বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রম্য:টয়লেট

"মজার গল্প" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান md shahadat isalm (০ পয়েন্ট)

X মেসে মাত্র একটা টয়লেট থাকায় প্রতিদিন সকাল বেলায় ভিড় লেগেই থাকে। সিরিয়ালের পর সিরিয়াল। কে কার পরে যাবে সেটা নির্ভর করে কার চাপ কতটুকু। প্রতিদিন একটা অলিখিত যুদ্ধ লেগেই থাকে। আজকেও যেমনটা লেগে আছে সেণ্টু ভাই আর রুবেল ভাইয়ের মাঝে: সেন্টূ ভাই:এই তুই পরে যা তুই না কেবল খাইলি এখনি তর টয়লেট করা লাগবো? রুবেল ভাই:আরে ভাই তুই পরে গেলে কি হইব?আমার চাপ খুব আসছে আমি কুলাইতে পারব না। --বালের কথা কও আমার পরে যাবি এডাই কথা নাইলে কিন্তু আমি এইখানেই শেষ কইরা দিমু। চাপ কিন্তু আমারও কম না। দূর থেকে এই দেইখা আমি আর দাড়াইলাম না। চাপ অতটা আসে নাই। পরে করলেও চলবে। আপাতত ক্লাসটা করে আসি। রাস্তায় গাড়িতে একবার পেট মোচড় মাড়ল। ভাবলাম বাইরে গিয়ে খোলা আকাশের নিচে মল বিসর্জন দিয়ে আসি, কিন্তু মন সায় দিল না। কি দরকার যেখানে সেখানে মুল্যবান বর্জ ত্যাগ করে পরিবেশ দূষন করার?? তার চেয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ত্যাগ করে দেশ ও জাতির ভাগ্য পরিবর্তনে অগ্রনি ভূমিকা রাখি। কষ্ট করে ক্লাশে যাওয়ার আগ পর্যন্ত চেপে রাখলাম। কিন্তু ক্লাসে গিয়ে চাপ ধরে রাখা অত্যান্ত কষ্টকর হয়ে গেল। স্যার ক্লাস নিচ্ছে কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এ যেন অতি ভয়ংকর মূহূর্ত। অন্য সময় হলে ক্লাস করা আমার জন্য অতি সহজ বোধ্য হইলেও এই সময় অত্যন্ত অসহনিয়। পেটের ভিতর কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের যে পরিমান অত্যাচার তা যে কোনো মানুষকে কিছু সময়ের মধ্যেই মান হানি করিতে দ্বিধাবোধ করিবে না। ইহা অত্যন্ত মারাত্মক, বিশেষত এই গরমের সিজনে, কারন দূর্গন্ধ অতি দ্রুত ছুটিয়া যায়। না আর সহ্য করা যাবেনা। কারন সহ্যেরও একটা সীমা পরিসীমা আছে, যাহা অতিক্রান্ত হইলে মারাত্মক সব বিপদের মুখে পড়ার আশংকা অনেকাংশেই বাড়াইয়া দেয়। এই গেল, গেল, আমার সবি গেল পুউউউ.... আহ্ কি শান্তি!!! গরম বায়ু ত্যাগ করে আমার জন্য ক্ষনিকের ভালো লাগার বিষয় হলেও আর সবার জন্য অতি নিন্দনিয় একটা বিষয়। কারন এই মূহুর্তে কেউ এমনটা করুক সেটা কেউ আশা করে না। ইতিমধেই ক্লাসে কানা ঘুষা শুরু হয়ে গেছে । এই কে পাদ দিছে? কে পাদ দিছে? সবাই নাক মুখ বন্ধ করে একি কথা বলতেছে। আর সবাই সবার মুখের দিকে তাকিয়ে সন্ধেহ ভরা হাসি দিচ্ছে। আমার দিকে তাকিয়ে কেউ কেউ হাসলেও আমি হাসির রিপ্লে দিচ্ছি না কারন এহেন অপকর্ম করে আমার হাসি দেওয়ার ইচ্ছা নাই। কারন যে পরিমান কার্বন ডাই অক্সাইড ছাড়ছি তাতে এদের সবারি সহ্য হওয়ার কথা না। লাস্ট বেঞ্চে ছিলাম তাই বিষয়টা স্যারের কানে যাবার আগেই আমি পিছনের দড়জা দিয়ে উধাও। রাস্তায় হাটতেছি হাগুর চাপ বাড়ায় আমার নয়ন জোড়া শুধু টয়লেট খোজায় ব্যাস্ত। সেখানেই লেখা আছে চিরশান্তির ঠিকানা। খুজতে খুজতে রাস্তার পাশে একটা পাব্লিক টয়লেট। সাইনবোর্ডে লিখা, আপনার হাগু আপনার মূল্যবান সম্পদ তাই এটা যেথায় সেথায় না ফেলে পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখুন। অন্য সময় হলে আমি হাসি তামাশা করতাম কিন্তু এখন সম্ভব না ও আমি গড!!!!! এখানে দেখতেছি বিশাল সিরিয়াল আমি এতক্ষন থাকতে পারব কিনা সেটাই কথা। প্রায় আট দশ জন হবেই। আল্লাহ আমারে ধৈর্য শক্তি দান কর যাতে আমি আমার, না হলেও এই প্যান্টটার মান সম্মান রক্ষা করতে পারি। কারন এটা আমার কলেজ থেকে দিছে, স্যারের কাছে কি জবাব দিব? সামনে থেকে দেখি তিন চারজন লোক সরে যাচ্ছে। যাক বাবা,আল্লাহ আপনাদের আরো আশি বছর হায়াত দান করুক। আমিন আমার পক্ষে আর সম্ভব না। মনে মনে আল্লাহ আল্লাহ করতে থাকলাম। মানির মান আল্লায় রাখে। আল্লাহ নিশ্চই আমার মান সম্মান ইজ্বতের উপড় হাত দিবেন না। না না আর দেরি করা সম্ভব না। মনে পড়ে গেল কাজি নজরুল ইসলামের অমর বাণী; "কারার ঐ লৌহ কপাট ভেঙে ফেল কররে লোপাট" তারি সুরে আমি গাইলাম "টয়লেটরই দড়জা খানা করে দে ত্যানা ত্যানা" শেষজনকে প্রায় টেনে বের করলাম।বেচারার মনে হয় আরো কিছু কাজ বাকি ছিল।কি আর করার আমার তো আবার এইদিকে সহ্য হচ্ছে না।লোকটা বাইরে থেকে চিল্লায়া বলতেছে ; --ছোটো ভাই পানি নাই কাজ পড়ে কইরো। এখন কি করব? আমার কাজটা তো প্রায় শেষ, কারন যে চাপ ছিল তা তো বসার সাথে সাথে বেড় হয়ে গেছে।হালার পো হালায় একটু পানিও রাখে নাই।পকেট খুজতেছি কিন্তু তারাহুড়া করে আসায় টিস্যু আনতেও মনে নাই।দেখি মানি ব্যাগ টা ওমা এতে দেখছি কালকে বাপে দেওয়া এক হাজার টাকার নোট যেটা মেসের মিলরেট দেওয়ার জন্য দিছে।শেষমেশ কিনা এটা দিয়েই কাজ সারতে হয়??? কিছুটা গুরুচন্ডালি দোষ হইয়াছে বৈ কি।ইহা মাত্র আনন্দ দেওয়ার উদ্দেশ্য রচিত হইয়াছে। ভালো লাগলে রিকু দিতে পারেন।


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১১২৩ জন


এ জাতীয় গল্প

→ রম্য:টয়লেট

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now