বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গ্রামের সবচায়তে অলস মানুষ গেদু ভাই।সারাদিন সুয়ে বসে দিন কাটিয়ে দেওয়াতে খুব পটুয়াসি সে।পরিবার-পরিজন বলতে একটা মাত্র বউ ছিলো তার, অলসতার জন্য সেও তালাক নিয়ে বাপের বাড়ি চলে গেছে।এখন তার আড্ডার পরিসর বলতে আমাদের চার রাস্তার মোড়ে থাকা নড়বড়ে কাঠের বেঞ্চ টা, আর গোটাকয়েক কোচি কাচা মহল্লার ছেলেপিলে।
সেখানে বসেই সে অনায়াসে দিনের সবটা সময় কাটিয়ে দেয়।মাঝেমধ্যে যে কাজ করে না ঠিক তাও নয়,তবে কাজের নামে অকাজ-ই বেশি করে সে।বিপত্তি আমার তাকে নিয়ে নই,বিপত্তি আমার বাপটাকে নিয়ে।
কথায় কথায় শুধু গেদু ভাইয়ের সাথে তুলনা করে আমাকে নিয়ে।একথা সেকথাতে শুধু বলবে ',তুই ও গেদুর মতই হচ্ছিস দিনকে দিন।
বাজানের কথাটা আমার একদমই ভালো লাগে না।কোথায় গেদু আর কোথায় আমি!আমার মত এমন নওজোয়ান ছেলের সাথে ওমন রোগা-পাতলা মধ্যবয়সী পাগলের সাথে কি কখনো যাই?
হ্যা আমি মাঝেমধ্যে গেদু ভাইরে নিয়া একটু-আদটু মশকরা করতে তার পাশে বসি,তাই বলে কি বাজান আমারে তার সাথে তুলনা করবে।এলাকাতে আমার একটা প্রেস্টিজ বলে কথা আছে।
এলাকার সুন্দরী মেয়ে গুলা যদি ভুলক্রমে বাজানের মুখে আমার এই মিথ্যা অপবাদটা শুনে ফেলে তাহলে তো আর কখনো ঘুরেও তাকাবে না।দেখলেই হাসি চেপে বললে,দেখ দেখ আপডেট গেদু ভাই আসছে।
তখন কি আমার যৌবন কাক দিয়ে খাওয়াবো?
ঠিক করলাম,বাজানের মুখ থেকে যে করেই হোক এই গেদুর সাথে তুলনা করার ভূতটা নামাবো এবার।
সেদিন সকালে বাজানের বাজারে যাওয়ার জন্য মাকে বলতে শুনলাম,'আশিকের মা ঐ আশিকের মা,মা আর পুলা দুনোজনে আমার জীবনটাকে পানসা করে দিলো একবারে।
কথা কি কানে যাই না।
মা হন্তদন্ত হয়ে রান্নাঘর থেকে বার হয়ে এসে দাত কড়মড় করে বললো,'খবরদার আমার পুলাডারে কিছু কইবা না।একটা মাত্র পুলা আমার,আমাদের কি কম আছে নাকি যে তার কাম করে খাইতে হবে।খালি খালি পুলাডার পিছে লাগবে।
মায়ের কথা শুনে ইচ্ছে করলো,বেগম রোকেয়ার নামে তৈরি করা অস্কারটা চুরি করে এনে আমার মায়ের হাতে তুলে দেয়।
আহ্ আমার কষ্ট টা একমাত্র মায়েই বুঝলো।
-হ হয়ছে,বাজারের ব্যাগটা দাও।
ওতো বড় পুলাডা বাজার সাদায় টাও তো করতে পারে।
বিয়ের পর বুঝবো,বউমা যখন লাকড়ি ছুড়ে মারবে তখন।
এতো বড় অভিশাপ,না আর মেনে নেওয়া যাই না।ছুটে গিয়ে বললাম,'মা বাজারের ব্যাগটা আমারে দাও।আমি আজ থেকে বাজার করমু।
তোমার হাবি কে বলে দিও,তার ছেলে গেদুর মত অকালকুষ্মাণ্ড নয়।
মা একগাল হেসে বললো,'দেখো,দেখো আমার পুলাডারে দেখো।
এই নে ধর বাবা।
বলে বাজারের ব্যাগটা আমার হাতে ধরিয়ে দিলো।
বাজান মুখটাকে বাংলার পাঁচের লাহান বানিয়ে পাঞ্জাবীর পকেট থেকে এক হাজার টাকার একটা কড়কড়ে নোট বার করে দিয়ে বললো,'বাজান,আজকে বাজার বাড়িতে আইবো তো?
