বিশেষ নোটিশঃ সুপ্রিয় গল্পেরঝুরিয়ান - আপনারা যে গল্প সাবমিট করবেন সেই গল্পের প্রথম লাইনে অবশ্যাই গল্পের আসল লেখকের নাম লেখা থাকতে হবে যেমন ~ লেখকের নামঃ আরিফ আজাদ , প্রথম লাইনে রাইটারের নাম না থাকলে গল্প পাবলিশ করা হবেনা
আপনাদের মতামত জানাতে আমাদের সাপোর্টে মেসেজ দিতে পারেন অথবা ফেসবুক পেজে মেসেজ দিতে পারেন , ধন্যবাদ
রিয়েল লাভ......পাইলাম আমি ইহাকে পাইলাম....চাঁদের আলোয় চিকচিক করে ওঠে ওর চোখের জল
X
রিয়েল লাভ
(৬৪) "এই তুই এখানে বসে আছিস কেন?? তোমার জন্য জান। এই দেখ ফাজলামো করিস না। কেন জান আমি কি তোমার জন্য অপেক্ষা করতে পারি না???না পারিস না। তুই রিপার জন্য অপেক্ষা করসি তাইনা??হ্যাঁ, তো জানিস যখন জিজ্ঞেস করলি কেন। ওকে বাবা ভুল হয়ে গেছে মাফ কর। অতক্ষণ অণু আর অয়ন এর মধ্য কথা হচ্ছিল। অণু আর অয়ন খুব ভাল বন্ধু। কিন্তু অণু অয়নকে ভালবাসে, সেটা অণু আজও অয়নকে বলেনি। অণু অয়নকে বলল, দেখ অয়ন রিপা তোর জন্য ঠিকনা। ও তোর সাথে খালি টাইম পাচ করে, ও তোকে ভালবােসনা। তুই ওর সাথে রিলেশন করিস না কষ্ট পাবি।অয়ন বলল, তাই তো আমি কষ্ট পেলে তোর কি আসে যায়। আমার আসে যায়, কারণ, কারণ কি বল, আমি বলতে পারবনা। না তোকে বলতেই হবে, আমি যাকে ভালবাসি সেই রিপাকে নিয়ে তোর এত কেন চিন্তা, তাছাড়া আজনা তুই প্রায়ই এই কথা বলিস। তোকে আজ বলতেই হবে, অয়ন জোর জবরদস্তি করে অণুর ওপর, অণু একটা থাপ্পড় দিয়ে অয়নকে বলে, কারণ আমি তোকে ভালবাসি আজ থেকে না পাঁচ বছর আগে থেকে আর আমি তোকে সেটা বলতে পারেনি। অয়ন অতক্ষণ মাথা নিচ করে ছিল, অয়ন বলল সে জন্য আমি কারো সাথে প্রেম করলে তোর জ্বালা হয়। সেজন্য রিপার মত একটা ভাল মেয়ের সম্পর্কে বাজে কথা বলতে তোর একটুও মুখে আটকালো না। আমি তোকে আমার বেস্ট বন্ধু ভাবি আর তুই,,। অণু বলল, দেখ তুই আমাকে ভুল বুঝসি, আমি তোর ভালোর জন্য বলছি রিপা মেয়েটা ভাল না ও তোকে কষ্ট দেবে, আমি তোকে সত্যিই খুব ভালবাসি অয়ন। তুই আর একটা কথা বলবি না আমি তোর কোন কথা শুনতে চাইনা আর পারলে তোর মুখ আমাকে আর দেখাস না, এই বলে অয়ন ওখান থেকে চলে গেল, এদিকে অণু সব কিছু হারিয়ে কাঁদতে লাগল।............. "অয়ন রাস্তা দিয়ে বাইক নিয়ে যাওয়ার সময় দেখল রিপা আরেকটা ছেলের হাত ধরে ঘুরে বেরাচ্ছে, তখন অয়ন রিপাকে কল দিয়ে শুনল ও কি করছে, রিপা বলল ও এখন ক্লাস করছে। এই কথা শুনে অয়ন আর রাগ ধরে রাখতে পারলনা। তখনি রিপার সামনে গিয়ে দুই গালে দুইটা থাপ্পড় দিয়ে বলল, এই তোমার ক্লাস। তোমার জন্য আজ আমি আমার প্রিয় বন্ধু কে হারালাম, তাকে