বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোদ আর রোদেলার প্রেম.........

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান Sayemus Suhan (০ পয়েন্ট)

X সকাল থেকে মুষল ধাঁরে বৃষ্টি হচ্ছে।বাইরে বের হবার একটুও উপায় নাই। আজকেই এমন কেন হতে হবে,অবস্য ভালো লাগছে রোদের এইটা ভেবে, যে আজকে কলেজ জীবনের প্রথম দিন তাকে বৃষ্টিতে স্বাগত জানাল। বৃষ্টি রোদের একদমই ভাল লাগে না তবু ও আজকে তার মনটা খুব ভাল লাগছে। নতুন কলেজ জীবনে পা দিচ্ছে,সেই ছোট বেলা থেকে সে বয়েজ স্কুলে পরে আসছে ছেলে বন্ধু ছাড়া তার কোন ফ্রেন্ড ছিলনা। পারিবারিক জীবনেও তেমন কোন মেয়ের সাথে মেশা হয়নি।হয়নি কারো সাথে তেমনি ভাবে চলা। রোদ মনে মনে ভাবছে যে,আজকে কলেজ গিয়ে নতুন ফ্রেন্ড দের সাথে পরিচয় হবে,আর সেইখান থেকে খুব সুন্দর ,মিষ্টি একটা মেয়ে দেখে ফ্রেন্ডশিপ করবে। শুধুই কি ফ্রেন্ডশিপ নাকি আর কিছু।এমন ভাবতে ভাবতে মায়ের ডাক কানে আসে রোদের। কইরে তুইকি বৃষ্টির জন্য আজকে কলেজ যাবি না,প্রথম কলেজ আজকে।যত কষ্ট হক ছাতা নিয়ে যা। রোদ ভাবছে একবার যাবে কি যাবে না।চিন্তা ভাবনা করে নামল যে যাবেই আজকে কলেজে। জিন্সের প্যান্ট টা হাঁটু অব্দি উঠিয়ে কলেজ ব্যাগটা ঘাড়ে নিয়ে ছাতা মাথায় দিয়ে বাইরে বের হল। ভাবছে রিক্সায় যাবে না,ঢাকার শহরে রাস্তার যে অবস্তা তাতে কখন যে রিক্সা পানিতে মাছ ধরতে উপুর হয়ে পরবে নিজে ও জানে না।সেই সাথে রিক্সার ভিতরে যাত্রী নামের মাছ গুলি পানিতে হাবুডুবু খাবে।এই ভেবে বাসস্টপজ এর দিকে হাঁটতে লাগল। বাসস্টপজে গিয়ে দেখল অনেকে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে আছে।রোদ গিয়ে ও সবার সাথে সেইখানে দাঁড়াল। হঠাৎ সে দেখতে পেল তার বাম পাশে খুব সুন্দরী একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ইচ্ছা করছিল তার সাথে কথা বলবে। কিন্তু পারেনি খুব ভয় করছিল তাই। এই একটু পরেই বাস চলে আসে।মেয়ে টি বাসে উঠে, রোদ ও বাসে উঠে। মেয়েটি সিটে জায়গা পায় কিন্তু রোদ দাঁড়িয়ে তাকে দেখে যাচ্ছে,তার নামটা ও জানা হলনা। শুধু ভাবছে এমন একটি মেয়েই তো সে মনে মনে খুজচ্ছে। বাস চলে আসল কলেজের কাছে। রোদ এইবার ভাবল সে পরে নামবে। সে মেয়ে টাকে ফলো করবে। মেয়েটাও নামল। ভাবল হয়ত তাদের কলেজেই পরে। রোদ তো মনে মনে আল্লাহ্ করছে যেন তাদের সাথে পরে। রোদ ভাবল কলেজের ভিতর যাবার পরই মেয়েটার সাথে কথা বলবে ডাক দিবে তাকে। সাহস করে ডাক দিয়েও বসল, এই যে শুনছেন..............................? মেয়েটি এই প্রথম তার দিকে তাকিয়ে বলল জি আমাকে বলছেন, রোদ হুম এইখানে তো শুধু আপনিই আছেন তো আর কাকে বলব। জি বলেন কি বল্বেন,মানে রোদ আমি রোদ। রোদ বলল। মেয়েটি হেঁসে দিয়ে বলল এই বৃষ্টির দিনে আমার কাছে রোদ খুঁজতে এসেছেন জী আমি রোদ না রোদেলা। রোদ তো পুরাই অবাক যে তার সাথে নামটার অনেক মিল আছে। রোদঃ আপনি কি এই কলেজে পরেন? রোদেলাঃ হুম আমি এই কলেজে পড়ি। এই আবার বৃষ্টি শুরু হল....................................... রোদেলা আমার ক্লাস আছে আমি যাব,এই বলেই রোদেলা হাঁটতে লাগল। রোদ পিছন থেকে ডেকে জানতে চাইছে আপনি কোন ইয়ারে পরেন।