-হ আইবো না মানে,দৌড় দিতে দিতে আইবো।
আমি যামু আর আমু।
তারপর বাজারের লিস্ট টা পকেটে ঢুকিয়ে, বুক ফুলিয়ে বাজারের দিকে রওনা দিলাম।
মোড়ের মাথাতে আসতেই দেখলাম,গেদু ভাই তার কয়েকজন সহকর্মী নিয়ে জরুরি বৈঠকে ডুবে আছে।আমাকে দেখা মাত্র গেদু ভাই বলে উঠলো,'কি হে ছ্যামড়া,হন্তদন্ত হয়ে কোয় যাস?
আমি ঘুরে দাঁড়িয়ে বললাম,'বাজার করতে যায়।
পাশে থাকা এক ছোটকু কানে কানে বলে উঠলো,'গেদু দা,কামডা ঠিক হয়লো না।আমাদের সামনে দিয়া যাবে,আবার আমাগো লগে কোনো কথা না কইয়া এভাবে যাওয়াটা মানে আপনাকে অপমান করা।আমাদের টিমকে অপমান করা।
গেদু ভাই মূহুর্তে গলার স্বর পাল্টিয়ে বাজখাঁই গলাতে চেঁচিয়ে বললো,'বেয়াদপ,আমার সামনে দিয়া যাচ্ছিস,অথচ আমাকে একটাবার সালাম না দিয়া যাচ্ছিস।
এখানে আয়,আয় বলছি।
গেদু ভাই পাগল হলেও তার টাকা-পয়সার কোনো কমতি নেই।আর টাকার বলে সে এলাকার কয়েকজন পুচকি পাচকাকে সাথে নিয়ে ঘুরে।
এখন যদি তার ডাকে না সাড়া দেয়,তাহলে নির্ঘাত আমাকে পুকুরের পানিতে চুবাবে।
নিরুপায় হয়ে গেদু ভাইয়ের দিকে গিয়ে জড়সড় হয়ে দাঁড়িয়ে সালাম দিলাম।
-রাখ তোর সালাম,আমারে সালাম না দিয়া চলে যাচ্ছিলি,তার জন্য তোর ফাইন করা হয়ছে।
পাঁচশত টাকা ফাইন দিবি,নয়তো পাঁচঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকবি।
পাঁচঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকলে বাজার তখন চান্দে গিয়া করতে হবে।বাজানের সামনে বুক ফুলিয়ে বলে এসেছি আজ বাজার করে নিয়ে আসবো,এখন যদি না নিয়ে যাই,তাহলে নির্ঘাত এলাকাতে ঢোল পিটিয়ে প্রচার করে দিবে।
লিস্ট অনুযায়ী পাঁচশত টাকার ভিতরে বাজার হয়ে যাওয়ার কথা।
তাই আর কোনো কথা না বাড়িয়ে গেদু ভাইকে পাঁচশত টাকা দিয়ে দিলাম।
অবশ্য এই টাকা সুদে আসলে তুলে নিবো সময় মত।তবে এখন আমাকে যেতে হবে।
বাজারের ভিতরে ঢুকে তো আমার পাগল হওয়ার মত অবস্থা।ভেবেছিলাম সব কিছু এক এক করে থাকবে,যাবো টাকা দিবো আর মাল নিবো।
কিন্তু এখানে তো জামা-প্যান্ট কেনার মত পছন্দ করে বেড়াচ্ছে ক্রেতারা।
আমি তো আবার কাচামাল তেমন ভাবে চিনিও না।খারাপ জিনিস কোনভাবেই নেওয়া যাবে না।
ইজ্জতের ব্যাপার স্যাপার।
বাজারে লাটিমের মত ঘুরতে লাগলাম।একবার এখান থেকে ওখানে,আবার ওখান থেকে সেখানে।
কোনোদিন তো নিজের চোখে আস্ত একটা বেগুন ও হাতে ধরে দেখি নি।
তো চিনবো কি করে কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ?
