বাংলা গল্প পড়ার অন্যতম ওয়েবসাইট - গল্প পড়ুন এবং গল্প বলুন
বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ

রজনী

"রোম্যান্টিক" বিভাগে গল্পটি দিয়েছেন গল্পের ঝুরিয়ান রিয়েন সরকার (০ পয়েন্ট)

X ( রজনী ) -------------- || Jubyda baset || ...... এই বাড়িটা চারতলা। প্রতিটি ফ্লোরে দুইটা করে ফ্লাট। তিনতলার ডানপাশের ফ্লাট টি আমার মার খুব পছন্দ হয়েছে। পছন্দ হওয়ার পেছনে ছোট্ট একটি কারন হল বাড়িটির ডানে রয়েছে লেক। লেকটি অনেক চমৎকার । মা আমার দিকে তাকিয়ে বলল, বারান্দায় বসে বিকালে চা খেতে খেতে লেক টা দেখতে দারুন লাগবে তাইনারে। আমি মার দিকে তাকিয়ে দুস্টামি হাসি দিয়ে বললাম দেখ আবার সাহিত্য পেয়ে না বসে। দু'জনেই উচ্চস্বরে হেসে উঠলাম। ঠিক তখনই বাড়িওয়ালা চাচা এসে পেছনে দাঁড়িয়ে গলা খাকারি দিলেন। আমারা হাসি থামিয়ে তাঁর দিকে তাকাতেই বলে উঠলেন এ ফ্লাটটি পছন্দ হয়েছে আপনাদের? আমরা সমস্বরে বলে উঠলাম হ্যাঁ। বাড়িওয়ালা চাচা আমার দিকে তাকিয়ে বললেন বাবা তুমি ছাদে কখনো যেওনা। সকালে আর পড়ন্ত বিকালে তো একদমই যাবে না। আমার মা কিছুটা উদ্দিগ্ন হয়ে জিজ্ঞাসা করলেন কেন, কোন সমস্যা? বাড়িওয়ালা চাচা দ্রুত মাথা নাড়িয়ে বললেন না না আপনি যেতে পারেন কোন সমস্যা নাই আপনার ছেলেটিকে যেতে দেবেননা প্লিজ। আমি তার চোখের দিকে তাকাতেই চোখটা নামিয়ে নিলেন, মনে হল কিছু লুকাচ্ছেন তিনি। কিছুটা খটকা লাগলো । মার দিকে তাকাতেই মা হেসে বললেন বাসাবাড়ি তো হয়ত উঠতি বয়সের মেয়েরা আছে তাই বারণ করছেন। আজ প্রায় দু'সপ্তাহ হয়ে গেল আমরা এবাড়িতে উঠেছি। এর মধ্যে আমি একবারো ছাদে যাইনি। ইচ্ছা যে ছিল না তা না ইচ্ছা ছিল ষোল আনা কিন্তু মা যেতে দিতেন না। আজ আর মন কিছুতেই মানছে না। কি এমন আছে যে আমি যেতে পারব না। আসলে কিছু মানা থাকলে তার উপর কৌতুহল টা যেন একটু বেশিই থাকে। আমি ছাদে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পা বাড়ালাম । বাম পাশের ফ্লাট টি মনে হল খালি। নিচ তলায় কিছু স্টুডেন্ট থাকে। দোতলায় পুরোটা নিয়ে বাড়িওলার বসবাস। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠেও খানিকটা অবাক হলাম। চার তলার পুরা ফ্লোরই কেমন খালি খালি লাগছে। সাথে মনটাও কিছুটা খালি খালি লাগল। ব্যাপার কি বাড়িটায় কোন সমস্যা নেই তো! সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে ছাদের উঠে এলাম। দরজা টা লোহার পুরানো শেকল দিয়ে পেঁচিয়ে বাধা। খুব বেশি কসরত করতে হল না একটু চেষ্টাতেই খুলে গেল। দরজাটা খুলতেই মিষ্টি একটা সুবাস এসে নাকে লাগল। আমি ছাদে দাঁড়িয়ে অবাক হয়ে গেলাম। এতো সুন্দর করে সাজানো ছাদ এর আগে কখনো