বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
X
"এই যে শুনেন দাড়ান বলছি
.
একটা মিষ্টি কন্ঠের শব্দ আমার কানে
এসে পৌছাল।
পিছনে ফিরে দেখি বেগুনী
কালারের
সেলোয়ার
কামিজ পড়া একটা মেয়ে আমার
দিকে
দৌড়ে আসছে।
দুর থেকে মেয়েটাকে এতো সুন্দর
দেখাচ্ছে, না জানি
কাছ থেকে দেখলে কতটা সুন্দর
দেখাবে।
বামহাতে
একটা ছাতা। ছাতাটা বন্ধ ছিল আর
ডান
কাধে একটা
হ্যান্ড ব্যাগ। চুলগুলা কিছুটা
এলোমেলো। এলোমেলো
চুলগুলা বাতাসে উড়ছে। চুলগুলা
উড়াতে
মেয়েটির
সৌন্দর্য্য দ্বিগুন বেড়ে গেল।
.
কিন্তু এই মেয়েকে তো আমি চিনি
না। এর
আগে কখনো
দেখি নি। মেয়েটি কি আমাকে
চিনে? কি
জানি? ধুর
আমি এইসব ভাবছি কেন? আমি আবার
হাটতে
লাগলাম।
.
"আরে কি হলো দাড়াচ্ছেন না কেন?
এই যে
মিঃ শুভ্র
সাহেব থামুন।
.
আমি চমকিয়ে উঠি। ও মাই গড মেয়েটা
তো
আমার নাম
ধরেই ডাকছে। আশচর্য আমার নাম
জানে
কিভাবে?
মেয়েটা আমার সামনে এসে হাজির
হয়।
মেয়েটাকে খুব
অস্হির দেখাচ্ছে। মেয়েটা
হাপাঁচ্ছে।
আর কেনই বা
হাপাঁবে না এইভাবে কেউ দৌড়ে
আসলে
তো অবশ্যই
হাপাঁবে। আমি মেয়েটার দিকে
অপলক
ভাবে তাকিয়ে
আছি। সাধারণত কোন মেয়ের দিকে
এইভাবে
তাকাঁই
না। মেয়েদের তিনটা জিনিষ আমায়
খুব
আকর্ষন করে
চোখ, নাক, আর ঠোট। এই তিনটা জিনিষ
যদি
পারফেক্ট
হয় আর কথা নেই। এমন মেয়ে যদি আমায়
প্রপোজ করে
নির্ঘাত আমি রাজি হয়ে যাব।
মেয়েটার
আরো একটা
জিনিস আমায় আকর্ষন করলো মেয়েটার
থুতনিতে একটা
তিল আছে।
.
মেয়েটা বোধহয় আমাকে কিছু বলতে
চাচ্ছে। কিন্তু
যেভাবে হাপাঁচ্ছে কিভাবে বলবে।
.
"আপনি মনে হয় আমাকে কিছু বলতে
চাচ্ছেন। একটু
রিলেক্স হন তারপর বলতে পারবেন।
"হাতে সময় নেই। আপনি জলদি আমার
সাথে
চলুন।
.
চলুন মানে আমি একটু অবাক হলাম।
যাকে
চিনি না
জানি না তার সাথে যাব কেন?
পাগল নাকি।
নাকি
লেডি কিডনাপার। হতেও পারে
দিনকাল
ভাল না। এখান
থেকে কেটে পরাই ভাল। আমি যেই
হাটতে
শুরু করব ওমনি
মেয়েটা আমার হাতটা ধরে বলল....
.
"কি ব্যাপার কোথায় যাচ্ছেন? বললাম
না
আমার সাথে
যেতে হবে।
.
আমার মাথায় কিছু ঢুকছে না।
মেয়েটার
চোখ মুখ দেখে
মনে হচ্ছে কিছু একটা তো হয়েছে।
মেয়েটার অস্হিরতার
মুখ বলে দিচ্ছে নিশ্চয় বিপদে পড়েছে।
যখন যেতে বলছে
গিয়ে দেখি কি হয়। তারপর মেয়েটা
একটা
রিক্সা ঠিক
করলো। তবে রিক্সা ওয়ালাকে
কোথায়
যেতে বলেছে
আমি শুনতে পাই নি।
.
রিক্সায় বসে আছি। মেয়েটা এখনো
আমার
হাত ধরে
আছে। মেয়েটা হয়তো ভাবছে আমি
পালিয়ে
যাব। হঠাত্
করে যদি বাবা মা কোন মেয়ের
বিয়ে ঠিক
করে তখন
নাকি মেয়েরা তার পছন্দের মানুষের
সাথে পালিয়ে
যায়। কিন্তু আমার সাথে কেন?
মেয়েটা
কি সত্যি
পালাচ্ছে? মেয়েটা হয়তো আমাকে
ফলো
করে করতেই
পারে আমার কলেজের পাশেই
চট্টগ্রাম
উমেন কলেজ।
একটা কথা আছে না মেয়েদের বুক
ফাটে
মুখ ফোটে না।
তাই বোধহয় চুপি চুপি আমাকে পছন্দ
করতো। আমি কি
বলবো মেডাম আমার হাতটা ছাড়ুন। না
থাক
এমন সুন্দরীর
স্পর্শ মন্দ লাগছে না। মেঘ না চাইতেই
ব্ষ্টি পেলাম।
সুন্দরী তুমি চিন্তা করো না তোমাকে
ফেলে আমি
দৌড় দিব না। মেয়েটার সাথে একটু
কথা
বলা যাক।
.
" কি নাম আপনার?
.