তবুও বাজার আমাকে করতেই হবে।
এক জায়গাতে নিজেকে স্থির করে রেখে চারপাশের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে লাগলাম।
যেখানে ক্রেতাদের ভিড় তার জিনিসই মূলত ভালো হওয়ার কথা।
আমিও সেটাই করলাম।
যেখানে যেখানে ক্রেতাদের ভিড় সেখান থেকে এক এক করে কাঁচামাল কিনতে লাগলাম।
বিপাকে পড়লাম,মাছের বাজারে এসে।
গন্ধে নাকটা ধরে আসতে চায়ছে,কি বিশ্রি গন্ধ্য রে বাবা।এর থেকে তো গেদু ভাইয়ের পাদের গন্ধ ঢের ভালো।
যাই হোক দেখে শুনে কয়েকজায়গা ঘুরে ঘুরে বড় সাইজের একটা রুই মাছ কিনে বাড়ির দিকে রওনা দিলাম।
আহ্ মনের ভিতরে আনন্দ উতালপাতাল করছে।
গেদুর নামটা এবার মনে হয় সরবে।বাজান বুঝবে তার ছেলেও কামের আছে।
বাজার হাতে করে বাড়ি ফিরছি,পথের মাঝে আবার গেদু ভাইয়ের সাথে দেখা।নিশ্চয় এই পাগল আবার কোনো অকাম করে বসবে।
-ঐ থাম,আইজকা রাইতে একটা মিশন আছে বুঝলি।
-আমি চোখ দুটি চকচক করিয়ে বললাম,'কি মিশন গেদু ভাই?
-আবুল দের পুকুর পাড় থেকে ডাব চুরি করে খাবো।তুইও থাকবি,আর তোর সাথে নেওয়া টাকাটার মুরগির কষা মাংস রান্না করা হবে।
আমার টাকা দিয়ে আমাকে মাংস কষিয়ে খাওয়াবে।সুযোগ বুঝে কোপ মারবো।
-কি হলো থাকবি তো?
-হ থাকবো।
-তাহলে রাত এগারোটার পর আমাদের টো টো কোম্পানির মঞ্চে এসে উপস্থিত হয়ে যাবি।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
গেদু দা এতো সহজে ছাড়বার পাত্র নই,তা আবার জানাই ছিলো।
বাজারের ব্যাগ হাতড়িয়ে কয়েক টুকরা জিলাপি বার করে নিয়ে বললো,'বাহ্ অনেক বাজার করেছিস তো।
ইচ্ছে করছে মোটা মোটা কয়েকটা বেগুন ওর শরীরের ফাঁক ফোকরে ঢুকিয়ে দিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে দেয়।
হতভাগা খালি অকাম করে।আজকে রাতে তোর একটা ব্যবস্থা করবোই করবো।
রাগে গজগজ করতে করতে দুপুরের দিকে বাড়ি ফিরলাম।
মা তো রেগেমেগে আগুন,মারতে গিয়ে কোনরকমে ছেড়ে দিলেও বাজারের ব্যাগ খুলে দেখার পর, ঝাড়ু হাতে তাড়া করে বসলো।
প্রাণপনে দৌড়িয়ে কোনরকমে পালিয়ে বেঁচেছি।
তবে এখন পালিয়ে এসে দ্বিধাবোধে ভুগছি।
সকালে তো দিব্যি মা আমার সাপোর্ট হয়ে বাজানকে কত কিছুই না বললো।
তাহলে বাজারের ব্যাগ খুলতে ওমন ঝাড়ু হাতে দৌড়ানি দিলো কেন?