কত খারাপ খারাপ কথা বলছি শুধু তোমার জন্য, এই বলে আরও কয়েক টা থাপ্পড় দিয়ে অয়ন ওখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে চলে গেল। তখন অয়ন এর শুধু অণু কথা মনে পড়তে লাগল, সেজন্য অণুর কাছে মাফ চাওয়ার জন্য ছুটে গেল, কিন্তু যাওয়ার পথে অয়ন একটা বাস এর সাথে একসিডেন্ট করল। অণু কাঁদতে কাঁদতে ওই পথ দিয়েই যাচ্ছিল, তখন খেয়াল করল রাস্তার পাশে অনেক লোক জড় হয়েছে। দেখল অয়ন এর বাইক রাস্তার পাশে পরে রয়েছে, অণু রিকশা থামিয়ে দেখল অয়ন একসিডেন্ট করে পড়ে আছে আর তার দেহ থেকে প্রচুর রক্ত পড়ছে। অণু দৌড়ে গিয়ে অয়ন কে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে কাঁদতে হাসপাতালে নিয়ে গেল... """অণু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে অয়ন এর সব বন্ধুকে খবর দিল, অয়ন এর শরীর থেকে অনেক রক্ত বেড়িয়ে গিয়েছিল সেজন্য অনেক রক্তের দরকার ছিল, কিন্তু ওই সময় হাসপাতালে ওই গ্রুপের কোন রক্ত ছিল না। অয়ন এর রক্তের গ্রুপ আর অণুর রক্তের গ্রুপ একছিল। তাই অণু ডাক্তার কে তার থেকে রক্ত নিতে বলল। অণু অয়নকে রক্ত দিয়ে বাচিয়ে দিল। কিছুক্ষণ পরেই অয়নের সব বন্ধুরা চলে আসল। অয়নকে ভাল হতে দেখে অণু ওখান থেকে বেরিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে অয়ন এর হুস ফিরে এল। অয়ন এর সব বন্ধুরা তাকে দেখার জন্য ভিতরে আসল। অয়ন শুনল তোরা কিভাবে জানলি আমি একসিডেন্ট করছি আর আমাকে হাসপাতালে কে নিয়ে আসল?? অয়ন এর বন্ধুরা বলল, অণু আমাদের খবর দিল আর এসে দেখি অণু তোকে রক্ত দিচ্ছে। ওই তো তোকে হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। অয়ন এসব শুনে কান্না আর ধরে রাখতে পারল না। ""অয়ন কান্না কান্না শুরে বলল, অণু কোথায়???? অয়ন এর বন্ধুরা বলল তোকে রক্ত দেওয়ার পড় ওকে তো আর দেখিনি।অয়ন অস্থির হয়ে উঠল অণুর সাথে দেখা করার জন্য। অয়ন অণুর মোবাইলে ফোন দিল কিন্তু ফোন বন্ধ। অয়ন অণুর এক বান্ধবীর সাথে কথা বলে জানতে পারল অণু একটু পড়ে ট্রেনে করে ওদের গ্রাম এর বাড়ি চলে যাবে । """"অয়ন সেই অবস্থায় train station চলে গেল গিয়ে অণুকে খুজতে লাগল দেখল অণু একপাশে বসে কাঁদছে। অয়ন অণুর পাশে গিয়ে বসে পড়ল। অয়ন কে দেখে অণু ওখান থেকে উঠে যাচ্ছিল তখন অয়ন অণুর হাতটা ধরে বলল আমাকে একা রেখে চলে যাচ্ছ। কেন তুমি তো আমার মুখ দেখতে চাউনা সেজন্য আমার মুখ যেন না দেখতে হয় সেজন্য আমি চলে যাচ্ছি। চলেই যখন যােব তাহলে আমাকে তোমার রক্ত দিয়ে বাচালে কেন। please অণু আমাকে মাফ করে দাও, তুমি ঠিক বলেছিলে রিপা মেয়েটা ভালনা। প্লিজ আমাকে মাফ করে দাও। আমিও তোমাকে খুব ভালবেসে ফেলেছি প্লিজ আমাকে একা রেখে চলে যেওনা।