কিন্তু মেয়েটি সোজা কলেজের রুমের দিকে চলে গেল............ রোদ ও তার ক্লাসে গেল......সে সারা ক্লাস মেয়েটিকে খুঁজতে লাগল,কিন্তু কোথাও মেয়েটাকে পেল না।এর মাঝে তার আরও কিছু ছেলে ফ্রেন্ডদের সাথে পরিচয় হল।সবাইকে বলল এই কথা সবাই শুনে বলে দোস্ত চিন্তা নিসনা কালকে সারা কলেজ খুজে তাকে বের করব। রোদ বাসায় গিয়ে সারা ক্ষণ মেয়েটির কথা ভাবতে লাগল।কেন মেয়েটাকে খুজে পেল না।কেন তাকে এক দেখাতেই ভাল লাগল।ভাবতে ভাবতে গুমিয়ে গেল। সকাল সকাল সে কলেজের জন্য রেডি হয়ে গেল।আজকে তো তার মা পুরাই অবাক। কেন এমন তারাতারি কলেজ যাচ্ছে।মাকে কোন মতে কিছু বুজিয়ে সুজিয়ে কলেজ চলে গেল। কলেজ গিয়ে বন্ধুদের নিয়ে খুঁজতে লাগল রোদেলা নামের মেয়েটাকে। সব কলেজ খুজে রোদের কাছে খবর আসল সব কলেজে মোট রোদেলার সংখ্যা ৩ জন।কিন্তু সবাই তাদের সিনিয়ার আপু। এখন কি হবে রোদ তো পুরা পাগল,সত্যি কি তবে তার কলেজ জীবনে প্রথম প্রেমে প্রথম সেঁকা খাবে? অবশেষে ঠিক হল তারা রোদেলা খুঁজার মিশনে নামবে। তারা ১ম জন তাদের সাথে পরে না কমার্স গ্রুপে কিন্তু তাদের বর।আর দেখতে ও একদম হাতির চাইতে কম না। ২জন ও ও কমার্সে কিন্তু কালো আরও তাদের বর।এইবার সবাই সাইন্সে যাবে কিন্তু এই কি সেই রোদেলা। রোদের বুক দপ দপ করছে.....................অবসেষে এই সেই রোদেলা কিন্তু সেই তাদের ১বছরের বড়। এখন রোদ কি করবে মেয়েটাকে তার মনের কথা বলবে নাকি অন্য কিছু বলে চলে আসবে তার রোদেলা নামের বড় আপুর কাছ থেকে? এমন সমায় রোদেলার কথা তার জ্ঞান ফিরল, রোদেলাঃ কেমন আছেন,এদিকে কি মনে করে? রোদঃ না মানে এমনি আসলাম গুরতে গুরতে,আপনার তো আর কোন দেখাই পাইলাম না। আপনি কি ২ বর্ষে পড়েন? রোদেলাঃ জী আমি ২য় বর্ষে পরি,আপনি? রোদঃ জী মানে,মানে আপু আমি এইবার প্রথম বর্ষে। আমি আপনার ছোট। রোদেলাঃ অহ তবে তো তুমি আমাদের ছোট ভাই। দেখে তো মনে হয়না আমার ছোট ভাবছে রোদেলা (মনে মনে) রোদঃ লজ্জায় নিজেই নিজের কাছে লজ্জা পাচ্ছে। যাকে ভালবাসে সেই বলছে ছোট ভাই। উফফফফফ আচ্ছা আপু আমরা তবে আসি। এই বলে রোদ আর রোদের ফ্রেন্ডরা চলে গেল। এখন প্রতিটা দিন কলেজে আসে রোদ ঠিকই কিন্তু ক্লাসে মন বসে না শুধু ভাবে কেন রোদেলা তার বড় হল?কেন সে আর একটু বড় হল না।আচ্ছা তার কি তাকে প্রপোস করা উচিত ছিল? নাকি সবাই খারাপ ভাববে? এমনি করে ২মাস চলে যায়............... একদিন রোদ জানতে পারে তাদের কলেজের এক স্যারের বিদায় প্রোগ্রাম হবে। তো সে ভাবল কালকে রোদেলা আসলে তাকে একলা ডেকে প্রোপস করবে......... কিন্তু না রোদেলার সামনে বসে সে কিছুই বলতে পারবে না...... তবে কি করবে। এখন ফ্রেন্ডদের সব বলে ফ্রেন্ডরা বলে দোস্ত এক কাজ করলে তোর লাইন কিলিয়ার। কিন্তু রিস্কি আছে। যদি সমস্যা হয় তবে কপালে শনি আছে। তো সবাই প্লান শুনল, প্লান ছিল................................................... শুনে রোদ বলল না আমি পারব না। আমার রোদেলার দিকে তাকিলেই আমি শেষ হয়ে যাই। আমি পারব না।