বাজার তো ঠিকঠাক ভাবেই করেছিলাম আমি।
সেই সকালে কি না কি খেয়েছি,ক্ষুধার চোটে পেটে ইদুর,বিড়াল একসাথে দৌড়া দৌড়ি খেলছে।
আবুল চাচার দোকান থেকে বাকিতে দুটো কলা আর রুটি খেয়ে পেটটাকে কোনোরকমে শান্তনা দিলাম,এটা বলে যে,'এখন এটা খা,রাতে মুরগি আসছে।
সকালের কথা মনে হতেই,আবুল চাচাকে বললাম,'চাচা,তোমার গাছের ডাব গুলা তো খুব ডাগর ডাগর হয়ছে।
আবুল চাচা আমার দিকে খেয়োখেয়ি চোখে তাকিয়ে বললেন,'তোদের লাইগা তো আজকাল গাছের ফলগুলাও নিরাপদে থাকতে পারে না।নিরিহ ফলগুলারেও ইভটিজিং করিস তোরা।
আমার গাছের ডাবে হাত দিলে হাত কাইট্টা রাইখা দিমু কইলাম।
-চাচা এই নাও এগারো টাকা,আর এগারোটার পর একটু নজরদারি করবা বেশি করে।
টো টো কোম্পানির চেয়ারম্যান গেদু ভাইয়ের চামচা রা বলাবলি করছিলো,আজ রাত এগারো টার পর নাকি তোমার গাছের ডাব চুরি করবে।
-কি বলিস এইসব,গেদুর এত্তবড় সাহস।দাড়া এখনি গিয়ে ওর মাথায় ইট ভাঙ্গবো আমি।
-না না,এখনি না।তুমি ঠিক এগারোটা বাজার দশ মিনিট পর যাবা।তখন গেলেই চোরদের হাতে-নাতে ধরতে পারবা।
সারাটাদিন এদিক-সেদিক ঘুরাঘুরি করার পর বিকেলের সময় টো টো কোম্পানির মঞ্চ,মানে আমাদের গেদু ভাই এর বৈঠক সভাতে হাজির হলাম।গেদু ভাই বেঞ্চে ঝিম ধরে বসে বসে কিছু একটা ভাবছে।
আমাকে দেখে কিছুটা নড়েচড়ে বসলো সে।তারপর বললো,'কি হে ছোকরা,এতো তাড়াতাড়ি যে।ডাব আর মুরগির মাংসের লোভ বুঝি সামলাতে পারলি না।
আমি কিছু না বলে,তার পাশে বেঞ্চে গিয়ে বসলাম।
-গেদু ভাই,আমরা কখন যামু মিশনে?
-আরে এখন কি,যামু তো রাত এগারোটার পর।
-তাইলে তো এখনো মেলা দেরি,আমি তাহলে বাড়ি যাই।
-তাড়াতাড়ি আসিস,এগারোটা বেঁজে গেলে চলে যাবো আমরা।
-আচ্ছা ঠিক আছে।
গেদুকে আজকে রাতে একটু শায়েস্তা করতে হবে।আমার সাথে টাকা নিয়ে মুরগির মাংস খাওয়া তাই না।
কষা মাংস এমন ভাবে খাওয়াবো,যে ওর পশ্চাৎদেশ কষে যাবে।
বাসায় না গিয়ে সোজা আবুল চাচার পুকুর পাড়ে গিয়ে সবগুলো ডাব পেড়ে নিয়ে চলে আসলাম।গঞ্জে গিয়ে ডাব বিক্রেতাদের কে পাইকারী দরে সব ডাব বিক্রি করে দুই হাজার টাকা হলো।আনন্দ আমার দেখে কে,গেদুর মুরিগর কষা মাংস বাদ দিয়ে হোটেলে ঢুকলাম।
তারপর তিন প্লেটে কাচ্চি খেয়ে দাত খিলিন দিতে দিতে বাসায় চলে আসলাম।
ভেবেছিলাম এখন বাসায় গেলে মা আবারো বকাবকি করবে,কিন্তু মা তার কিছুই না করে বললো,'বাজান তুই কি মানুষ হবি না।
মায়ের কথা শুনে পা থেকে গলা অবধি দেখে বললাম,মা আমি তো মানুষ ই আছি।
-দেখ মশকরা করবি না,বাজার করছিস ভালো কথা,তাই বলে জিলিপির বদলে এক দলা গোবর নিয়ে আসবি।আমাদের কে কি তোর অন্যকিছু মনে হয়।তোর বাজান তোরে কত কিছু বলে,আমি তো তোকে সায় দেয়।
শেষমেশ আমার সাথেও।
মায়ের কথা শুনে কিছুটা সেন্টিমেন্টাল হয়ে গেলাম।কিন্তু আমি তো নিজে হাতে জিলিপি কিনছিলাম।তাহলে জিলিপির পরিবর্তে গোবর আসলো কোথা থেকে?
