বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রং নাম্বার

"স্মৃতির পাতা" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান ASMAUL HOSEN (০ পয়েন্ট)

X নাম্বারটা অপরিচিত। অথচ কন্ঠটা দারুন পরিচিত। কথাও বলছে এমন আন্তরঙ্গ ভঙ্গীতে যে ধুম করে জীজ্ঞেসও করতে পারছি না -‘বইনগো, আপনে যেন কে মনে করতে পারছি না। পরিচিত হলে কষ্ট করে এক চাপুন নয়তো বিদায় চাপুন।’ কে জানে, হয়তো অনেক কাছের কেউ। চিনতে পারছি না বা মোবাইলে তার নাম্বারটা নাই জানলে হতাশ হবে। কথা বলতে বলতেই তাই বুজার চেষ্টা করে যাচ্ছি ওপারের ক্যাচ্ ক্যাচে কন্ঠটা ঠিক কার হতে পারে। . সেই ছোট বেলায় মানে ফার্স্ট ইয়ার-সেকেন্ড ইয়ারে থাকতে মাঝে মাঝে অপরিচিত কিছু সুকন্ঠী-কুকরন্ঠীর ফোন আসতো। দীর্ঘ সময় আগ্রহের সাথে বকর বকর করে গেলেও তারা কে বা কাহারা ছিলো তা কখনোই জানার চেষ্টা করিনি। এই সময়ে আবার ঐ রকমই কি কেউ ফোন দিলো! অফিসে কখন আসছি, কি খেয়েছি, কখন খেয়েছি, কিভাবে খেয়েছি এই জাতিয় কথা বলে যাচ্ছে মেয়েটা। . ফ্ল্যাশ দেয়াতে আমার মোবাইলের সব মেমরী মুছে গেছে। সীমের নাম্বারের বাইরে সব নাম্বারই তাই অপরিচিত। এদিকে আমার নিজের মেমরীরও ত্রাহী দশা। সেখানে আজকাল কিছুই জমা থাকছে না। সবই ভুলে যাচ্ছি। জুতার আগে মুজা পরার কথা ভুলে যাচ্ছি তো মুজার পরে জুতার কথা ভুলে হাটা ধরছি এমন হাল। ডাল কিনতে যাই হারপিক কিনে বাসায় ফিরছি। অফিস আদালতের কাজ কর্ম মনে রাখার জন্যে চোখের সামনে হরেক রকমের স্লীপ লিখে ঝুলিয়ে রাখছি। সেই স্লীপও আবার হারিয়ে ফেলছি। অনেকটা গজনীর আমির খানের দশা। এই অবস্থায় কন্ঠ শুনে শুনে মানুষটা কে তা বের করা কঠিনই বটে। কে হতে পারে। আগের অফিসের কেউ! স্কুল কলেজ ভার্সিটির কেউ। নাহ্ এদের কারো নাওয়া খাওয়া নিয়ে এত্ত্ব কথা বলার কথা না। অনেক আগের সেই সু-কন্ঠী কু-কন্ঠীদের কেউ! নাহ্। তারা নিশ্চয়ই এত দিনে কারো বউ হয়ে বাচ্চা-কাচ্চায় তা দিতেছে। এখন এদিক সেদিক ফোন দিলে জামাই গুতা দিবে। নিজেদের আখের তাদের ভালো বুজার কথা। . -‘আজকে তাকাও নাই কেন উপরের দিকে!!’ ফোনের ওপাশ থেকে অভিযোগটা আসতেই মনে পড়লো আরে আজকালতো আমারও একজন ‘বৌ’ আছে। . অফিসের জন্যে বের হওয়ার সময় প্রতি দিনই সে বলে দেয় যে নিচে নেমে যেন আমি অবশ্যই একবার উপরে তাকাই। এতে বারান্দায় দাঁড়িয়ে সে আরেক বার ‘টা টা’ দিতে পারে। প্রথম প্রথম নাকি এই ধরনের কিছু ‘প্রিয়জন অফার’ সব কাপলদেরই থাকে। ধীরে ধীরে এক সময় ‘অফার’ গুলো নাকি ‘অসার’ হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হলো পাঁচ তলা থেকে এক তলায় নামতে নামতে আমি ব্যাপারটা ভুলে বসছি প্রায়ই। মনে রাখতে আমি তাই নিচে নামার সময় একটা আঙ্গুল উপরের দিকে তুলে রাখি যেটা দেখে মনে হবে আমি কাউকে মনোযোগ দিয়ে আমার চেহারাটা দেখতে বলছি। ব্যাপারটা কাজের হলেও আজকে আঙ্গুল তুলে রাখতেই ভুলে গেছি। তাই উপরে তাকানোও হয়নি। এখন সেটারই জেরা চলছে ফোনে। যদি টের পায় যে আমি তার নাম্বারই খেয়ে বসছি তাহলে কি হবে!! . নাহ্! ‘প্রিয়জন অফার’ বোধ হয় আমি বেশি দিন ভোগ করতে পারবো না।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২১ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রুম নাম্বার ৪০৭
→ দীপু নাম্বার টু (৩৫) (শেষ)
→ দীপু নাম্বার টু (৩৪)
→ দীপু নাম্বার টু (৩৩)
→ দীপু নাম্বার টু (৩২)
→ দীপু নাম্বার টু (৩১)
→ দীপু নাম্বার টু (৩০)
→ দীপু নাম্বার টু (২৯)
→ দীপু নাম্বার টু (২৮)
→ দীপু নাম্বার টু (২৭)
→ দীপু নাম্বার টু (২৬)
→ দীপু নাম্বার টু (২৫)
→ দীপু নাম্বার টু (২৪)
→ দীপু নাম্বার টু (২৩)
→ দীপু নাম্বার টু (২২)

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now