এরই ভিতর ট্রেন চলে এসেছে, অণু বলল অয়ন আমার হাত ছাড় আমার দেড়ী হয়ে যাচ্ছে, আর তুমি তো কখনো আমাকে ভালবাসোনি আর আমি তোমার কে যে আমাকে ভালোবাসবা আর আমার মুখ ও তো তুমি দেখতে চাউনা। সেজন্য আমার চলে যাওয়াই ভাল। প্লিজ আমার হাত ছাড়। ঠিক আছে অণু, এই বলে অয়ন অণুর হাত ছেড়ে দিল। অণু ট্রেনে ওঠার জন্য হাটা দিল। পেছন থেকে অয়ন বলল, ঠিক আছে যাও কিন্তু তুমি যে রক্ত দিয়ে আমাকে বাচালে সেই রক্ত আমি আমার শরীর থেকে বের করে দিতে চাই। এই বলে অয়ন দেয়ালে মাথা জোরে জোরে আঘাত করতে লাগল।অণু পেছন ফিরে দেখল অয়ন এর মাথা থেকে রক্ত পড়ছে। অণু দৌড়ে গিয়ে বলল কি করছ তুমি এমন করলে তে তুমি মারা যাবা। আমি মারা গেলে তোমার কি আসে যায়। অণু অয়নকে থামিয়ে অয়ন এর গালে দুইটা আদরের চড় দিয়ে জামার কলার ধরে বলে, আমার আসে যায় আমি যে তোমাকে অনেক বেশী ভালবাসি, এই বলে অণু কাঁদতে কাঁদতে অয়নকে জড়িয়ে ধরল অয়ন ও অণুকে বুকে জড়িয়ে ধরে বলল আমিও তোমাকে খুব ভালবাসি আমি তোমাকে ছাড়া বাচবোনা অণু তুমি আমাকে কোনদিন ছেড়ে যেওনা, গেলে আমি সত্যি সত্যি মারা যাব,, অণু অয়ন কে থামিয়ে দিয়ে বলে কোনদিন আর এ কথা মুখে আনবানা, অয়ন আবার অণুকে জড়িয়ে ধরে আদর করতে লাগল.........
পাইলাম আমি ইহাকে পাইলাম
(৬৫) অলস বিকেলে রাস্তায় হাঁটছি আর সিগারেট ফুঁকছি এমন সময় একটা মেয়ে হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ালো। আমি আঁতকে উঠলাম...
. কিছু বুঝে উঠবার আগেই মেয়েটা বললো -- চল ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি সন্ধ্যা হয়ে যাচ্ছে!
. আমি হতভম্ব। মেয়েটা এসব কি বলে পাগল নাকি......! . -চলো ঘুরতে বেরিয়ে পড়ি মানে কি? আর আপনি কে?
. -আমি কে সেটা জানা খুুব ইম্পর্ট্যান্ট না! ইম্পর্ট্যান্ট হচ্ছে আজকে আমরা একসাথে রিক্সায় ঘুরবো। এজন্য এখনই বেরিয়ে পড়তে হবে!
. আমি হাতে চিমটি কাটলাম। স্বপ্ন দেখছি না তো! ব্যাথা পেলাম। তারমানে স্বপ্ন না। ব্যাপারটা বাস্তবে ঘটছে!
. মেয়েটাকে দেখে মনে হচ্ছে মেয়েটার মধ্যে সাহিত্যের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা আছে। 'বনলতা সেন' টাইপের সাজ দিয়ে এসেছে। নীল শাড়ি, কালো টিপ,দু'হাত ভর্তি নীল চুড়ি, খোলা চুলে একাকার অবস্থা!!
. -আচ্ছা তোমার কোন ভালো শার্ট নাই? এইটা কি শার্ট পরছো? এতো ময়লা কেনো? ভালো একটা শার্ট পরে এসো তাড়াতাড়ি!
