বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
#পিশাচ(২০০বছর পর)
পার্ট ১
লেখ-Imran khan
(রক্তচোষা পিশাচ)
ঘুরে ফিরে এমন বাড়িতেই উঠলাম।নিজেই নিজেকে গালি দিতে মন চাচ্ছে।।বাড়িটা অনেক পুরাতন হলেও দেখতে দারুন।অনেক কারুকাজ করা আছে।।অনেক বড় বাড়ি।যাই হোক বাড়িটা টরিষ্কার করতে লাগলাম। সারা বাড়ি ধুলা বালি মাকরসার জালে ঘিরে
আছে।এসব পরিষ্কারক করতে করতে হাপিয়ে যাচ্ছিলাম।আমার রুমটা কোন মতে পরিষ্কার করলাম। পুরা
দিন কেটে গেল এই কাজ করতে।কম দামে পাবার জন্য বাড়িটা নিলাম।এখন দেখছি যা খাটা খাটনি করছি এতে দাম ঠিক ই পড়ে যাচ্ছে। রুমটা পরিষ্কার করলাম।সব কিছু ঠিকঠাক করে।খাবারের ব্যবস্থা করতে লাগলাম।রান্না ঘরের অবস্থা নাই।এটা ঠিক করতে অনেক টাইম লাগবে।তাই আর ঠিক করতে লাগলাম না।আমার সাথেই ফ্ল্যাক্স ছিল।ওটা দিয়ে এক কাপ গরম গরম চা বানিয়ে বাড়িটা একটু ঘুরতে লাগলাম।বাড়িটা আসলেও অনেক বড়।ঘুরার সময় তা বুঝতে পারছু।পুরো বাড়িতে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আছে।
ঘুরতে ঘুরতে একটা হল রুমের মতো জায়গাতে চলে আসলাম।অনেক বড় একটা রুম।ভালো করে খেয়াল করে দেখি রুমটার দেয়ালে খ্রিষ্টানদের ক্রাস রাখা।বুঝতে পারলাম এটা কোন সময়ে গির্জা হিসেবে ব্যবহার হতো।কোন কারনে হয়তো এখন আর এটা ব্যবহার হয়না।কেমন ধুলো ময়লা পড়ে সব কিছু নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।এত কম দামে এতো বড় বাড়ি পাব আমি বুঝতেই পারিনি। একপাশেই মনে হচ্ছে একটা বুকশেলফ আছে। হয়তো এখানে অনেকে এসে পড়তো সময় কাটাতো ঙ্গান অর্জন করতো।বুকলেফটা অনেক দিনেন বন্ধ আছে মনে হয়।বুকশেলফটার গায়ে বড় করে খোদাই করে লেখা আছে ১৮১৮। অনেক আগের বুকশেলফ এটা।একটা কাপড় দিয়ে কয়েকটা বাড়ি দিলাম।একটু পরিষ্কার কররে বুকশেলফটটা খুললাম।
অনেক রকমের বই দেখলাম।ধর্মীয় বই বেশি। তবে কিছু কিছু এডভেঞ্চার মুলক বই ও দেখলাম। বুকশেলফটার একভাগে দেখলাম শুধু ব্ল্যাক ম্যাজিকক এর বই।একটু ভালো করে খেয়াল করেরে দেখি বই গুলোর ভেতরে একটা বই নতুন এর মতো জ্বল জ্বল করে জ্বলছে।কিন্তু বইটার ওপর অনেক ধুলো বালি পড়ে আছে। বইটার প্রতি অনেক আগ্রহ যাগলো। এতো গুলো বইয়ের ভিতর এই বইটা এভাবে জ্বল জ্বল করে জ্বলছে কেন।তাই বইটা বের করে নিলাম।ওখানেই পড়ার ব্যবস্থা আছে।বইটা নিয়ে একটা টেবিলেন ওপর বসলাম।বইটা থেকে আগ্রহ দমাতে পারছিনা।তাই তাড়াতাড়ি করে বইটা খুললাম।বইটা খুলার সাথে সাথে ওই
রুমের ভিতর হালকা ঝড় বয়ে গেল। মনে হলো অনেকদিন পর বাতাস বইছে এই রুমে। চারিদিকের ধুলোবালি উড়তে লাগলো।বাতাস থামার পর।বইটার দিকে মনোযোগ দিলাম।বইটা খুলেই চমকে উঠলাম।প্রথম পাতাতে লাল কিছু দিয়ে বড়বড় করে লেখা।পিশাচ এনা।ভালো বুঝলাম এটা কোন কিছুর রক্ত দিয়ে লেখা।
এমন পরিষ্থিতির শিকার এর আগে কখনো হইনি।বইটা পড়তে শুরু করলাম।
--আমি এনা।লন্ডনের এক রাজ পরিবারের মেয়ে। রাজার মেয়ে তাই ছোট বেলা থেকেই অনেক আদর যত্নে বড় হয়েছি।আমার বয়স যখন ১৬ বছর। তখন আমার বাবা ইন্ডিয়াতে যায়।সাথে আমিও ছিলাম। তখন
ইন্ডিয়া শাসন করতো লন্ডন সরকার।আমার বাবা ইন্ডিয়ার লর্ড নিযুক্ত হোন।তাই তাককে ইন্ডিয়াতে যেতে হয়।আর তার সাথে আমিও যাই।এতে ইন্ডিয়াটাও ঘুরে দেখে আশা হবে।
বাবার সাথে অনেক আনন্দ করে গেলাম।বাবার সাথে অনেক জায়গায় ঘুরলাম।ইন্ডিয়ার গুজরাটে যাই। সেখান এ অনেক ব্ল্যাক ম্যাজিক করা হতো।আমার এসবের ওপর অনেক আগ্রহ ছিল ছোট বেলা থেকেই।তাই আমি ওখান থেকে অনেক গুলো ব্ল্যাক ম্যাজাকের বই কিনি। বাবার একমাত্র মেয়ে ছিলাম।তাই বাবা আমাকে কিছু করতে নিষেধ করতেন না।আমার যা মন চাইতো আমি তাই করতাম।কিন্তু এই কারনেই আমার জিবনের সুখ হারিয়ে যায়।যেটা আমার এই সুখের জীবনের কাল হয়ে দাড়ড়ায়।
