বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রোবসেপিয়ান্সের ভালোবাসা-০৩

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ৫. যাক, বিশাল একটা খাটুনির কাজ শেষ হলো, হাঁফ ছেড়ে বাঁচলও যেন রিশান; এখন সবকিছু ঠিকঠাক মত কাজ করলেই হয়। প্রবল উত্তেজনা আর সীমাহীন আশংকা নিয়ে রিমোটের অন বাটনে চাপ দেয় রিশান। এক সেকেন্ড, দুই সেকেন্ড .. পাঁচ সেকেন্ড চলে যায় কোন পরিবর্তন দেখা যায় না পিয়েলার শরীরে । পাঁচ সেকেন্ড রিশানের কাছে মনে হয় পাঁচ যুগ পার হয়ে গেছে ! ছয় সেকেন্ডের মাথায় ধীরে ধীরে চোখের পাতা খোলে পিয়েলা ঠিক যেভাবে ঘুম থেকে জেগে উঠে কোন মানুষ! খুশিতে শিস্ দিয়ে উঠে রিশান, ছোট ছোট পদক্ষেপে পিয়েলার দিকে এগিয়ে যায় সে; ভাবলেশহীন চোখে তার চোখের দিকে থাকে পিয়েলা। চমকে উঠে রিশান! এমন নির্লিপ্ত চোখ! যে চোখে কোন আবেগ নেই, নেই কোন ভালোবাসা, রাগ, ক্ষোভ, ব্যথা, আছে শুধু অসীম শূন্য দৃষ্টি। রিশান জানে রোবট পিয়েলার শুধু পঞ্চেন্দ্রিয় সংযোগ করা হয়েছে এখনও আবেগ যোগ করা হয়নি, তাই তার দৃষ্টি এমনই হওয়ার কথা, কিন্তু তবুও সে চোখ ফিরিয়ে নেয়। হঠাৎ হাতের কফির মগটা আস্তে করে পিয়েলার মাথা লক্ষ করে ছুঁড়ে মারে রিশান, আর সাথে সাথে পিয়েলা একেবারে স্বাভাবিক মানুষের মত মাথাটা নিচু করে ছুঁড়ে দেওয়া মগটা এড়িয়ে যায়। খুশিতে নেচে উঠে রিশান, আহঃ, দৃষ্টি একদম ঠিক মত কাজ করছে । এবার সোজা এগিয়ে যায় রিশান, আলতো করে একটু ছোঁয় পিয়েলার গালটা, যেন কারেন্টের শক খেয়েছে এমন ভাবে সর্বাঙ্গ কেঁপে উঠে পিয়েলার। বুকের উপর কান পাতে রিশান, শুনতে পায় ক্রমাগত দ্রুত থেকে দ্রুততর হচ্ছে পিয়েলার কৃত্রিম হৃদপিণ্ডের গতি। হঠাৎ গতি সঞ্চার হয় রিশানের হাতে, গালের উপর দিয়ে বুলাতে বুলাতে তার হাত চলে যায় ঘাড়ে, সেখান থেকে আস্তে আস্তে চলে যায় পিঠে, তারপর সমগ্র শরীরে। হাত বুলানো অবস্থায় রিশান তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে পর্যবেক্ষণ করতে থাকে পিয়েলার প্রতিটি কম্পন, কপালের কুঁচকে যাওয়া, চোখের পাতার দ্রুত উঠানামা। শেষে নাভির উপর যখন তার হাত আসে তখন পিয়েলার কোমর দুলে উঠে, পেটটা একটু চেপে ধরে অস্ফুট একটা আওয়াজ করে এক পা পিছনে চলে যায় সে। এইবার নাভির কাছে বেশ জোরে একটা চিমটি কাটে সে, মৃদু চিৎকার দিয়ে লাফিয়ে উঠে পিয়েলা । আনন্দে নেচে উঠে রিশানের মন! পারফেক্ট! একে বারে পারফেক্ট মানবীয় অনুভূতি! পারফেক্ট! তবে গলার স্বরটা এখনও ঠিক মত ম্যাচ হয়নি, এখনও মনে হয় ফাঁপা কোন পাইপের ভিতর দিয়ে কথা বলছে কেউ। মানবি পিয়েলার কণ্ঠস্বরের সাথে ঠিকমত সুপারইমপোজ হয়নি, ফ্রিকোয়েন্সিটা