আর সবার সামনে না, তা কোন দিন হবে না। ফ্রেন্ডরা রোদ কে বলতে লাগল শালা তুই একটা মাই......,হিজ.........আলতু ফালতু সব শুনে রোদের ও রাগ ও জীদ চাপল হুম বলবে,যা আছে কপালে...........................। পরের দিন.............................. একে একে সবাই বক্তব্য দিল স্যারের বিদায় উপলক্ষ্যে। এবার রোদের পালা সে তো রোদেলাকে সকাল বেলায় শাড়ি পরা দেখেই পাগল তাকে বলতে না পারলে সে শেষ। বলতে তাকে হবেই। রোদের হাতে একটা সাদা কাগজ,ভিতরে কিছু লেখা রোদ নিজেও জানে না ভিতরে কি আছে। সব তার ফ্রেন্ডরা লিখে দিছে। তার পড়া বারন ছিল। এমনই ছিল প্লানে............শুধু কথা ছিল কাগজে যা লেখা থাকবে রোদ তাই পরে যাবে। অবশেষে রোদ ষ্টেজে উঠে বক্তব্য দিবে............... ক্ষক খক একটু কাশি দিয়ে নীল রোদ,আর রোদেলার দিকে এক পলক তাকিয়ে কাগজ টা খুলে চোখ বুলিয়ে পড়া শুরু করল। আমার, মাননীয় শিক্ষক মন্ডলী............আমার এই লেখা সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া অব্দি আমারে কেউ ষ্টেজ থেকে নামানোর চেষ্টা করবেন না। রোদের দিকে সবাই তাকিয়ে আছে সে কি পড়ছে............... আমি সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি..................... ২ বর্ষের রোদেলা আমি তোমাকেই বলছি, তোমাকে যেদিন আমি প্রথম দিন দেখেছিলাম সেইদিন আমার ভাল লাগে। সেই বর্ষা ভেজা সকালে আমি তোমায় আমার মনের ক্যানভাসে একেছি। ওদিকে রোদেলা লাগে লজ্জায় লাল হয়ে গেছে সবাই তার দিকে তাকিয়ে আছে। রোদ নিজের মত করে বলে যাচ্ছে তার মনের কথা...... সবশেষে বলল রোদেলা জানি তুমি আমার বড় কিন্তু আমি তোমায় ভালবাসি.................. আই লাভ ইউ রোদেলা............... এইটা বলেই রোদ ষ্টেজে জ্ঞান হারাল হয়ত ভয়তে। সবাই রাগ করা রেখে তাকে নিয়ে হাসপাতালে রওয়না দিল। রোদেলা কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। রোদের জ্ঞান ফিরার পর দেখতে পেল রোদেলা তার পাশে বসা। রোদ কিছু বলার আগেই রোদেলা তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগল আর বলতে লাগল আরে আমার পিচ্চি বয় ফ্রেন্ড সবার সামনে আমাকে লজ্জা দিতে খুব মজা লাগে তাই না। এই বলে আস্তে আস্তে কিল গুসি রোদের গায়ে পরতে লাগল। এভাবেই তাদের প্রেমের ক্লাস শুরু হল.........এবং পরের বছর তারা এক সাথেই ক্লাস করা শুরু করল কারন বড় আপু রোদেলা তার ছোট বয়ফ্রেন্ড রোদের জন্য ইচ্ছা করে ক্লাসে ফেল করে একি ক্লাসে থেকে গেল..................


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রোদ আর রোদেলার প্রেম.........

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now