মেয়েটা আমার দিকে তার ড্যাবরা
ড্যাবরা চোখে এক
নজর তাকালো। কি ভয়ানক চোখরে
বাবা।
আরে নাম
জিজ্ঞেস করছি প্রোপজ করি নাই।
ফাযিল
মেয়ে। কি
রহস্যময় ভাবে আমার দিকে
তাকিয়েছে।
তার কিছুক্ষন
পর বললো...
"মেঘলা
"বাহ সুন্দর নাম। শুভ্র + মেঘলা মিলেছে।
" কি বললেন?
" না কিছু না।
.
দুজনেই চুপচাপ। চট্টগ্রাম মেডিকেল
পৌছালাম। কি
ব্যাপার মেডিকেলে আসলো কেন?
বিষয়টা
কেমন জানি
লাগছে। এসেই যখন পড়েছি গিয়ে
দেখি কি
হয়। কিন্তু
এরপর যা ঘটলো সেটার জন্য আমি একদুম
প্রস্তুত ছিলাম
না। এক ডাক্তার আমায় বলে "গড ব্লেস
ইয়ু
মাই সান, কাম
উইথ মি," গিয়ে দেখি আমাকে রক্ত
দিতে
হবে। একটা ৭
কি ৮ বছরের মেয়েকে। এটার কোন
মানে হয়?
.
মেঘলা মেয়েটার প্রতি আমার প্রচন্ড
রাগ
হচ্ছে।
ফাযিল মেয়ে কোথাকার। ইচ্ছে করছে
চড়াইয়া ওর দাঁত
ফালায় দেই। আমি কাউকে রক্ত দেই
না। আর
দিব কেন
নিজের শরীরের রক্ত ক্ষয় করে অন্যের
শরীরকে তাজা
করার জন্য? আমি কি দৌড় দিব? দৌড়
দিলেও
ব্যাপারটা বিছ্রি দেখাবে। সবার
সামনে
কিছুই বলতে
পারছি না। তাই বাধ্য হয়ে রক্ত দিচ্ছি।
কিন্তু রহস্যের
ব্যাপারটা হলো মেঘলা মেয়েটা
জানে
কিভাবে
আমার রক্তের গ্রুপ ঐ মেয়েটার রক্তের
গ্রুপ এক। রক্ত
দেওয়া শেষ হলে মেঘলাকে
জিজ্ঞেস
করতে হবে।
.
"এই যে মেঘলা শোনেন।
.
মেঘলা যে কথাগুলা বললো আমি খুব
অবাক
হলাম।
.
" শুভ্র সাহেব আমাকে ক্ষমা করে দিন।
আসলে আপনাকে
যদি বলতাম আমার সাথে রক্ত দিতে
আসুন
তাহলে আপনি
আসতেন না। গতকাল একটা বাসে
আপনি আর
আপনার বন্ধু
রক্ত নিয়ে কথা বলছিলেন। আপনার
রক্তের
গ্রুপের কথা
বলেছিলেন। এবং এ ও বলেছেন আপনি
কাউকে রক্ত দেন
না। আমি সব শুনেছি। কিন্তু আজ
আপনাকে
দেখে
সামলাতে পারছিলাম না। আমার
কিছুই
করার ছিল না।
তাই বাধ্য হয়ে আপনাকে নিয়ে আসছি।
.
এরপর মেঘলাকে যেই ধমক দিতে যাব
ঠিক
তখন একটা
লোক এসে আমায় জড়িয়ে কাদঁতে
থাকে।
আর বলে বাবা
তুমি কে আমি জানি না তবে এটুকুই
জানি
তুমি একজন
ফেরেস্তা। তোমার ঋন আমি কখনো
শোধ
করতে পারব
না। জানো বাবা আমার এই মা মরা
মেয়েটা
ছাড়া আর
কেউ নেই। ও যদি না বাচেঁ আমিও এই প্
থিবী ছেড়ে চলে
যাব। ও আছে বলেই ওকে আকড়ে ধরে
বেচেঁ
আছি।
.
আমি কিছু বলি নি। কি বলবো আমি?
বলার
ভাষা
হারিয়ে ফেলেছি। তারপর মেয়েটির
জ্ঞান
ফিরলে ওর
কাছে যাই। তারপর ওর বাবা
মেয়েটিকে সব
বলে।
মেয়েটি আমাকে ভাইয়া বলে ডাক
দিল
কাছে ডেকে
কপালে একটা চুমু খেল।
আমার বোন নেই যখন ভাইয়া ডাকটা
শুনতে
পেলাম
আমার চোখ দিয়ে টলমল করে পানি
ঝড়ছে।
আমি কাদঁছি
আজ কেউ আমায় ফেরেস্তা বলেছে
আমায়
ভাইয়া
বলেছে কপালে চুমু খেয়েছে।
নিজেকে
সামলাতে না
পেরে মেডিকেলের মাঠে এসে বসে
বসে
কাদঁছি। এটা
কিসের কান্না আমি জানি না।
মেঘলা এসে
আমার
পাশে বসে। ওর কাছে ক্ষমা চাই। আমি
জ্ঞানহীন হয়ে
ওর কাধে মাথা রেখে এখনো কাদঁছি।
.
"ধুর পাগল বাচ্চা ছেলের মত কাদঁবেন
না।
.
মেঘলা আমার হাতটা আবার ধরে এই
হাতটা
এরপর থেকে
আর ছাড়িনি। কেন যেন বলতে ইচ্ছে
করছে
নিরাপদ হোক
রক্ত দান আপনার রক্তে বাচুঁক প্রান।
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now