২
আমি সেখান থেকে নানা রকম বই কিনি।আর সব গুলোই ঝিল ডাকিনি বিদ্যার।আমার ভুত প্রেতের বআ পড়তে ছোট বেলা থেকেই অনেক ভালো লাগে তাই বই গুলো কিনি আমি অনেক ডাকিনি বিদ্যার বই কিনি। আর আমার বই গুলো আমি সংগ্রহ করে রাখতাম যাতে না হারায়। আমার জীবনের পরম ভুলছিল এই ডাকিনি বিদ্যার বই পড়া।যা আমার জীবন থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। কিছুদিন পরেই আমার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়ে।ইন্ডিয়াতে অনেক চিকিৎসা করানো হয় তার কিন্তু কোন লাভ হয়নি। ভালো হবার চেয়ে তার অসুখ দিনদিন আরো বেড়ে যেতে লাগলো।
আমার বাবাকে লন্ডনে ফেরত পাঠানো হলো জরুরি চিকিৎসার জন্য।কিছু চিকিৎসা করানোর পরে আমার বাবা মারা যায়।অনেকদিন অসুস্থ থাকার কারনে তার শরীরে রক্তশুণ্যতা দেখা দেয়। আমার বাবার মন্ত্রি তখন আমার নামে চারিদিকে গুজব রটাটে থাকে যে আমি পিশাচ সিদ্ধ।ইন্ডিয়াতে গিয়ে কালো যাদু শিখেছি আর সেটা আমার বাবার ওপর প্রয়োগ করেছি।কিন্তু আমি ডাকিনি নই আমি পিশাচ সিদ্ধ নই।আমি এসব বই শুধু পড়তাম।আমি পিশাচ নই।কিন্তু কেউ আমার কথা বিশ্বাস করতো না।সবাই ঝড়ের গতিতে চারিদিকে ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে আমা পিশাচ সিদ্ধ ডাকিনি।
আমার মা আমাকে বিশ্বাস করতো।আর তিনি তখন রাজার আসনে বসেন।কারন আমিই আমার বাবার একমাত্র আদরের মেয়ে ছিলাম।আমার মা তখন আমার কিছু হতে দেয়নি। ছোট বেলা থেকেই বাবা মা দুজনেই আমাকে অনেক ভালোবাসে।
আমার মার শাসন কালে।সবাই আমাকে পিশাচসিদ্ধ ডাকিনি বলে আক্ষায়িত করতো।আড়ালে সামনে করার সাহস পেতোনা। রাজ্য পরিচালনা করার টেনশন তার ওপর আমার গুজব।মাকে আরো টেনশনে ফেলে দেয়। আমার মাও একদিন রাতে স্টক করে মারা যায়।তখন আমাকে দেখার মতো কেউ ছিলনা। যে সে আমার পাশে দাড়াবে।সাবাই তখন আমার বিপক্ষে।। আমার মা মরার পরে মন্ত্রি সিংহাসনে চেপে বসেন।আর তিনি চারিদিকে আমার নামে ডাকিনি বিদ্যার খেতাব ছড়াতে থাকেন।সবাইকে বলেন আমি পিশাচসিদ্ধ ডাকিনি।ইন্ডিয়াতে বাবাকে খেয়েছি লন্ডনে এসে মাকে খেয়েছি।যদি একে এভাবে রাখা যায় তাহলে এনা তার ডাকিনি বিদ্যা দিয়ে আমাদের সবাইকে মেরে ফেলবে।
তখন সবাই তার কথা বিশ্যাস করলো।আমাকে তখন এন্ড্রু ফাদারের বাসায় নিয়ে আসা হলো।তার বাসার সাথেই গির্জা আছে।দুইটা জিনিস নিয়েই তার বাসা। আমাকে উলঙ্গ করে দেবতার সামনে টানা তিনদিন না খাইয়ে বেধে রাখে।তাদের বিশ্বাস এতে আমার শরীর থেকে ডাকিনি বিদ্যা বের হয়ে যাবে।আমাকে এই তিননদিন না পানি না খাবার।কোন কিছুই খেতে দেয়নি। আমার অনেক কষ্ট হচ্ছিলো এভাবে থাকতে। আমি তাদের কত মিনতি করে বলতাম আমি ডাকিনি নই। আমি পিশাচ সিদ্ধ কোন কিছুই শিখিনি।আমি শুধু বই গুলো পড়ছি আমাকে তোমরা ছেড়ে দাও। কিন্তু কেউ আমার কথা শুনেনি।সবাই আমাকে নানা ভাবে কষ্ট দিত আমার ভিতর ডাকিনি বিদ্য আছে বলে।ঐ তিননদিন আমাকে কড়া পাহহাড়াতে রাখা হয়।কাওকে ঢুকতে দেয়া হয়নি।
পড়তে পড়তে কখন যে নিজের চোখের পানি বের হয়ে গেছে তা বুঝতেই পারিনি।চোখের পানি হাতের ওপর পড়লো তখন আমার মহ কেটে গেল বই থেকে।ঘড়িটা তখন ঢং করে আওয়াজ দিল মানে ১২ টা বেজে গেছে।তাই আমিও আর দেরি না করে বইটা বন্ধ করে শুতে চলে আসলাম।
চলবে
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now