. -দেখেন আমি আপনাকে চিনি না। আমি কেনো ভালো শার্ট পরবো? আর আপনার সাথে কেনোই বা ঘুরবো? আর ভালো কথা আমার কোনো ভালো শার্ট নেই......হুহ(ভাবলাম বেঁচে যাব কিন্তু এ কি উল্টো)
. -- ( চোখগুলো ছোটো করে মুখটা একটু বাঁকিয়ে) আমি বলছি তাই ঘুরবেন
. -আপনার সাথে ঘুরার প্রশ্নই উঠে না। আপনাকে তো চিনিই না কেন ঘুরবো আপনার সাথে।
. -আপনি আমার সাথে না গেলে এইখানে আমি মানুষ জড়ো করবো। তখন আপনি বিপদে পড়বেন। একটা মেয়েকে একা পেয়ে রাস্তায় ইভটিজিং করছেন। বুঝতে পারছেন কি হবে? অতএব গুডবয়ের মতো আমার সাথে চলুন আমার আর কিছু করার নাই।
. একটা রিক্সা নেয়া হয়েছে। রিক্সা হাওয়ার বেগে উড়ছে। রিক্সার সাথে তাল দিয়ে মেয়েটার চুলও উড়ছে। আমি চুলের মিষ্টি গন্ধ নিচ্ছি। মেয়েটা একমনে চুইংগামও চিবোচ্ছে। মাঝেমধ্যে ফোলানোর চেষ্টা করছে। ফুরফুরে মেজাজে আছে।
. আমি চিন্তায় পড়ে গেছি। মেয়েটা আমার কাছে কি চায়? আচ্ছা এমনকি হতে পারে মেয়েটা ছিনতাই পার্টির সদস্য কিংবা মলম পার্টি নতুবা কোনো বড় ধরনের চোরাচালানের সাথে যুক্ত....? আমার সাথে সারাদিন ঘুরবে। রেস্টুরেন্টে মজা করে খাবে। আমাকে ফতুর বানিয়ে দিবে। তারপর যাওয়ার সময় মোবাইলটাও নিয়ে চলে যাবে!
. -এই! তুমি এতো দূরে বসে আছো কেনো?
. -তোমার খারাপ লাগছে?
. -হ্যা
. -একটা কাজ করলে কেমন হয়?
. -কি কাজ?
. -তোমার কোলের উপর উঠে বসি কেমন হয়? তাহলে কোন দূরত্ব থাকবে না!
. আমার কথা শুনে মেয়েটা খিল খিল করে হেসে উঠলো!
. -তুমি শুধু শুধু রাগ দেখাচ্ছো। পৃথিবীর সব ছেলেদেরই রুপবতী তরুণীর সাথে ঘুরতে ভালো লাগে। আমার ধারণা তোমারও ভালো লাগছে।
. আমি কিছু বললাম না। ঘটনা সত্য । আমার আসলেই কিছুটা ভালো লাগছে!
. -আমরা রিক্সা নিয়ে এখন জি.ই.সি যাব তারপর বারোটা গোলাপ কিনবো
- গোলাপ দিয়ে কি হবে?
- গোলাপের পাপড়ি ছিঁড়বো
- গোলাপের পাপড়ি ছিড়ে কি হবে?
-মজা হবে
গোলাপগুলো কিনে সত্যি সত্যিই পাপড়ি ছেড়া হলো। যতোটুকু মজা হবে ভেবেছিলাম তার চেয়ে মেয়েটা বোধহয় বেশিই মজা পেয়েছে। তার চোখমুখ আনন্দে জ্বল জ্বল করছে! আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার মাথা ঝিমঝিম করছে। রেস্টুরেন্টে ভালোমতো খেলাম। তারপর স্যানমারের ক্যাটস্ আই থেকে একটা শার্ট-প্যান্ট সাথে একটা ঘড়িও কিনলো কি আশ্চর্য! সারাদিনের রিক্সায় ঘুরা থেকে শুরু হোটেল বিল এখন আবার জামা-কাপড়.....
. এরপর আবারো ঘন্টাখানেক রিক্সায় ঘুরে মেয়েটা আমাকে সেই রাস্তাটার সামনে নামিয়ে দিয়ে রিক্সা নিয়ে চলে গেলো
. (যাবার আগে বললো) -আমার দিকে ভালমতো তাকাও অভ্র
. --আমাকে চিনতে পারছো?
. -- ভালোমতো তাকানোর কিছু নাই। আমি চিনতে পারছি না
. মেয়েটা ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটা অনেক আগের কাগজ বের করে আমাকে দিলো। আমি কাগজ টা নিয়ে চমকে উঠলাম। এটা একটা চিঠি ।আমার হাতে লেখা!!
. --শোভা!!!!!!! কি আশ্চর্য আমার সামনে শোভা। আমরা তাদের বাসার় পাশে থাকতাম। প্রচন্ড ভালো লাগা কাজ করতো। কিন্তু ভয়ে বলতে পারি নি। যদি বাবা-মা কে বলে দেয়?