টিউন করতে হবে ঠিকমত। আর তর সই ছিলোনা রিশানের , সাথে সাথে পিয়েলাকে অফ করে ইস্পাতের করোটির উপর থেকে চুল সরিয়ে কপোট্টনের ভিতর থেকে ভোকাল প্রসেসরটা বের করে কাজে লেগে যায় সে। ঘণ্টা খানেকের মধ্যেই শেষ হয়ে যায় ভোকাল প্রসেসরের রিপেয়ারিং। পাওয়ার অন করতেই চোখ খুলে তাকায় পিয়েলা। - রিশান তার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে, "আমি রিশান, তোমার নাম কি?" একজন সাধারণ মানুষকে কেউ নাম জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দিতে যতটুকু সময় নেয় পিয়েলা ঠিক ততটুকু সময় নিয়ে বলে, "আমার নাম, জেনারেশন নাইন টি.পি.টি.নাইন জিরো। - চমকে উঠে রিশান! অবিকল পিয়েলার কণ্ঠস্বর! বুকের ভিতর কান্নার মেঘ জমা হতে থাকে, অনেক কষ্টের নিজেকে সংযত করে বলে, "ঐসব ডাটা মুছে ফেলো, এখন থেকে তোমার নাম 'পিয়েলা লিয়ান' তবে আমি তোমাকে 'পিলি' বলে ডাকবো", এখন বলো তোমার নাম কি? উত্তর দেয়, "আমার নাম পিয়েলা লিয়ান " । - ঠিক আছে, তবে বলো "রিশান, আমার নাম পিয়েরা লিয়ান"। এইবার সে বলে , "রিশান, আমার নাম পিয়েরা লিয়ান" । - আবার বলো। "রিশান, আমার নাম পিয়েরা লিয়ান" । - আবার বলো । "রিশান, আমার নাম পিয়েলা লিয়ান" । এইবার সব সংযমের বাঁধ ভেঙ্গে যায় রিশানের, সে তার পিলিকে জড়িয়ে ধরে হু হু করে কেঁদে উঠে। তার বাহুডোরে আটকা পড়ে পিয়েরা অনুভূতি শূন্য চোখে এদিক ওদিক তাকাতে থাকে আর ভাবতে থাকে, কি হলো হঠাৎ করে রিশানের? সে তার কোমল হাত দিয়ে রিশানের পিঠে পরশ বুলাতে থাকে, বুলাতে থাকে; ভাবলেশহীন । ৬. এইবার শুরু সবচেয়ে কঠিন পর্যায়, পিয়েরার কপোট্রনে মানবীয় আবেগগুলোকে একে একে প্রবেশ করাতে হবে। এই বিষয়ের উপর অনেক বছর ধরেই গবেষণা হচ্ছে, তবে প্রয়োগ এখন পর্যন্ত শুরু হয়নি, এই প্রায় অসম্ভব কাজটি রিশানকে করতে হবে। মানুষের সবগুলো ইন্দ্রিয় অগ্রাহ্য অনুভূতিগুলোকে পাঁচটি মৌলিক অনুভূতিতে ভাগ করা যায় আনন্দ, মহত্ত্ব, ভালোবাসা, বিশ্বাস ও মমতা । সবগুলোকে কোপোট্রনে একসাথে প্রবেশ করানো যাবে না, এতে কোপোট্রন বিকল হয়ে যেতে পারে । আবার প্রতিটি মৌলিক অনুভূতি সমীকরণের সমাধানগুলোর ঋণাত্মক মানগুলো ঐ অনুভূতির বিপরীত অনুভূতি নির্দেশ করে। যেমন আনন্দের ঋণাত্মক মানের জন্য যে অনুভূতির জন্ম হয় সেটা হলো বেদনা । তেমনি মহত্ত্ব-ঈর্ষা, ভালোবাসা-ঘৃণা, বিশ্বাস-অবিশ্বা স ও মমতা-হিংস্রতা সর্বমোট পাঁচ জোড়া মৌলিক অনুভূতি নিয়ে মনুষ্যত্ব। মানুষের আরও অনেক অনুভূতি আছে যেমন সুখ, রাগ, অনুরাগ, বিষাদ, ভয়, বিরক্তি তবে এই অনুভুতিগুলো পাঁচটি মৌলিক অনুভূতির যৌগিক অবস্থা। যেমন, ভালোবাসা-বেদনা-অবিশ্বাস