দেখিনি। ছাদের চারিদিকে জানা অজানা অনেক ফুল গাছ লাগানো আর দেখলেই বোঝা যায় নিয়মিত পরিচর্যা করা হয়। বামে চোখ পরতেই মিষ্টি সুবাসের রহস্য উন্মোচন হল। কিছু রজনীগন্ধা ফুল তার সবুজ পাতাসহ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। বিভিন্ন ফুলের সৌন্দর্য অবলোকন করতে করতে রেলিঙে এসে বসলাম। তখনই চোখ চলে গেল ছাদের ডান দিকে সিঁড়িঘরের সাথে দাঁড়ানো চিলেকোঠার দিকে। চিলেকোঠার দিকে তাকাতেই একটু যেন চমকে উঠলাম, অপূর্ব সুন্দরী এক রমণী চিলেকোঠার দরজা ধরে দাঁড়িয়ে আমাকে দেখছে। আমি চোখ সরিয়ে নিলাম ভয় হল তার রুপের ঝলকে আবার চোখটাই না হারাতে হয়। কিন্তু নিজের অজান্তেই আবার চোখ চলে গেল তার দিকে। মেয়েটি এবার আমার দিকে এগিয়ে আসছে। আমার হার্টবিট বেড়ে গেল। মেয়েটি যত কাছে আসতে লাগলো, রজনীগন্ধার মিষ্টি গন্ধ তত প্রকট হতে লাগল। কাছে এসে বলল, এই যে খোকা এই পড়ন্ত বিকালে ছাদে এসেছো কেন? কেউ তোমায় বলেনি এই ছাদ সুধু মাত্র আমার এখানে তোমাদের বয়সি কোন ছেলের আসা সম্পূর্ণ নিষেধ ! তার কথা শুনে কেন জানি হাসি পেল, কি বলে এই মেয়ে আমি নাকি খোকা। আটাশ পেরুই পেরুই করছে, বরঞ্চ যে আমায় বলছে তার বয়স বড়জোর বিশ কি বাইশ হবে। নিজেই খুকি আমায় বলে খোকা হাহ। কি হল কি ভাবছেন আমি মজা করছি? তিক্ষ কন্ঠে বলে উঠল, তার কন্ঠ শুনে একটু চমকে উঠলাম। উঠে দাঁড়িয়ে ভদ্র ছেলের মত ফিরে আসলাম। তারপর থেকে তার সেই অপরূপ মুখখানি আমার স্মৃতিপটে বার বার ভেসে চলল। তার নামটাই তো জানা হল না। পরদিন বিকালে আবার গেলাম। এবার তাকে ছাদেই পেলাম, ফুল গাছগুলিতে পানি দিচ্ছিল। আবারো রজনীগন্ধার ঘ্রাণ নাকে এসে লাগল। আমার দিকে না তাকিয়েই তাচ্ছিল্য ভরা কন্ঠে বলে উঠল, আবার এসেছ? তোমায় না বারণ করেছিলাম আর এসো না। নিজের ভাল চাও তো ফিরে যাও আমি তৃতীয় বার আর কাউকে সুযোগ দেই না। আমি বললাম, তোমার নামটা জানতে এলাম। সে আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, রজনী । আমি সায়ন। আমরা একটু কথা বলতে পারি? না, তার কন্ঠটা অনেক কঠিন আর অপরিচিত লাগল। আমি থমকে গেলাম, সাথে একটু অপমানিত বোধ করলাম। রুপের এত অহংকার মনে মনে বলে চলে এলাম। ঘরে ফিরেও মন টিকছিল না। রজনীর সাথে রজনীগন্ধার যেন অদ্ভুত মিল খুজে পেলাম। মেয়েটির সাথে সাথেই যেন গন্ধটা ঘুরে বেরায়। পরদিন আবার গেলাম, সকল অপমান ভুলে একটি বার তার দেখা পাওয়ার জন্য তাকে জানার জন্য। সিঁড়ি বেয়ে উঠে দরজাটা খুলতেই সেই মোহনীও মিষ্টি ঘ্রাণ আমায় যেন মাতাল করে তুলল। হ্যাঁ, আমি এই ঘ্রাণের নেশায় পড়ে গেছি। আমি এদিক ওদিক খুঁজতেই তাকে পেয়ে গেলাম। ছাদের যেখানে রজনীগন্ধার ফুল গাছ গুলি দাঁড়িয়ে তার ঠিক সামনেই