তারমানে গেদু ভাই!গেদু তোর গোবর যদি তোরে না খাওয়াই,আমিও এক বাপের ছেলে না।
বড় একটা পলিথিনে করে এক ঝোলা গোবর ঢুকিয়ে নিয়ে আবুল চাচাকে দিয়ে আসলাম।আর গেদুর সব প্লানের কথাও বলে দিলাম সেই সাথে।
আবুল চাচা যে রাগি মানুষ,গেদুকে ধরতে পারলে নির্ঘাত এই এক ঝোলা গোবর তার মাথাতে ঢেলবে।
রাতে খেয়ে পরম শান্তিতে দরজা-জানালা বন্ধ করে সুয়ে পড়লাম।আহ্ গেদু দা,তোমার আর মুরগি খাওয়া হলো না।সকালে উঠে গেদুর মুখ খানা কেমন হবে তা ভেবে হাসিতে গড়াগড়ি খাচ্ছি খাটের উপর।
পরদিন সকালে চড়াম চড়াম শব্দে খাট থেকে লাফিয়ে উঠে বসলাম।
দরজার ওপাশ থেকে কেউ একনাগাড়ে আঘাত করে যাচ্ছে।
কান পেতে শুনলাম,ওপাশ থেকে বাজান রাগে গজগজ করছে আর আমাকে খিস্তি করছে।
কোনরকমে একটু খানি জানালা ফাঁক করে দেখলাম,দরজার এপাশে চায়ের দোকানি আবুল চাচা আর গোবর গণেশ গেদু ভাই-ও আছে।আবুল চাচা গেদুকে পুরো গব্যজলে গোসল করিয়ে দিয়েছে।আজকে আর রেহায় নেই,সদর দরজা খুলে বের হলে বাজানের হাতে থাকা লাঠিটা ধপাশ করে মাথা বরাবর পড়বে।সেই সাথে গোবরগণেশ গেদু আর আবুল চাচার মাইর তো ফ্রী।
ঘরের পিছনের দরজা খুলে চুপেচাপে বার হয়ে পালাতে যাবো,ঠিক তখনি মা চিল্লায়ে বললো,'বাজান বার হয়ছিস কেন?তোর বাপে দেখলে তোর মাইরা কুটিকুটি করবো।
মা তোমার মুখে ফুলচন্দন পড়ুক,চিৎকার দেওনের কি দরকার ছিলো।দিলে তো সবাইকে জানিয়ে।
ভাগ আশিক ভাগ,লুঙ্গি তুলে ভাগ।
বাহিরে বের হয়ে ইতি উতি না তাকিয়ে সোজা দৌড় লাগালাম।
বাজান, আবুল চাচা আর গোবর গেদু তিন'জনে কুত্তা তাড়ানোর মত করে আমার পিছনে লাঠি নিয়ে দৌড়াচ্ছে,আর আমি বুলেটের গতিতে বাতাসের মত ছুটছি।
না জানি কপালে আজ কোন গ্রহ এসে উপস্থিত হয়।
দৌড়ের উপরে(রম্য গল্প)
লেখাতে-আশিক আহম্মেদ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now