বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
গল্প:রক্তে রাঙ্গানো ফেব্রুয়ারী
লেখক:প্রসনজিত চন্দ্র দাশ(রং বিহীন তাঁরা)
--------------------------------------------------------------------------------------
.
মাইকের প্যান প্যানির শব্দতে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো।মনটা এত খারপা হয়ে ছিলো, যদি সমানে একবার পেতাম তাদের দাঁত মুখ ভাঙ্গে দিতাম, শুধু ঘুমের ডিস্টার্ব। তাই ঘুম থেকে ওঠে চায়ের দোকানের উদ্দেশ্য বের হলাম।
.
কিছুটা পথ যেতেই কে যেন আমার শার্ট ধরে টানছে,পিছন ফিরে দেখি একটা পিচ্চি, ভাইয়া ভাইয়া বলে ডাকছে।
.
-কি হয়েছে?
.
-ভাইয়া আট টাকা দিবেন?
.
-পারবো না যা।
.
-ভাইয়া দেন না
.
-আচ্ছা,তুই আট টাকা নিয়ে,কি করবি?
.
-ফুল কিনবো।
.
-তুই ফুল নিয়ে কি করবি?
.
-শহীদ মিনারে ফুল দিতে যাবো।জানেনা আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।
.
-তা কি হয়েছে যত সব ফালতু দিবস?
.
-আপনি একদম ফালতু দিবস বলবেন না।আর আজ যদি ভালোবাসা দিবস হতো সেই তো নাচানাচি করতেন।
.
-কথাটা শুনে মুখের ভাষা হারিয়ে যতে বসেছে
.
-আপনার অনেক খারাপ,
.
-কেন ভাই?
.
-জানেন ভাইয়া আট টাকার জন্য অনেক মানুষের কাছে গিয়েছি কেউ একটা টাকাও দেয়নি ।আজ যদি ১৪ ফেব্রায়িতে হয়তো তাহলে হাজার হাজার টাকা নষ্ট করতো আর আমাদের দেশের বেলায় মানুষের এক টাকাও বের হয় না।এই ভাষার জন্য হাজার হাজার মানুষ কি না কি করছে কিন্তু আমারা তাদের জন্য কিছুই করিনা,সত্যি আমাদের দেশের মানুষগুলো অনেক খারাপ
.
আমি হা করে শুনতে থাকলাম।কথা গুলো শুনতে অনেক বিরক্তি লাগছিলো তবুও এমন ভাবে কথা বলছে যেন মনটা ভরে যাচ্ছে। কারণ কেউ এই ভাবে বলেনি আগে তো।আর শিশুটির কথাই অনেক যুক্তি আছে।পকেট থেকে দশ টাকা বেড় করে দিতেই আমি কিছুটা চমর্কে যাই পিচ্চির কথা শুনে,
.
-এই পিচ্চি টাকা নিবি না
.
-আমি রাজাকারে টাকা নেই না।
.
-এই আমাকে দেখে রাজাকার মনে হয়,
.
-হুম
.
-তা কি করলে আর রাজাকার মনে হবে না।
.
-তাহলে চলেন দুইজনে শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে অাসি।
.
-চল।এই বার টাকা নি?
.
-ভাইয়া দশ টাকা নিবো না আট টাকা দেন।
.
-আমার কাছে ভাঙ্গতি নেই, তুই দশ টাকাই রাখ।
.
-আপনাকে কিন্তু দুই টাকা ফিরত নিতে হবে।
.
-আচ্ছা।এই তোর নামটা বলে যা।
.
-রাজা।
.
রাজাটা এত খুশি হয়ে ছিলো যে এক দৌড়ে ফুল কিনতে যায় হঠাৎ একটা বাস রাজাকে ধাক্কা মেরে চলে যাই আর রাজার দেহটা পড়ে ছিলো রক্ত দিয়ে মাখানো।আমি দৌড়ি গেয়ে যতেই রাজা আমাকে সেই দশ টাকা দিয়ে চলে গেলো না ফিরা দেশে।সেই দিন হয়ে ওঠেনি কোন ফুল কিনা আর দেওয়া হয়নি কোন ফুল শহীদ মিনারে।
.
দেখতে একটা বছর কেঁটে গেলো।
.
আজ ২১ ফেব্রুয়ারী তা আমরা সবাই জানি তবুও বলছি আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।দিবসটার নামটা অনেক বড় হলেও নামটার মধ্যে হাজার ত্যাগ,ভালোবাসা,সপ্ন,আশা লুকিয়ে আছে যার মূল্য অনেক বেশি।
.
চারিদিক হাজার মানুষের ভিড় আর হাজার ফুলের মেলা চারিদিক যেন ফুলের সুবাসে ভরে গেছে সারা দেশটা।দুই হাতে দুই গুচ্ছ ফুল নিয়ে বেড়ে পরলাম রাজ পথে।ভাবছেন দুই গুচ্ছ ফুল কেন,রাজা দেওয়া দশ টাকা মূল্য পরিশোধ করবো বলে,
.
এই এক বছরে অনেক পরিবর্তন হয়ে গেছে শহরটা তবুও কেন জানি সেই রক্তের দাগটা আজও কেন যানি তেমনি অাছে যেখানে রাজার দেহটা পড়ে ছিলো।
.
রাজা তোর অনেক ইচ্ছা ছিলো শহীদ মিনারে ফুল দেওয়ার দেখ আমি ফুল নিয়ে এসেছি চল ফুল দিবি না এই আর কিন্তু রাজাকার বলতে পারবি না আমাকে,এই কথা বলিস না কেন রে....সেই দিন হয়তো কাঁদতে পারিনি আজ শুধু চোঁখ দিয়ে জল পড়ছে......
.
আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো,
একুশে ফেব্রুয়ারী,
আমি কি ভুলতে পারি.....
ঠিক আজও তোকে ভুলতে পারিনি.রাঁজা
লেখক:প্রসনজিত চন্দ্র দাশ(রং বিহীন তাঁরা)
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now