. বাসা চেঞ্চ করার সময় লুকিয়ে তাকে একটা চিঠি দিয়ে এসেছিলাম। সেটা নয়বছর আগে!! এতোদিন পর মেয়েটা আমাকে খুঁজে বের করেছে! এতো কাছাকাছি থাকলাম এতোক্ষণ অথচ চিনতেই পারলাম না!
. -তুমি তো চিঠিতে মিথ্যে কথা লিখছো
. -কি মিথ্যা?
. -চিঠিতে লেখা আছে তুমি আমাকে ছাড়া বাঁচবে না! কিন্তু তুমি তো দেখি আমাকে ছাড়া দিব্যি বেঁচে আছো। হা ..হা .. . শোভা হাসছে। আমি অপলক দৃষ্টিতে তারদিকে তাকিয়ে আছি। আমার ভিতরে কিছু একটা বের হয়ে যেতে চাইছে। সম্ভবত আবেগের মাত্রাটা বেরেই গেলো যার কারণে দু'জনের চোখ দিয়েই অশ্রু বেরিয়ে আসলো, প্রাপ্তির অশ্রু। বিশাল আকাশ নিয়ে আবেগটা ছড়িয়ে যাচ্ছে ধীরে ধীরে। এক আকাশ শান্তি নিয়ে আমার বুকটা ক্রমশ প্রশান্তিতে ছেয়ে যাচ্ছে খুব বলতে ইচ্ছে করছে . "পাইলাম আমি পাইলাম, অবশেষে আমি উহাকেই পাইলাম"
চাঁদের আলোয় চিকচিক করে ওঠে ওর চোখের জল
(৬৬) - এইই , তুমি কোথায়?
- ঘুমাই!
- এই বিকেলে! প্লিজ বাইরে আসোনা একটু! (কাঁদো কাঁদো সুরে)
. অর্থীর কান্নাভেজা সুর শুনে শুভ্র অবাক হয়ে যায়। হলো কি মেয়েটার! অবাক সুরে জিজ্ঞেস করে-
- কি হইছে অর্থী?
- অনেক কিছু! ফোনে বলা যাবেনা। প্লিজ আসবা?
- হুম, বেরুচ্ছি এখন, কোথায় আসবো?
- বেইলী রোডে আসো
- হুম, আসছি
. অর্থীর মনটা খুব খারাপ আজ। প্রচন্ড কান্না পাচ্ছে ওর। শুভ্রকে বিষয়টা কিভাবে বলবে ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না। তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে রিকশা নিয়ে বেইলী রোড চলে এলো ও। এসে দেখে শুভ্র চলে এসেছে। অর্থিকে দেখে অবাক হয় শুভ্র। . গাল দুটো লাল হয়ে আছে মেয়েটার। চোখে কান্না কান্না ভাব। মনে হচ্ছে যেন, এখখুনি কান্না করে দিবে। মুচকি হেসে শুভ্র জিজ্ঞেস করে -
- কি হইছে বাবুটার?
- কিছুনা
- তাইলে কান্না করো কেন?
- কইই?
- আমাকে বলবানা?
. এবার অর্থি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারলো না। হু হু করে কান্না করে দিলো শুভ্রর হাত ধরে। অর্থির অবনত চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়া অশ্রুর দিকে শুভ্র তাকিয়ে থাকে অবাক চোখে । .অর্থি বাম হাতের উল্টো পিঠ দিয়ে চোখ মুছে বলে -
- কি হইছে জানো?
- হুম?
- আব্বু আমাকে বিয়ে দিয়ে দিবে বলসে!
. এই বলে অর্থি ঠোঁট উল্টিয়ে কেঁদে দিলো। অর্থির বাচ্চাদের মত কান্না করা দেখে শুভ্র হেসে বলে -
- ওয়াও! দারুণ নিউজ। ছেলে কি করে?
. অর্থি চোখ তুলে অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করে,
- কি বললা?
- ইয়ে মানে, ছেলে কি করে? নাম কি?
. অর্থি অবাক হয় ভীষণ। কান্না থামিয়ে কাঁদো কাঁদো স্বরে জিজ্ঞেস করলো,
- তার মানে, তোমার কিছু যায় আসে না এতে!
- মোটেও না, হুহ!
- কি!
- কি?
- তুমি আমাকে বিয়ে করবানা?
