস এল আর ক্যামেরা!যেটা এখন আমার দখলে।
এক কালে ভাইয়ার খুব ছবি তোলার নেশা ছিল।তখনই একটা প্রতিযোগিতা জিতে এই ক্যামেরাটা পেয়েছিল।কিন্তু সেই ক্যামেরা দিয়ে খুব বেশি ছবি তোলার আগেই পড়াশুনার জন্য কানাডা চলে গেল।কিন্তু যাওয়ার আগে কে জানে কেন ক্যামেরাটা আমাকে দিয়ে গেল।তারপর থেকে আমার দুনিয়া ক্যামেরাময় হয়ে গেছে।ছবি কেমন তুলি জানি না।কিন্তু গলায় ক্যামেরা ঝুলিয়ে যখন ক্যাম্পাসে ঘুরি তখন কেমন ভাব এসে যায়!
অন্যান্য দিনের মত সেদিনও তাই লেন্স আর ক্যামেরা ব্যাগে ঢুকিয়ে ভার্সিটিতে যাওয়ার উদ্দ্যোগ নিচ্ছি।হঠাৎ ঘটনাস্থলে মার আগমন এবং দ্রুত পলায়নের চেষ্টা ব্যর্থ।
-কিরে জিসান কই যাস?
-কেন ভার্সিটিতে যাই!আজকে তো ক্লাস আছে।সরো তো।দেরি হয়ে যাচ্ছে!
এই বলে আমি খুব ব্যস্ততার ভান করে চলে যেতে চাইলাম।কিন্তু মা পথরুদ্ধ করে বলল,
-ভার্সিটিতে ক্যামেরা দিয়ে কি করবি?পড়াশুনা নাই সারাদিন খালি ক্যামেরা নিয়ে তাফালিং!রেখে যা বলছি!
মা কিছুদিন ক্যামেরা নিয়ে আমার লম্ফঝম্ফ অতিকষ্টে সহ্য করেছে।আজকে আর থাকতে না পেরে একেবারে ছিনিয়েই নিয়ে গেল!
আর আমি জিসান বেচারা সারাদিন গাল ফুলিয়ে ক্লাস করলাম। বন্ধুরা দুষ্টামি করে কিছু বলতে গেলেই বিরাট হুঙ্কার দিয়ে থামিয়ে দিলাম।বিকালে বাসায় ফেরার সময় রিকশা সি এন জি কিছুই না পেয়ে মেজাজ আরো খারাপ হয়ে গেল।শেষমেষ হাল ছেড়ে দিয়ে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে রইলাম।পাশেই ছোট্ট একটা ছেলে ফুল বিক্রি করছিলো।আমি অন্যমনস্ক হয়ে ওদিকেই তাকিয়ে ছিলাম।
হঠাৎ দেখি শাড়ি পরা একটা মেয়ে ছেলেটার কাছ থেকে ফুল কিনছে।চমৎকার একটা হাসি দিয়ে ফুলের দাম দিল।আর আমি এদিকে ভাবছি ক্যামেরার কথা!জটিল একটা কম্পোজিশন মিস হয়ে যাওয়ায় বিরাট দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলছি।সেই সময়েই একজন সি এন জি ওয়ালার আমার প্রতি দয়া হল। সি এন জি তে উঠে খেয়াল করলাম যে আমার মনটা ভাল হয়ে গেছে!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now