দাঁড়িয়ে সে। আজ তুমি আবার এলে? তার কন্ঠে হতাশার আভাস পেলাম যেন। আমি তার কাছে গিয়ে বললাম, তুমি কেন এমন কর , কেন দূরে সরিয়ে দাও? তুমি কোথায় থাক? আমি তোমাকে জানতে চাই। সে বলে উঠল, মৃত্যু পথযাত্রীর শেষ ইচ্ছা যে পূরণ করতে হয়! আমি আগেই বলেছিলাম তৃতীয় বার আর আমি সুযোগ দেব না। আমার বুকটা হালকা একটি কেঁপে উঠল যেন। তারপরও আমি হাসার চেষ্টা করলাম। মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে বলল, আজ থেকে প্রায় বছর পাঁচেক আগে আমি রিয়াদের হাত ধরে এই চিলেকোঠায় উঠেছিলাম। রিয়াদের কোন চাকরি ছিলনা টিউশনি করে সংসার চালাত আর বাকিটা সময় হন্যে হয়ে চাকরি খুঁজে বেড়াত । পালিয়ে এসেছিলাম বলে বাবা মাও মেনে নেন নি। অভাব থাকলেও ভালবাসায় ভরপুর ছিল আমাদের দুজনের ছোট্ট সংসারে। আমি ফুল খুব পছন্দ করতাম, তাই বাড়িওয়ালার অনুমতি নিয়ে ফুলে ফুলে ছাদটাকে সাজিয়ে তুললাম। অনেকটা সময় আমি ছাদে কাটাতাম। ছাদে হেটে বেরানো , গাছগুলির যত্ন নেওয়াই ছিল আমার সময় কাটানোর প্রধান উৎস । একদিন নিচতলার মেসে থাকা একটি ছেলে ছাদে এল। আমি তাকে নিষেধ করতেই সে বলল তুমি যেমন ভাড়া থাক আমরাও তেমন ভাড়া দিয়ে থাকি তাই এই ছাদ সুধু তোমাদের একার না। সেই ছেলেটি প্রতিদিন আসত আর আমাকে বিভিন্ন উপায়ে উত্যক্ত করত। রিয়াদ আমাকে ভুল বুঝল। একদিন সন্দেহের বশে আমাকে মেরে ঠিক এই রজনীগন্ধা গাছের পাশে ফেলে চলে গেল। কি দোষ ছিল আমার? এই ছাদে ঘুরে বেড়াতে ভালবাসতাম এইত? অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, দোষ আমার ছিল না দোষ ছিল ঐ ছেলেটির। আমি নিষেধ করা সত্তেও বার বার আসত। আমি শোধ নিয়েছি, সেই ছেলেটিকেও মেরে আমার সঙ্গি করে নিয়েছি। আমার অনেক সঙ্গি হয়েছে জানো! আজ তুমিও সেই দলে ভিড়বে । আমি নিষেধ করেছিলাম তুমিও তার মত শুনলে না বলেই রজনী তার দুই হাত তুলে আমার দিকে এগিয়ে এল। হাজার চেষ্টাতেও এক বিন্দু সরতে পারলাম না। পরদিন সকালে বাড়িওয়ালা ছাদে গিয়ে সায়নের লাশ দেখতে পেলেন সেই অভিশপ্ত রজনীগন্ধা গাছের পাশে। আজকালকার ছেলেরা একটুও কথা শুনেনা কতবার বললাম ছাদে যেও না কে শুনে কার কথা আবারও আরেকটা লাশ আবারো থানা পুলিশ... বিড়বিড় করে বলতে বলতে সিঁড়ি বেয়ে নামতে লাগলেন.....


এডিট ডিলিট প্রিন্ট করুন  অভিযোগ করুন     

গল্পটি পড়েছেন ২১০৮০ জন


এ জাতীয় গল্প

→ মধ্যে রজনীর স্মৃতি
→ অনাকাঙ্খিত রজনী
→ আরব্য রজনীর গল্প
→ বিনিদ্র রজনী
→ আরব্য রজনী: জেলে ও দৈত্য
→ রজনী
→ সহস্র এক রজনী’র গল্প

গল্পটির রেটিং দিনঃ-

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন

গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now