বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
টানা উনচল্লিশ মিনিট যাবত টেপের মুখের দিকে তাকায়া আছি৷ কখন একটু পানি আসবে৷ পিপাসায় আমার হাড়গিলা পর্যন্ত শুকিয়ে যাচ্ছে৷ ট্যাপের মুখে মুখ ঠেকিয়ে একটা চুমুক দিলাম যদি একটু পানি আসে,তাই দিয়ে আমার পিপাসর্ত হৃদয় ভিজাবো৷ কিন্তু কপালে না থাকলে ঘি, ঠকঠকায়া হবে কি৷ আমার হইছে সেই কপাল৷ মনে হয় ট্যাপের পুরো পাইপ লাইনে পানির কোনো অস্তিত্ব নেই৷ একটু আগে সিফাত গায়ে সাবান মাখিয়ে দাঁড়িয়ে ছিল কখন পানি আসবে,তারপর গোসলটা সেরে গার্লফ্রেন্ডের সাথে ডেটিং সেরে আসবে৷ কিন্তু কি আর হলো সেটা তো দেখলেনই৷ বাড়িওয়ালার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে সাবান মাখা গায়ে গামছা দিয়ে মুছে কোনোরকমে গার্লফ্রেন্ডের ডাকে সাড়া দিতে গেল৷ পানি নাই বিধায় সকাল থেকে বাথরুম করি নাই৷ কি যে কষ্ট সালা বুঝিবে কোন হ্লা৷ সব সালা বাড়িওয়ালার দোষ৷ সালা ফইন্নির পুত দিনে একবার ছাইরা দুইবার মটর স্টার্ট দিবে না৷ খাওয়া দাওয়া গোসল বাথরুম সব কিছু কি একেবারে হয়?
ও বলাই হয় নাই আমরা তিন বন্ধু মিলে এই বাড়ির একটা রুম ভাড়া নিছি,কিন্তু হালা বাড়িওয়ালার যা ভাব, তাতে মনে হয় দুনিয়ায় ওর মত খাটাশ আর কিপ্টা আছে কিনা সন্দেহ৷
রুম থেইকা বাইর হয়ে চিল্লা চিল্লি লাগায়া দিলাম৷ পানি নাই গ্যাস নাই এখানে কিভাবে মানুষ থাকবে? মনে বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে যত কথা ছিল আজকে সব ঝাড়ে বলে দিছি৷ হালায় পাইছে টা কি? আমাদের কি বলদ ভাবে, যে মাসে মাসে এসে শুধু ঝাড়ি দিয়ে ভাড়া নিয়ে যাবে৷ আর না৷ এইবার আমরাও দেখাবো৷
চিল্লা চিল্লি শুনে চাচায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আসল৷
--কি হইছে চিল্লাও ক্যা
--কি হইছে তা আবার নতুন কইরা কওনের কি আছে?বাইত্তে পানি নাই,গ্যাস নাই বাড়িডা তো পুরা মরুভূমি বানাইহালছেন৷
বাড়িওয়ালার পিছনে দেখি চাচার চামচা মফিছ হাজির৷ মফিজ এসেই আমারে ঝাড়ি.
--কি অইছে চাচার ওপর রাগ দেহাও ক্যা
--কিছুই অয় নাই হ্লার পো হ্লা, খালি আমি ছাদ থেইকা মুইতা দিছি আর চাচায় আমায় ঝাড়তাছে৷
--ওই ছ্যাড়া দেখ তরে কিন্তু আমি খায়াফালামু৷ বেশি কথা কইস না৷
--আলগার ঘরের আলগা আমার বালডা ফালাইও৷
এরি মধ্যে দেখি চাচার মাইয়া ফারিয়ার আগমন৷ আমিতো প্রথম দিন থেকেই ক্রাশড৷ মাইয়ার লগে ভাব মাইরতে গেলেই হালা মফিছ চাচার কাছে বলে দেয়৷ সেই থেকেই মফিছের উপর আমি এক্সট্রা খ্যাপা৷ ওরে দেইখা আমি আর চাচার উপর রাগ দেখাইলাম না৷ একেবারে ভদ্র হয়া গেলাম৷
কিন্তু ততক্ষনে সব কিছু শেষ হয়ে গেলে ভালই হত৷ রাতে রিফাত এসে চাচার সাথে আবার ঝগড়া লাগিয়ে দিছে৷ চাচা ঝাড়ছে আমাদের উপর আর আমরা ঝারছি চাচার চৌদ্দ গুষ্টিকে৷ ফলাফলস্বরুপ আমাদের চাচা লাস্ট ওয়ার্নিং দিলেন৷ যেন আগামিকাল সূর্য ওঠার আগেই আমাদের চাঁদ মুখখানা চাচা জান যেন না দেখে৷
কিছু করার নাই দেখে চাচাকে কিভাবে বাশ দেওয়া যায় সে চিন্তা করছি৷ সালা বুইরা আমগোর তাড়ায়া দিলি খেয়াল রাখিস তর ভবিষ্যত খুবি খারাপ৷
রাতে বাথরুমে ঢুকে বদনা,ফ্লাস সব ভেংগে টয়লেটের কমোডের ভিতরে ঢুকায়া দিলাম৷ বাতির হোল্ডার একটাও আস্ত রাখলাম না৷ ঘড়ের দেওয়ালে মার্কার পেন দিয়ে চাচা আর মফিছের নামে যা ইচ্ছা লিখে মনের রাগ মিটালাম৷ তার পরদিন সকাল হওয়ার আগেই আমরা বাড়ি থেকে লাপাত্তা৷
রুমের অবস্থা দেখে চাচা মনে হয় ইতিমধ্যেই বার দুয়েক হার্ট এটাক করছেন৷ রাস্তায় হাড়ি পাতিল আর বেড নিয়ে চিন্তা করছি কি করা যায়৷ প্লান হল আজকে রাত্রেই ওই বাড়ি থেকে ফারিয়াকে বের করে নিয়ে আসা৷ আর ওরে বিয়া কইরা চাচার বাড়িতে ওঠা, এ ছাড়া আর কোনো উপায় সম্মুখ দৃষ্টিতে দেখছি না৷
প্লান মতো কাজ করতে যায়া কাজ হইছে ঠিকি বাট বাড়ির কুত্তার দৌড়ানি খাইছি তিনজনে, সাথে ছিল ফারিয়া৷ ফারিয়াকে ইমোশনালি ব্লাক মেইল করে বিয়াটা কইরা চাচার বাড়ির সামনে গিয়া দাড়াইছি৷ জানি চাচায় ফারিয়াকে কিছু বলতে পারবে না কারন হেতি চাচার একমাত্র কন্যা৷ আর আমি তো ওকে থেকেই মন্ত্র পড়ায়া রাখছি৷
মন্ত্রটা হইল তুমি তোমার বাপের সামনে গিয়া কইবা তুমি আমারে অনেক ভালোবাসো আর আমারে কিছু করলে তুমি বাচবানা৷ চাচার না মেনে নেওয়ার কোনো উপায় আছে?
দেখলেন তো চাচা ও স্যরি শ্বশুর আব্বা আমিও কেমন প্রতিশোধ নিতে পারি৷
#অপদার্থ
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now