- তোমার না বিয়ে হয়ে যাচ্ছে? তো কিভাবে করবো? আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না!
. একথা শুনে অর্থির চোখ ভরে কান্না এলো ভীষণ। যে মানুষটাকে ও এতো বিশ্বাস করতো, সে ই আজ ওকে রেখে চলে যাচ্ছে এমন করে! অর্থি আর ভাবতে পারছে না কিছু! পাশে রাখা ব্যাগটা তুলে নিয়ে বেঞ্চ থেকে উঠে যায়। শুভ্র অর্থির হাত ধরে আলতো করে, কিন্তু অর্থি এক ঝটকায় হাত টা ছাড়িয়ে নিয়ে হাঁটতে শুরু করে। অর্থির মুখ বেয়ে নামা অঝোর কান্না শুভ্র দেখতে পায় না। অর্থি হেঁটে চলে একা, ভীষণ একা নীল আকাশটার সাথে। আর শুভ্র পিছনে বসে হাসছে!
. অর্থি বাসায় চলে আসে। কাউকে কিছু না বলে নিজের রুমে এসে হু হু করে ভীষণ করে কেঁদে দেয় অর্থি। ও শুভ্রকে ছাড়া থাকবে কি করে, এটা ভেবেই নিজেকে আর আটকে রাখতে পারছে না। ভীষণ একা বোধ করছে আজ ও! শুভ্র ওর সাথে এমন করতে পারলো!
. এর ফাঁকে কখন যে অর্থির ছোটবোন ফারিহা পাশে এসে দাড়িয়েছে , টেরই পায়নি অর্থি। ফারিহা জিজ্ঞেস করে,
- কাঁদছিস কেন আপু? অর্থি তড়িঘড়ি করে চোখ মুছে বলে,
- কই, কে কাঁদছে! যা এখান থেকে!
- হুহ!
- যা বলছি!
- যাচ্ছি যাচ্ছি! ও, তোমার সাথে যার বিয়ে ওর ছবিটা তোমাকে দিতে বললো মা। এই নাও।
. এই বলে ফারিহা ছবিটা অর্থির বালিশের পাশে রেখে চলে যায়। ওটার দিকে না তাকিয়ে অর্থি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে শোয়। লোকটার ওপর ভীষণ রাগ হচ্ছে ওর! শুভ্রর কথা মনে করে আবার কান্না চলে আসে অর্থির।
. কিছুক্ষণ পর, কি মনে করে উলটো করা ছবিটা হাতে নেয় অর্থি। ভীষণ রাগে দুহাত দিয়ে ছবিটা দুমড়ে মুচড়ে ফেলে সে। তারপর কি মনে করে ছবিটা আবার ভাঁজ করে ওটায় হাসি হাসি মুখ করে থাকা ছেলেটার দিকে চেয়ে অর্থি অবাক হয়ভীষণ ! এটা যে শুভ্রর ছবি! অর্থি নিজেকে বিশ্বাস করতে পারছে না! এসব তাহলে শুভ্রর কান্ড!
. ভীষণ অভিমানে চোখ ভরে প্রচন্ড কান্না চলে আসে অর্থির! বুকের ভিতরের হু হু চাপা ব্যাথাটা নেই আর! বরং চোখ বেয়ে নেমে আসে প্রচন্ড কান্নার অশ্রু! জানালার ফাঁক গলে আসা চাঁদের আলোয় চিকচিক করে ওঠে ওর চোখের জল।
. হঠাৎ , ফোনটা ভীষণ করে বেজে উঠে অর্থির! শুভ্রর ফোন! উহু, অর্থি আজ আর ওর ফোন রিসিভ করবে না! আজ ভীষণ কান্না করবে ও! বাইরে তখন অঝোর বৃষ্টি! বৃষ্টির শব্দের সাথে অর্থির হু হু করে কান্নার আওয়াজ মিলিয়ে যাচ্ছে ওই দূরে!
. প্রচন্ড জোরে বৃষ্টি পড়ুক আজ! ভিজিয়ে যাক সবকিছু, সিক্ত করে যাক সব অনুভূতিগুলো! পবিত্র ভালোবাসাময় হোক এই পৃথিবীটা!
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করুন
গল্পটির বিষয়ে মন্তব্য করতে আপনার একাউন্টে প্রবেশ করুন ... ধন্যবাদ... Login Now