এই তিনটি মৌলিক অনুভূতি বিভিন্ন অনুপাতে ক্রিয়াশীল হয়ে তৈরী হয় নতুন অনুভূতি "অনুরাগ", তেমনি মমতা-অবিশ্বাস-ঘৃণা-ঈর্ষা মিলে হয় "বিষণ্ণতা" । এইসব মানবীয় আবেগ সম্পর্কিত সমীকরণ গুলো রিশানের নখদর্পণে, এখন শুধু দরকার সময় আর একটু ভাগ্য। আজ পিয়েলাকে প্রথম মৌলিক জোড়া অনুভূতি "আনন্দ-বেদনা" প্রবেশ করাবে রিশান, সে কম্পিউটারে পর্যাপ্ত ডাটা দিয়ে সিমুলেশন করেছে, চমৎকার আউটপুট, এখন বাস্তবে ঠিকঠাক মত কাজ করলেই হয়। পিয়েলা ধীরে ধীরে চোখ খুলে তাকিয়ে দেখে রিশান হাতে জঘন্য একটা জিনিস নিয়ে মুখটা হাসি হাসি করে দাড়িয়ে আছে । পিয়েলার মুখটা কিঞ্চিৎ বিকৃত হয়ে যায়, সে বলে, "রিশান, তোমার হাতে কুৎসিত এই জিনিসটা কি?" হঠাৎ একটু দমে যায় রিশান, সে এমন কিছু আশা করেনি। জবাবে বলে, "কেন পিলি, এটাতো ফুল, গোলাপ ফুল? প্রকৃতির অপূর্ব এক সৃষ্টি! এটাকে তুমি কুৎসিত বলছ কেন?" পিয়েলা চিৎকার করে উঠে, " না ! না ! জঘন্য ! নষ্ট করে ফেল এটা , দেখতে ভয়ংকর লাগছে; আমার বমি বমি ভাব হচ্ছে, কি জঘন্য! কি জঘন্য!" এতক্ষণে বুঝতে পারে রিশান কোথায় ভুল হয়েছে । এক নাম্বার মৌলিক অনুভূতির প্রসেসরটা সে হয়তো উল্টা করে লাগিয়েছে। কিছুক্ষণ পর, ধীরে ধীরে চোখ খুলে পিয়েলা, দেখে তার সামনে হাসি হাসি মুখে দাড়িয়ে আছে রিশান, হাতে ফুল নিয়ে। সে আনন্দে চিৎকার করে উঠে বলে, ওহ! রিশান, ফুল যে এত সুন্দর তা আমি কখনো অনুভব করিনি, এখন করছি! ওহ! আমার যে কেমন লাগছে আমি তোমাকে বলে বুঝাতে পারবো না। এটার নামই কি আনন্দ? ওহ! রিশান, আমি যে আকাশে ভাসছি! ওহ রিসান তুমি এত সুন্দর! হাতে ধরা ফুলটা তার দিকে তুলে ধরে রিশান বলে " তোমার এটা পছন্দ হয়েছে? যাও আমার পক্ষ থেকে এটা তোমাকে দেওয়া প্রথম উপহার" একটু কেঁপে উঠে পিয়েলা, আনন্দে তার চোখ দিয়ে পানি চলে আসে, সে আরও একটু এগিয়ে গিয়ে রিশানের বুকে মাথা রেখে কাঁদতে কাঁদতে বলে , " ওহ ! রিশান তুমি কত সুন্দর, কত ভালো " তার চোখের পানিতে ভিজে যেতে থাকে রিশানের সার্টের বুকপকেট। আর রিশান মনে মনে শুধু আওড়াতে থাকে, "পারফেক্ট! পারফেক্ট!; শুধু আবেগের মাত্রাটা একটু বেশি মনে হচ্ছে, সেকারণে অতিনাটকীয় লাগছে এই আবেগের প্রকাশ। খুব সম্ভবত, যেহেতু শুধু একটি মৌলিক অনুভূতিই ঢুকানো হয়েছে তাই পুরো কোপোট্রজুড়ে এ অনুভূতির আধিক্য। বাকী মৌলিক অনুভূতিগুলো ইনপুট হয়ে গেলে একটি ভারসাম্য মানবিয় অনুভূতির সমাহার ঘটবে"


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৫ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রোবসেপিয়ান্সের ভালোবাসা-০৩

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now